ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯ চলছে। মাঝপথে জমজমাট বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ নিজেদের পাফরম্যান্স দিয়ে ২২ গজের পিচ মাতাচ্ছে। নিজেদের বোলিং আর ব্যাটিং নৈপুণ্য দিয়ে এর মধ্যেই পুরো পৃথিবীর সমীহ আদায় করে নিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। কিন্তু যে ২২ গজের পিচে এই খেলাটা হচ্ছে, সেই পিচ নিয়েই যত গন্ডগোল। কখনো পিচ বোলিংবান্ধব। ব্যাটসম্যানেরা রান করতেই পারে না। কখনো পিচ ব্যাটিংবান্ধব। রশিদ খানের মতো বোলার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯ ওভারে ১১০ রান দিল। আবার কখনো পিচ দুই রকম আচরণ করে। প্রথমে যে ব্যাট করল সে পেল ব্যাটিং পিচ। পরে যে বোলিং করল তার কাছে মনে হলো এটা বোলিং স্বর্গ। এভাবেই পুরো ক্রিকেট খেলায় এই পিচমশাই খেলেন, আমরা সবাই তার হাতের ক্রীড়ানক! কিন্তু ভাবুন তো, কেন এই পিচ এত দামি মাটি দিয়ে বানায়, যেটা ভিজলেই নষ্ট হয়ে যায়? এটা তো কংক্রিট দিয়ে বানালেও পারত। কিন্তু কেনই বা এমন বানায়? অনেকে আবার ঘাসও লাগায়। যেমন তেমন ঘাস নয়, বারমুডার ঘাস। সবচেয়ে দামি ঘাসগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। আবার কেন পিচে পাকিস্তানের মাটি দরকার হয়? কেনই-বা কংক্রিট স্ল্যাবের ওপরেই মাটির আস্তরণ দেওয়া হয়? আজ আমরা এসব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজব।
পিচ
ক্রিকেট মাঠ যত বড়ই হোক বা যত ছোট, এর প্রতিটি পিচ সমান। অনেক সময় একটা মাঠে আমরা চার বা পাঁচটা পিচ দেখতে পাই। এগুলো বানিয়ে রাখা হয়। কিন্তু কিউরিং করা হয় না ভালোমতো। যদি মূল পিচ নষ্ট হয়, তবেই এগুলোতে খেলার আয়োজন করা হয়। তবে সাধারণত এসব এক্সট্রা পিচে প্র্যাকটিস চলে। আসল পিচটা রেখে দেওয়া হয় মূল খেলার জন্য। ক্রিকেট পিচের একটা মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি হয় একেবারে সমান। বারবার রোলার চালানো হয়। এর প্রতিটি কোণ একই তলে থাকতে হয়। নইলে পিচ খেলার অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। উইকেট টু উইকেট নামের একটা জায়গা আছে, যেটার দুপাশে দুটো স্ট্যাম্পস পোঁতা থাকে মাটিতে, সেই জায়গা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই বল পিচ করে। ব্যাটসম্যান একটু এদিক-সেদিক করলেই ঘটে উইকেটের পতন। তাই এই জায়গায় কোনোভাবেই পা দিয়ে নষ্ট করা যাবে নেই। এই জায়গার মাটি সবচেয়ে বেশি মসৃণ করা হয় যেন বল করলে সেটা হঠাৎ লাফিয়ে না ওঠে। এটা যদি লাফায় তাহলে হঠাৎ ব্যাটসম্যানের মাথায় বা শরীরের অন্য যেকোনো অঙ্গ আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় পায় বেশি সুবিধা। এ কারণেই দেখা যায় কোনো কোনো অসাধু খেলোয়াড় জুতোর স্পাইক দিয়ে পিচের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি করেন ইচ্ছে করেই। পরে সেই জায়গায় বল ফেলে ব্যাটসম্যানকে কাবু করেন।
পিচের নিচে কী থাকে? অবশ্যই মাটি। কিন্তু মাটি ছাড়াও অনেক কিছু দেওয়া যেত। যেমন সিমেন্ট। তাহলে বৃষ্টিতে পিচ নষ্ট হতো না। কিন্তু বল বাউন্স করানোর জন্য মাটিই উৎকৃষ্ট। সিমেন্টের পিচে বল পড়ে অনেক বেশি নষ্ট হতো। মাটিতে যেভাবে বল ড্রপ খায়, সিমেন্টের পিচে তেমন খায় না। তাই পিচ বানানো হয় মাটি দিয়ে। তবে এতে সিমেন্ট অবশ্যই থাকে। হ্যাঁ, এক বিন্দুও মিথ্যে নয়। সিমেন্টের স্ল্যাব বানানো হয়। তবে সেটা পিচের অনেক নিচে। সেই স্ল্যাব বানানোর আগে যেটা করতে হয় তা হলো সীমানা নির্ধারণ। কিন্তু যাঁরা ভ্রু কুঁচকেছেন তাঁদের জন্য বলে রাখি, পিচ বর্তমানে দুইভাবে বানানো হয়। ধ্রুপদি নিয়ম ও আধুনিক নিয়ম।
ধ্রুপদি নিয়মে পিচ তৈরির কৌশল
- প্রথমেই মাঠের সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
- মাঠের ঠিক মধ্যেই পিচের সীমানা নির্ধারিত হয়।
- এরপর মাটি কাটতে হবে অন্তত দেড় ফুট পরিমাণ।
- এরপরই শুরু আসল কাজের।
- মাটি কাটার পর সেখানের তলার মাটি সমান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রোলার ব্যবহার করতে হবে। মাটি যত শক্ত ও সমান হবে, পিচ তত সুন্দও হবে। ড্রেনেজ লাইন বসাতে হবে প্রথমেই। যেন পিচের তলায় পানি না জমে। এরপর ভালোমতো পানি দিতে হবে মাটিতে। ভেজা মাটিকে এরপর রোলার দিয়ে সমান করতে হবে। মাটি সমান হয়ে গেলে ব্যালাস্ট স্টোন বা পাথরকুচি বসাতে হবে ৯ ইঞ্চি পুরু করে। এরপর এর ওপর মাটির আস্তরণ দিয়ে আবার রোলার দিয়ে রোল করতে হবে। রোলার যত ভারী হবে, পিচ হবে তত শক্ত।
- দুই স্তরের ইট বিছাতে হবে। এটি হবে ৯ ইঞ্চি পুরু। একটি লেয়ার যেদিক দিয়ে বসানো হবে, অন্যটি হবে উলটো দিকে। একে বলে ব্রিক সোলিং।
- সমান করে ইট বিছানো হয়ে গেলে এর ওপর মিহি কয়লা আর মাটির গুঁড়ো ফেলতে হবে, যেন ইটের ফাঁকগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এটি বর্ষাকালে দ্রুত পিচ শুকিয়ে যেতেও সাহায্য করবে।
- এরপর একটি মাটির মিক্স তৈরি করতে হবে। কালো মাটি বা এঁটেল মাটি (১ ভাগ) + লাল মাটি (১ ভাগ) + মরমুম মাটি (১ ভাগ)। এটি ভালোমতো মিশিয়ে ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত একটা লেয়ার তৈরি করে আগের কয়লা মাটির মিক্সের ওপর বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর এতে পানি দিতে হবে। দেখতে হবে এটিতে সমানভাবে সব দিকে পানি থাকে কি না। এটি সমানভাবে ঘাস জন্মাতে সহায়তা করে। এটি সমান না হলে সবখানে সমান ঘাস থাকবে না। যেখানে বেশি পানি সেখানে বেশি ঘাস থাকবে। আর যেখানে কম পানি সেখানে থাকবে ন্যাড়া। সেখানে বল পড়লেই বুঝতেই পারছেন ব্যাটসম্যানকে আউট করা কতটা কঠিন হবে।
- শেষের দুই মাটির মিক্সচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটির ওপরেই পিচের গুণাগুণ সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে।
- ৩ ইঞ্চি পরিমাণ মাটির মিক্সার বানাতে হবে। এতে যা থাকবে-
- কালো মাটি বা এঁটেল মাটি (১ ভাগ)
- লাল মাটি (১/২ ভাগ)
- মরমুম মাটি (২ভাগ)
- সার ( ২ ভাগ)।
- এরপর এটিকে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এটি ঘাস গজাতে সাহায্য করবে।
- ঘাস বিছিয়ে দিতে হবে ভালোভাবে। ঘাসের বীজের ওপর আবার ও তিন ইঞ্চি মাটির সেই স্তর দিতে হবে।
- কালো মাটি বা এঁটেল মাটি (১ ভাগ)
- লাল মাটি (১/২ ভাগ)
- মরমুম মাটি (২ ভাগ)
- সার (২ ভাগ)।
- দুই দিন বাদে এতে পানি ছিটাতে হবে। দেখতে হবে পানি কোন দিকে গড়াচ্ছে। এটি খেয়াল না করলে পানি যেকোনোভাবে পিচে এসে পড়বে একটু বৃষ্টি হলেই। আর পুরো পরিশ্রমটি গড়বড় হয়ে যাবে। যেখানে গর্ত মনে হবে, আবারও একই মাটির স্তর দিতে হবে ওখানে। এভাবে পুরো বেডটা সুন্দরভাবে সাজাতে হবে। এ সময় পানি দেয়াটা সবচেয়ে জরুরি। দিনে দুইবার পানি দিতে হবে। একবার দিনে, আরেকবার সন্ধ্যায়। এটা অবশ্যই সূর্যের তাপ কম থাকা অবস্থায় দিতে হবে। যদি পানি কমবেশি হয় তাহলে পিচ একই কায়দায় নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
- পিচ সমান হলো কি না এটা দেখার জন্য সুতো বেঁধে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে হবে। দুই দিকে সুতো বেঁধে সেটাকে রাইট অ্যাঙ্গেল রেখে এরপর পিচের দূরত্ব মাপতে হবে। ফলে কোনো অঞ্চল বেশি নিচু বা উঁচু থাকলে সেটা রোলার দিয়ে সমান করে দেওয়া যাবে।
- ঘাস গজানো শুরু হয়ে র্৪র্ -র্৬র্ উঁচু হলে একটা হালকা রোলার দিয়ে একে রোলিং করতে হবে। এতে ঘাস মাটির সঙ্গে মিশে যেতে শুরু করবে। এটি কোনো জায়গায় কমবেশি হলে আবারও একই কায়দায় সেখানে মাটি দিয়ে ঘাস লাগাতে হবে।
- প্রতিদিন পানি দিতে হবে এবং রোলার দিয়ে পিচ সমান করতে হবে। কিন্তু বেশি রোলিং করা যাবে না। এতে পিচের ওপর ঘাস মরে যাবে। এতে পিচ আবারও অসমান হয়ে যাবে। রোলিং প্রক্রিয়া একটু এদিক-সেদিক হলেই পিচ খেলার অযোগ্য বা খেলায় এক পক্ষীয় আচরণ করবে।
- যদি দেখা যায় যে ঘাস বড় হচ্ছে না, তখন আবার সার দিতে হবে। এটা আবার পরিমাণমতো দিতে হবে। বেশি সার দিলে অনেক সময় ঘাস এটা সহ্য করতে না পেরে মরে যায়।
- পিচ কিউরেট করার জন্য একেবারে প্রথমেই ভারী রোলার দিয়ে রোল করলেই হয় না। এটি নির্দিষ্ট নিয়মে করতে হয়। প্রথমে হালকা রোলার দিয়ে রোলিং করতে হবে। এরপর একটু ভারী ও শেষে সবচে ভারী রোলার দিয়ে রোল করতে হবে।
- অবশ্যই ভালো ঘাস বেছে নিতে হবে। যেনতেন ঘাস ব্যবহার করলেই পিচ নষ্ট হয় দ্রুত। এ জন্য ভালো জাতের ঘাস বেছে নেওয়া জরুরি। এমন ঘাস বেছে নিতে হবে, যেটার গোড়া শক্ত ও পুষ্টিবান, দ্রুত বর্ধনশীল ও সমান। অবশ্যই আবহাওয়ার সঙ্গে ঘাসের বৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এটাও জানা জরুরি।
খেলার আগে পিচ কিউরিং
খেলার ৮-১০ দিন আগে থেকে পিচে ভারী রোলার ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। খেলার ৮-১০ দিন আগে সর্বোচ্চ ১ টনের রোলার ব্যবহার করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে এটির ওজন কমাতে হবে। খেলার এক দিন আগে এটা একেবারেই থামিয়ে দিতে হবে। কোনোভাবেই এতে রোলিং করা যাবে না। একইভাবে ম্যাচ চলার ৮-১২ দিন আগে থেকে পানি দেওয়ার পরিমাণও কমাতে হবে। এক দিন আগে পানি দেওয়াও বন্ধ করে দিতে হবে। কিছু ঘাসও রেখে দিতে হবে পিচে। খেলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে পিচ হতে হবে একেবারে শুকনো খটখটে। শুধু ওপরভাগ নয়, একেবারে ৩-৪ ইঞ্চি ভেতর পর্যন্ত শুকনো থাকতে হবে। বৃষ্টি হলে শুকনো রাখাটা বেশ শক্ত হয়। কিন্তু এটা করতেই হয়। তখন পিচ ঢেকে রাখতে হয়। পিচ ভালোমতো শুকনো রাখতে পারলে পিচ খুব সুন্দর হয়। বাদামি আকার ধারণ করে। কিন্তু পানি থাকলেই এটি সবুজ দেখায়।
আধুনিক পিচ তৈরির উপায়
আধুনিক ক্রিকেট পিচ তৈরির উপায়গুলো শুরু থেকে চার নম্বর পর্যন্ত একই। শুধু এরপরেই পাথর বিছানোর পরিবর্তে সেখানে একটা কংক্রিটের স্ল্যাব ঢালাই করা যায়। ১০ মিলিমিটার ডায়ামিটারের রড বিছিয়ে দেওয়া হয় দুটো লেয়ারে। মোটকথা একটা ছাদ যেভাবে ঢালাই করা হয়, ঠিক একইভাবে সব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। মোট পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত মোটা সেই স্ল্যাবকে ভালোমতো এক ইঞ্চি পুরু আস্তর দিয়ে এটি করা হয় একেবারে সমান। সুতো ধরে সেই সমান পিচের ওপর মাটির আস্তরণ ফেলা হয়। তারপর এটির ওপর আবার ঘাস লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়। এই পিচ অনেক বছর পর্যন্ত একই রকম থাকে। দেবে যায় না। অতিরিক্ত খেলার ফলে নষ্ট হয় না। রোলার দিয়ে চাপ দিলেও এর স্ট্রাকচার ক্ষতির মুখোমুখি হয় না সহজে।
খেলা শেষে পিচ কিউরিং
প্রতিটি খেলা শেষে পিচ কিউরিং করতে হয়। ম্যাচ শেষে কোনো স্পট বা গর্ত হয়ে গেলে সেখানে আবার নতুন মাটি ও ঘাসের বীজ এনে লাগাতে হয়। এরপর পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। যত্ন পেলে পিচ আবার আগের মতো হয়ে যায়।
পিচের সঙ্গে খেলার সম্পর্ক
একটি সাধারণ পিচে হয় ঘাস থাকবে, অথবা মোটেও থাকবে না। এটাই পিচের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। কিন্তু কোথাও ঘাস আছে, কোথাও কিছুই নেইÑএমন হলে সেই পিচে খেলা খুবই কষ্টকর। পুরো পিচ সবুজ ঘাসে ছাওয়া হলেও এতে খেলা যায়। বিদেশে এ রকম পিচে প্রায়ই খেলা হয়। সেসব পিচে বল বাউন্স করে বেশি। এ জন্য বাউন্সি উইকেটে বিদেশিরা বেশ ভালো। আর আমাদের দেশের পিচ হয় স্লো। এসব পিচে খুব ভালো স্পিন খেলা যায়। যেকোনো দল চাইলে খেলার আগে ম্যাচ রেফারিকে পিচে রোলার চালানোর জন্য অনুরোধ করতে পারে। যদি কোনো দল আগে বোলিং করে পিচ ক্ষতিগ্রস্ত করে তখন অন্য পিচে খেলা হওয়ার চল ও আছে। তবে এই রোলিং ৭ মিনিটের বেশি হওয়ার নিয়ম নেই। এর জন্য কোনো দলের কাছ থেকে কোনো ওভার বা বল কেটে রাখা হবে না। যদি একবার খেলা শুরু হয়েই যায়, তখন রোলিং করার কোনো প্রয়োজনই নেই। যদি না পিচ মাঝপথে ভেঙে বা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। পিচে যদি ফাটল থাকে সেই সব ফাটল বন্ধ করার জন্য মাটির দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। কারণ, স্পিনাররা বিশেষ করে লেগ স্পিনাররা এসব ফাটলে বল ফেলে ব্যাটসম্যানদের বোকা বানিয়ে উইকেট নেন।
রোলিং করার নিয়ম
- পিচ রোলিং করার আগে ভালোমতো ঝাড়ু দিয়ে নিতে হয়। যাতে ময়লার টুকরোর ওপর রোলারের চাপ লেগে পিচ নষ্ট না হয়।
- গ্রাউন্ডসম্যান চাইলে টেস্ট খেলার শুরুতে পিচ কিউরিং করতে পারেন। তবে সেটা অবশ্যই আম্পায়ারদের উপস্থিতিতে হতে হবে। নতুবা স্বাগতিক দেশের সুবিধার জন্যে পিচে অনেক পরিবর্তন হতে পারে, যা খেলার ফলাফলে ভূমিকা রাখবে বৈকি! খেলায় পিচের পাশে পানির ফোয়ারা রেখে পিচ ভিজিয়ে দিয়ে খেলার মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করার ফলস্বরূপ এমন নিয়ম চালু হয়।
- আম্পায়ারদের খেয়াল রাখতে হয় যেন কোনো খেলোয়াড় পায়ের জুতোর স্পাইক দিয়ে কোনো পিচ নষ্ট করতে না পারে। নির্দিষ্ট একটা জায়গায় বারবার পায়ের আঘাত করে পিচে গর্ত করে ফেলে কিছু অসাধু খেলোয়াড়। তারপর সেখানে স্পিনাররা বল ফেলে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের বোকা বানান। অনেক সময় বিভিন্ন ময়লার টুকরো ইচ্ছে করেই পিচে ফেলে পিচ নষ্ট করার নজির ও আছে বহু।
পিচ যে শুধু এভাবে ধ্রুপদি পদ্ধতিতেই তৈরি হয় তা নয়, কিছু কিছু দেশে বর্তমানে পুরো পিচ বাইরে থেকে বানিয়ে দেশে এনে গর্ত করে বসিয়ে দেওয়ার নজিরও আছে। এসব ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া থেকে সাহায্য নেওয়া হয়। সেসব দেশে পিচ বানানোর জন্য বিশেষজ্ঞ আছে। ওনারা পিচ বানিয়ে সেটা নির্দিষ্ট দেশে পাঠায়। সেই পিচ আগে থেকে গর্ত করে সমান করে রাখা জায়গায় এনে বসিয়ে দেওয়া হয়। ব্যস পিচ রেডি। আবার যেসব নেটে ব্যাটসম্যানরা বোলিং বা ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেন সেসব পিচ হয় প্লাস্টিকের তৈরি। রোল করা থাকে। বিছিয়ে দিলেই পিচ। তা ছাড়া দিন দিন এমন অনেক পিচ বের হচ্ছে বাজারে যেগুলো দেখতে অনেকটা আসল পিচের মতোই। তবে এসব পিচে কখনোই আসল খেলা সম্ভব না। প্র্যাকটিস করার জন্যই ব্যবহার করা হয় এগুলো।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ১১১তম সংখ্যা, জুলাই ২০১৯।