• Home
  • মুখোমুখি
  • অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, স্বপন কুমার সরকার
    গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন এলজিডির অন্যতম বিবেচ্য
স্বপন কুমার সরকার

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, স্বপন কুমার সরকার
গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন এলজিডির অন্যতম বিবেচ্য

সাবেক মহাপরিচালক, এলজিডি

স্বপন কুমার সরকারের জন্ম ১৯৫৩ সালের ৫ জানুয়ারি, টাঙ্গাইলে। বাবা স্বর্গীয় গোপাল সরকার, মা নিপা রানি সরকার। ১৯৭০ সালে মাধ্যমিক পাস করেন তালকনগর হাইস্কুল থেকে। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন টাঙ্গাইলের নাগরপুর কলেজ থেকে। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অর্থনীতি বিভাগে। অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তরের পর ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমফিল করে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন একই প্রতিষ্ঠানে। এমফিলের আগে কিছুদিন পার্টটাইম কাজ করেন আমেরিকান একটি ফার্মে কনসালট্যান্স হিসেবে।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)-এর প্রশাসন ক্যাডারে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে চাকরিতে যোগ দেন। ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও, ডিসি, সেক্রেটারি থেকে নিজ কাজের ধারাবাহিকতা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার কারণে ১৪ এপ্রিল ২০০৮ সালে দায়িত্ব পান লোকাল গভর্নমেন্ট ডিভিশন (এলজিডি) বা স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক হিসেবে। এখানে সুনাম ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্বরত ছিলেন ২৬ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত। এরপর অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসর নেন এ বছরের ৪ জানুয়ারি।

পেশাগত কাজে ভ্রমণ করেছেন আমেরিকা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা, জাপান, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের ২৩টি দেশ। গুণী এ মানুষটি কথা বলেছেন বন্ধন-এর সঙ্গে। আলাপচারিতায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ম. শাফিউল আল ইমরান

বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে গভীর নলকূপ স্থাপন ও কৃষি উন্নয়নে সেচ প্রকল্প

বাংলাদেশের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে লোকাল গভর্নমেন্ট ডিভিশন (এলজিডি)-এর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাই

সাধারণত লোকাল গভর্নমেন্ট ডিভিশন (এলজিডি) বা স্থানীয় সরকার বিভাগ কাজ করে স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক স্তর জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা আর ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। এর বাইরেও এর প্রধান কয়েকটি সংস্থা আছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়াও রয়েছে চারটি ওয়াসা- ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী ওয়াসা। শহর কিংবা গ্রাম যেখানেই হোক না কেন ওয়াটার সাপ্লাই, কমিউনিকেশন স্যানিটেশনের মতো ছোট বা বড় সব ধরনের কাজই হয় এখান থেকে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবাও।

এলজিডির উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?

সংস্থাটির লক্ষ্য স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আর্থসামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়ন। সংস্থাটি যে ধরনের কাজ করে থাকে: 

  • স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত বিষয়াবলির দেখভাল;
  • স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থায়ন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন;
  • পানীয় জলসংক্রান্ত বিষয়াবলি;
  • পল্লী ও শহর অঞ্চলে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, জলাবদ্ধতা এবং পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন;
  • নগর ও পৌর এলাকায় রাস্তা এবং ব্রিজ/কালভার্টসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা;
  • গ্রাম পুলিশসংক্রান্ত বিষয়াবলি;
  • উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম সড়কের সঙ্গে, সংযুক্ত গ্রোথ সেন্টার ও হাট-বাজার উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা;
  • সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সীমার মধ্যে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ, অবকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও তা অনেকটা অপরিকল্পিত কেন?

সঠিকভাবে বলতে গেলে কথাটা অপরিকল্পিত নয়, এটা কিন্তু পরিকল্পিত। আমাদের পরিকল্পনার অনেকটাই প্রেশার ফর ডিফারেন্ট পাওয়ার পিপল নির্ভর। কেননা, একজন ক্ষমতাবান আমলা কিংবা জনপ্রতিনিধি তাঁর এলাকায় উন্নয়নে যে কাজ করান, সেটা কি প্রয়োজনীয় না অপ্রয়োজনীয় তা প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়। বস্তুত সরকারের পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নে এটি কিন্তু অন্তর্ভুক্ত নয়। পরিকল্পনামাফিক উন্নয়ন হয় মূলত রাষ্ট্রীয় মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে। কাজেই এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে যদি বলা হয় অপরিকল্পিত তবে তা ভুল হবে। আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশজুড়ে যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেটা কিন্তু সেভাবে হচ্ছে না।

সেচকাজে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

পানিকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড আর কৃষির উন্নয়নে এলজিডির ভূমিকা কতটুকু?

পানিকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দুটো অংশ- একটি জনগণের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরটি ইরিগেশন বা সেচ ব্যবস্থাপনা। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর মাধ্যম ভূ-গর্ভস্থ পানি। উত্তোলিত ভূ-গর্ভস্থ পানির প্রায় ৮% জনগণের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। এর বাইরে পানি সরবরাহে কাজ করছে ৪টি ওয়াসা। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত। কৃষির উন্নয়নে এলজিডি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় কিছু কিছু এলাকায় রাবার ড্যাম্পের মাধ্যমে পানি আটকে সেচকাজ করে থাকে। এর বাইরে কোথাও কোথাও খাল কেটে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এটি প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত।

নৌপথ ও জলাধার উন্নয়নে যেসব কাজ হচ্ছে কিংবা নেওয়া হয়েছে- এ ব্যাপারে এলডিজির সম্পৃক্ততা কতটুকু?

নৌপথ উন্নয়নে এলজিডি কোনো কাজ করেনি, যে কাজগুলো করেছে তা নিজস্ব প্রয়োজনে।  যেমন ধরুন, পানি সরবরাহ করতে গেলে পানি আনতে হবে। এই পানি আনার দুটো উপায় আছে। একটি ভূগর্ভস্থ পানি অপরটি সার্ভিস ওয়াটার। সার্ভিস ওয়াটার পেতে আবার দুটো পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। একটা পাম্পিংয়ের মাধ্যমে পাইপ দিয়ে আর অন্যটি খাল কেটে। ওয়াটার ওয়ে কিন্তু এই উন্নয়নের অন্তর্ভুক্ত নয়। ওয়াটার ওয়ের উন্নয়নে কাজ করছে পানি সম্পদ বিভাগ। আর  জলাধার নির্মাণের কাজ করছে ওয়াসা। তবে খুব বেশি জলাধার নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা এটি করতে গেলে যে পরিমাণ অর্থ ও জমির প্রয়োজন, তা আমাদের পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়।

জলাধার উন্নয়নে এলজিডির জনবলস্বল্পতা কি একটি সংকট?

জনবলস্বল্পতা সংকট না হলেও যে অঞ্চলকে আমরা জলাধার নির্মাণের আওতায় আনব, তখন সেই অঞ্চলটা কৃষির বাইরে চলে যাবে। আমি যদি শহর এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ নিই, তবে ব্যয় বাড়বে। ঢাকা শহরের কথাই ভাবুন না কেন। এখানে এক ডিসিমাল জমির দাম ৩৫-৪০ লাখ টাকা; এত দামি জমিতে কি নতুন করে জলাধার করা সম্ভব? আমি মনে করি, আমাদের যেসব জলাধার আছে, সেগুলো দিয়ে পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে মিরপুর এবং বিরুলিয়ায় আমাদের যে জলাধার আছে তার মাধ্যমে ৪০ মিলিয়ন কিউবিক লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব, যাতে সংরক্ষণ করা যাবে কয়েক গুণ পানি।

উন্নয়ন-পরবর্তী প্রকল্পসমূহ তদারকিতে এলজিডির ভূমিকা কী?

উন্নয়ন প্রকল্প বলতে আমরা তো রাস্তা করছি না, করছি না ব্রিজ কিংবা কালভার্ট। শুধু পানি সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করছি। যেমন- ঢাকা সিটি করপোরেশন একটা রাস্তা করল, যা দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের, যারা সরকারের কাছ থেকে এ জন্য ট্যাক্সের টাকা নেয়। সরকার এ খাতে থোক বরাদ্দ দেয়, লোকাল গভর্নমেন্ট ডিভিশনের পক্ষ থেকে। লোকাল গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এলজিইডি) যে রাস্তাগুলো করে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের। তাদের নিজস্ব আয় না থাকায় এ খাতে সরকার যে থোক বরাদ্দ দেয়, সেটাও পর্যাপ্ত নয়। প্রয়োজনের তিনভাগের একভাগ দেওয়া হয়, যাতে সব ধরনের উন্নয়নকাজ করা সম্ভব নয়।

কৃষিতে সেচ প্রকল্প

বহুমুখী কাজে সম্পৃক্ত হলেও এলজিডির সফলতা কোথায় বলে আপনি মনে করেন?

এলজিডির অধিভুক্ত যে দপ্তর রয়েছে, সেগুলোকে এক সুতায় বাঁধতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরেও রয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এলজিইডি), বিপিএইচই, ওয়াসা যাদের সহায়তায় সমগ্র বাংলাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। ওয়াটার এবং স্যানিটেশনব্যবস্থাকে আমরা এমন এক জায়গায় এনেছি, ভারতও এটা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়েছি। আমি মনে করি, এটাই আমাদের সাফল্য।

এলজিডির চলমান, ভবিষ্যৎ ও সফল প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাই

এলজিডির হাতে যে প্রকল্পগুলো এখন আছে তার বেশির ভাগই বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন, ফ্লাইওভার নির্মাণ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নসংশ্লিষ্ট। যার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায়। এখনকার গৃহীত বেশির ভাগ উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় থাকছে দেশের অনগ্রসর অঞ্চল বিশেষ করে রংপুর বিভাগ ও উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা। এসব এলাকায় নদীতে যেখানে ব্রিজ নেই, ব্রিজ তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে এলজিডির আওতাধীন এলজিইডি। সফল প্রকল্প বলতে যা বোঝায় তা কিন্তু একক কোনো প্রকল্প দিয়ে সম্ভব নয়; এখানে একটি অপরটির পরিপূরক। আমি মনে করি, এলজিডির সফলতা হলো-অধিভুক্ত দপ্তরসমূহের মধ্যে লিংকেজ সৃষ্টির মাধ্যমে সঠিক কাজটি করিয়ে নেওয়া।

জীবনমান উন্নয়নে এলজিডি এলাকার গ্রামীণ জনসাধারণকে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করে সেবা দিচ্ছে?

গ্রামীণ জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন এলজিডির অন্যতম বিবেচ্য। গ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করে গ্রামেরই লোক। এভাবে লোকাল গভর্নমেন্ট ডিভিশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের আয়ের পথ তৈরি হয়, হয় কর্মসংস্থান। লোকাল গভর্নমেন্ট ডিভিশনের প্রজেক্ট আরবান প্রাইমারি হেলথের মাধ্যমে গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। যদিও সেবা দেওয়া হচ্ছে তবুও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের দুর্যোগের ধরনও পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তিত রূপ নিয়েছে ভয়াবহতায়। এর মোকাবিলায় এলজিডির গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কী কী?

দেশের কোস্টাল বেল্ড তথা উপকূলীয় এলাকায় যে বিল্ডিংগুলো করা হয়েছে তার প্রায় সব এখন স্কুলে রূপান্তরিত হয়েছে। সাইক্লোনের সময় এগুলোকে আশ্রয়ণ প্রকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আগে স্কুল ও সাইক্লোন সেন্টার ছিল আলাদা। তা ছাড়া ওখানকার নিচু রাস্তাঘাট এখন উঁচু করা হয়েছে। এলাকার গভীর নলকূপগুলো থেকে পানি সংগ্রহের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিগত ছয় বছর লোকাল গভর্নমেট ডিভিশনের সাফল্য অনেক। কমিউনিকেশন সার্ভিস ওয়াটার সাপ্লাইয়ের মতো সব ক্ষেত্রেই এলজিডি সমান সফলতা দেখিয়েছে।

এলজিডির কর্মকাণ্ডে সংকট বা অন্তরায়টা কোথায়?

এলজিডির কর্মকাণ্ডে তেমন কোনো সংকট আছে বলে আমি মনে করি না। সমস্যা যেটুকু তা পলিসি মেকিংয়ে। প্রথমত, সেন্টাল গভর্নমেন্টের যে পার্লামেন্টারি কমিটি আছে বা আমাদের যাঁরা সাংসদ, তাঁরা যদি উপজেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কাজ করেন তবে উপজেলা পরিষদ স্বাধীনভাবে ঠিকমতো কাজ করতে পারবে না। ইউনিয়ন পরিষদের বেলাও একই কথা। দ্বিতীয়ত, আমাদের প্রকল্প অনুযায়ী এটির বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তৃতীয়ত, প্রকল্প বাছাইয়ের পর কাজ করতে গিয়ে দেখা দেয় ইন্টারভিশন। এখন প্রশ্ন, এটা করেন কারা? করেন রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চ পদস্থ সরকারি আমলারা। প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আবার তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় অর্থ ব্যয় বেড়ে যায়। সময় বাড়ায় কাক্সিক্ষত প্রকল্পটি ঠিকমতো শেষ করা যায় না।

বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি রাবার ড্যাম

সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পেলে এলজিডি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে?

সরকার যেটা করতে পারে তা হলো, এলজিডির অধিভুক্ত ইনস্টিটিউটগুলোকে নিবিড় মনিটরিংয়ের আওতায় আনা। কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুত উদ্যোগী হওয়া।

বন্ধন-এর পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। 

তোমাকেও ধন্যবাদ। 

  • প্রকাশকাল: বন্ধন ৪৭ তম সংখ্যা, মা‍র্চ ২০১৪

Related Posts

সড়ক নির্মাণের আদ্যোপান্ত (প্রথম পর্ব)

মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এই ঈদে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব একত্রিত হওয়ার জন্য উদগ্র একটি বাসনা নিয়ে সারা বছর…

কংক্রিটের দীর্ঘস্থায়িত্ব (১ম পর্ব)

কংক্রিট সারা বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী। আমাদের জীবনে কংক্রিটের ব্যবহার এতটাই বিস্তৃত যে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এক…

প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বৈশ্বিক উষ্ণতায় বাংলাদেশের কোন ঝুঁকি নেই

প্রকৌশলী ম. ইনামুল হকের জন্ম ২৩ জুলাই ১৯৫১ সালে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানার ধান্যঘরা গ্রামে। পিতা মো. ইব্রাহিম, মাতা…

(রিহ্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া আবাসন শিল্পে রিহ্যাবের গৃহঋণ নাগরিকদের স্বস্তি দেবে

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। রিয়েল এস্টেট হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট। সফল ব্যবসায়ী। ব্রিক ওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের…

01~1
previous arrow
next arrow

CSRM

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

কী কী থাকছে আকাশছোঁয়া শান্তা পিনাকলে
সমুদ্রবাণিজ্যের বর্জ্য থেকে অনন্যা এক স্থাপত্য
Home of Haor
Weather
Youth Park
Tower
শহর,সেতু আর সুরের টেনেসির আর্টস সেন্টার
Al Hamra
Teroshri Mosq