সবার গ্রহণযোগ্য হোন

ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে
রাত দুপুরে অই।
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে
ট্রেনের বাড়ি কই?

হুইসেল বাজিয়ে আসছে ওই ট্রেন! এ জংশনে একটু থেমে ছুটবে নতুন কোনো গন্তব্যে। সান্তাহার রেলওয়ে জংশনটি শামসুর রাহমানের কবিতার সেই ট্রেনের বাড়ি না হলেও সারাক্ষণই ট্রেনের আসা-যাওয়া। বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন সান্তাহার। আদিকাল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনে এখানে মানুষের অবাধ বিচরণ। এই এলাকার মেসার্স মুক্তা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাজমুল হোসেন মানিক এলাকার সফল নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক বিক্রয় কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস আলী মাসুমের সহযোগিতায় বন্ধন-এর ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে তাঁরই সাফল্যকথন এবারের সংখ্যায়।

ব্যবসায়ী মানিকের জন্ম ১৬ জুলাই ১৯৭৪ বগুড়া জেলার সান্তাহারে। বাবা মো. আশরাফ আলী সরদার আর মা রিজিয়া বেগম। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চতুর্থ। সান্তাহার বি পি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে মাধ্যমিক এবং সান্তাহার সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে উচ্চমাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। এরপর একই মহাবিদ্যালয় থেকেই ব্যাচেলর অব আর্টসে পাস করেন। ১৯৯৬ সালে শুরু নির্মাণপণ্য ব্যবসার। উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যবসায়িক পরিবার হওয়ায় ছাত্রজীবন থেকেই জড়িয়ে যান ব্যবসার সঙ্গে। শুরুতে সহযোগিতা করতেন বাবার ব্যবসায়। বাবা ছিলেন সারের ডিলার। বাবার ছিল সিমেন্টের ব্যবসাও। ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি ছিল দারুণ আগ্রহ। তাই একাডেমিক শিক্ষা থাকা সত্তে¡ও চাকরির বদলে পেশা হিসেবে বেছে নেন ব্যবসাকে।

এলাকায় ভালো একজন ব্যবসায়ী ও সৎ মানুষ হিসেবে রয়েছে ব্যাপক পরিচিত। সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সান্তাহারে তাঁর পরিচিতজনেরা বাড়িয়েছেন সহযোগিতার হাত। শুরু থেকেই গুণগতমানের পণ্য বিক্রিতে বিশ্বাসী। মুনাফাও করেন অল্প। ক্রেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় খুচরা পর্যায়েই বিক্রি হয় বেশি পণ্য। অন্যান্য পণ্যের মতোই সিমেন্ট বিক্রিতেও তিনি অনন্য। এ বছর আকিজ সিমেন্ট বিক্রিতে বগুড়া অঞ্চলে হয়েছেন প্রথম। এ ছাড়া নর্থ জোনে অর্জন করেছেন চতুর্থ হওয়ার গৌরব। অন্যান্য নির্মাণপণ্য বিক্রিতেও বজায় রেখেছেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। বিক্রির অভাবনীয় এ সাফল্যে বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন টেলিভিশন, মাইক্রোওভেন, মুঠোফোন, ডিনার সেট, নগদ টাকাসহ নানা উপহার। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে ভ্রমণ করে এসেছেন নেপাল। এ ছাড়া কোম্পানিটির দেওয়া নির্দিষ্টসংখ্যক পণ্য বিক্রির সুবাদে শিগগিরই যাচ্ছেন থাইল্যান্ড।

ব্যবসায়ী মানিক তাঁর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নির্মাণপণ্য ছাড়াও অন্য ব্যবসা করছেন সমান দক্ষতায়, রাখছেন দক্ষতার ছাপ। আল-আকসা বোর্ড মিলস, ফাইভস্টার অ্যাগ্রো ফিডসহ একটি চাতালের মালিক তিনি। বাজারে এখন আছে একটি শোরুম ও গোডাউন। তাঁর এসব ব্যবসায় জড়িত প্রায় ৪০-৪৫ জন কর্মী। ব্যবসার পাশাপাশি এলাকার সামাজিক কাজেও রয়েছে সমান অংশগ্রহণ। স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসার সদস্য তিনি। অত্র এলাকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমূল্যে নির্মাণপণ্য সরবরাহ করেন থাকেন। এ ছাড়া এলাকার দুস্থদের সাধ্যমতো সহায়তার চেষ্টা করেন সব সময়।  

ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন মানিক
সপরিবারে ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন মানিক

সফল এ ব্যবসায়ী বিয়ে করেছেন ২০০৭ সালে। স্ত্রী ফারজানা খাতুন। সুখী এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় মেয়ে নাফিসা তাবাস্সুম। সে স্থানীয় ফুলকুড়ি কম্পিউটার স্কুলে নার্সারিতে পড়ছে। ছেলে ফারহিন আদনান। বয়স আড়াই বছর। ব্যবসায়িক ব্যস্ততা সত্তে¡ও স্ত্রী-সন্তানদের সময় দিতে সচেষ্ট। ভালোবাসেন ঘুরতে। সময় পেলেই পরিবারসহ ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সোনারগাঁসহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ইতিমধ্যেই ঘুরে এসেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি আয়োজিত অনুষ্ঠানে রয়েছে তাঁর সরব উপস্থিতি। পছন্দের খাবারের শীর্ষে রয়েছে মিষ্টি। 

ক্রমেই পরিসর বাড়ছে শান্তাহারের। প্রসারিত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। গড়ে উঠছে বহুতল মার্কেট, দোকান। অন্যান্য ব্যবসার মতো নির্মাণপণ্যের ব্যবসাও হচ্ছে সম্প্রসারিত। কিন্তু সবাই পারছে না এ ব্যবসায় সফল হতে। অভিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী মানিকের মতে, অর্থ থাকলেই ভালো ব্যবসায়ী হওয়া যায় না। সাফল্য পেতে প্রথমেই হতে হবে ভালো মানুষ; সবার কাছে হয়ে উঠতে হবে গ্রহণযোগ্য। আর এ জন্য চাই সততা। অসৎ মানুষ বেশি দিন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারে না। 

একজন সুব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে লেগেছে অনেকটা সময়। এই ব্যবসা তাঁকে শুধু সাফল্যই দেয়নি, দিয়েছে সম্মান ও আত্মবিশ্বাস। এখন তাঁর চাওয়া সততার সঙ্গে ব্যবসা করে নির্মাণপণ্যের এই ব্যবসাকে আরও সমৃদ্ধ করা। 

প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৫ তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৪

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top