নির্মাণে উচ্চশক্তির রড ব্যবহারে বিএনবিসি কোড কি সত্যিই অন্তরায়?

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে উঠে আসা পৃথিবীর ১৯৫টি দেশের মধ্যে ৩২তম শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর সামাজিক অবস্থানকে ধরে রাখতে হলে আকাশচুম্বী অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই। অবকাঠামো নির্মাণে ইস্পাতের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইস্পাত উৎপাদনে বিশ্বের ২৯তম দেশ হলেও বাংলাদেশের রড উৎপাদনের ক্ষমতা বছরে প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৩ লাখ টনের বেশি রডের চাহিদা মিটিয়েছে এ দেশের স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো, যা ছিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা হবে ৬৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি। 

শুধু দেশীয় প্রতিষ্ঠানের নির্ভরতায় নির্মাণের রড সরবরাহের এই বিশাল মাইলফলক অর্জনে দেশের বৃহৎ ৮টি রিবার কোম্পানির রয়েছে ব্যাপক অবদান। এর মধ্যে অন্যতম বিএসআরএম, একেএস, জিপিএইচ ইস্পাত ও কেএসআরএম। উৎপাদকের ক্রমাগত প্রচেষ্টা, গবেষণা ও একাগ্রতার ফলে ৪০ গ্রেডের রডের যুগ থেকে ৬০ গ্রেড, তারপর প্রথমে ৭২.৫ গ্রেড, এরপর এর আধুনিক সংস্করণ ডাকটিলিটি ক্লাস ডি-এর বি৫০০ ডিডবিøউআর, শক্তিশালী ৮০ গ্রেড এবং সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী রড ৮৭ গ্রেডের বি৬০০ সি-আর এবং ডাকটিলিটি ক্লাস ডি-এর বি৬০০ডি-আর-এর যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। তবে বিএনবিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর ও হাউস বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ৬০ গ্রেড রডকে সাদরে গ্রহণ করলেও প্রথমে ৭২.৫ গ্রেডের ক্ষেত্রে গড়িমসি এবং কালক্ষেপণ করে ৮০ গ্রেডের ক্ষেত্রে সর্বশেষ সংস্করণ বিএনবিসি-২০২০-এ কিছুটা জায়গা দিয়েছে। যদিও ৭২.৫-কে এর অফিশিয়ালি স্বীকৃতি পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় এক যুগ এবং ৫৫০ এমপিএকে পার করতে হয়েছে বছরের পর বছর। উল্লেখ্য, বিএনবিসি আধুনিকায়ন করতেই লেগেছে প্রায় ২৭ বছর! 

বিএনবিসি কোডে ৮০ গ্রেড রড স্থান করে নিলেও বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউ) এর ম্যানুফ্যাকচারিং কোডের হিসেবে এটি স্বীকৃতি পায় না। কারণ বিএসটিআই অনুসরণ করে বিডিএস : আইএসও ৬৯৩৫-২ কোড, যাতে ৫৫০ এমপিএর কোনো অস্তিত্ব নেই। এই কারণে উৎপাদনকারীদের পড়তে হয়েছে বিড়ম্বনায়। তাই বাজারজাত করতে হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন নামে। 

ডিজাইন কোডের বিষয়ে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনবিসি কোড এসিআই কোডের একটা ছায়া কোডমাত্র। সেটা অমূলক কিছু নয়, তবে এই কোডের দোহাই দিয়ে যখন গবেষণায় প্রমাণিত নতুন কোনো পণ্য বাজারে এলেই তাকে অসহযোগিতা কিংবা মেনে নেওয়া হয় না। বিএনবিসি ২০২০ কোড এসিআই ২০০৮ থেকে অনুপ্রাণিত। অথচ এসিআই পরে স্বপ্রণোদিত হয়ে ২০১১, ২০১৪ ও ২০১৯-এ মোট তিনবার পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়েছে। সেখানে ছায়া কোডের নিজেকে নিয়ে ভাবনাটা যেন একেবারে ¤্রয়িমাণ। এসিআই এর বিল্ডিং কোড ৩১৮-১৯-এ বলা আছে, ফ্লেক্সারাল মেম্বারে এবং এক্সিয়াল মেম্বারে রেইনফোর্সমেন্ট ৫৫০ এমপিএ থেকে ৬৯০ এমপিএ পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।

ইউরোপের বিল্ডিং এবং ব্রিজ ডিজাইনের কোড ইউরোকোড ৮, ডিজাইন অব স্ট্রাকচার ফর আর্থকোয়াক রেজিস্ট্যান্সে ফ্লেক্সারাল মেম্বারে এবং এক্সিয়াল মেম্বারে রেইনফোর্সমেন্ট ৬০০ এমপিএকে সমর্থন করে। সিঙ্গাপুরের বিল্ডিং ও কনস্ট্রাকশন অথরিটির সর্বশেষ আপডেট ফ্লেক্সারাল মেম্বারে এবং এক্সিয়াল মেম্বারে রেইনফোর্সমেন্ট ৬০০ এমপিএকে সমর্থন করে। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট হাইওয়ে অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অফিশিয়ালস, যাদের কোড মূলত ব্রিজ এবং হাইওয়ে ডিজাইনের জন্য বিখ্যাত, তারাও কিন্তু বলছে ফ্লেক্সারাল মেম্বারে ৬৯০ এমপিএ এবং এক্সিয়াল মেম্বারে রেইনফোর্সমেন্ট ৫৫০ এমপিএ ব্যবহার করা যেতে পারে। কোরিয়ান কংক্রিট ইনস্টিটিউট ২০১২ সালেই তাদের বিল্ডিং ডিজাইনের ক্ষেত্রে ফ্লেক্সারাল মেম্বারে এবং এক্সিয়াল মেম্বারে রেইনফোর্সমেন্ট ৬০০ এমপিএকে সমর্থন করেছে।

হ্যালো বাংলাদেশ

অনুসরণীয় এসিআই কোড ৩১৮-২০১৪-তে, সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে, টেবিল ২০.২.২.৪-এ স্পেশাল সিসমিক সিস্টেম ও অন্যান্য জায়গায় যেখানে ফ্লেক্সার, এক্সিয়াল ফোর্স, শৃংকেজ এবং টেম্পারেচারের ব্যবহার আছে, সেখানে রেইনফোর্সমেন্ট ৮০ হাজার এবং স্পাইরাল সিসমিক সিস্টেম, স্পাইরাল ও অন্যান্য জায়গায় যেখানে ল্যাটারাল সাপোর্ট অব লংগিচুডেনাল বার অর কংক্রিট কনফাইনমেন্টের ব্যবহার আছে, সেখানে ১০০ গ্রেড পর্যন্ত রডের ডিজাইনকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সর্বশেষ এসিআই কোড ৩১৮-২০১৯-তে, সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে টেবিল ২০.২.২.৪-এ-তে, স্পেশাল সিসমিক সিস্টেম ও অন্যান্য জায়গায় বিশেষ করে স্পেশাল মোমেন্ট ফ্রেম ও স্পেশাল স্ট্রাকচারাল ওয়ালে যেখানে ফ্লেক্সার, এক্সিয়াল ফোর্স, শৃংকেজ এবং ট্যাম্পেরেচারের ব্যবহার আছে, সেখানে রেইনফোর্সমেন্ট ৮০ হাজার পিএসআই ও ১ লাখ পিএসআই  এবং স্পাইরাল সিসমিক সিস্টেম, স্পাইরাল ও অন্যান্য জায়গায় যেখানে ল্যাটারাল সাপোর্ট অব লংগিচুডেনাল বার অর কংক্রিট কনফাইনমেন্টের ব্যবহার আছে, বিশেষ করে স্পেশাল সিসমিক সিস্টেমে মোমেন্ট ফ্রেম ও স্পেশাল স্ট্রাকচারাল ওয়ালে সেখানে ৮০ গ্রেড থেকে ১০০ গ্রেড পর্যন্ত রডের ডিজাইনকে অনুমোদিত করা হয়েছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং কোডের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট যে কোড অনুসরণ করে বিডিএস : আইএসও-৬৯৩৫-২ : ২০১৯ (ই)-তে সর্বোচ্চ শক্তির রড হিসেবে বলা আছে ৭০০ এমপিএ বা ১০০ গ্রেড কে। আমেরিকান সোসাইটি ফর টেস্টিং ম্যাটেরিয়ালসের কোড এ৬১৫/এ৬১৫এম-২০ এবং এ৭০৬/এ৭০৬এম-২২ অনুসারে সর্বোচ্চ শক্তির গ্রেড ১০০। ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ৪৪৪৯ : ২০০৫+ এ ৩ : ২০১৬ অনুসারে সর্বোচ্চ শক্তির রড বি৫০০সি, যার ইল্ড স্ট্রেংথ সর্বোচ্চ ৬৫০এমপিএ পর্যন্ত অনুমোদিত। বিশে^র সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপানের জেআইএস জি ৩১১২ : ২০২০ অনুসারে সর্বোচ্চ শক্তির রড হলো ৭৮৫ এমপিএ বা ১১৩ গ্রেড। এবং এই ৭৮৫এমপিএ রডের ডাকটিলিটি ধরা  হয়েছে ১.১৭ মাত্র। বাংলাদেশের সিসমিক জোনের ভেরি সিভিয়ার আর সিভিয়ার জোনে রডের ইল্ড স্ট্রেংথ ৬০ হাজার পিএসআই অনেকে হয়তো যথেষ্ট মনে করেন, তাঁরা জাপানিজ কোডের বিষয়টা বিশেষভাবে লক্ষ করবেন।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ মেগা কনস্ট্রাকশন ফলো করে যে চায়নিজ স্ট্যান্ডার্ড তাদের কোড জিবি/টি ১৪৯৯.২-২০১৮ সর্বোচ্চ রডের স্বীকৃতি দিয়েছে এইচআরবি ৬০০-কে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কোড এএস/এনজেডএস ৪৬৭১ : ২০১৯ অনুসারে সর্বোচ্চ শক্তির রড ৭৫০এমপিএ। এবং শুধু তা-ই নয়, স্পেশাল সিসমিক জোনের জন্য তাদের অন্যতম পছন্দ ৫০০ই, যার ইল্ড স্ট্রেংথ ৬০০এমপিএ পর্যন্ত অনুমোদিত সঙ্গে ডাকটিলিটি রেশিও ১.১৫ হলেই গ্রহণযোগ্য। সিঙ্গাপুর স্ট্যান্ডার্ড কাউন্সিল এসএস ৫৬০ : ২০১৬ কোড অনুসারে বি৬০০সি, যার ডাকটিলিটি রেশিও মিনিমাম ১.১৫। 

বিএনবিসি কোড ২০২০-এ, পার্ট ৬, চ্যাপ্টার ৫-এ কংক্রিট ম্যাটেরিয়ালসের ৫.৩.২.২ এ বলা আছে, উবভড়ৎসবফ ৎবরহভড়ৎপরহম নধৎং রিঃয ধ ংঢ়বপরভরবফ ুরবষফ ংঃৎবহমঃয ভু বীপববফরহম ৪২০ ঘ/সস২ ংযধষষ নব ঢ়বৎসরঃঃবফ, ঢ়ৎড়ারফবফ ভু ংযধষষ নব ঃযব ংঃৎবংং পড়ৎৎবংঢ়ড়হফরহম ঃড় ধ ংঃৎধরহ ড়ভ ০.৩৫ ঢ়বৎপবহঃ ধহফ ঃযব নধৎং ড়ঃযবৎরিংব পড়হভরৎস ঃড় ড়হব ড়ভ ঃযব অঝঞগ ংঢ়বপরভরপধঃরড়হং ষরংঃবফ রহ ঝবপ ৫.৩.২.১ (অষংড় ংবব ঝবপ ৬.১.২.৫) যেখানে ঝবপ ৫.৩.২.১ (ন)-তে বলা হয়েছে, ‘ঝঃধহফধৎফ ঝঢ়বপরভরপধঃরড়হ ভড়ৎ উবভড়ৎসবফ ধহফ চষধরহ ইরষষবঃ ঝঃববষ ইধৎং ভড়ৎ ঈড়হপৎবঃব জবরহভড়ৎপবসবহঃ (অঝঞগ অ৬১৫/অ৬১৫গ)। এবং ঝবপ ৫.৩.২.১ (ব)-তে বলা হয়েছে, “ঝঃধহফধৎফ ঝঢ়বপরভরপধঃরড়হ ভড়ৎ খড়ি অষষড়ু ঝঃববষ উবভড়ৎসবফ ইধৎং ভড়ৎ ঈড়হপৎবঃব জবরহভড়ৎপবসবহঃ (অঝঞগ অ৭০৬/অ৭০৬গ)” স্ট্রেস স্ট্রেইন কার্ভ থেকে ০.৩৫ অফসেট থেকেও দেখতে পারেন, সেখানে কত ইল্ড স্ট্রেংথ আসে কিংবা আপনাকে যেহেতু একদম কোড নির্ধারিত করে দিয়েছে, সেখানেও গিয়ে দেখতে পারেন গ্রেড ৮০ ও গ্রেড ১০০ দুটোরই স্বীকৃতি আপনি পাবেন।

হ্যালো বাংলাদেশ

বিএনবিসি কোডের প্রথম ভার্সন ১৯৯৩/২০০৬ এর প্রিফেস লেখা ছিল, ‘ঞবপযহড়ষড়মু রং ধ ফুহধসরপ ভরবষফ রিঃয পড়হঃরহঁবং ধফাধহপবসবহঃ ধহফ রহহড়াধঃরড়হং, ংড় রং ধ নঁরষফরহম পড়ফব. ঞযব পড়ফব রিষষ ৎবয়ঁরৎব পড়হঃরহঁবং ঁঢ়ফধঃব ধহফ ঢ়বৎরড়ফরপ ৎবারংরড়হং ঃড় শববঢ় ঢ়ধপব রিঃয ফবাবষড়ঢ়রহম ঃবপযহড়ষড়মু ধহফ হববফং ড়ভ ঃযব পযধহমরহম ঃরসব. অভঃবৎ ঃযব ঘধঃরড়হধষ ইঁরষফরহম ঈড়ফব যধং নববহ ঁংবফ ধহফ ঃবংঃবফ রহ ঃযব ভরবষফ, সধহু রংংঁবং রিষষ যধাব ঃযব ড়ঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃু ঃড় নব লঁফমবফ রহ ঢ়ৎধপঃরপব ধহফ ঃযব হববফ ভড়ৎ ৎবারংরড়হ ড়ভ ংঢ়বপরভরপ ৎবয়ঁরৎবসবহঃং রিষষ নব ভবষঃ. টঢ়ফধঃব ধহফ ৎবারংরড়হং ড়ভ ঃযব পড়ফব রিষষ যধাব ঃড় নবপড়সব ধ ৎড়ঁঃরহব ধভভধরৎ বাবহঃঁধষষু. ঐড়বিাবৎ, রঃ রং বহারংধমবফ ঃযধঃ ভড়ৎ ঃযব ংবপড়হফ বফরঃরড়হ ড়ভ ঃযব পড়ফব, যিরপয রং বীঢ়বপঃবফ ঃড় নব রংংঁবফ রিঃযরহ ঃযব হবীঃ ভরাব ুবধৎং, পড়হঃরহঁড়ঁং সড়হরঃড়ৎরহম নু ধ ংঃধহফরহম পড়সসরঃঃবব রিষষ নব হবপবংংধৎু. ঞড় ঃযরং ধরস, ধ পবষষ রিষষ ভঁহপঃরড়হ রিঃযরহ ঃযব ঐড়ঁংরহম ধহফ ইঁরষফরহম জবংবধৎপয ওহংঃরঃঁঃব, ঃযব ড়ৎমধহরুধঃরড়হ ৎবংঢ়ড়হংরনষব ভড়ৎ ঢ়ঁনষরপধঃরড়হ ড়ভ ঃযরং বফরঃরড়হ ড়ভ ঃযব পড়ফব. ঞযব পবষষ রিষষ ৎবপবরাব ড়নংবৎাধঃরড়হং নু ধহফ ংঁমমবংঃরড়হং ভৎড়স ঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষং যিড় রিষষ ধঢ়ঢ়ষু ঃযব পড়ফব রহ ঢ়ৎধপঃরপব. ঞযবংব ড়নংবৎাধঃরড়হং ধহফ ংঁমমবংঃরড়হং রিষষ নব বীধসরহবফ নু ঢ়ধহবষং ড়ভ বীঢ়বৎঃং ভড়ৎ রহপড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ রহ ঃযব ংঁনংবয়ঁবহঃ বফরঃরড়হ ড়ভ ঃযব পড়ফব’ শুধু প্রিফেসের এই অংশের জন্য ২০০৬ সালে বিএনবিসি ১৯৯৩/২০০৬ গেজেট আকারে প্রকাশের পর ২০০৮ সাল থেকে ১১ ফেব্রæয়ারি, ২০২১ পর্যন্ত বাংলাদেশে লাখ লাখ ভবনে ৫০০এমপিএ বা ৭২.৫ গ্রেডের রডের ব্যবহার সত্তে¡ও একটি কাঠামোরও বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কারণ এটা ছিল মেনে নেওয়ার মতোই একটা কঠিন বাস্তবতা। 

ঠিক একইভাবে বিএনবিসি ২০২০-এর প্রিফেসে লেখা আছে, ‘ঝরহপব রঃং ঢ়ঁনষরপধঃরড়হ রহ ১৯৯৩, ইঘইঈ যধং নববহ ৎবভবৎৎবফ ঃড় ধহফ পড়হংঁষঃবফ নু ঃযব ঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষং ধহফ ফবংরমহবৎং রহ ঃযব ভরবষফ ড়ভ নঁরষফরহম ফবংরমহ ধহফ পড়হংঃৎঁপঃরড়হ. অভঃবৎ ঃযব বহফড়সিবহঃ ড়ভ ষবমধষ ংঃধঃঁং, রসঢ়ড়ৎঃধহপব ড়ভ ঃযব ইঘইঈ ২০০৬ যধং ভঁৎঃযবৎ বহযধহপবফ. ঐড়বিাবৎ, ঁহষরশব ড়ঃযবৎ নঁরষফরহম পড়ফবং ধাধরষধনষব রহ ঃযব ড়িৎষফ, ঃযব ইধহমষধফবংয ঘধঃরড়হধষ ইঁরষফরহম ঈড়ফব যধং হড়ঃ ুবঃ নববহ ভড়ৎসধষষু ৎবারববিফ ধহফ ঁঢ়ফধঃবফ ংরহপব রঃ ধিং ফৎধভঃবফ রহ ১৯৯৩. ঘবরঃযবৎ ধহু ভববফনধপশ ড়ভ ঃযব ঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষং ৎবমধৎফরহম ঃযব ফড়পঁসবহঃ যধং নববহ ঃধশবহ রহঃড় ভড়ৎসধষ পড়হংরফবৎধঃরড়হ. ওহ ঃযব ষধংঃ ঃবিহঃু-ঃড়ি ুবধৎং, হবি সধঃবৎরধষং যধাব নববহ রহঃৎড়ফঁপবফ, হবি ংপরবহঃরভরপ সবঃযড়ফং যধাব বসবৎমবফ, হবি ঃবপযহড়ষড়মরবং যধাব বাড়ষাবফ ধহফ নড়ঃয ফবংরমহ ড়ভ ংঃৎঁপঃঁৎবং ধহফ পড়হংঃৎঁপঃরড়হ ঢ়ৎধপঃরপবং যধাব মড়হব ঃযৎড়ঁময বহড়ৎসড়ঁং পযধহমবং. জবংবধৎপযবৎং, বহমরহববৎং ধহফ ধপধফবসরপং রহ ইধহমষধফবংয যধাব ধষংড় পড়হফঁপঃবফ হবি ংঃঁফরবং যিরপয বহৎরপযবফ ড়ঁৎ শহড়ষিবফমব ধনড়ঁঃ ঢ়ষধহহরহম, ফবংরমহ, পড়হংঃৎঁপঃরড়হ ধহফ ংঁংঃধরহধনরষরঃু

প্রিফেসের এই কথাগুলোর পাশাপাশি, আরও চমৎকার করে, ঠড়ষঁসব:১, চধৎঃ ৫, ঈযধঢ়ঃবৎ ২ এর ২.১.১ ঘবি ড়ৎ অষঃবৎহধঃরাব গধঃবৎরধষং ব্যাপারে লেখা আছে, ‘ঞযব ঢ়ৎড়ারংরড়হং ড়ভ ঃযরং চধৎঃ ধৎব হড়ঃ রহঃবহফবফ ঃড় ঢ়ৎবাবহঃ ঃযব ঁংব ড়ভ ধহু হবি ধহফ ধষঃবৎহধঃরাব সধঃবৎরধষং. অহু ংঁপয সধঃবৎরধষ সধু নব ধঢ়ঢ়ৎড়াবফ ঢ়ৎড়ারফবফ রঃ রং ংযড়হি ঃড় নব ংধঃরংভধপঃড়ৎু ভড়ৎ ঃযব ঢ়ঁৎঢ়ড়ংব রহঃবহফবফ ধহফ ধঃ ষবধংঃ বয়ঁরাধষবহঃ ড়ভ ঃযধঃ ৎবয়ঁরৎবফ রহ ঃযরং চধৎঃ রহ য়ঁধষরঃু, ংঃৎবহমঃয, বভভবপঃরাবহবংং, ভরৎব ৎবংরংঃরারঃু, ফঁৎধনরষরঃু, ংধভবঃু, সধরহঃবহধহপব ধহফ পড়সঢ়ধঃরনরষরঃু.’ 

কোড কখনো কোনো ঐশ্বরিক বাণী নয় যে পরিবর্তন করা যাবে না। কোড যুক্তিযুক্ত বিজ্ঞানের এক সুন্দর মালা মাত্র। যদি এরপরও কর্তৃপক্ষ যদি অনমনীয় হন, তবে এই ভবিষ্যদ্বাণীটি আপনার জন্য, ‘১০ বছর পরে যখন বাংলাদেশে আরও লক্ষাধিক আধুনিক স্থাপনা হবে উচ্চশক্তির ৮৭ গ্রেডের বি৬০০সি-আর/ডি-আর রড দিয়ে, তত দিনে হয়তো এসিআই ৩১৮-২০১৯ কিংবা তারও আপডেটেড ভার্সনের ছায়া হিসেবে প্রকাশিত হবে বিএনবিসির তৃতীয় ভার্সন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, আধুনিক নির্মাণে উচ্চশক্তির রড ব্যবহারে কোড কি সত্যিই অন্তরায় ছিল, নাকি কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা!’ 

প্রকৌশলী মো. গোলাম হোসেন ফারহান

প্রকাশকাল: বন্ধন ১৬০ তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০২৩

+ posts