সময়ের সাথে সাথে সবই বদলাচ্ছে। বদলাচ্ছে স্টেডিয়ামের গঠনশৈলীতে। স্টেডিয়ামগুলো এখন আর শুধু ম্যাচের দিনের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে না। স্থপতিরা সারা বছর ধরে স্বতন্ত্র ল্যান্ডমার্ক তৈরি করতে সাহসিকতার সাথে নতুনত্বের অনুসন্ধান করছেন। ভবিষ্যতের স্টেডিয়াম কেমন হবে এমন পাঁচটি স্টেডিয়াম সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
ইংলিশ ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য ডিজাইন করা এই ১,০০,০০০ আসনের স্টেডিয়ামটি গত বছর ফস্টার + পার্টনার্স উন্মোচিত করেই সংবাদের শিরোনামে আসে।
স্টুডিওটির প্রতিষ্ঠাতা নরম্যান ফস্টার এটিকে “বিশ্বের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ প্রকল্প” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি সম্পন্ন হলে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম হবে এটি। এটি তার বিশাল তাঁবুর মতো কাঠামোর জন্য স্বতন্ত্র হবে, যা তিনটি মাস্তুলের উপর ভর করে থাকবে ।
ফুকুশিমা ইউনাইটেড এফসি
জাপানে বর্তমানে নির্মাণাধীন সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে একটি হলো ফুকুশিমা ইউনাইটেড এফসি-র স্টেডিয়াম। এটি সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে নির্মিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্টেডিয়ামের নকশায় ভারী ইস্পাত ও কংক্রিটের কাঠামোর ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এসে, ভুইল্ড এটিকে সহজে খুলে ফেলা ও পুনরায় ব্যবহার করা যায় এমন উপযোগী করে ডিজাইন করা হচ্ছে।
এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে এর ঢেউখেলানো ছাদ যা এর সাধারণ ৫,০০০ আসনের অভ্যন্তরীণ অংশকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্মাণ করা হবে।

বার্মিংহাম সিটি ফুটবল ক্লাব
যুক্তরাজ্যে আসতে চলা আরেকটি উল্লেখযোগ্য ফুটবল স্টেডিয়াম হলো হেদারউইক স্টুডিওর ডিজাইন করা বার্মিংহাম সিটি ফুটবল ক্লাবের স্টেডিয়াম। এটি তারা মানিকা আর্কিটেকচারের সাথে যৌথভাবে তৈরি করছে।
৬২,০০০ আসনের এই স্টেডিয়ামটি শহরের ইটভাটার ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১২টি বিশাল চিমনি দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকবে।
স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা টমাস হেদারউইক বলেন, “প্রায়শই স্টেডিয়ামগুলোকে এমন মহাকাশযানের মতো মনে হয়, যা যেকোনো জায়গায় অবতরণ করে চারপাশের এলাকাকে প্রাণহীন করে তুলতে পারতো। এই স্টেডিয়ামটি বার্মিংহাম শহর থেকেই গড়ে উঠেছে।”

ওয়াশিংটন কমান্ডার্স স্টেডিয়াম
ওয়াশিংটন ডিসি-তে এইচকেএস-এর নির্মিতব্য ৭০,০০০-এরও বেশি ধারণক্ষমতার ওয়াশিংটন কমান্ডার্স স্টেডিয়ামের বাইরের অংশকে একটি স্তম্ভশ্রেণী ঘিরে রাখবে।
স্টুডিওর মতে, এই বিশাল সম্মুখভাগের নকশাটি “স্থানের তাৎপর্য বিবেচনায় পরিচালিত” হয়েছে, যার লক্ষ্য লিঙ্কন মেমোরিয়ালের মতো শহরের নাগরিক স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া।

গ্র্যান্ড স্টেড হাসান
মরক্কোর এই স্টেডিয়ামটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্টেডিয়ামের মতোই। এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি বিশাল তাঁবুর মতো ছাদ। আশা করা হচ্ছে, এতে ১,১৫,০০০ আসন থাকবে এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়ামে পরিণত হবে।
ওউয়ালালু চোই এবং পপুলস এই স্টেডিয়ামটির নকশা এমনভাবে করছে যাতে ২০৩০ বিশ্বকাপের সময় এটি চালু হলে “বিশ্বের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম” হয়ে ওঠে।

অ্যাথলেটিক্স লাস ভেগাস বলপার্ক
একটি আর্মাডিলোর আদলে ডিজাইন করা ধাতব আবরণের ভেতরে থাকবে অ্যাথলেটিক্স লাস ভেগাস বলপার্ক। এটি ছিলো বিগ-এর ডিজাইন করা সর্বপ্রথম বেসবল স্টেডিয়াম।
স্টুডিওর মতে, এটি বর্গাকার ধাতব প্যানেল দিয়ে আবৃত থাকবে এবং এর সামনে থাকবে “বিশ্বের বৃহত্তম কেবল-নেট কাঁচের দেয়াল”।

ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়ন ফুটবল ক্লাব
যুক্তরাজ্যের ব্রাইটনে কেএসএস বর্তমানে ইউরোপের প্রথম বিশেষভাবে নারীদের জন্য নির্মিত ফুটবল স্টেডিয়ামের কাজ করছে।
যদিও এর নকশা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামটি একটি সেতুর মাধ্যমে শহরের বিদ্যমান পুরুষদের অ্যামেক্স স্টেডিয়ামের সাথে সংযুক্ত থাকবে এবং এতে নারী ক্রীড়াবিদ ও দর্শকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

ফরেস্ট গ্রিন রোভার্স ইকো পার্ক স্টেডিয়াম
এই স্টেডিয়ামটি তালিকার সবচেয়ে ছোট ভবনগুলোর মধ্যে একটি হলেও, এটি কোনো অংশে কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয়। এটি ফরেস্ট গ্রিন রোভার্স ফুটবল ক্লাবের নতুন হোম গ্রাউন্ড। ইকো পার্ক স্টেডিয়াম নামে পরিচিত এই স্টেডিয়ামটি ডিজাইন করেছে জেডএইচএ। এটি প্রায় সম্পূর্ণ কাঠ দিয়ে নির্মিত হবে।
৫,০০০ আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামটি টেকসই শক্তির উৎস থেকে চালিত হবে, যা দলটির মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করে। একে বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব ফুটবল ক্লাব হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।



















