Image

গাঁথুনি ও প্লাস্টারে বালু-সিমেন্ট রহস্য

ভবন নির্মাণে সিভিল কাজের অধিকাংশ স্থান দখল করে রেখেছে গাঁথুনি ও প্লাস্টারিং। পরিমাণে যা মোট সিভিল কাজের ৩৫ শতাংশ। ইটের কাজ বা ব্রিকস ওয়ার্কস ও প্লাস্টারিং বা আস্তরণ ধরা হয় মাত্র ৭ শতাংশ। তাই এই দুটি কাজ সম্পর্কে ভালো ধারণা না থাকলে নির্মাণের সময় পোহাতে হয় নানা বিড়ম্বনা। আর আজ তাই আমাদের আলোচ্য বিষয় সিভিল ওয়ার্কসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি নির্মাণকাজ।

প্রথমে ইটের কাজের কিছু খুঁটিনাটি বিষয়। আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের ইটের গাঁথুনি প্রচলিত থাকলেও সাধারণত ৫ ইঞ্চি এবং ১০ ইঞ্চি গাঁথুনিই বহুল ব্যবহৃত এবং মোটামুটি সব ধরনের গাঁথুনির জন্যই প্রয়োজন হয় মোট আয়তনের ৩৫ শতাংশ শুষ্ক মসলার। অনেকেরই মনে হতে পারে এটা তো অনেক বেশি। কিন্তু বাস্তবে এটাই ঠিক। ইটের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শুষ্ক মসলার পরিমাণগত শতকরা হার-

ধরা যাক, মোট ইটের কাজের পরিমাণ = ১০০ ঘনমিটার
দেয়ালের দৈর্ঘ্য = ৪০০ মিটার দ্ধ প্রস্থ ০.২৫ মিটার X উচ্চতা ১ মিটার
আয়তন = ১০০ ঘনমিটার

আমাদের দেশে প্রচলিত ইটের মাপ = ৯.৫ ইঞ্চি X ৪.৫ ইঞ্চি X ২.৭৫ ইঞ্চি
M.K.S পদ্ধতিতে যা = ২৪.২ সে.মি. X ১১.৮ সে. মি. X ৯ সে. মি.

প্লাস্টারের নানা ধাপ

আবার,
মসলাসহ ইটের মাপ = ১০ ইঞ্চি X ৫ ইঞ্চি X ৩ ইঞ্চি
M.K.S পদ্ধতিতে হয় = ২৫.৮ সে.মি. X ১২.৭ সে.মি X ৯.৬ সে. মি.
তাই ১০০ ঘন সেন্টিমিটার আয়তনের গাঁথুনির জন্য ইটের প্রয়োজন-

১০০
= ৪০৭৮৯.৫৬
০.২৫৪ X ০.১২৭ X ০.০৭৬
= ৪০,৭৯০টি

তাহলে এমন ১০০ ঘন মিটার গাঁথুনিতে প্রয়োজনীয় মসলার পরিমাণ-
= ১০০ – ৪০৭৯০ (০.২৪২ X ০.১১৪ X ০.০৭) ঘনমিটার
= ১০০ – ৭৮.৭৭ = ২১.২৩ ঘনমিটার

ফ্রগ (Frog) পূরণ, খাড়া জোড়া পরিবারের জন্য ক্লোজার ব্যবহার এবং অপচয় সব মিলিয়ে ১০ শতাংশ অপচয় ধরলে আর্দ্র মসলার আয়তন হবে,
= ২১.২৩ X ১০% = ২১.২৩ X (২১.২৩ X ০.১০) ঘনমিটার
= ২৩.৩৬৩ ঘনমিটার

তাহলে শুষ্ক আয়তন (Dry Volume) = ২৩.৩৫৩ X ১.৫ ঘনমিটার
= ৩৫.০৩ ঘনমিটার
তাই তো ইটের কাজে শুষ্ক মসলা ৩৫ শতাংশ ধরা হয়।
১ ঘনমিটার ইটের কাজের নির্মাণসামগ্রীর পরিমাণ-

ইটের প্রয়োজন =

০.২৫.৪ X ০.১২৭ X ০.০৭৬
= ৪০৭.৪৭ = ৪০১টি

মসলার পরিমাণ = ১ X ৩৫ শতাংশ
= ০.৩৫ ঘন মি.
১ : ৬ মসলা অনুপাত হলে অনুপাতের যোগফল = ১ + ৬ = ৭

সিমেন্ট প্রয়োজন =
০.৩৫ X ১
= ০.০৫ ঘনমিটার

আমরা জানি, ১ ঘনমিটার সিমেন্ট = ৩০ ব্যাগ সিমেন্ট
তাই = ০.০৫ X ৩০ = ১.৫ ব্যাগ সিমেন্ট

বালু প্রয়োজন =
০.৩৫ X ৬
= ০.৩০ ঘনমিটার

এভাবেই সব নির্মাণকাজে ইট ও মসলার হিসাব বের করা হয়। শুধু সিমেন্টের ক্ষেত্রে একক পরিবর্তন হলে অর্থাৎ F.P.S পদ্ধতিতে প্রতি ঘনমিটার সিমেন্ট = ০.৮ ব্যাগ ধরা হয়।

ইটের গাঁথুনি। ছবি: জাপান টেকনো ব্রিকস

ইটের গাঁথুনিতে ১২ মি.মি. পুরু সিমেন্ট পলেস্তারা অনুপাত (১ : ৬) ধরি, ১০ মি. X ১০ মি. = ১০০ বর্গ মি. স্থানের জন্য পলেস্তারার পরিমাণ বের করা প্রয়োজন।
আর্দ্র মসলার পরিমাণ = ১০০ X ১১/১০০০ = ১.২ ঘনমিটার
শুষ্ক মসলার আয়তন = ১.২ X ১.৫ (৫০ শতাংশ) ঘনমিটার
অনুপাতের যোগফল (১ + ৬) = ৭ / = ১.৮০ ঘনমিটার
সিমেন্ট প্রয়োজন = ১.৮০/৭ X ১
= ০.২৫৭ ঘনমিটার দ্ধ ৩০ ব্যাগ
= ৭.৭ ব্যাগ = ৮ ব্যাগ
বালু = ১.৮০/৭ X ৬ = ১.৫৪ ঘনমিটার
মসলায় ব্যবহৃত বালু শুষ্ক থাকতে হয়। কারণ, বালুতে ৪-৫ শতাংশ পানির উপস্থিতিতে বালু আয়তনে ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে বালু ও সিমেন্টের অনুপাত সঠিক থাকে না। সিমেন্টের পরিমাণ বেশি বা কম হলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্লাস্টার নির্মিত হয়।

  • প্রকৌশলী সুবীর কুমার সাহা
    engr.subir.bandhan@gmail.com

প্রকাশকাল: বন্ধন ৭১ তম সংখ্যা, মার্চ ২০১৬

Related Posts

বর্ষায় সিমেন্ট সংরক্ষণে করণীয়

বিশে^ বহুল ব্যবহৃত নির্মাণ উপকরণ সিমেন্ট। সিমেন্ট, অ্যাগ্রিগেট, বালু ও পানির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় কংক্রিট, যা অত্যন্ত শক্তিশালী…

প্লেট লোড পরীক্ষার সাতসতেরো

মাটি চরম ভারবহন ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য বসে যাওয়ার পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য মাঠে প্লেট লোড পরীক্ষা করা হয়।…

ইট দেয়ালের ত্রুটি মেরামতে

বিশ্বের সর্বত্রই স্থাপনা নির্মাণে ইট অত্যন্ত জনপ্রিয় নির্মাণ উপকরণ। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে এ দেশে ভবন নির্মাণে…

মাটির ভারবহন ক্ষমতা বাড়াতে

অধুনা বিশ্বে নির্মাণযজ্ঞের সিংহভাগ কাজই হয় ভূ-পৃষ্ঠকে ঘিরে। সড়ক, রেললাইন, ভবন ও সব ধরনের অবকাঠামোর নির্মাণকাজ পরিচালিত হয়…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *