সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা কর্মব্যস্ত দিন কাটানোর পরে রাতে ফিরে দুধসাদা নরম গদিতে গা ডুবিয়ে ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক শোনার অথবা পছন্দের বইয়ের পাতা উল্টানোর আমেজই আলাদা। গরমে পোশাক নির্বাচনের পাশাপাশি অন্দরসজ্জায় পরিবর্তনটাও অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। বিছানার চাদর থেকে শুরু করে জানালা আর দরজার পর্দায় লাগে ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া। তাই গরমে ঘরের সাজসজ্জায় বেছে নিতে পারেন হালকা রংগুলোকে। এ ঋতুতে ঘরে এমন রং ব্যবহার করা উচিত যাতে চোখের প্রশান্তি পাওয়া যায়।
অন্দরসাজের মধ্যে সফট ফার্নিশ যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুুমিকা পালন করতে পারে, এমনটা একবারের জন্যও মনে হত না। সফট ফার্নিশের ব্যবহার ছিল শুধু প্রয়োজন মেটানোর জন্যে। আর এ সঠিক সফট ফার্নিশ ব্যবহার না হওয়ার জন্য কত অন্দরসজ্জাই পায়নি তার যোগ্য প্রশংসা। এখন বদল এসেছে মানুষের চিন্তাভাবনায়। অন্দরসাজে সফট ফার্নিশের ব্যবহার নিয়ে চলছে নানারকম এক্সপেরিমেন্ট।
দিন বদলাচ্ছে সাথে সাথে মানুষের রুচির পরিবর্তন ঘটছে। দিন দিন মানুষ খুবই শৌখিন হয়ে উঠছে। আর তাই অন্দরসাজ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে খুবই ভালবাসেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। সেটা ঘরের রং হোক আসবাবপত্র, লাইট কিংবা ফ্যাব্রিক্স। তাই ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে অন্দরসাজের চেহারা। বসার ঘর, শোবার ঘর, কিংবা শিশুর ঘরের অন্য সবকিছুর সঙ্গে মানিয়েই নির্বাচন করুন পর্দা, বিছানার চাদর অথবা কুশন কভার। গরম কালে রৌদ্রের প্রচন্ড তাপের পাশাপাশি হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড়ের আনাগোনা ফেলে দিতে পারে আপনাকে বিরাট ঝামেলায়। গরমে যেমন পছন্দের পোশাকের তালিকায় সুতি থাকে, তেমনি ঘরের সফট ফার্নিশ নির্বাচনে সুতি কাপড় হলেই ভালো। যা ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার পাশাপাশি ঘরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সিনথেটিক কিংবা ভারি কাপড়ের পর্দার ব্যবহারে ঘরে বাতাস ঢুকতে বাধা পায়। গ্রীষ্মকে মাথায় রেখে বেছে নিতে পারেন চাপা সাদা, অফহোয়াইট, হালকা হলুদ, গোলাপি, আকাশি, লেমন এই ধরনের রংগুলোকে।
আপনার অন্দরমলের রং যদি অফহোয়াইট হয় সেক্ষেত্রে আপনি উজ্জল রংয়ের সাথে হালকা রংয়ের কন্ট্রাস্ট এর মিক্স অ্যান্ড ম্যাচকে প্রাধান্য দিন। আর যদি সাদাই আপনার পছন্দের তালিকার প্রধান বিষয় হয় তাহলে সাদা কাপড়ের উপর অন্য রংয়ের ব্লক প্রিন্ট, স্কিন প্রিন্ট, টাইডাই, বাটিক ইত্যাদির ব্যবহারে ঘরের পর্দা, চাদর, কুশন কভার পাবে ভিন্নমাত্রা। আর ঘরের কোন মিল রেখেও তৈরি করে নিতে পারেন আপনার পছন্দদের সফট ফার্নিশ।
এখন যেহেতু গরমকাল তাই ধূলাবালি জমার সম্ভাবনাও থাকে প্রচুর। সেক্ষেত্রে ঘরের মেঝেতে কার্পেটের পরিবর্তে ব্যবহার করুন শীতল পাটি কিংবা মাদুর। তবে লক্ষ্য রাখেবেন তা যেন আপনার ঘরের অন্যান্য সব জিনিসের সাথে মানানসই হয়। বেড়রুম মেকওভারের সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে ঘরের আসবাব একটু এদিক ওদিক সরিয়ে নতুনভাবে সাজিয়ে ফেলা । প্রথমেই চেষ্টা করুন বেডটিকে জানলার সমান্তরাল করে রাখতে। এতে শুধু আলোর উপস্থিতিই পাবেন তা নয় পাশাপাশি জানালার দিকে মুখ বা ঘুরিয়ে নিতে পারবেন শীতল হাওয়া। বিছানায় বিছিয়ে দিন শীতল পাটি, সাথে রং বেরংয়ের কুশন সাজিয়ে নিলে চমৎকার হয়ে উঠতে পারে ঘরের পুরো পরিবেশ। এছাড়া দু একটা মোড়া রেখে দিতে পারেন ঘরের বিভিন্ন কর্নারে।
বাচ্চাদের ঘর ডিজাইন করার সময়ে লক্ষ রাখবেন ঘরে যেন বেশি ফার্নিচার না থাকে। যেহেতু বাচ্চাদের পছন্দের তালিকায় সফট টয় থাকে তাই চেষ্টা করুন খেলার আগে অথবা পরে সেগুলোকে ক্যাবিনেটে তুলে রাখতে অথবা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে। তাতে ধুলোবালিতে নষ্ট হবার সম্ভাবনা কম থাকে। খেলনা রাখার জন্য ব্যবহার করুন বড় বাহারি বাস্কেট। বাচ্চাদের ঘরের সফট ফার্নিশের ক্ষেত্রে একটু গাঢ় রংকে প্রাধান্য দিন। ধূলাবালি এড়াতে মেঝে সবসময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। ধূলাবালি থেকে যেহেতু অনেক অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই বাচ্চাদের খেলার জায়গাতে লো-হাইট ডিভান অথবা বড় বড় কুশন বিছিয়ে দিন। কিছুদিন পর পর ডিভানের কাপড় অথবা কুশন কভার পাল্টে দিন।
অন্দর সাজের শুরুতে ভাবা দরকার কোন কোন উপাদান সহজেই পাওয়া যাবে। খুব সাধারণ জিনিসেও কিন্তু অন্দরসাজে তৈরি করতে পারেন নতুন ভাষা। যেমন বাঁশ, মাটির হাঁড়ি, শুকনা ঘাস ব্যবহার করে সিঁড়ির ইকো ফ্রেন্ডলি অন্দরমহল গড়ে তুলতে পারেন। রেলিংয়ে অথবা প্রবেশমুখে ব্যবহার করতে পারেন বাঁশ, যা দেখতেও সুন্দর লাগবে পাশাপাশি এর ব্যয়ও কম। তাছাড়া সহজেই তা পাওয়া যায়। সিলিং অথবা বারান্দায় মাটির হাঁড়ি ব্যবহার করে দেখতে পারেন সুন্দর প্যাটার্নের সাথে সাথে গরমকালে ঘর থাকবে ঠান্ডা। আরেকটু নান্দনিক করতে হাঁড়িতে ঝুলিয়ে দিন ইনাজের প্ল্যান্টস। এতে ঘরে সবুজের ছোঁয়ায় পাশাপাশি এনে দেবে প্রশান্তি। এছাড়া জানালা এবং বারান্দায় ব্যবহার করতে পারেন বাঁশের চিক। অতিথি আপ্যায়নের জন্য খাবার ঘরের ডাইনিং টেবিলে ব্যবহার করুন মাদুল। বাঁশ অথবা শীতল পাটির টেবিল রানার অথবা ম্যাট। খাবার পরিবেশনের জন্য মাটি কিংবা কাশার জিনিসপত্র দিবে ভিন্নমাত্রা। ঘরের শোপিস নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাটির তৈরি জিনিসের বিকল্প নেই। মাটির বড় পাত্রে পানি দিয়ে তাতে রেখে দিতে পারেন আপনার পছন্দের বেলি ফুল। এর সুবাস আপনার চারপাশের পরিবেশকে করে তুলবে আরো বেশি আকর্ষণীয়।
– ফারজানা গাজী
সত্বাধিকারী ও ডিজাইনার
ফারজানা’স ব্লিস্
www.farzanasbliss.com
প্রকাশকাল: বন্ধন ২৫ তম সংখ্যা, মে ২০১২