আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই চলতে হচ্ছে আমাদের। প্রতিদিন বিশ্বের বুকে গড়ে উঠছে কোন না কোন আকাশচুম্বী ভবন। ভবন নির্মাণ এখন আর শুধু ইট, কাঠ, রট আর সিমেন্টেই সীমাবদ্ধ নয়। নতুন নতুন আধুনিক উপকরণ বদলছে দিচ্ছে ভবন নির্মাণের নানাদিক।
আধুনিক উপকরণগুলো সেকেলে উপকরণের চেয়ে অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব, হালকা, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আধুনিক বস্তুবিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে সত্যিই বৈপ্লবিক নতুন নির্মাণ সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে।
তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবনী কৃত্রিম উপকরণ। নতুন এসব নির্মাণসামগ্রী প্রচলিত উপকরণের চেয়ে হালকা, শক্তিশালী এবং অধিক পরিবেশবান্ধব। নির্মাণ উপকরণের এই অগ্রগতি নতুন স্থাপত্যের জন্ম দিচ্ছে, যা গতানুগতিক স্থাপত্যধারার একেবারে বাইরে।
দেয়ালের ফাটল খুবই সাধারণ এবং জটিল একটি সমস্যা। এর ফলে যে কোন বিল্ডিংয়ের স্থায়িত্ব কমে আসে। ফাটলে পানি প্রবেশ করে দিন দিন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ করে গড়ে তোলে। বর্তমানে এমন অনেক উপকরণ আছে যার ব্যবহারে ভবনে সহজেই ফাটল ধরবে না। ধরলেও এমন উপকরণ আছে যা ফাটল বন্ধ করে ভবনকে নতুনের মতো করে গড়তে পারে।
এমন কিছু ব্যতিক্রম এবং আধুনিক নির্মাণ উপকরণের কথা বলা হলো:
স্বচ্ছ কাঠ
কাঁচের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে বাজারে স্বচ্ছ কাঠও পাওয়া যায়। এটি অনেক আকর্ষণীয় একটি নির্মাণ উপকরণ। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ও গবেষক ২০২০ সালে এই আকর্ষণীয় উপকরণটির উদ্ভাবন করেন।
স্বচ্ছ কাঠ কাঁচের চেয়ে অন্তত ৫গুণ বেশি শক্তিশালী এবং হালকা। এই কাঠের তাপসহনীয় ক্ষমতাও কাঁচের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে কাঁচ ও সাধারণ কাঠের জানালার বিকল্পে স্বচ্ছ কাঠের ব্যবহার বাড়ছে।
এই উপকরণটি পুন:ব্যবহারযোগ্য। বলসা নামক এক ধরণের গাছের কাঠকে স্বচ্ছ কাঠে রূপান্তর করা হয়। এতে প্রচুর প্রাকৃতিক সেলুলোজ রয়েছে। এ কাঠকে স্বচ্ছ করার জন্য একটি বিশেষ দ্রবণে ভিজিয়ে রেখে নানা প্রকিয়াকরণের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছ কাঠে রূপান্তর করা হয়।
কার্বন ফাইবার
কার্বন ফাইবার, সত্যিকার অর্থে ভবিষ্যতের একটি নির্মাণ উপকরণ। যদিও এটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদনের ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু ব্যাপক ও বাণিজ্যিক আকারে এখনো রেসকম ব্যবহার চোখে পড়ার মতো নয়।
নির্মানে অ্যালুমিনিয়াম এবং লোহার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। আশ্চর্যের বিষয় হলো কার্বন ফাইবার লোহার চেয়ে ৫৭ শতাংশ এবং অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে অন্তত ৩০গুণ হালকা। শক্তিশালী ও পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণে কার্বন ফাইবারের কোন জুড়ি নেই।
অ্যাক্রেলিক টাইলস
একটি ভবন শুধু শক্তিশালী আর টেকসই হলেই হবে না, হতে হবে নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। অ্যাক্রেলিক টাইলস এমনই এক নির্মাণ উপকরণ যা একটি ভবনকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তোলো। সাজসজ্জার এই নির্মাণ উপকরণটি কিছুটা ব্যয়বহুল। তবে বাণিজিক উৎপাদন বাড়লে দিন দিন এর চাহিদা বাড়তেই থাকবে।
সাধারণত চীনা মাটি বা ফাইবার টাইলসগুলো আলোর সাথে খেলা করে। অপটিক্যাল ফাইবারে সবেচেয় বেশি আলো প্রবেশ করতে পারে। অ্যাক্রেলিক টাইলস এমইন এক ধরণের টাইলস যাতে প্রতিসরণ বা প্রতিফলন কোন কিছুই হয় না।
স্ব-নিরাময় কংক্রিট
২০১৫ সালে, ডেলফ্ট ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি এক বিশেষ নির্মাণ উপকরণের উদ্ভাবন করে। উদ্ভাবক হেঙ্ক জোঙ্কার্স ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে এমন এক ধরণের উপায় আবিস্কার করেন যা নিজে থেকেই ভবনের ফাটল বন্ধ করতে পারে।
কংক্রিটের ফাটল মেরামত করার একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি দেখিয়েছিলেন। তিনি নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া এবং তাদের জন্য পুষ্টিযুক্ত কিছু ক্যাপসুল কংক্রিটে যোগ করেছিলেন। কংক্রিটের ফাটলে পানি প্রবেশ করলে ব্যাকটেরিয়াগুলো সক্রিয় হয়ে যেতো। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো চুনাপাথর উৎপাদন করতে পারতো। পানির সংস্পর্শে এলেই তারা চুনাপাথর উৎপাদন করে কংক্রিটের ফাটল বন্ধ করে দিতো।
এই জৈব-প্রযুক্তি ছাড়াও, কোরিয়ান গবেষকরা আরেকটি বিকল্প আবিস্কার করেন। তারা নির্দিষ্ট পলিমারের ক্যাপসুল কংক্রিটে যোগ করেন। আর্দ্রতা এবং সূর্যালোর প্রভাবের ক্যাপসুলগুলো প্রতিক্রিয়া করতে শুরু করে এবং ফুলতে থাকে।
চলবে …..




















