অধ্যাপক ড. আবু সায়েদ এম. আহমেদ
‘দেশের ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি সংরক্ষণে হেরিটেজ কমিশন গঠন করতে হবে’

অধ্যাপক ড. আবু সায়েদ এম. আহমেদ দেশের শীর্ষস্থানীয় স্থপতি ও শিক্ষাবিদ। দেশীয় স্থাপত্যকলায় পুরোনো স্থাপনার প্রবাদপুরুষ। জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫৮ কুমিল্লায় সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিকের পর ১৯৭৬ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ১৯৮৩ সালে বুয়েট থেকে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার্থে জার্মানি যান। বিল্ডিং হিস্ট্রির ওপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষে একই বিষয়ের পিএইচডি করেন জামার্নির কার্লসরুহি (Karlsruhe) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সহযোগী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন জার্মানির এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে দেশে ফিরে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগ দেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০১-২০০৩ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রার এবং ২০০৩ সালে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২০১০-২০১২ পর্যন্ত তিনি এশিয়ান কাউন্সিল ফর আর্কিটেকচারাল এডুকেশন (এসিএই) সম্মানিত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দেশে-বিদেশে স্থাপত্যকর্মের ওপর আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সম্মানিত বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর স্থাপত্যবিষয়ক শতাধিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। স্থাপত্যশিল্পের মহীরুহ বিশিষ্ট এ স্থপতি বন্ধনের মুখোমুখি হয়েছিল স্থাপত্যের অতীত, বর্তমান আর নানা সম্ভাবনার কথা নিয়ে। সেই কথাগুলোই জানাচ্ছেন ম. শফিউল-আল-ইমরান

কার্জন হল, ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহ্যগত দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ জনপদ। এর প্রধান কারণ, মধ্যযুগে বা তার আগে অর্থনৈতিকভাবে এ এলাকার অধিবাসীরা খুবই সচ্ছল ছিল। তখন অর্থনীতি নির্ভর ছিল কৃষির ওপর। কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থায় যা দরকার ছিল, তার সবগুলোই আমাদের ছিল। তখন যে কৃষিপণ্য রপ্তানি হতো তা ধান-পাট নয়, মসলা। এটা খাওয়ার মসলা না, ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যেমন- মমি করার যে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হতো, তাও এ বাংলা থেকেই যেত। পৃথিবীতে তখন দুটি ব্যবসায়িক রুট ছিল। একটা স্পাইসিস রুট ও অপরটি সিল্ক রুট। এই দুটোই বাংলার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতো। সিল্ক রুটের ঐতিহ্যের কথা, মসলিনের কথা তো কমবেশি সবারই জানা। পৃথিবী বিখ্যাত রুট দুটির অবস্থান বাংলায় হওয়ায় চীন, ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে প্রচুর পর্যটক আসতেন। কেননা তখন বাংলার অর্থনীতি ছিল বিশাল। আর সংগত কারণেই ভালো অর্থনীতির দেশে উন্নয়নটা বেশি হয়। উন্নয়নটা মূলত হয়েছিল স্থাপত্যকলায়। স্থাপত্যকর্মই কিন্তু সভ্যতার মাপকাঠি। সেই কারণে আমাদের প্রচুর ভবন তৈরি হয়েছিল। গৌতম বুদ্ধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বৌদ্ধ বিহারগুলো পাটনা থেকে শুরু করে আসামসহ এই বাংলায় প্রচুর রয়েছে। বাংলা বিহার উড়িষ্যার এই অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে আজকে কিন্তু যেতে যেতে তা কোরিয়া, চীন, জাপান পর্যন্ত চলে গেছে। সব থেকে বেশি বৌদ্ধ বিহারের স্থাপত্যশৈলী পাওয়া যায় বার্মায়। এসব অবকাঠামো পাহাড়পুর, ময়নামতির মতো। এ থেকেই আমরা ধারণা করতে পারি, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক সমৃদ্ধ। ইতিহাস বলছে, ইউরোপে আগে এ রকম সভ্যতা ছিল না। আজকে ইন্দোনেশিয়ায় প্রাপ্ত পুরাকীর্তি থেকেও এই বাংলার স্থাপনাগুলো অনেক বেশি সমৃদ্ধ।

ভিন্নতার দিক থেকে বাংলার মানুষ বৈচিত্র্যময়। কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ বা কালো কেউ বা ফর্সা। বর্ণবৈচিত্র্য থাকলেও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এই অঞ্চলটা অনেক শক্তিশালী ছিল। পাহাড়পুর দিকে দেখলে বোঝা যায় কতটা সভ্য ছিল বাঙালি জাতি। আবার মধ্যযুগের মসজিদগুলো দেখলেও বিস্ময় জাগবে। এর মানে ধর্ম, অর্থনীতি, রাজনীতি মিলিয়ে এই অঞ্চলটা অনেক সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ছিল।

তাজহাট জমিদারবাড়ি, রংপুর। ছবি: সংগৃহীত

কোনো দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধরে রাখতে ওই দেশের পুরোনো স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ খুবই জরুরি। আর এগুলো সংরক্ষণ হতে পারে দুটি পর্যায়ে একাডেমিক ও ইকোনমিক। বাংলায় একটা কথা আছে, এক ধাপ সামনে গেলে দুই ধাপ পেছাতে হয়। এই দুই ধাপ পেছানো মানে জ্ঞান নেব দুই ধাপ, তবেই এক ধাপ এগোতে পারব। তার মানে পুরোনো ভবনগুলো রাখতে হবে শুধু স্থাপত্য গুরুত্ব বিবেচনায়, যা দিয়ে ওই সময়কার সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যাবে। প্রথমত, মোগল বা সুলতানি আমলের মসজিদগুলোয় মিনার নাই, মসজিদে কেন টেরাকাটা ব্যবহার করা হয়েছিল। কান্তজির মন্দিরে কেন এত গল্প লেখা; কারণ এই সবই ওই সময়কার গল্প, যা ধর্মীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা অবস্থার কথা জানান দিত। এ জন্য ভবন সংক্ষরণ আমাদের করতেই হবে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত পর্যটন। এই পর্যটন আবার দুই ভাগে বিভক্ত। একটা ন্যাচারাল ট্যুরিজম, অন্যটা কালচারাল ট্যুরিজম। ন্যাচারাল ট্যুরিজম হলো সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হিমছড়ি পাহাড় ইত্যাদি। আর কালচারাল ট্যুরিজম হলো লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, পাহাড়পুর, কান্তজি মন্দির প্রভৃতি। এখন কিন্তু ন্যাচারাল ট্যুরিজমের জায়গা দখল করছে কালচারাল ট্যুরিজম। পর্যটনের মাধ্যমে আয়ের এ পথ সুগম করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতেও পুরোনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ অতি জরুরি।

সংস্কারকাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না বলার আগে বলতে হয় কোন ভবনটা সংস্কার করব। কেন করব সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এ সমস্যাটির কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। কারণ, দেশের ঐতিহ্য-ইতিহাস সম্পর্কে আমরা কজনই বা ভালো জানি। বাংলাদেশ আর্কোলজি ডিপার্টমেন্টের মতে, সরকারের সংস্কার তালিকায় স্থান পেয়েছে মাত্র ৩৪০টা ভবন। এর মধ্যে বেশির ভাগই ঢাকা শহরে। যদি উত্তরবঙ্গকে ধরা হয়, নির্দিষ্ট করে বললে শুধু রাজশাহী জেলাটাকে ধরি, তবে আমার মনে হয় এখানেই সংস্কারাধীন ভবন আছে ১০০-১৫০টি। তবে সবচেয়ে অবাক করার বিষয় কার্জন হল, আহসান মঞ্জিলও কিন্তু সরকারের সংস্কারের তালিকায় নেই। তাহলে এগুলোর মতো অনেক ঐতিহ্যবাহী ভবন আছে, যেগুলো সরকারের তালিকাতেই নেই। এই ৩৪০টি ভবনের সংরক্ষণের কাজ সরকারের আর্কোলজি ডিপার্টমেন্ট করছে। বাকিগুলো সংস্কার আর সংরক্ষণের অভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অযতেœ অবহেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

লালবাগ কেল্লা, ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

এ দেশে ভবন নির্মাণের ওপর গবেষণা হয় খুব কম। আমাদের এ ক্ষেত্রটায় গবেষণাটা খুব কম হয় বলে সংস্কার ও সংরক্ষণটা যথাযথভাবে হচ্ছে না। কাজের শুরুতেই দরকার অথেনটিক ডকুমেন্টেশন। একটা কাজ করার পর এমনভাবে ডকুমেন্ট রাখতে হবে যাতে কেউ যদি ভুল করে তবে পরবর্তী প্রজন্ম যেন শোধরানোর সুযোগ পায়। দুঃখজনক হলেও সত্য সেই ডকুমেন্টেশন আমাদের দেশে একেবারেই হয় না। বাজেট হয় জুন মাসে আর এপ্রিল এলেই আমরা দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করি। ডকুমেন্টেশন করতে যে সময় ও জনবল প্রয়োজন সরকার এদিকে নজর দিচ্ছে না বলে সঠিক সংরক্ষণ হচ্ছে না। শুনে অবাক হবেন যে পাহাড়পুর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ পার্ক। একে নিয়ে ১৯২৩ সালে একটা পরিকল্পনা হয়েছিল কিন্তু ২০১৩ সালেও এসেও পাহাড়পুর নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে গবেষণার অভাবেই এসব স্থাপনাগুলোর সঠিক সংরক্ষণ ও সংস্কার হচ্ছে না।

গবেষকের অভাব আছে আমি এটা মনে করি না। বলব, এ ব্যাপারে সরকার একটু উদাসীন। এ বিষয়ে এন্টিগ্রিটি অ্যাক্ট রযেছে, যাতে স্পষ্ট বলা আছে, একটা অ্যাডভাইজারি বোর্ড থাকবে পাশাপাশি প্রতিটা কাজ করার আগে একটা টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করতে হবে। কাজ করবে সরকার বাইরের লোকেরা।

উয়ারী বটেশ্বর, নরসিংদী। ছবি: সংগৃহীত

একটা নতুন ভবন যদি এখন তৈরি করি ধরে নেব, এটা ১০০ বছর টিকবে কিন্তু আমরা যে ভবনগুলো নিয়ে কাজ করি সেগুলো ৪০০, ৩০০, ১০০০ বছরের পুরোনো অর্থাৎ খেয়াল রাখতে হবে যে কাজ করার পর পুরোনো ভবনগুলোর স্থায়িত্ব যেমন তেমন হয়। এখন হয়তো ১০০ বছরের জন্য কাজ করলাম পরবর্তী প্রজন্ম আরও ১০০ বছর টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে। আর এটা সম্ভব, দুনিয়ায় এমন ভ‚রি ভ‚রি উদাহরণ আছে। স্থাপনাটা আগের উপকরণে তৈরি বলে তা সম্ভব যেহেতু অতীতে সম্ভব হয়েছিল।

ট্রেন্ডটা আমাদের দেশে নতুন। এ কাজের দায়িত্বটা আর্কোলজি ডিপার্টমেন্টের। বাংলাদেশে পুরাকীর্তি সংরক্ষণের ধরন দুটি। ১০০ বছরের পুরোনো ভবনগুলো সংরক্ষণ করে আর্কোলজি ডিপার্টমেন্ট। ২০ বছরের পুরোনো ভবন সংরক্ষণের দায়িত্ব ডিপার্টমেন্ট অব আর্কিটেকচারের। প্রাইভেট পর্যায়ে এখনো তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না, তবে ব্যক্তিগতভাবে গবেষণামূলক কাজ অনেকেই করছে। আমিও ব্যক্তিগতভাবে ফান্ড ম্যানেজ করে অনেক দিন ধরেই এ ধরনের কাজ করছি। বর্তমানে করছি কোরিয়ান অর্থায়নে একটা কাজ।

মহাস্থানগড়, বগুড়া। ছবি: সংগৃহীত

সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকারি আইন বলে পুরোনো এ বিল্ডিংগুলো অধিগ্রহণ করবে সরকার। তাদের অনুমোদিত লিস্টবেডের মাধ্যমে এটা করবে। কিন্তু ঢাকা শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এমন অনেক ভবন আছে, যেগুলো সংরক্ষণ করতে গেলে ভবনমালিকদের ইনসেনটিভ দিতে হবে। নইলে তারা ওগুলো সংরক্ষণ করবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার এখন কত ধরনের ইনসেনটিভ দেবে, সেটার পলিসি করা উচিত। দেশে অনেক কমিশন আছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি সংরক্ষণে এমন একটি কমিশন গঠন করতে হবে। পাশের দেশে হেরিটেজ কমিশন আছে। আমাদের দেশে নেই কিন্তু সরকারের উচিত এমন একটি হেরিটেজ কমিশন গঠন করে ভবনগুলো সংরক্ষণের ওপর নজর দেওয়া। দেশের ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি সংরক্ষণে হেরিটেজ কমিশন গঠন করতে হবে।

স্থপতিরা আসলে সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে বেশি পড়ে আর পড়ে ইতিহাস নিয়েও। এখনো একটা স্থাপত্যকর্ম দেখে বলে দিতে পারি ওই স্থাপত্যটা কোন সময়ের। এখন একটা বিল্ডিং তৈরিতে যে কেউ এখনকার প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। স্থাপত্যের নিয়ম হলো যখন তৈরি হবে স্থান, কাল ও পাত্র অনুযায়ী সেটা কাজ করবে। এখন কিন্তু তাজমহল নির্মাণে ২২ হাজার শ্রমিক লাগবে না। বর্তমানে ইনডাকশন প্রডাকশনে মার্বেল কাটা হয়। তাহলে এখন এ কাজ করতে বড়জোর দুই হাজার শ্রমিক লাগবে। আর যদি ২২ হাজার লোক দিয়েই করি, তাহলে সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে নিজেকে বানিয়ে নিতে পারিনি, পিছিয়ে রয়েছি।

কান্তজির মন্দির, দিনাজপুর। ছবি: সংগৃহীত

মানুষমাত্রই স্বকীয়তা রয়েছে। সৃষ্টিশীলতার আনন্দে মানুষ নতুন নতুন উদ্ভাবনা করবে এটাই স্বাভাবিক। ইতিহাসকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ঘটিয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করলে উদ্দেশ্যটা সফল হবে। আমরা চাই নতুন কিছু হোক, তবে ইতিহাস ঠিক রেখে। 

প্রথমত, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। জনগণকে বুঝতে হবে তার ঐতিহ্যগত গুরুত্ব। সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে পারে মিডিয়া। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে ভালোভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা রাখতে হবে সরকারকে। সচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের দিকও গুরুত্বপূর্ণ। 

ময়নামতি, কুমিল্লা। ছবি: সংগৃহীত

পুরোনো বা নতুন যে স্থাপনাই হোক, অর্থনীতিতে এর অবদান অপরিসীম। পুরো অস্ট্রেলিয়ায় ৮০ শতাংশ ট্যুরিস্ট যায় একটি মাত্র স্থাপনা সিডনি অপেরা হাউস দেখতে। আমাদের সংসদ ভবন আছে, যেখানে একটি ট্যুরিস্টও আসে না, ঢুকতে পারে না। কারণ, আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা তেমন সুযোগ করে দিতে পারেনি। যদি এমন সুযোগ থাকত, তবে পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়, ময়নামতির মতো জায়গাগুলো পর্যটনের সুযোগ নিয়ে অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখতে পারত। সমৃদ্ধ হতে পারত অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

বন্ধনকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

  • প্রকাশকাল: বন্ধন ৩৬ তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৩

+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top