হাইটেক পার্ক, ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, বিনোদন পার্ক, দেশসেরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারখানা ও গার্মেন্টস শিল্পে সমৃৃদ্ধ জনপদ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিতেও এ এলাকাটি সমৃৃদ্ধ। উপকূল আবহাওয়া ও উন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা থাকায় এ জনপদে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যা দিনে দিনে এলাকার উন্নয়নকে করেছে ত্বরান্বিত। এই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন স্থানীয় কিছু নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী। এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম সফল ব্যবসায়ী মো. বাবুল মিয়া। কালিয়াকৈর বাজার রোডের ‘মেসার্স শাহীন এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী তিনি। বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব এ ব্যবসায়ীর সফলতার গল্প। সহযোগিতায় ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির ঢাকা সেন্ট্রালের এরিয়া ইনচার্জ তারেক মোহাম্মদ শরীয়ত উল্লাহ।
ব্যবসায়ী মো. বাবুল মিয়ার জন্ম ১৯৭০ সালের ২ মে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বামন্দহ গ্রামে। বাবা মরহুম মো. কছিম উদ্দীন ব্যাপারী ও মা মরহুমা মজিরন্নেসা। পরিবারে তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি ১৯৮৭ সালে ভৃঙ্গরাজ উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর পড়ালেখার ইতি টেনে শুরু করেন নির্মাণপণ্য ব্যবসা। ব্যবসার প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। তাঁর বাবাও ছিলেন একজন ঢেউটিন ব্যবসায়ী। বাবার পথ অনুসরণ করে ঢেউটিন ব্যবসায় সম্পৃক্ত হলেও পর্যায়ক্রমে যোগ করেন সিমেন্ট, রঙিন টিন, সিমেন্ট শিট, কংক্রিট খুঁটি ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। বর্তমানে তিনি আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির গাজীপুর, কালিয়াকৈর টেরিটরির একজন সম্মানিত ডিলার।
ছাত্রজীবন থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে ব্যবসায় সময় দিতেন বাবুল মিয়া। তখন থেকেই ব্যবসা পরিচালনা ও সাফল্য লাভের নানা কৌশল আয়ত্ত করেন। এ ছাড়া উপলব্ধি করেন এ ব্যবসাটির সম্ভাবনা। শুধু ঢেউটিন দিয়ে ব্যবসার পরিধি খুব বাড়ানো যাবে না, সেটাও তিনি অনুমান করতে পারেন। কারণ, ওই অঞ্চলে টিনের চাহিদা থাকলেও সিমেন্টসহ অন্যান্য পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এ জন্য সাধারণ ঢেউটিনের পাশাপাশি যুক্ত হন আধুনিক টিন ও সিমেন্ট ব্যবসায়। প্রথম দিকে অন্যান্য ব্র্যান্ডের সিমেন্ট বিক্রি করলেও পরে শুরু করেন গুণগত মানের আকিজ সিমেন্ট ব্যবসা।
প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া ছিলেন আকিজ সিমেন্টের ক্যাশ ডিলার। গুণগতমানের এ পণ্যটি স্বল্প সময়েই তাঁকে এনে দেয় অনন্য ব্যবসায়িক সাফল্য। তিনি হয়ে যান আকিজ সিমেন্টের পুরোদস্তুর ডিলার। প্রতিনিয়তই বাড়তে থাকে ব্যবসাটির ব্যবসায়িক পরিসর। অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন টেলিভিশন, স্মার্টফোন, ডিনারসেট, স্বর্ণালংকারসহ নানা উপহারসামগ্রী। এ ছাড়া প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় পেয়েছেন আরব আমিরাত (দুবাই), সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভুটান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অফার। বর্তমানে বাজারে তাঁর তিনটি শোরুম ও একটি গোডাউন। এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে তিনজন ম্যানেজার, দুইজন সেলসম্যান ও সাত-আটজন লেবার।
ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া পারিবারিক সম্পর্কে যুক্ত হন ১৯৯১ সালে। তাঁর স্ত্রী শাহিদা বেগম। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে মো. শাহীন আলম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এইচআরএম (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছে। মেয়ে মিম আক্তার কালিয়াকৈর ডিগ্রি কলেজে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। অবসরে পরিবারসহ দেশ-বিদেশে ঘুরতে যান বাবুল মিয়া। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজেও জড়িত। তিনি কালিয়াকৈর মারকাজ মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্য। এ ছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও দুস্থ মানুষের সহযোগিতা করেন সব সময়।
দীর্ঘদিন নির্মাণপণ্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এলাকায় বাবুল মিয়ার রয়েছে যথেষ্ট সুখ্যাতি ও পরিচিতি। এই সুনামকে পাথেয় করেই তিনি সামনে এগিয়ে যেতে চান। বড় করতে চান ব্যবসার পরিসর। এ জন্য চলমান ব্যবসার সঙ্গে ভবিষ্যতে টাইলস ও স্যানেটারিসামগ্রীও অন্তর্ভুক্তের পরিকল্পনা তাঁর।
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১১০তম সংখ্যা, জুন ২০১৯