বন্ধনের নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যারা কেমন তারা’ বিভাগের জন্য সফল ব্যক্তির খোঁজে খুব ভোরে চলে যাই ফেনী শহরে। সফল যে ব্যক্তির খোঁজে এসেছি তিনি মাওলানা মোহাম্মদ আজিজ উল্যাহ। ফেনী শহরে নামার পর আমার সঙ্গী হন আকিজ সিমেন্টের আঞ্চলিক বিক্রয় কর্মকর্তা রতন সাহেব। তার সাথে যাই ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায়। উপজেলা পরিষদের ঠিক বিপরীতে মেসার্স উত্তরা ট্রেডার্স। এর কর্নধার মাওলানা মোহাম্মদ আজিজ উল্যাহকে দেখেই বুঝে গেছি তিনি খুব ধার্মিক মানুষ। তার দোকানে প্রবেশ করতেই সালাম দিলেন। সালামের উত্তর দিয়ে বললাম, কেমন আছেন? তিনি খুব কৃতজ্ঞতার সুরে বললেন আলহামদুলিল্লাহ, বেশ ভাল আছি। তার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ কথা বললাম। সফল এ মানুষটির জন্ম ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামে ১৯৭১ সালের ১ জুন। মৃত হাজী আব্দুল মালেক ও মৃত হাজী মনোয়ারা বেগমের আট ছেলেমেয়ের মধ্যে তিনি ৬ষ্ঠ সন্তান। ছেলেবেলায় অত্যন্ত দুরন্ত ও মেধাবি এ মানুষটি প্রাইমারী পর্যন্ত স্কুলে লেখাপড়া করেন। খোদাভীরু ও ধার্মিক হওয়ায় পিতামাতা তাঁকে মাদ্রাসায় পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। কৃষিনির্ভরশীল পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছেলেবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। ১৯৯০ সালে দেবপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেন মসজিদের ইমামতি ও মক্তবে পড়ানো। কঠোর পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী এ ব্যক্তি ১৯৯৪ সালে আলিম পাস করার পর ব্যবসা বাণিজ্য করার চিন্তায় যৌথভাবে ফিরোজা এন্টারপ্রাইজ নামে ডেকোরেশনের ব্যবসা শুরু করেন। পরে ১৯৯৫ সালে এ ব্যবসার সাথে সাথে ফোনকল ও ধান-চাল কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত হন। এভাবে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পর এককভাবে ফিরোজা এন্টারপ্রাইজেই নিজ ব্যবসা আরম্ভ করেন। এরই মধ্যে ১৯৯৬ সালে তিনি ফেনী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে কামেল ও ১৯৯৮ সালে ফেনী সরকারি কলেজ হতে বিএ পাস করেন। ১৯৯৮ সালের ২০ মার্চ তিনি শহীদ জিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এ সময়ে নিজের বাড়ি তৈরি করার উদ্দেশে চট্টগ্রাম থেকে রড, সিমেন্ট কিনে এনে ফিরোজা এন্টারপ্রাইজে মজুদ করেন। এখান থেকে কিছু অংশ বাড়ি তৈরিতে ব্যবহার করেন এবং বাকীটা বিক্রি করেন। এভাবেই ছাগলনাইয়া উপজেলার মনুরহাটে ফিরোজা এন্টারপ্রাইজে অন্যান্য ব্যবসার সাথে রড, সিমেন্ট বিক্রির সাথে যুক্ত হন এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত এখানেই ব্যবসা চালিয়া যান। চাকরিস্থল ছাগলনাইয়া হওয়ায়, একপর্যায়ে ২০০৬ সালে ছাগনাইয়া বাজারে ব্যবসা করার চিন্তা করেন। এ ভাবনা নিয়ে ফেনী টেরিটেরির আকিজ সিমেন্টের ডিস্ট্রিবিউটর ‘ইস্টার্ন ট্রেডিং কর্পোরেশন’ এর সত্বাধিকারী সাইফুর ইসলাম (ফটিক) এর সাথে পারামর্শক্রমে ছাগলনাইয়া উপজেলা গেটে একটি দোকান নেন এবং ২০০৭ সালের ৮ আগস্ট ‘মেসার্স উত্তরা ট্রেডার্স’ নামে রড, সিমেন্টের দোকান চালু করেন। সূক্ষ মেধা ও অত্যন্ত দুরদর্শিতা দিয়ে আজ তিনি সফল ব্যবসায়ী। ২০১০ সালে ফেনী টেরিটোরিতে আকিজ সিমেন্ট বিক্রি করে তিনি প্রথম পুরস্কার পান। তিনি তার এই অবস্থান ধরে রাখতে নিরন্তন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাওলানা মোহাম্মদ আজিজ উল্যাহ তাঁর ব্যস্ত ও কর্মময় জীবনে ২০০৩ সালের ২৩ মে ছাগলনাইয়া থানার যশপুর গ্রামের মজুমদার বাড়িতে মোসা: মর্জিনা বেগমকে বিয়ে করে তার পারিবারিক জীবন শুরু করেন। মো: আবরার মসুম ও মো: আহসান মাররুর নামের দুই ছেলে এবং মোসা: মোবাশ্বিরা আফনান নামের এক মেয়ে নিয়ে তার সুখের সংসার। বিশিষ্ট এ ব্যক্তি নিজেকে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি নিজ গ্রামের মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি। সমাজের মাতবর কমিটির সদস্য ও মনুরহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সেক্রেটারি পদে অধিষ্ঠিত আছেন। এত কর্ম ব্যস্ততার মাঝেও উদার ও বিনয়ী এ মানুষটি সদাহাস্য ও সদালাপী। যার সংস্পর্শ মানুষকে অভিভুত করে, নতুন কাজের কাজের প্রেরণা যোগায়।
জিয়াউর রহমান চৌধুরী
ফেনী থেকে ফিরে
ছবি: বুলবুল সারোয়ার
প্রকাশকাল: বন্ধন ২৪ তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১২
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz
- Mahfuz