বিশ্বের ভয়ংকর যত রানওয়ে

আপনি হয়তো জানেন, একটি বিমানের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হচ্ছে উড্ডয়ন ও অবতরণের মুহূর্ত। উচ্চ পর্বত, খাড়া ঢাল, সৈকত আর ব্যস্ত প্রধান সড়কও পাইলট আর যাত্রীদের ততটা উদ্বিগ্ন করে না, যতটা উড্ডয়ন ও অবতরণের মুহূর্তে তারা হয়ে থাকে। কোনো রকম বিপজ্জনক রানওয়েতে সাধারণত বিমানের পাইলট ল্যান্ড করতে চান না। কিন্তু বিশ্বের এমন কিছু এয়ারপোর্ট রয়েছে, যেখানকার রানওয়েতে ল্যান্ড করতে গেলে আপনাকে কিছুটা হলেও রোমাঞ্চ ও থ্রিল ছুঁয়ে যাবেই।

১. প্রিন্সেস জুলিয়ান এয়ারপোর্ট, সেন্ট মার্টিন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ

পূর্ব ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দ্বিতীয় ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট। বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় সবার প্রথমে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অবস্থিত প্রিন্সেস জুলিয়ান এয়ারপোর্ট। বিখ্যাত হচ্ছে এর শর্ট ল্যান্ডিং স্ট্রিপের জন্য, যা প্রায় ২ হাজার ১৮০ মিটার মাত্র। এত ছোট রানওয়ের আসল কারণ ছিল যুদ্ধবিমানের ছোট রানওয়ে ধরে ছুটে চলা। যাত্রী পরিবহনের চেয়েও তাই বিশেষ দৃষ্টি ছিল যুদ্ধবিমানে করে গোলাবারুদ পরিবহন। এই বিমানবন্দরটির রানওয়ে সমুদ্রসৈকতের সন্নিকটে। শুধু তা-ই নয়, যেকোনো বিমান যখন এই বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন সমুদ্রসৈকতে অবস্থানকারীরা এবং সেখানে ঘুরতে আসা সব পর্যটকের কাছে মনে হয়, তারা যেন হাত বাড়ালেই বিমানটিকে ছুঁতে পারবে। বড় বিমানগুলো মাহো বিচের টুরিস্টদের মাত্র ১০-২০ মিটার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার  হচ্ছে, সেখানে আজ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আরও একটি মজার বিষয় হচ্ছে, যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ‘কেন কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে না?’ উত্তরে বলা হয়েছিল, ‘বিমানবন্দরের জন্য এটি এই দ্বীপের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।’ ১৯৪৪ সালে নেদারল্যান্ডের সম্রাজ্ঞী জুলিয়ানা এ বিমানবন্দরে প্রথম ল্যান্ড করলে তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।

২. জুয়াঞ্চ ই. ইরাসকুইন এয়ারপোর্ট, সাবা আইল্যান্ড, ক্যারিবিয়ান

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সাবার একমাত্র এয়ারপোর্ট। বিমান বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক এয়ারপোর্টগুলোর একটি। ছোট দ্বীপ সাবার তুলনামূলক বড় অংশই দখল করে আছে এটি। রানওয়ের দুই প্রান্তে ক্রস মার্ক দিয়ে বোঝানো হয়েছে এটি বাণিজ্যিক বিমানের জন্য বন্ধ। বিপজ্জনক হওয়ার কারণ হচ্ছে ৪০০ মিটার লম্বা রানওয়েবিশিষ্ট এই বিমানবন্দরটির একপাশে উঁচু পাহাড় আর তিন পাশে গভীর সমুদ্র। চারদিকে রয়েছে খাড়া ঢাল। বিমানবন্দরটির রানওয়ে থেকে পাইলট যখন উড্ডয়নের শেষ মুহূর্তে পৌঁছান, তখন যাত্রীদের কাছে মনে হতে পারে বিমানটি এখনই যেন সমুদ্রে গিয়ে আছড়ে পড়বে, বাস্তবে কিন্তু এমনটি ঘটে না। বিমানগুলো নিরাপদেই উড্ডয়ন সম্পন্ন করে থাকে।

৩. কোর্কেভেল এয়ারপোর্ট, ফ্রান্স

কোর্কেভেল হচ্ছে ফ্রান্সের আল্পস পর্বতের পাদদেশে বিখ্যাত স্কি এরিয়া। এর রানওয়ে মাত্র ৫২৫ মিটার লম্বা। এ জন্য এটিকে ১৮.৫ ডিগ্রি ঢালু করে বানানো হয়েছে, যাতে উড্ডয়নের সময় পর্যাপ্ত গতি তুলতে পারে। ফ্রান্সের এই এয়ারপোর্টটি রয়েছে বিশ্বের বিপজ্জনক বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় ৩ নম্বরে। ফরাসি আল্পস মাউনটেন এলাকায় বিমানবন্দরটির অবস্থান। এখানে রানওয়ে অনেক ছোট ও খুব ঢালু। বিমান অবতরণের সময় এখানে পাইলটদের খুব কম গতিতে নামতে হয়, টেক অফ করার সময় খুব কম গতিতে রানওয়ের উঁচু প্রান্তের দিকে যেতে হয়। এ ছোট রানওয়েতে একটি বিমান মাত্র একবারই উড়তে অথবা নামতে পারে। একই সময়ে অন্য কোনো বিমান এয়ারপোর্ট ছেড়ে যেতে চাইলে অথবা বাইরে থেকে এসে এখানে অবতরণ করতে পারে না। এ ছাড়া অনেক সময় অল্প জায়গায় বিমান ঘোরানো খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখানে বিমান ঘোরাতে বেগ পেতে হয়। এসবের পাশাপাশি রয়েছে ঘন কুয়াশা ও মেঘের বাড়াবাড়ি। ঘন কুয়াশায় বিমান অবতরণ বা উড্ডয়ন দুটোই বন্ধ থাকে পুরোপুরি। অনেক সময়ই ভারী মেঘের কারণে বিমান শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মেঘ এসে রানওয়েকে কুয়াশাচ্ছন্ন করে তোলে বলে বিমান ওঠানো বা নামানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পাইলটদের কাছে এসব যে প্রাকৃতিক কারণে সমস্যা সৃষ্টি করে তা নয়। অল্প জায়গার কারণে রানওয়ে থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেলে দুর্ঘটনার মাত্রাও এখানে বেশি বলেই মনে করেন পাইলটরা। এ বিমানবন্দরটিকে ভয়ানক বিমানবন্দর বলার আরেকটি কারণ হলো আল্পস পর্বতমালা। অতি উঁচু পর্বতমালা ঘিরে রেখেছে এ বিমানবন্দরটিকে। অনেকবার বহু দক্ষ পাইলটের কাছেও এয়ারপোর্টের রানওয়ে খুঁজে পেতেই হয়রান হতে হয়েছে। আল্পস পর্বতমালা থেকে মেঘের কুয়াশা রানওয়েতে বিচরণ করে বলে সব সময়ই আলো জ্বালিয়ে রানওয়ে চিহ্নিত করতে হয় পাইলটদের। এসব ছাড়াও সমস্যার অন্ত নেই এই বিপজ্জনক এয়ারপোর্টে। প্রায়ই জ্বালানি সমস্যা ছাড়াও কারিগরি ত্র“টি সারাতে এ এয়ারপোর্টের কর্তৃপক্ষকে ভুগতে হয়। আর তাই যেকোনো বড় বিমানের অবতরণের জন্য অবশ্যই পাইলটকে দক্ষ হতে হবে, নতুবা বিপদ অবধারিত। জেমস বন্ড সিরিজের বিখ্যাত ছবি ‘টুমরো নেভার ডাইস’-এর শুরুর দৃশ্যেই এটিকে দেখানো হয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনো বিমান এখানে দুর্ঘটনায় পড়েনি।

উইকিপিডিয়া

৪. গুস্তাফ ওওও বিমানবন্দর, সেন্ট বার্তলেমি, ক্যারিবিয়ান

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সেন্ট বার্থলেমের একমাত্র এয়ারপোর্ট। দ্বীপ ও এয়ারপোর্ট দুটোই সুইডিশ রাজা গুস্তাফ ওওও-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। গুস্তাফ তৃতীয় বিমানবন্দরটির রানওয়ে এতই সরু যে খুব বেশি হলে ২০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিমান অবতরণ করানো যাবে। এই বিমানবন্দরটির বড় সমস্যা হলো অপ্রশস্ত রানওয়ে, যার কারণে যেকোনো বিমান অবতরণের সময়ে পাহাড়ের ঢালে আঘাত করায় বা সমুদ্রে গিয়ে আছড়ে পড়ার একটি বড় ঝুঁকি থেকেই যায়। বিপজ্জনক হওয়ার কারণ হচ্ছে উঁচু পাহাড়ের দিক থেকে এখানে ল্যান্ড করতে হয়। তবে এখানে শুধু ছোট বিমানই ল্যান্ড করে থাকে।

৫. জিব্রাল্টার বিমানবন্দর, জিব্রাল্টার

এয়ারপোর্ট বা বিমানবন্দরের ভেতরে রেলগাড়ি ছুটে চলছে, এমনটা ভাবতেই হয়তো চোখ কপালে উঠে যাবে অনেকের। শুধু তা-ই নয়, জিব্রাল্টার এয়ারপোর্টের ভেতর দিয়ে চলে গেছে ভারী গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তাও! বিশ্বাস হতে না চাইলেও জিব্রাল্টারের এই এয়ারপোর্টে ঢুকলে আপনার মনে হবে, আপনি বোধহয় কোনো রেল রোড ক্রসিংয়ের ভেতর পড়েছেন! অনেকটা গাড়ি চলাচলের রাস্তার মাঝে এই এয়ারপোর্টের রানওয়ে বানানো হয়েছে। এ কারণেই প্রায়ই বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় রাস্তায় চলাচলকারী গাড়িগুলোর না থেমে উপায় নেই। ভাগ্যক্রমে, সপ্তাহে মাত্র ৩০ বার এই ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় গাড়িচালকদের।

এই অবাক করা বিমানবন্দরটি শুধু জিব্রাল্টার বা ইউএস এয়ারলাইনসের চলাচলে সারা বিশ্বেই বিমানের ভয়ানক রানওয়ে হিসেবে পরিচিত। যাঁরা প্রথমবার এই রানওয়ে ধরে বিমান থেকে অবতরণ করেছেন তাঁরাই জানেন আতঙ্কের রেশ কতটুকু থেকে যায় নিরাপদে অবতরণের পরও। অনেক পাইলটই এই রানওয়ে ধরে নামতে চান না। কারণ একটাই, বিমান তো বটেই, সাধারণ যাত্রীদের নিয়েও রয়েছে প্রাণশঙ্কা। এটি বিশ্বের পঞ্চম বিপজ্জনক বিমানবন্দর, একই সঙ্গে জনপ্রিয়ও। এই বিমানবন্দরটি বিপজ্জনক হওয়ার পেছনে মূল কারণ এর রানওয়ে।

৬. বার্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্কটল্যান্ড

বার্রা এয়ারপোর্ট পৃথিবীর একমাত্র এয়ারপোর্ট, যেখানে বিমান বিচের বালুর ওপর ল্যান্ড করে। আউটার হেব্রিডিয়ান দ্বীপে অবস্থিত স্কটল্যান্ডের ছোট্ট বিমানবন্দর এটি। বিশ্বের মধ্যে এটিই একমাত্র বিমানবন্দর, যেটি সমুদ্রসৈকত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বিমান অবতরণ ও উড্ডয়নও সমুদ্রসৈকতেই হয়ে থাকে। বিমানের ফ্লাইট নির্ধারিত হয় জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী। বিমানবন্দরটি আসলে একটি অগভীর উপসাগর। প্রতিদিনই সাগরের জল এসে একবার করে বিমানবন্দরটিকে ধুয়ে দিয়ে যায়। এখানেই  কিন্তু বিস্ময়ের শেষ নয়। রাতে যখন সমুদ্রে জোয়ার আসে, তখন অসংখ্য গাড়ি রেখে হেডলাইটের আলো দিয়ে পাইলটকে রানওয়ে ও পর্যটনকারীদের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করা হয়। ত্রিভুজাকৃতির এই রানওয়েতে বিমানের নির্দেশনার জন্য ব্যবহার করতে কাঠ পুঁতে রাখা হয়।

৭. লুকলা বিমানবন্দর, নেপাল

একটু ভাবুন এই মুহূর্তে আপনি একজন বিমান আরোহী এবং আপনার বিমানটি এমন এক জায়গায় অবতরণ করতে যাচ্ছে, যার একদিকে পর্বতমালা অন্যদিকে খাড়া বাঁধ। নিশ্চয় ভাবছেন এমন বিমানবন্দর কোথায় হতে পারে? হ্যাঁ, এটি পূর্ব নেপালের লুকলা বিমানবন্দরেরই একটি চিত্র। এর রানওয়েটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৯০০ মিটার ওপরে অবস্থিত এবং এভারেস্টে আরোহনকারীদের কাছে প্রারম্ভিক স্থান হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। ২০১০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক ও বিপজ্জনক এয়ারপোর্ট হিসেবে নাম লেখায় এটি।

দ্য হিস্টোরি চ্যানেলের করা এক প্রতিবেদনে এই এয়ারপোর্টকে বিপজ্জনক রানওয়ের এয়ারপোর্ট হিসেবে তুলে ধরা হলে সারা বিশ্বের মানুষের কৌতূহলে এসে দাঁড়ায় এটি। ২০০৮ সালে এই বিমানবন্দর এভারেস্ট বিজয়ী স্যার অ্যাডমন্ড হিলারির নামে লুকলা এয়ারপোর্টের নাম পাল্টে তেনজিং-হিলারি এয়ারপোর্ট রাখা হয়। বারবার বিমান দুর্ঘটনার ঘটনার তালিকায় একেবারেই পিছিয়ে নেই এই এয়ারপোর্টটি। পাইলটদের কাছে রীতিমতো এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এয়ারপোর্টটির রানওয়ে। বিমান অবতরণের সময় খারাপ আবহাওয়ায় পাহাড় ঘেঁষে মেঘ ছুটে আসায় রানওয়েতে বিমান নামানোর চ্যালেঞ্জে অনেক বৈমানিকই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

৮. মাদেইরা বিমানবন্দর, পর্তুগাল

নতুন বছরের সব থেকে বৃহত্তম আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে চাইলে আপনাকে এই বিমানবন্দরে একবারের জন্য হলেও অবতরণ করতে হবে। ১৬০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে বিশিষ্ট এই বিমানবন্দর ১৯৬৪ সালে ফানচাল শহরে তৈরি হয়। এই বিমানবন্দরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের বিমান অবতরণ করে। এই বিমানবন্দরটির শুরুর দিকে রানওয়ে এতই ছোট ছিল যে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। শেষপর্যন্ত ১৯৭৭ সালে একটি ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানওয়েটি সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত দীর্ঘ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রানওয়েটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই রানওয়েটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি আকারে খুবই ছোট এবং পাহাড় ও সমুদ্রের মাঝে এটি অবস্থিত। পাইলটকে অনেকটা সমুদ্র ও পাহাড় শাসন করে এখানে ল্যান্ড করতে হয়! কারণ, এখানে বাতাস সব সময় অনুকূল অবস্থায় থাকে না এবং পাইলটকে পাহাড় এড়িয়ে খুবই দক্ষতার সঙ্গে অবতরণ করতে হয়। সত্যিকারের থ্রিলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এই রানওয়ের জুড়ি নেই।

উইকিপিডিয়া

৯. সি আইস, এন্টার্কটিকা

এন্টার্কটিকা মহাদেশে অবস্থিত এবং পৃথিবীর একমাত্র বরফের বিমানবন্দর এটি। বিশ্বের যত বিপজ্জনক রানওয়ে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম। এন্টার্কটিকায় গবেষণারত গবেষকদের কাছে বিভিন্ন জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার জন্য যে তিনটি এয়ারস্ট্রিপের ব্যবহার রয়েছে, এর মধ্যে এটি একটি। এ বিমানবন্দর পাইলটদের কাছে খুবই ভয়ানক বিমানবন্দর হিসেবে খ্যাত। কারণ, এখানে পাইলটদের প্রসারিত বরফের ওপর খুব সতর্কতার সঙ্গে বিমান অবতরণ করাতে হয়। এন্টার্কটিকায় বরফে ঢাকা রানওয়েগুলোর মধ্যে সি আইস বিশ্বের যেকোনো বিমানবন্দর থেকে আলাদা, শুধু বিমানের ল্যান্ডিং এরিয়ার জন্য। এখানে তড়িঘড়ি করে বিমান নামাতে গেলেই অতিরিক্ত ওজনের কারণে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। উপরন্তু চারদিকে মাত্রাতিরিক্ত বরফের কারণে এই রানওয়ে সব সময় বরফমুক্ত রাখা সম্ভব হয় না। কয়েক বছর আগেই এই রানওয়ের বরফ গলতে শুরু করেছিল, তখন এখানকার সব শিডিউল বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। পাইলটদের এই রানওয়ে সব সময় এড়িয়ে চলতেই পরামর্শ দেওয়া হয়, বরফের মধ্যে ১০ ইঞ্চির বেশি চাকা না ডুবিয়ে রানওয়েতে অবতরণ করা যেকোনো পাইলটের জন্যই চ্যালেঞ্জ!

১০. ম্যাটিক্যান এয়ারস্ট্রিপ, লুসোটো

ম্যাটিক্যান এয়ারস্ট্রিপের কথা অনেকেই শুনেছেন হয়তো। রানওয়ে ধরে এগোতে থাকলে হঠাৎ শেষ হয়ে যায় রানওয়ে। বিমান যদি টেক অফ করে বাতাসে উড়তে শুরু করে, তবে শেষ রক্ষা; নইলে গিয়ে আছড়ে পড়তে হবে শূন্য গহ্বরে। পাহাড়ের এক পাশ কেটে বানানো এই এয়ারপোর্টটির সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এটিই। হঠাৎ করে শেষ হয়ে যাওয়া রানওয়ে ধরে এগিয়ে যখন বিমানের নাক উঁচু করে বাতাসে ভাসতে শুরু করে তখনকার আতঙ্ক কেটে যাত্রীদের চোখ-মুখে শুধু বেঁচে ফেরার আনন্দই অবশিষ্ট থাকে। বিমানের রানওয়ের এই ছোট পরিসরের পাশাপাশি রানওয়ে শেষে থাকা শূন্য ও বিশাল গহ্বরে বায়ুর ঘূর্ণি বিমান অবতরণকে করে তোলে আরও দুরূহ।

(অথর যুক্ত করুন)

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬৬তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৫

+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top