বিল্ডিং ইনমেরশন ম্যানেজমেন্ট- নামটা শুনেই বেশ বোঝা যাচ্ছে যে এটি বিল্ডিং-এর তথ্য সংক্রান্ত একটি ব্যাপার হবে। কিন্তু আমরা কি ভেবেছি যে বিল্ডিং নির্মাণ হয়ে গেলে তার আর এমন কি তথ্য আছে যা জানার মধ্য দিয়ে উপকার হতে পারে। এখনকার তথ্য ও প্রযুক্তির সময়ে আমরা অনেক কিছুই জানতে পারছি এবং তারই হাত ধরে জীবন প্রণালী ও কল-কারখানার ধরনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। সর্বত্র প্রযুক্তির নব-জাগরণের ফলে তথ্য এখন অমূল্য এক সম্পদে পরিণত হয়েছে। কারণ এছাড়া আর প্রযুক্তিকে বুঝে ওঠা এবং তাকে সামলানোর জন্য অভিজ্ঞ বা অনভিজ্ঞ সকলের জন্যই তথ্য অপরিহার্য। ‘বিল্ডিং ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট’ সংক্ষেপে বিআইএম হলো প্রযুক্তির নব-জোয়ার। যেখানে নানা উপাদান ব্যবহার করে ডিজিটালি বিল্ডিং- এর ফিজিক্যাল বা আকারগত এবং ফাংশনাল তথা কার্যবৃত্তিগত নানা বিষয়গুলোকে তুলে ধরা হয়। এটি সফটওয়্যার নির্ভর একটি প্রযুক্তি। একটি আবাসিক ভবনে, ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান-পাট, গোডাউন বা কারখানায় এবং সরকারি নানা এজেন্সি যারা ডিজাইন এবং নির্মাণের সাথে সম্পৃক্ত পাশাপাশি যারা বিল্ডিং নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং দেখভালের দায়িত্বে আছেন বিশেষ করে যেকোনো ধরণের ফিজিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের (ঢ়যুংরপধষ রহভৎধংঃৎঁপঃঁৎব) জন্য তারা এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করতে পারেন। যেমন- পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যোগাযোগ বিষয়ক সেবাসমূহ, রাস্তা, রেলওয়ে, ব্রীজ, বন্দর ও টানেলেও এর কার্যকারিতা অপরিসীম।
শুরুর কথা
বিআইএম আজকের দিনে এসে খুব জরুরী বলে মনে হলেও আসলে এর ধারণা এসেছে অনেক আগে, সেই ১৯৭০ এর দশকে। কিন্তু ২০০০ সালে এসে এই ধারণা বাস্তবে রূপ পায়। প্রযুক্তিগত উন্নতির সাপেক্ষে দেশে ভেদে ভিন্ন গতিতে এগিয়ে চলেছে বিআইএম প্রযুক্তি এবং হয়েছে বিকশিত। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্যে এর প্রসার ঘটেছে এবং এরপর ২০০৭ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল আই.এস.ও. ১৯৬৫০ নীতিমালার সূচনা হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে।
তবে যুক্তরাজ্যের রয়েল একাডেমি এরকম ভিন্ন ভিন্ন বিআইএম এর প্রডাক্ট নিয়ে গবেষণা করে মানোয়োন্নয়ন করেছে। স্থপতি এবং প্রকৌশলীরা আউটোক্যাড নামক একটি সফটওয়্যার বব্যবহার করে থাকেন কিন্তু বিআইএম এর সাথে যুক্ত করেছে আরো নতুন কিছু টুলস, যেমন কেমন সময় লাগতে পারে, খরচ কেমন হবে, নির্মাণের নানা খুঁটিনাটি, সাস্টেনেইবেলিটি এবং নির্মাণ শেষে দেখাশোনা করা সংক্রান্ত তথ্যাদি। এখান থেকেই জন্ম নিয়েছে গ্রাফিসফটের মতন সফটওয়্যার। তবে বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় আর্কিক্যাড, যা ১৯৮৭ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা ছিলো প্রথম ক্যাড-প্রডাক্ট যা কম্পিউটারে প্রথমবারের মতন দ্বিমাত্রিক এবং ত্রিমাতৃক জ্যামিতিক আকার দিতে সক্ষম হয়েছিলো। আজকে যে আমরা বিআইএম শব্দটা ব্যবহার করছি তার প্রথম প্রয়োগ হয়েছিলো ১৯৮৬ সালে লন্ডনের এক পত্রিকায়। তবে এরও প্রায় বছর দশক বাদে এই সফটওয়্যারগুলো জনপ্রিয়তা পায়। ততদিনে বাজারে আরো অনেকে এই জাতীয় সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। গ্রাফিসফটের আরেক নাম হয়েছে ভার্চুয়াল বিল্ডিং। অটোডেস্ক বিশ্বজুড়ে খ্যাত এবং প্রতিবছর যুক্ত করছে নতুন নতুন টুলস। কাজগুলোকে আরো নিখুঁত এবং আরো সহজ করার প্রক্রিয়া জারি আছে সর্বক্ষণ।
সংজ্ঞা জানা
আইএসও ১৯৬৫০-১:২০১৮ নীতিমালা অনুযায়ী বিআইএম হলো, ‘একটি নির্মিত সম্পদের শেয়ার করা ডিজিটাল উপস্থাপনের ব্যবহার যা ডিজাইনের প্রক্রিয়ায়, নির্মাণে এবং বিল্ডিং-এর অপারেশনে অবদান রাখে যেন নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বিল্ডিং মডেল স্ট্যান্ডার্ড প্রজেক্ট কমিটি অবশ্য বলে, বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং হলো একটি সুবিধার ফিজিক্যাল এবং ফাংশনাল চরিত্রকে ডিজিটালি উপস্থাপন করা। একটা বিআইএম হলো শেয়ার্ড নলেজে রিসোর্স যা একটি সুবিধার তথ্যের জন্য নিয়োজিত যেন তাতে করে কতগুলো নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় সেই সুবিধার জন্য যে সময়কাল বরাদ্দ তার জন্যে: একদম এর অস্তিত্বের শুরুর দিন থেকে এর ধ্বংসের দিন পর্যন্ত।
সাধারণত চিরায়ত বিল্ডিং ডিজাইন দ্বিমাত্রিক হয়ে থাকে। এক হলো টেকনিল্যাক ড্রয়িং যেখানে আছে প্ল্যান, এলেভেশন, সেকশন ইত্যাদি। বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং এই মাত্রাকে বাড়িয়ে নিয়ে এলো ত্রিমাতৃকে যেখানে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা এবং গভীরতা সবকিছুই জানা যায়। এর সাথে সময়ের তথ্য যুক্ত হলে তা হলো চার মাতৃক এবং মূল্যের হিসাব জুড়িয়ে দিলে হলো পাঁচ মাতৃক। সেইসাথে এখন যুক্ত হয়েছে সম্পদের দেখভাল, সাস্টেনেইবিলিটির হিসেব ইত্যাদি। কেবল জ্যামিতিক আকারে আর বিআইএম সীমাবদ্ধ নেই। স্পেসের সাথে পারস্পারিক সম্পর্ক, ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিল্ডিং-এর সাথে এর সম্পর্ক এর সবকিছুই বিল্ডিং এর ডিজাইনের দিন থেকে শুরু করে নির্মাণ ও পরবর্তিকালে পরিচালনার জন্যেও কাজে লাগে। আমরা আসলে বিল্ডিং নির্মাণের পর তার দেখভালের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশটি ভুলে যাই। অথচ এটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যে কষ্ট করে এবং পরিকল্পনা করে একটা কাঠামো দাঁড় করানো হলো পৃথিবীর বুকে তার সময়কাল বাড়ানোর অনেকখানি নির্ভর করছে এই নির্মাণ-পরবর্তী দেখভালের গুণগত মানের উপর।
প্রজেক্টের জীবনচক্রে বিআইএমএর ব্যবহার
ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি যে, বিআইএম প্রকল্পের ডিজাইন ও নির্মাণকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিল্ডিং-এর জীবন-চক্রে এর ব্যয় নিয়ন্ত্রন, নির্মাণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, প্রজেক্ট ম্যানেজ করা, এর যাবতীয় সুবিধাদি নিশ্চিত করা এবং বিল্ডিং-কে গ্রিন-বিল্ডিং এ রূপান্তরিত করা এরসবই এখন বিআইএমএর সহায়তায় করা হচ্ছে।
বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেল-কে ম্যানেজ করা
বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেল- মূলত বিল্ডিং-এর জীবনকালকে আরো সম্প্রসারিত করে। এই গোটা সময়ে একটা ফলপ্রসূ ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে একটি বিআইএম ম্যানেজার ব্যবহার করা হয়। ক্লায়েন্টের পক্ষ থেকে ডিজাইনের পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বিআইএম ম্যানেজারের ব্যবহার করা হয়। বিল্ডিং-এর ফাংশন অনুযায়ী বিআইএম এর পরিমাপক পদ্ধতি সে অনুযায়ী বদলে নিতে হয়। অনেক কোম্পানি এবং ইন্ডাসট্রিয়াল যে বিল্ডিং তারা তাদের পণ্য এবং ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী বিআইএম কাস্টোমাইজ করে নেন। এভাবেই এই পদ্ধতির দিনকে দিন অনেকগুলো দিক খুলে যাচ্ছে এবং সংযুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন টুলস যা আগামীর কাজগুলোকে আরো সহজ করে তুলছে। বিল্ডিং বানানোর আগেই এর সম্পর্কে নিখুতভাবে তথ্য জানার ফলে পরবর্তী কাজগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্লায়েন্টের জন্য সুবিধার হয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ভবন গড়ে তোলার যে দায়িত্ব সেটিও নিশ্চিত হয়।
নির্মাণকালীন প্রক্রিয়া ম্যানেজ করতে বি.এম.আই
একটি ভবনের নির্মাণকালীন সময় হলো এর সবথেকে চ্যালেঞ্জিং সময়। কারণ ডিজাইনের পর সেই রূপকে কত শতাংশ বাস্তবে রূপ দেওয়া যাবে, কতখানি কাঙ্খিত বাজেটের মাঝে রাখা যাবে, কত স্বল্প শ্রমিক ব্যবহার করা যেতে পারে, কীভাবে নির্মাণ গতিকে ত্বরান্বিত করা যেতে পারে তা নির্ণয় করাটা নিঃসন্দেহে একটি জটিল প্রক্রিয়া। স্থাপত্যের ড্রয়িং, স্ট্রাকচারের ড্রয়িং, মেকানিক্যাল ড্রয়িং সবগুলোর মাঝে একটি সুন্দর সংমিশ্রণ এখানে দাবী রাখে। এক্ষেত্রে বিআইএম নিশ্চয়তা দেয় যেন কোন প্রকার সংঘর্ষ তৈরি না হয় এবং অসংযত জায়গাগুলো সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত করে যেখানে কাজ করার সুযোগ থাকে শুধরে নেওয়ার।
বিআইএম এর ভার্চ্যুয়াল সিমুলেশন বা ভার্চুয়াল অনুকরণের জন্য মূল বিল্ডিং- এর অনুরূপ একটি ধারণা আমরা আগেই পেয়ে যাই। এর আসল দৃশ্যগত রূপটি কেমন হতে পারে, কেমন হতে পারে এর নিরাপত্তা বিষয়গুলো এবং অনিশ্চয়তার জায়গাগুলোকে কীভাবে দূর করা যায় এরকম সব সম্ভাবনা ও অসম্ভাবনাগুলোকে প্রায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে বিআইএম প্রযুক্তি। নির্মাণের অন্যান্য উপ-সম্পাদনের ব্যবসায়িক সব ক্ষেত্রগুলোর নির্মাণের আগেই এর জটিলতার তথ্য, সুযোগ, সাইটের বাইরে কি কি করাযেতে পারে এবং সাইটে কি করা যাবে কত অংশ অপচয় হতে পারে ইত্যাদি সুন্দরভাবে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। ফলে একই ম্যাটেরিয়ালের কত অংশ নির্মাণের একটি অংশে ব্যবহার করে বাকিটুকু অপর অংশে ব্যবহার করা যেতে পারে যা হয়তো দুটো ভিন্ন সময়ে প্রয়োজন সেসব খুব সহজে মুহূর্তেই নির্ণয় করে দেয় এই প্রযুক্তি। এতে কাজের স্থান ও সুযোগগুলো খুব নিখুঁতভাবে আলাদা করে নেওয়া যায় এবং পদ্ধতিগতভাবে আরো সহজ ও সুন্দর করে গুছিয়ে কর্ম পরিকল্পনা করা যায়। কোন কাজের পর কোনটা করলে অর্থনৈতিক, সময়, শ্রম সবকিছুর অপচয় রোধ করে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় তা সব বিল্ডিং নির্মাতাদের কাছেই প্রধান চাওয়া। একটি থ্রি-ডি মডেল পর্যন্ত আমরা দেখতে অভ্যস্থ কিন্তু বিআইএমতাকে ছাড়িয়েছে বহুগুণ এবং দিয়েছে বহুমাত্রিক সমাধান বিল্ডিং-এর ডাক্ট, পাইপ-লাইন কিছুই তাতে বাদ যায়নি।
বিআইএম যেভাবে কাজ করে
ডিজাইন টিম, নির্মাণ টিম, বিল্ডিং-এর মালিক বা অপারেটর এই তিন দলের মাঝে তথ্যের সেতু বানায় বিআইএমযাতে সবগুলো গ্রæপ এখানে স্বচ্ছভাবে সবকিছু জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় রেফারেন্স ব্যবহার করে কাজ এগিয়ে নিতে পারে। এভাবে বিআইএম মডেলটিকে তারা সমৃদ্ধ করে তোলেন। যেমন ধরা যাকঃ বিল্ডিং-এর মালিক হয়তো পানির ব্যবস্থাপনায় একটা লিকের ঘটনা ঘটেছে বলে বুঝতে পারলেন। তখন তিনি আন্দাজে না খুঁজে বিআইএম এর মডেলটি বের করে পানির ভাল্বগুলো কোথায় আছে দেখে নিতে পারেন এবং লিকের জায়গাটি কোথায় হতে পারে নিমেষে তা জেনে যেতে পারেন। এমনকি সেই ভাল্বের নিখুঁত আকার, সাইজ, পার্ট নম্বর বা এ সম্পর্কে যা গবেষণা করা হয়েছে তার সবই ঐ মডেল থাকবে যা তিনি প্রয়োজনে নতুনভাবে সংযোগ করতে বা সারতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে এই তথ্যটি তাকে সম্পূর্ণরূপে সাহায্য করবে। দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও উন্নতির মাধ্যমে এই বিষয়গুলো প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এমন নয় যে শুরু থেকেই এসব ভাবনা সফটওয়্যারে ছিলো।
বিল্ডিং-এর সুবিধাসমূহের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং ম্যানেজমেন্ট ও একটি সার্বিক বোধগম্য ও বাস্তবায়নযোগ্য বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট চর্চা যা কম খরচে বিল্ডিং এর গোটা জীবনকাল জুড়ে সাথে থাকবে এই নিশ্চয়তা দেওয়াটা সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে ধরা হয়ে থাকে। এই ব্যাপারটি নিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে বিআইএম এর আরো উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
গ্রিন-বিল্ডিং এর ধারণায় বিআইএম এর অবদান
গ্রিন-বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে বিআইএম এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো একটি টেকসই ডিজাইনকে এগিয়ে নেওয়া এবং তার বদলে স্থপতিদের এবং প্রকৌশলীদের বিল্ডিং-এর পারফরমেন্সকে অগ্রীম বিশ্লেষণের একটি সুযোগ করে দেওয়া। কেননা এই প্রযুক্তি পরিবেশের উপর বিল্ডিং-এর প্রভাবকে নির্ণয় করতে সক্ষম। কি ধরণের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করলে একটি টেকসই পরিবেশবান্ধব বিল্ডিং নির্মাণ করা যেতে পারে সে ব্যাপারে এই প্রযুক্তি আমাদের পথ দেখিয়ে দেয়। কারণ এই সংক্রান্ত ডাটাবেজ আসলে তার মাঝে আছে ফলে ডিজাইনের সময়কার ধারণাগুলোকে এখানে প্রদান করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজাইন এবং বিশ্লেষণের মাঝে একটি তুলনা করে ফলাফলটি আমাদের জানাতে পারে। এতে করে বিল্ডিং-এর জীবন কালের একটি ব্যবহারিক হিসাবও আমরা পেয়ে থাকি।
বিআইএম সেবাটি ডিজাইনারদেরকে বিল্ডিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জির একটা ধারণা দেয়। ভার্চুয়াল মডেলকে জিবিএক্সএমএল (মনঢগখ) নামক সফটওয়্যারে এক্সপোর্ট করলে এই তথ্যগুলো পাওয়া যায়। এই সম্ভাব্য ফলাফলের তথ্য ব্যবহার করে ক্লাইমেট ডাটা, গ্রাফিক্যাল এনার্জি, ডিজাইনের ফলে আশেপাশে এর কেমন রৌদ্রচ্ছটা বা কনট্র্যাস্ট হতে পারে কি না এর সব জানা যায় বলে গ্রিন-বিল্ডিং ডিজাইন নিশ্চিত করা যায়।
রৌদ্রের আলো এবং ছায়া বিল্ডিং-এর কোন অংশে কতটুকু পড়বে সে তথ্য জানায় বি.আই.এম। এবং কীভাবে ডিজাইন করলে রৌদ্রের আলো আরো ভালো মাত্রায় পাওয়া যেতে পারে সে বিষয়েও নির্দেশনা দিতে পারবে।
বিআইএমএর কর্মপ্রক্রিয়াটি দুটো ধাপে সম্পন্ন হয়। একটিকে বিআইএমএর যে ফিচার্সগুলো অবধারিতভাবে আছে সেগুলো ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এবং দ্বিতীয় ধাপে বিল্ডিং-এর ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণধর্মী নানা টুলস ব্যবহার করে এটি জানা যায়। এরপরে সোলার থার্মাল এনার্জি, ভালো যোগাযোগ এবং সমন্বয়করণ সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দানকারী হিসাব ক্ষমতা দেয় বলে এবং যেহেতু এই প্রযুক্তি গ্রিন-এনালাইসিস এর চেতনাকে ধরে বানানো ফলে সাস্টেনেবিলিটি এনালাইসিস বা বিল্ডিং এর টেকসই কতটা তা এখানে ভালোভাবে নির্ণয় করা যাবে। এনার্জি, কার্বন নিঃসরণ, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল, রৌদ্রের আলো, বিল্ডিং-এর স্থানে স্থানে শব্দের গুণগত মান নির্ণয়, পানি ব্যবস্থাপনা এর সব কিছু জানা যাবে এই প্রযুক্তি থেকে যা স্থপতি, ডিজাইনার, প্রকৌশলী, পরামর্শক, ইউটিলিটি সার্ভিস দেন এমন কোম্পানি এবং সবিশেষে সরকার সমস্ত পক্ষের জন্য জরুরী। শিল্প কারখানার যে স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা আছে দেশি এবং বিদেশি নানা সংস্থার দ্বারা সেটা গ্রিন-বিল্ডিং এর বেলাতেই হোক কিংবা অন্যান্য পরিমাপক হোক সেসব নির্ণয় করতে সাহায্য করবে বিআইএম। এবং এর ফলেই সেই শিল্পকারখানার রেটিং হবে উন্নত যা বিশ্ব বাজারে তার দর বাড়াতে সক্ষম।
গ্রিন-বিল্ডিং রচনায় বিআইএম এর প্রধান লক্ষ্য হলো জমি, পানি, এনার্জি এবং নির্মাণসামগ্রীকে ঘিরে কাজ করা। জমির ক্ষেত্রে বিআইএম সাইট পরিকল্পনার সাথে সম্পর্কিত। এই সাইটের জন্য প্রযুক্তিটি যে সিমুলেশন প্রস্তুত করবে তা নির্মাণের প্রতিটি ধাপের অগ্রগতিতে হিসাব কষে বের করে দিতে পারবে এবং সাইট প্রিপারেশনের প্রক্রিয়াকেও নির্দেশনা দিতে পারবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হয়, সাইটের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং নির্মাণের সময় কমে আসে। পানিরক্ষেত্রেযেকোনো বিল্ডিং বিআইএম এর উপর নির্ভর করলেও শিল্প কারখানাগুলো প্রায় আবশ্যিকভাবেই এর উপর নির্ভর করে। কারণ এই প্রযুক্তি অযথা অপ্রয়জনীয় পানির অপচয়রোধ করে পানি রক্ষা করে তা সংরক্ষণ করে। এতে করে প্রাণ ও পরিবেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয় না। বিআইএম বিল্ডিং-এর পানি প্রবাহ,ড্রেন ব্যবস্থাপনা, বিল্ডিং-এর পানি পরিকল্পনা, পানি ব্যবস্থাপনার ডিজাইন এবং উন্নয়ন সাধনে সার্বিকভাবে বিল্ডিং-এ পানির মান নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিআইএম সিমুলেশন বিল্ডিং-এর এনার্জি ধারণ নিখুঁতভাবে দ্রæতবের করতে পারে। এনার্জির অপচররোধের সমাধানগুলোদেখিয়ে দিতে পারে। নির্মাণকালীন সময়ে ধাপে ধাপে বিআইএম বিশ্লেষণ করে গাণিতিকভাবে জানিয়েদেয় কীভাবে এনার্জি বাঁচিয়ে পরিবেশ বান্ধব নির্মাণ করা সম্ভব। নির্মাণ সামগ্রীরক্ষেত্রে বিআইএম ম্যাটেরিয়ালের এনার্জি ধারণ বলেদেয়, এও বলেদেয়যে ঠিক কি পরিমাণ ম্যাটেরিয়াল লাগবে এবং এই তথ্যগুলোকে নির্মাণের ক্রমানুসারে সাজিয়ে প্রকাশ করে বলে আমাদের বুঝতেও সুবিধা হয়। গ্রিন-বিল্ডিং এরক্ষেত্রে একটি বিল্ডিং কতটা সফল হলো তা নির্ণিত হয় আন্তর্জাতিকরেটিং দ্বারা।যেমন খঊঊউ, ইজঊঊঅগ, এবং এৎববহ ঝঃধৎ.কোনো বিল্ডিং-এর বিআইএম থাকলেসে নিজেই ডিজাইনের এবং সার্টিফিকেশন ম্যানেজমেন্টের (ঈবৎঃরভরপধঃরড়হ) জন্য প্রয়োজনীয় মডিউলগুলো (গড়ফঁষব) বানাতে পারে। এতে করে উপযোগী এবংটেকসই জ্ঞানসম্পন্ন বিআইএম টুলস ব্যবহার করে এপ্লিকেশনপ্রোগ্রামিং ইন্টারফেস বা অচও বানিয়েফেলে যাদেখে এই সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া আসলে সম্পাদিত হতে অনেকখানি এগিয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক নানাক্ষেত্রে বিআইএম এর প্রয়োগ ও উন্নতিসাধন
এশিয়ার মাঝে চীন, হংকং, ভারত, ইরান, মালোয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণকোরিয়া, ইউনাইটেড আরব আমিরাতে বিআইএমপ্রয়োগ বিস্তর। ২০০১ সালথেকে চীনে এই প্রযুক্তিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে কাজ শুরু করা হয় এবং ২০১১ সালকে তারা বলছে ‘চীনেবিআইএমএর প্রথম বছর’ অর্থাৎ এতটাই তাদের ব্যপ্তি ও উন্নতি সাধিত হয়েছে। ২০০৬এ হংকং হাউজিং অথরিটি বিআইএম এর সূচনা শুরু করে এবং ২০১৮তে এসে কিছু কিছু ভবনে বিআইএম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। ভারতে বিআইএম নিয়ে কাজ করার একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটিবোর্ড আছে। তারা দাবী করছে ২০১৯ সালে এসে নির্মাণের সময় ২০শতাংশ তারা কমিয়ে আনতেপেরেছে। নিঃসন্দেহে এ এক বিশাল অর্জন। ২০১২ সালে ইরানে বিআইএম সূচনা হয়। এখনো তা স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে মূল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। মালোয়েশিয়া আবার বিআইএমকে খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ তারা এর দ্বিতীয় মাত্রার ব্যবহার নিশ্চিত করতেচেয়েছিলো। বিল্ডিংযেন ব্যবহারের সর্বোচ্চ উপযোগী হয়সেটাই তাদের লক্ষ্য এবং এই উদ্দেশ্যে কাজ এখনো জারি আছে। সিঙ্গাপুর স্থাপত্য ও নির্মাণে বিশ্ব দরবারে আদর্শ-স্বরূপ। স্থাপত্যের ড্রয়িং জমাদেওয়ার ফর্দে বিআইএমএর বৃত্তান্ত জুড়েদেওয়া তাদের মূল শর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে এদিকথেকে তারা কতটা এগিয়েছে এবং লাভবান হয়েছে তা আমরা আন্দাজ করতে পারি। জাপান সরকার যাবতীয় সরকারি বিল্ডিং এবংযে বিল্ডিংগুলোমেরামত করা হচ্ছেসেসবগুলো বিল্ডিং-এ বিআইএমএর প্রয়োগ করেছে। এবং বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডমেনে সমস্ত বিল্ডিং নির্মাণ করছে ফলে বিয়াইএম ব্যতীত তারা আর কাজ করছে না। দক্ষিণকোরিয়ায় বিআইএম নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েবেশ আগে ১৯৯০এর দশকে। ২০১২থেকে এই প্রযুক্তির বাস্তবায়ন তার শুরু করেছে এবং এখনো পর্যন্ত উত্তরোত্তর গবেষণা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া তারা জারিরেখেছে। ইউনাইটেড আরব আমিরাতের অট্টালিকাগুলো বিআইএম ছাড়াযে পরিচালনা করা অসম্ভব তা হয়তো এতক্ষণে আমরা বুঝে গিয়েছি। দুবাইয়ে নির্দিষ্ট আকার, উচ্চতা ও প্রকারের বিল্ডিং এর জন্য বিআইএম বাধ্যতামূলক করা হয় বললে ভুল হবে অপরিহার্য বিধায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও ইউরোপের নানদেশযেমন অস্ট্রিয়া,চেক-রিপাবিøক, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি,নেদারল্যান্ড, নরওয়ে,পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রাশিয়া,স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ইংল্যান্ডে এর ব্যবহার ছাড়া আধুনিককোনো নির্মাণ ভাবা হচ্ছে না। ওদিকে উত্তর আমেরিকায় যুক্তরাজ্য, আফ্রিকায় নাইজেরিয়া, দক্ষিণ-আফ্রিকা, তারপর অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ড সর্বত্র এই প্রয়োগ ভিন্ন দ্বিতীয় কিছুনেই। অতএব, আগামী দিনেযেকেবল স্থাপত্য, প্রকৌশলীর ড্রয়িং নয় বরং বিআইএম সম্পন্ন ড্রয়িং ও মডেলযে হতে চলেছে নতুন একটি ভাষা তা এখনথেকেইবেশ বলেদেওয়া যায়। এবং এও বলা যায়যে যারা এই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে তাদের উন্নয়ন হবেদেখার মতন ফলে বিশ্ব ক্ষমতায় তারা গর্জে উঠবে।
বিআইএম এর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
শিল্প-প্রযুক্তি মাধ্যমে আমরাযে ধরণের প্রযুক্তির ব্যবহারদেখতে পাইসে তুলনায় বিআইএম অপেক্ষাকৃত নতুন একটি প্রযুক্তি। তা সত্ত্বেও খুব দ্রæত জায়গা করে নিচ্ছে বিএমাই। এর মাধ্যমে আমরা যা পাচ্ছিঃ
১. দৃশ্যগত রূপটি উন্নত হয়েছে।
২. প্রডাক্টিভিটির মান বৃদ্ধিপেয়েছেযেহেতু খুব সহজে ভুল শুধরেনেওয়া যায়।
৩. নির্মাণের কাগজপত্রের মাঝে সমন্বয় করা বহুগুণে সহজ হয়েছে।
৪. নির্দিষ্ট নির্মাণ সামগ্রী, নির্মাণের নির্দিষ্ট স্থানে কি পরিমাণে এবং কি মানের ম্যাটেরিয়াল দরকার এসবকিছুর দাম এবং জরুরী তথ্যের মাঝে একটি সংযোগ ঘটিয়ে ফলাফল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম বিআইএমফলে কাজ করতে সুবিধে হয় অনেক।
৫.ডেলিভারি দ্রæত সময়ের মাঝে হয়।
৬. খরচ কমিয়েদেয়।
বিআইএম একটি বিল্ডিংকেমন কাজ করছে তা বিশ্লেষণ করতে চাইলেযেসব তথ্য প্রয়োজন তার সবকিছুই আমাদের জানাতে সক্ষম। বিআইএমএর ভবিষ্যৎ কি তা ভাবার আগে যা আমাদের বুঝতে হবে তা হলো আমাদের ভবিষ্যৎ-ই হলো ‘বিআইএম’। তবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এখন আরো যা কিছু যুক্ত হচ্ছে তার মাঝে আছে ক্লাউড (ঈষড়ঁফ) নির্ভর প্রযুক্তি। এর দরুন ডিজাইন এবং নির্মাণকারীরা একটি নতুন ফলপ্রসূ পদ্ধতিতে কাজ করতে উৎসাহিত হচ্ছে আরো ব্যাপক আকারে। এই উদ্ভাবনের ফলে ব্যবসায়ীদেরকে দক্ষতার সাথে এবং নির্ভুলভাবে কাজদেওয়ার কারণে বিআইএমযে একটিবৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার মতন অবস্থানে আছেসেকথা হলফ করে বলা যায়।
বাংলাদেশে বিআইএম প্রযুক্তির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
২০১৮ সালে চিটাগং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় চতুর্থ ইন্ট্যারন্যাশনাল কনফারেন্স অন এডভান্সেস ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। ডিসেম্বর মাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একটি গবেষণাপত্র পাঠ করা হয়যেখানে বলা হয়যেকেন আমাদেরদেশেরযে নির্মাণ শিল্প তা বিআইএমনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।সেখানে এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয় এবং অনিবার্য কারণ হিসেবে আমাদের শ্রম দক্ষতার অভাব, প্রশিক্ষণের অভাব, সরকারের তরফথেকে আগ্রহ এবং পরিকল্পনার অভাব ইত্যাদিকে বাস্তবায়নের মতন একটা পরিবেশ গড়ে নাতোলার পিছনে কারণ বলা উল্লেখ করা হয়। আরোযেসব কারণ তুলে ধরা হয়সেগুলো হলোঃ
– একটা প্রকল্পে যতজন সদস্য থাকে তাদের এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব।
– ক্লায়েন্টের এই প্রযুক্তি সম্পর্কেকোনোপ্রকার চাহিদা না থাকা।
– বিনিয়োগ খরচ নিয়ে চিন্তা করা।
– এই প্রযুক্তিকে আপন করে নিতেযে খরচের প্রয়োজনসেখানে গুরুত্ব নাদেওয়া।
যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এই প্রযুক্তিকে বাংলাদেশে আপন করেনেওয়া আরো সহজ হয়ে উঠবে বলে তারা মনে করেনসেগুলো হলোঃ
– এই প্রযুক্তিতে যারা অভ্যস্থ নন তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
– এই প্রযুক্তির উপযোগীতা সম্পর্কে সচেতনা বৃদ্ধি করা।
– প্রাথমিক বিনিয়োগ খরচ সম্পর্কে ধারণাদেওয়া।
– সম্ভাব্য সুবিধাসমূহ বুঝিয়েদেওয়া।
– প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাব্য চার্ট বানিয়েদেখানো।
– বিল্ডিং-এর নানা ফাংশনকে কীভাবে এই প্রযুক্তি সামাল দিবে তা দৃশ্যগতভাবেদেখানো।
– সরকারের তরফথেকে অবদান।
– সাইটেরলে-আউট প্ল্যান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিদেখানো।
– সফটওয়্যার এবং যন্ত্রের মান উন্নয়ন সংক্রান্ত খরচের একটা তালিকা করেদেখানো।
– নির্মাণ কাজে থাকা সদস্যদেরযোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য বানানো।
আমাদেরদেশেদেখা যায়যে বিআইএম ডিজাইন এবং নির্মাণ অধ্যায়েমোটামুটি ব্যবহৃত হলেও ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে এসে এর ব্যবহার শূণ্যেরকোঠায় ফলে বিশ্ব র্যাংকিং এ অবস্থান ভালো নয় আমাদের।স্টেকহোল্ডারদের (ঝঃধশবযড়ষফবৎ) অবদান এখানে এখনো নগণ্য। অন্যদিকে ক্লায়েন্টের সচেতনা এবং অবদান বাংলাদেশেনেই বললেই চলে। এই কারণে দক্ষ জনবল এবং প্রশিক্ষণের বিকল্পনেই। তাই একাডেমিক পড়াশুনারক্ষেত্রে বিআইএম প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করাগেলেইকেবল একটা প্রজন্মথেকে এদেশের ভবিষ্যতে বিরাট পরিবর্তন আনা সম্ভব। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার যদি এই বিষয়ক আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়েতোলেন এবং নির্মাণ বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ করিয়ে ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজে থাকা জনবলকে আরো দক্ষ করিয়ে নিতে পারেন তাহলে আমরাও বিআইএমপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক লাভবান হতে পারি এবং ভবিষ্যতের নির্মাণেরযে ভাষা তার সাথেও পরিচিত হতে পারিকেননা এছাড়া দ্বিতীয় উপায় হয়তো আরনেই।
স্থপতি সুপ্রভা জুঁই
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ংযঁঢ়ৎড়াধলঁর@মসধরষ.পড়স
প্রকাশকাল: বন্ধন ১৫১ তম সংখ্যা, মার্চ ২০২৩