মোহাম্মদ আবু সাদেক, পিইঞ্জ-এর জন্ম ১৯৫৭ সালে, নোয়াখালীতে। পিতা নূরুল হক ভূঞা, মাতা তৈয়বা হক। ১৯৭২ সালে এসএসসি শেষে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পাস করেন নোয়াখালীর চৌমুহনী এস এ কলেজ থেকে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন ১৯৮১ সালে। ১৯৮৯ সালে বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জিওটেকনিক্যাল বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ড থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং জিওলজিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা এবং পরবর্তী সময়ে জাপানে সয়েল মেকানিক্স অ্যান্ড ফাউন্ডেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রহমান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী (বিসিএস, পাবলিক ওয়ার্কস) পদে যোগ দেন। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে এক বছর বিশ্বব্যাংকের খাদ্য গুদাম নির্মাণ সেলের সঙ্গে এবং পরবর্তী ২১ বছর ডিজাইন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। রহমান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ডিজাইন বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন তিনি বেশ কিছু সুউচ্চ ভবনের নকশা প্রণয়ন করেন। বিশেষত, স্বাভাবিক ফাউন্ডেশনের জন্য অনুপযোগী সমস্যাযুক্ত (Problem Soil) মাটিতে ভীত তৈরির নকশা প্রণয়নে গুরুদায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় ভিন্নমাত্রা যোগ করেন। তিনি নিরাপদ ভবন নির্মাণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় র্৭র্ দ্ধ র্৭র্ আরসিসি মাইক্রো পাইলের প্রবর্তক।
গণপূর্ত অধিদপ্তর ছাড়াও তিনি এপ্রিল ২০০৫ থেকে উপসচিব হিসেবে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ব্যুরো এবং খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে ছয় বছরের অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন। নভেম্বর ২০১০-এ যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর পরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং) ও বিসিকের পরিচালক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
মোহাম্মদ আবু সাদেক, পিইঞ্জ বাংলাদেশ প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স রেজিস্ট্রেশন বোর্ডের নিবন্ধীকৃত প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ফাউন্ডেশন বিশেষজ্ঞ (Geotechnical Engr.)। তিনি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব জিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর জিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সদস্য। এ ছাড়া বাংলাদেশ কংক্রিট সোসাইটি এবং বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল এবং ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের লাইফ ফেলো। তিনি মার্চ ২০১৩ থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৃহায়ণ ও নির্মাণবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত। গুণী এ ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি হয়েছিল বন্ধন। সঙ্গে ছিলেন শাফিউল আল ইমরান।
বাংলাদেশে আবাসনব্যবস্থার উন্নয়নে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভূমিকা কতটুকু?
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে যেখানে সম্পদ সীমিত কিন্তু জনসংখ্যার আধিক্য, সেখানে গবেষণার মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রী ও সম্পদের অপচয় রোধ, মিতব্যয় অনুশীলন ও মান নিয়ন্ত্রণের পন্থা জনপ্রিয়করণ এবং প্রচলিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বিকল্প নির্মাণসামগ্রী উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। গৃহায়ণ ও নির্মাণবিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর গৃহায়ণ সমস্যা সমাধান ও নির্মাণশিল্পের মান উন্নয়নসহ জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখে। নির্মাণব্যয় সাশ্রয় ও দেশীয় উপকরণের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গৃহায়ণ ও নির্মাণশিল্পের উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনা করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সীমিত সম্পদ ও দেশজ নির্মাণ উপকরণের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বিপুল জনগোষ্ঠীর আবাসনসংকট নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে সরকার গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টার অনুমোদন করে। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ লাভ করে। গৃহায়ণ ও নির্মাণবিষয়ক সমস্যার ওপর যুগোপযোগী জ্ঞান ও তথ্য আহরণ এবং প্রচার করা, গৃহায়ণ ও নির্মাণকাজে পরামর্শ প্রদান, পাইলট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্বল্পব্যয়ে গৃহনির্মাণ পদ্ধতি ও উপকরণ প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণসহ গবেষণা ফলাফল পর্যালোচনা ও এগুলোর সুফল বাস্তবে প্রয়োগের চেষ্টা করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।
দেশে প্রচলিত নির্মাণকাজের গুণগত মান বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি কতটা সফল বলে আপনি মনে করেন?
এ যাবৎ প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেশ কিছু প্রযুক্তি ও নির্মাণসামগ্রী উদ্ভাবন ও প্রচলন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দুর্যোগ সহনীয় বিভিন্ন ধরনের কাঠামো, বালু, সিমেন্ট হলো-ব্লক, কংক্রিট হলো-ব্লক, আরসিসি চৌকাঠ, প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট হলো-স্লাব, রাফটার, পারলিন, ফোল্ডেড প্লেট, এল প্যানেল, প্রিকাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল, ফেরোসিমেন্ট পানির ট্যাংক এবং মাইক্রোপাইল ইত্যাদি। এ ছাড়া আরও কিছু গবেষণাধীন প্রকল্প রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলোর ফলাফল জানানো হবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রচলিত আরসিসি কাঠামোতে নির্মিত দেয়ালের ওপর ভূমিকম্পের প্রতিক্রিয়া ও ভূমিকম্পের প্রভাব কমানোর জন্য হালকা দেয়াল নির্মাণ, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কংক্রিট তৈরি, নদীর খননকৃত পলি মাটি হতে ইট তৈরি প্রভৃতি।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আওতাভুক্ত ক্ষেত্রগুলো কী কী?
প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে-
- দেশের সামগ্রিক ‘মানব বসতি’ এবং নির্মাণ উপকরণ ও পদ্ধতি সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে গবেষণা পরিচালনা করা।
- দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব দেশজ উপকরণ পাওয়া যায়, সেগুলোর মান বৃদ্ধি করে কীভাবে নির্মাণকাজে তা ব্যবহারোপযোগী করা সম্ভব হতে পারে সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।
- দেশে প্রচলিত নির্মাণ উপকরণসমূহের উন্নত ও মানোন্নয়ন করে ব্যবহার পদ্ধতি উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে গবেষণা পরিচালনা করা।
- নির্মাণ ক্ষেত্রে সঠিক মান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
- প্রচলিত নির্মাণ প্রযুক্তির উন্নতি বিধানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ডিজাইনে নবতর পদ্ধতি প্রবর্তন করা।
- ‘পাইলট প্রকল্প’ গ্রহণের মাধ্যমে গতানুগতিক নির্মাণ ধারায় স্বল্পব্যয়ে গৃহনির্মাণ পদ্ধতি এবং উপকরণ প্রচলনের ব্যবস্থা করা।
- জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরিষদ এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সক্রিয় সহযোগিতায় দেশের গৃহায়ণ ও নির্মাণ ক্ষেত্রের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়ন ও গবেষণা পরিচালনা করা।
- গবেষণালব্ধ ফলাফল পর্যালোচনা ও এর সুফল বাস্তবে প্রয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- দেশের গৃহায়ণ ও নির্মাণ ক্ষেত্রের সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের কাজে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে স্কলারশিপ, ফেলোশিপ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা।
- গৃহ গবেষণাসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
- গৃহায়ণ ও নির্মাণ গবেষণার কাজে পরামর্শ প্রদান।
- গৃহায়ণ ও নির্মাণবিষয়ক সমস্যার ওপর যুগোপযোগী জ্ঞান ও ধারণার আহরণ ও প্রচার করা।
- গৃহ গবেষণার ফলাফলের আলোকে নিয়মিতভাবে প্রকাশনা তৈরি ও তা প্রচারের ব্যবস্থা করা।
প্রতিষ্ঠানের কাজের আওতায় নির্মাণপদ্ধতি ও নির্মাণ উপকরণের উৎকর্ষ সাধনের বিষয়টিও রয়েছে; এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি কেমন?
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত সব নির্মাণসামগ্রীই মজবুত, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী। এগুলোর নির্মাণখরচ গতানুগতিক নির্মাণের তুলনায় ২০-২৫ শতাংশ কম। ফেরোসিমেন্ট চ্যানেলের নিজস্ব ওজন কম হওয়ায় বিম, কলাম ও ফাউন্ডেশন ব্যয় কম হয়। কংক্রিটের ব্যয় ২০-২৫ শতাংশ, লোহার ব্যয় ৪০-৪৫ শতাংশ কম হয়। সেন্টারিং বা শাটারিংয়ে বাঁশ ও কাঠের প্রয়োজন হয় না। তাপ ও শব্দ প্রতিরোধক। এখানে তৈরি করা পানির ট্যাংকে মরিচা ও শ্যাওলা পড়ে না। সহজে পরিবহনযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় গ্রাহকের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থার প্রতি লক্ষ রেখে গবেষণার মাধ্যমে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী উদ্ভাবনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে সেগুলোর ব্যবহার ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে, এগুলো দেশের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করে জাতীয় পর্যায়ে বিপুল অর্থ ও নির্মাণসামগ্রীর সাশ্রয় করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নির্মাণকাজের জন্য প্রণীত শিডিউলে ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত নির্মাণসামগ্রী ও পদ্ধতি সন্নিবেশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
স্বল্পব্যয়ে গৃহনির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, এটি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা কতটুকু?
ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি স্বল্পব্যয়ে গৃহনির্মাণবিষয়ক বেশ কিছু কৌশল উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর সফল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। স্বল্পব্যয়ে গৃহনির্মাণ কৌশল উদ্ভাবন মূলত প্রতিষ্ঠানটির জন্য যেমনি বড় চ্যালেঞ্জ তেমনি তা বাস্তবায়ন করা সরকার, বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠী, এনজিও, ডেভেলপার, আবাসনশিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাই যদি হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে (এএইচবি আরআই) সহযোগিতা করেন এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করেন, তবেই আমরা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হব।
নির্মাণবিষয়ক এখানকার গবেষণা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাস্তবিক প্রয়োগ কীভাবে করা হচ্ছে?
দেশীয় নির্মাণশিল্পে পরিবেশবান্ধব ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সব প্রয়োগ ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। যার মধ্যে উল্লেখের দাবি রাখে-
- প্রি-কাস্ট প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং কম্পোনেন্ট
- প্রি-কাস্ট বিল্ডিং কম্পোনেন্ট বা প্রি-ফেব্রিকেটেড বাড়ি নির্মাণে কাঠ, বাঁশের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে দ্রুততম সময়ে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্মাণব্যয় কমায়।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রি-কাস্ট উপকরণসমূহ-
ক. কাঠ বা বাঁশের খুঁটির বিকল্প আরসিসি খুঁটি উদ্ভাবন, যা বর্তমানে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে।
খ. ফ্লোর বা ছাদ নির্মাণে প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল এবং প্রি-স্ট্রেসড হলো কোর স্লাব।
গ. ছাদ নির্মাণে ফেরোসিমেন্ট ফোল্ডেড প্লেট এবং করোগেটেড সিট।
গ. সিজিআই সিটের ওয়াটার ট্যাংকের বিকল্প ফেরোসিমেন্ট ওয়াটার ট্যাংক।
ঘ. কাঠের বিকল্প ফেরোসিমেন্ট বা আরসিসি ডোর ফ্রেম।
উদ্ভাবিত উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে উপকৃত প্রকল্পসমূহ-
ক. বন্যা-উত্তর পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় শেরপুর ও নালিতাবাড়ীতে পল্লীগৃহের নকশা প্রস্তুত করে দুস্থ জনসাধারণের জন্য ৩৫০টি বাড়ি নির্মাণে সহায়তা প্রদান।
খ. সাভারের অন্ধ পুনর্বাসন প্রকল্পের আবাসিক শেড ও ওয়ার্কশপ নির্মাণে সহায়তা প্রদান।
গ. প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, সাভারের কৈট্টা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও পোলট্রি শেড নির্মাণ।
ঘ. মানিকগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলার প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল ছাদ নির্মাণে।
ঙ. টাঙ্গাইলে ঘাটাইল সেনানিবাস সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল বিল্ডিং নির্মাণে প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল দ্বারা ছাদ নির্মাণ।
চ. লালমনিরহাট জেলার দহগ্রাম ও নীলফামারী জেলার চরখড়িবাড়ী বিডিআর সীমান্তফাঁড়ি নির্মাণে প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল ফ্লোর ও এল প্যানেল ছাদ নির্মাণে সহায়তা প্রদান।
ছ. জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোনকবলিত উড়িরচরে ২০০টি নিউক্লিয়াস আশ্রয়কেন্দ্রে প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল ফ্লোর নির্মাণ।
জ. চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য বাড্ডায় স্বল্পব্যয়ে ছয় তলা ভবনে প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল ফ্লোর নির্মাণ।
ঝ. আড়াই হাজার উপজেলা কমপ্লেক্সের সরকারি ভবনসমূহে প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল ফ্লোর নির্মাণ।
ঞ. রাজশাহীর সাহেব বাজারে আরডিএর শপিং কমপ্লেক্সের নকশা প্রস্তুতসহ ভবনসমূহে প্রি-কাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল ফ্লোর নির্মাণ।
ড. কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টর ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (CDMP)-এর চাহিদা অনুয়ায়ী খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় আইলা ঘূর্ণিঝড়-দুর্গত এলাকায় ২০০টি ঘর তৈরি।
সিডব্লিউপিসি কংক্রিট মাইক্রো পাইল
কাঠের বল্লী পাইলের বিকল্প হিসেবে সিডব্লিউপিসি কংক্রিট মাইক্রো পাইল তৈরি ও ব্যবহারে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট সহায়তা দিয়ে আসছে। সর্বোচ্চ ২৫ ফুট লম্বা ৭” X ৭” সাইজের এই পাইল ইমারতের ভীত নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। এই পাইলে স্টিলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো সম্ভব। পিডব্লিউডি শিডিউলে বিস্তারিত স্পেসিফিকেশনসহ সিডব্লিউপিসি মাইক্রো পাইল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৪,০০,০০০ (চার লাখ) আরএফটি পাইল সরবরাহ করা হয়েছে।
ইকো হাউজিং প্রকল্প
বিগত ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক ‘এ স্টাডি অন ইকো-হাউজিং, ফেরোসিমেন্ট ফ্লোটিং হাউস এবং পলিমার ইন সিমেন্ট কংক্রিট ইউজিং ইন্ডিজিনিয়াস ম্যাটেরিয়ালস’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ইকো-হাউজিং প্রকল্প পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প মডেল। আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ, অপচয় রোধ ও অফুরন্ত প্রাকৃতিক শক্তির (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, বৃষ্টির পানি, বায়োগ্যাস ইত্যাদি) সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি আবাসন প্রকল্পের মডেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। এই প্রকল্প সুস্থ পরিবেশসমৃদ্ধ আবাসনব্যবস্থার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি খনিজ সম্পদ নির্ভর উৎপাদিত বিদ্যুৎ, ভূগর্ভস্থ পানি সরবরাহব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদির ব্যবহার অনেকাংশে কমিয়ে পরিবেশবান্ধব আবাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে দেওয়া স্কলারশিপ ও ফেলোশিপপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট গবেষকদের গবেষণা কোন কোন ক্ষেত্রে কাজে লাগছে?
এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময়ে গবেষণাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা নিয়েছে। তাদের লব্ধ গবেষণা ফলাফল ও জ্ঞান প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষণাকাজে সহায়তা করছে। প্রতিষ্ঠান থেকে সম্প্রতি ফেলোশিপের মাধ্যমে গবেষণায় আগ্রহী মেধাবী গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের গবেষণাকাজের ধারাবাহিকতা এবং আধুনিক ও সর্বশেষ তথ্যের সমন্বয়ে গবেষণা ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের অমিত সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন উপাদান নির্মাণকাজে ব্যবহার বন্ধে আপনাদের ভূমিকা কতটুকু?
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন উপাদান নির্মাণকাজে ব্যবহার না করার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উল্লেখযোগ্য অর্জন সম্পর্কে কিছু বলুন।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন নীতিমালা ও কোড সংযোজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি-
বিল্ডিং কোড ও গ্রিন বিল্ডিং
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট কর্তৃক ১৯৯৩ সালে জাতীয় বিল্ডিং কোড প্রকাশিত হয়। ২০১০ সালে কোডটি হালনাগাদের কাজ শুরু হয়, যা অতি অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। হালনাগাদকৃত কোডে জলবায়ু পরিবর্তন, Energy Effcient এবং Sustainable ভবন নির্মাণসংক্রান্ত একটি অধ্যায় সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১২ সালে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট গ্রিন বিল্ডিং কোড প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ নীতি ১৯৯৩ প্রণয়ন
দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর সামর্থ্যরে মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গৃহনির্মাণে সরকারের দিকনির্দেশনাই হচ্ছে গৃহায়ণনীতি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য গৃহায়ণব্যবস্থা সহজীকরণ এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রয়সামর্থ্যরে দিকে লক্ষ রেখে সুবিধাজনক স্থানে জমির ব্যবস্থা ও গৃহনির্মাণ ত্বরান্বিতকরণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহসমূহের পুনর্বাসন। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত নির্মাণ উপকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে বিকল্প ও টেকসই উপকরণ উদ্ভাবন ও উন্নয়ন। গৃহায়ণব্যবস্থা সহজতর করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত কাঠামো প্রণয়ন। দেশের ক্রমবর্ধমান গৃহায়ণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন। এই নীতিমালা প্রণয়নে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট অন্যতম ভূমিকা পালন করছে।
বাস্তবায়নকৃত দুটি প্রকল্প-
Making Clay Bricks, Aerated Blocks, Tiles by Reducing Firing Time and Temperature and Study on Fire Fighting System in Highrise Building at Dhaka শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন। এই প্রকল্পের দুটি অংশ-
ক. প্রকল্পটির প্রথম অংশে রয়েছে ইট তৈরি
মাটির সঙ্গে Fluxing Compound মিশিয়ে কম তাপে ও সময়ে ইট তৈরি এবং অল্প সময়ে বেশি ইট প্রস্তুত করা যায়। এ প্রযুক্তিতে ইট তৈরির জন্য জ্বালানি খরচ প্রায় ২০ শতাংশ কম হয়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানে একটি পাইলট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।
খ. দ্বিতীয় অংশে ঢাকা শহরের বহুতল ভবনসমূহের ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম সম্পর্কে জরিপ, মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়, ক্ষণিকের একটু অসাবধানতার কারণে পরিকল্পিত বিদ্যুতের সরবরাহব্যবস্থার অভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, দেয়াশলাইয়ের একটি জ্বলন্ত কাঠি অথবা সিগারেটের অবশিষ্টাংশই মুহূর্তের মধ্যে নগরের বিশাল জনগোষ্ঠীর এবং সম্পদের বিপুল ক্ষতির কারণ হতে পারে। রাজধানী ঢাকায় ১০৫টি বহুতল ভবনে জরিপ চালিয়ে কিছু স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহনীয় ব্যয়সাশ্রয়ী স্থাপনা নির্মাণে গবেষণা ও উদ্বুদ্ধকরণ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন। এই প্রকল্পের দুটি অংশ-
Part A: Experiment on Infilled Frame Structures Aganist Earthquake Load (ভূমিকম্পের কারণে ইটের দেয়ালযুক্ত আরসিসি স্ট্রাকচারের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত গবেষণা) এই প্রকল্পের আওতায় সর্বমোট ১৬টি ফ্রেম তৈরি করা হয়। তার মধ্যে Bare Frame দুটি, Bare Frame লেমিনেটেড দুটি, ব্রিক ইনফিল্ড দুটি, ব্রিক ইনফিল্ড লেমিনেটেড দুটি, হলো ক্লে-সিরামিক ইনফিল্ড ফ্রেম দুটি, হলো : ক্লে-সিরামিক ইনফিল্ড লেমিনেটেড দুটি, ব্রিক ইনফিল্ড লিফট কোর দুটি ও ব্রিক ইনফিল্ড লিফট কোর লেমিনেটেড দুটি, সর্বমোট ১৬টি মডেল ফ্রেম প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়।
Part B: Dissemination of Sustainable House for Cyclone, River Erosion and Flood Victims (ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন এবং বন্যা উপদ্রুত এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্যোগ সহনীয় স্থাপনা নির্মাণে উদ্বুদ্ধকরণ) প্রকল্পের এ অংশের মূল উদ্দেশ্য হলো ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন এবং বন্যা উপদ্রুত এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্যোগ সহনীয় স্থাপনা যথা ভাসমান আশ্রয়কেন্দ্র, পুনর্ব্যবহারযোগ্য, প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রি-ফেব্রিকেটেড মডেল হাউজ এবং স্টিল্ট হাউস (Stilt House) নির্মাণ ও টেকসই বাড়ি নির্মাণে দুর্গত এলাকার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। এ লক্ষ্যে বন্যা উপদ্রুত এলাকার জন্য আরিচা ঘাট, মানিকগঞ্জে, নদীভাঙন এলাকার উপযোগী ফুলছড়ি, গাইবান্ধা, বন্যা উপদ্রুত এলাকার উপযোগী ভাসমান স্কুল কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র জাজিরা, শরিয়তপুর এবং ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসকবলিত এলাকার উপযোগী স্টিল্ট হাউস শ্যামনগর, সাতক্ষীরায় নির্মাণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে কমমূল্যে আবাসন-সুবিধা প্রদানে আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মকৌশল আছে কী?
আছে, আমি ইতিপূর্বে আমাদের প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃক উদ্ভাবিত কম মূল্যের আবাসন প্রকল্পসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছি।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা কিংবা অধিদপ্তরের মধ্যকার সমন্বয় কতটুকু?
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা বা অধিদপ্তরের কারিগরিবিষয়ক ও পরামর্শসেবা প্রদান অব্যাহত আছে। আমরা রাজউকের বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের মৃত্তিকা পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অনুরূপ কাজে জড়িত।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বর্তমান কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই।
প্রতিষ্ঠান থেকে বাস্তবায়িত গবেষণা প্রকল্পসমূহ-
- Techniques of Soil Sampling.
- Study on Ferrocement Element as wall for Multi-storied Building.
- Study on Adobe Bricks Using Dredged Soil as a Building Material.
- Study on Available Building Materials.
- Study on High Performance Concrete.
দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন (২য় পর্ব)।
চলতি অর্থবছরে যে যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা হলো-
প্রকল্প বাস্তবায়ন
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড হালনাগাদকরণ।
গ্রিন বিল্ডিং কোডের খসড়া সুপারিশমালা বাস্তবায়ন।
প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্প (এডিপি)
- Capacity Building of Housing and Building Research Institute (HBRI) (2013-16)|
- Study and Determination of the Geotechnical Properties of Dhaka Soil (2013-15)|
- Application of Ferro-cement Technology in Rural Housing.
- Explore and Develop Alternative to Brick Wall Using Dredged Soil.
- দুইটি বিভাগীয় শহরে সাব-সেন্টার ও ঢাকায় ট্রেনিং কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কী কী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে?
দেশের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট যেমন- Shahjalal University of Science and Technology, Sylhet, Jahangirnagar University, Islamic University of Technology, North South University and Stamford University-এর ছাত্রছাত্রীদের Thesis তত্ত্বাবধান করাসহ ল্যাব-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে এবং Polytechnic Institute-এর ছাত্রছাত্রীদের Attachment Course পরিচালনা করা হচ্ছে।
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে সাধারণ জনগণ কীভাবে সেবা পেতে পারে?
হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে সাধারণ জনগণ বাড়ি নির্মাণবিষয়ক যেকোনো ধরনের কারিগরি পরামর্শ বা সেবা নিতে পারে। প্রতিষ্ঠানে সাধারণ জনগণের উপযোগী বাড়ি নির্মাণবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘নিজের বাড়ি নিজেই করি’ আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জনগণ বাড়ি নির্মাণ বিষয়ে সচেতন হতে পারে। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবিত বিভিন্ন উপকরণাদি ও প্রযুক্তি নির্মাণকালীন ব্যবহারের জন্য কিনতে পারে।
গ্রামে মাটির বাড়ি নির্মাণকৌশলের কোনো উন্নত পদ্ধতি সম্পর্কে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো কী কী?
হ্যাঁ, আমাদের প্রতিষ্ঠানে মাটির বাড়ি নির্মাণের আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগে একটি মডেল হাউস নির্মাণ করা হয়েছে। এটি দেশের গ্রামাঞ্চলে নির্মাণ করে সুফল পাওয়া যেতে পারে। এ ধরনের মাটির বাড়ি ব্যয়বহুল হলেও দীর্ঘস্থায়ী, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত। Rammed Earth দিয়ে বাড়ি নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য নতুন। ইউরোপ, আফ্রিকাসহ অন্যান্য দেশে এ প্রযুক্তিতে বাড়ি নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এইচবিআরআই, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট এবং লিন্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭০ জন স্থপতি উপস্থিতিতে আয়োজিত এক কর্মশালায় Rammed Earth দিয়ে বাড়ি তৈরি পদ্ধতি শেখানো হয়।
বন্ধনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ।
- প্রকাশকাল: বন্ধন ৪৩ তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৩