যৌথ প্রয়াসে সফল ব্যবসা

রমজান উদ্দিন সোহেল ও মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন বন্দর, নারায়ণগঞ্জের দুজন সফল ব্যবসায়ী। ‘মেসার্স উম্মে সালমা ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী এ ব্যবসায়ীদ্বয় ব্যবসা করছেন যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে। বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব এ ব্যবসায়ীদ্বয়ের সাফল্য-রহস্য। সঙ্গে ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক কাজী মো. মনিরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক বিপণন কর্মকর্তা মো. আসমত আলী।

২০০৭ সালে শুরু তাদের এ যৌথ ব্যবসার। দুজনই আগে থেকে ছিলেন ইট-বালু ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে ওই ব্যবসাটিকেই একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৩ সালে সম্পৃক্ত হন সিমেন্ট ব্যবসায়। অন্যান্য ব্র্যান্ডের পাশাপাশি একপর্যায়ে শুরু করেন আকিজ সিমেন্ট বিক্রি। কিছুদিনের মধ্যেই এ পণ্যটি বিক্রিতে অভাবনীয় সাড়া পান; হয়ে ওঠেন নারায়ণগঞ্জ-২ টেরিটরির অন্যতম সেরা বিক্রেতা। পণ্যটির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বুঝতে পেরে ২০১৮ সালে গ্রহণ করেন আকিজ সিমেন্টের ডিলারশিপ। পরিবেশক হয়েও অব্যাহত থাকে সাফল্যের ধারা। তাঁদের নজরকাড়া সাফল্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন টিভি, ফ্রিজ, স্মার্টফোন, ডিনারসেটসহ অসংখ্য উপহারসামগ্রী। এ ছাড়া প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় পেয়েছেন থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের অফার। পাশাপাশি সমানতালে চলছে ইট-বালুর ব্যবসা। স্যানিটারিসামগ্রী ও দরজার ব্যবসাও যুক্ত হয়েছে তাঁদের ব্যবসাসম্ভারে।

ব্যবসায়ী রমজান উদ্দিন সোহেল ও মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন দুজন বাল্যকালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একই মহল্লায় বড় হয়েছেন। লেখাপড়া, খেলাধুলাও করেছেন একই সঙ্গে। কর্মজীবনের শুরুতে দুজনেই পৃথকভাবে ব্যবসায় জড়িয়ে যান। কিন্তু ব্যবসার ধরন ছিল একই। উভয়ের ব্যবসায় প্রসারও ঘটে বেশ। একপর্যায়ে দুজনই উপলব্ধি করেন একত্রে ব্যবসাটি করতে পারলে তাতে আরও বেশি সফলতা আনা সম্ভব; এতে ঘটবে ব্যবসার প্রসারও। যেই ভাবা, সেই কাজ। দুজনের ঐকান্তিক চেষ্টা ও পরিশ্রমে ব্যবসাটি ভালোভাবে দাঁড়িয়ে যায়। স্বল্প মুনাফায় মানসম্মত পণ্য বিক্রির ফলে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন তাঁরা। ইট-বালু কিনতে আসা ক্রেতাদের অনেকেই সিমেন্ট কিনতে চাইত। ক্রেতাদের এমন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সিমেন্ট ব্যবসার প্রতিও তাঁরা সমান আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তা ছাড়া সমধর্মী পণ্য হওয়ায় ক্রেতা চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্ত হন সিমেন্ট ব্যবসায়। তাঁদের এ সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত যুগোপযোগী। আর এই সিমেন্ট ব্যবসা থেকেই তাঁরা পেয়েছেন কাক্সিক্ষত সাফল্য। বর্তমানে তাঁদের রয়েছে তিনটি শোরুম ও দুটি গোডাউন। এসব ব্যবসায় জড়িত প্রায় ২০-২৫ জন শ্রমিক-কর্মচারী।

ব্যবসায়ী রমজান উদ্দিন সোহেলের জন্ম ১৯৭০ সালের ১০ নভেম্বর নবীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। পিতা মরহুম আলাউদ্দিন আহমেদ ও মা মরহুমা মনোয়ারা মণিমালা। তিনি আইইটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৯৩ সালে সরকারি তুলারাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। এর পরপরই বাবা মারা যান।  তখন তিনি পাটের ব্যবসা করতেন। সেই সূত্রে সোহেলও ব্যবসাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তবে পাটের ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করায় তা ছেড়ে শুরু করেন ইট-বালুর ব্যবসা। পরবর্তী সময়ে যৌথ ব্যবসায় আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০২ সালে বিয়ে করেন এ ব্যবসায়ী। তাঁর সহধর্মিণী জাফরিনা জাহান (লিজা)। তাঁদের দুই ছেলে। বড় ছেলে আবদুল্লাহ আল মোয়াজ, বিএম ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে আগামীবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। ছোট ছেলে ওসামা আল মনিম কদম রসুল শিশুবাগ-এ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।

ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ সুমন-এর জন্ম ১৯৭২ সালের ১ ডিসেম্বর কদম রসুল, নারায়ণগঞ্জে। পিতা মরহুম হাজি কামরুল ইসলাম ও মা হাজি উম্মে সালমা। তিনি হাজি সিরাজ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৯১ সালে কদম রসুল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। বিয়ে করেন ২০০০ সালে। সহধর্মিণী শামসুন্নাহার। তাঁদের দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে তানজিলা সিঁথির বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে, বর্তমানে ইতালিপ্রবাসী। মেজ ছেলে তারিফ হোসেন গিয়াসউদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে উম্মে সালমা নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। ব্যবসায়ী সুমন বন্দর থানা ক্রীড়া কল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সদস্য এবং কদম রসুল কলেজের উদ্যোক্তা। যুক্ত ঠিকাদারি পেশায়ও।

নিজেদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমনি¦ত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে তাঁদেও যৌথ ব্যবসা। আর তা কেবল সম্ভব হচ্ছে একে অন্যের প্রতি প্রবল আস্থা ও দৃঢ়বিশ^াসের কারণে।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ১১২তম সংখ্যা,  আগস্ট ২০১৯।

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top