project

ইরান যুদ্ধের অজুহাতে আকাশচুম্বী নির্মাণ পণ্যের দাম

ইরানের যুদ্ধ শুধু ইরান আর ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকলো না। শেলের আঘাতে বিদ্ধস্ত পক্ষ-বিপক্ষ। তবুও আগুন ছড়িয়ে গেছে সারা বিশ্বে। একদমই ঠিক! আগুন লেগেছে প্রায় সব পণ্যের বাজারে। নিত্যপণ্যের দাম থেকে শুরু করে, বিলাশদ্রব্য, ওষুধ, স্টেশনারী, গৃহস্থালির পণ্যের দাম এমনকি নির্মাণসামগ্রীর বাজারও রেহাই পায়নি উর্ধ্বগতির পণ্যমূল্য থেকে।

নির্মাণসামগ্রীর বলতে আমরা সাধারণত ইট, বালি আর রট সিমেন্টকেই বুঝে থাকি। এছাড়াও নির্মাণে কত ধরণের পণ্য লাগে তা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে। অথচ একতলা বাড়ি বানাতে গেলেও কত কিছু লাগে তা শুধু যারা নির্মাণ করেন তারাই টের পেয়ে থাকেন।

সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বাজারে এসব পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। দুয়েক মাস আগেও যারা পাকা বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন গত মাস (মার্চ ২০২৬) থেকে তাদের পরিকল্পনা আর বাস্তবতার ব্যাবধান অনেক বেশি। নির্বিকার বিক্রেতাদের বেশি দামে কিনতে হয় বলে আগের দামে নির্মাণ উপকরণ আর বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কমতে থাকে আমদানি পণ্যের যোগান। নির্মাণ উপকরণ তৈরি করতে অনেকাংশেই নির্ভর করতে হয় আমদানিকৃত কাঁচামালের উপর। আমদানিকৃত কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতাই পণ্যের দাম বাড়ার মূল কারণ বলে দাবি বাজার বিশ্লেষকদের।

নির্মাণ পণ্যের বাজার যাচাই করে দেখা গেছে রটের দাম বেড়েছে টনপ্রতি ১৫-১৬ হাজার টাকা। বাংলা ইটের দাম ইটভাটা অনুযায়ী কোথাও কোথাও শিথীল থাকলেও ৩০-৪০ টাকা দাম বেড়েছে প্রতি ব্যাগ সিমেন্টে।

আগে কম দামে বিক্রি হলেও বর্তমানে ফ্রেশ সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ৪৮৫ এবং আকিজ সিমেন্ট ৫২০ টাকা। এছাড়াও রঙ, ক্যাবল ও প্লাস্টিকের পাইপে দাম বেড়েছে ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন কোম্পানি দাম বাড়িয়েছ, তাদের কিছু করার নেই।

সাধারণ নির্মাণ উপকরণ যেমন রট, সিমেন্ট, বালি, ইট, রং ও পাইপের দাম বাড়লেও কিছুটা শিথিলতা দেখা গেছে কিচেন এক্সসেসরিজের দামে। এ ধরণের পণ্যগুলোর বেশিরভাগই চীন থেকে আমদানি করা হয়। সেকারণে এখনও এসব পণ্যের দাম শিথিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন মিরপুরের ইন্টেরিয়র ব্যবসায়ী নূর হায়দার। তিনি জানান ফিটিংসের দাম এখনও বাড়েনি তবে শিগগিরই বাড়তে পারে। এমনটিই আশঙ্কা করছেন এই ব্যবসায়ী।

নির্মাণ পণ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে আবাসন ব্যবসায়ীরাও। পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে নির্মাণ ব্যায়। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে গেলে বিমুখ হতে পারে ক্রেতারা। এমনই আশঙ্কা করছেন ঢাকার একাধিক আবাসন ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রামের আবাসন ব্যবসায়ী মীম প্রপার্টিজের মালিক আলী আকবর রানার সাথে কথা বলে জানা গেছে ইতোমধ্যে তার দুটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। বাড়ন্ত নির্মাণ উপকরণে প্রকল্প সম্পন্ন করলে চড়া দামে বিক্রি হবে না ফয়লাতলি বাজার এলাকার ফ্ল্যাটগুলো। এখানার বেশিরভাগ ক্রেতা খুবই সাধারণ। দামের সামান্য হেরফের হলে, তারা আগ্রহ হারাতে পারে বলে জানিয়েছেন এই আবাসন ব্যবসায়ী।

নির্মাণ পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সারাদেশেই সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের নির্মাণ কাজ থমকে যেতে পারে। ফলে থমকে যাবে অবকাঠামো উন্নয়ন। যা সারাদেশের উন্নয়নের অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে। খুব শিগগিরই বাজার মনিটংয়ের ব্যবস্থা না থাকলে থেমে যাবে জাতীয় উন্নয়নের চাকা।

Related Posts

স্মার্ট বিল্ডিং নয় মাটির দেয়ালে হোক আরামদায়ক আবাসন

সময়ের ব্যবধানে ভবনের দেয়ালগুলো আধুনিক হয়ে উঠছে। কাদামাটি আর চুনসুরকির প্রলেপ নয় প্রযু্ক্তির ছোঁয়ায় স্মার্ট হয়ে উঠেছে আমাদের…

আগামী দিনের নির্মাণ উপকরণ (পর্ব ১)

আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই চলতে হচ্ছে আমাদের। প্রতিদিন বিশ্বের বুকে গড়ে উঠছে কোন না কোন আকাশচুম্বী ভবন।…

নির্মাণে উচ্চশক্তির রড ব্যবহারে বিএনবিসি কোড

কি সত্যিই অন্তরায়? ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে উঠে আসা পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের মধ্যে ৩২তম শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশ।…

হরেক রকম টাইলস

কয়েক দিন আগের কথা। একটা বাড়ির ইন্টেরিয়রের কাজে ক্লায়েন্টের সঙ্গে হাতিরপুল টাইলস মার্কেটে গিয়েছিলাম। মার্কেট দেখে বেশ ভালো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

Dhanmondi Mogal Eidgah
Kaba Ghor
Carthage
National Eidgah
পাহাড়ের ঢালে স্থাপত্যের নতুন রূপ ইয়াও হাউস
সঞ্জয় পুরির হাতে গড়া ধাপবিন্যাসিত শিক্ষাঙ্গন
যে প্রকল্পে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থান
ঢাকায় মিয়াওয়াকি বন: একটি পরীক্ষামূলক রূপান্তর
প্যারামেট্রিকিজম নিয়ে তুর্কি স্থপতি মেলিকের ভাবনা