খামারপাড়া বাজার, শ্রীপুর, মাগুরায় অবস্থিত ‘মেসার্স বিশ^াস ট্রেডার্স’ উদীয়মান স্থানীয় নির্মাণপণ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নির্মাণপণ্য ব্যবসায় এই প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে অভাবনীয় সাফল্য। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল ইসলাম। নির্মাণপণ্যের পাশাপাশি যাঁর রয়েছে আরও কিছু ব্যবসা, যার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তাঁরই দুই চাচাতো ভাই মো. হারুন বিশ^াস ও মো. আমান উল্লাহ। তিন ভাইয়ের সম্মিলিত প্রয়াসে দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে ব্যবসার পরিসর। তাঁদের বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল ও ব্যবসায়িক দক্ষতায় সিমেন্ট ও আনুষঙ্গিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে মাগুরা জেলার অনন্য এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ‘বন্ধন’-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানব ব্যবসায়ী ভাইদের সফলতার রহস্য। সঙ্গে ছিলেন আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক বিপণন কর্মকর্তা আক্তার হোসেন রিপন।
পড়ালেখার পাট চুকিয়ে ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলামের কর্মজীবনের শুরু একটি এনজিওতে। এরপর পেরিয়েছে দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর। প্রায়ই অনুভব করতেন নিজ উদ্যোগে কিছু করার। একপর্যায়ে চাকরিজীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০১০ সালে শুরু করেন পাট, চাল ও ভুসি মালের ব্যবসা। যদিও আগেও তাঁর পরিবার এ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে আগে থেকেই সম্পৃক্ত ছিল কিন্তু তিনি আরও বৃহৎ পরিসরে রূপ দেন এ ব্যবসার। এই ব্যবসাটি কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে সব পণ্যকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসেন এবং অন্য দুই ভাইকেও করেন ব্যবসায় সহযোগী। ২০১৭ সালে শুরু করেন নির্মাণপণ্য ব্যবসা। বর্তমানে তিনি আকিজ সিমেন্টের মাগুরা টেরিটরির একজন এক্সক্লুসিভ রিটেইলার। পাশাপাশি রড, সিমেন্ট, পশুখাদ্য ও গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসাতেও তিনি অর্জন করেছেন অভূতপূর্ব সাফল্য।
শ্রীপুর উপজেলার ছোট্ট একটি বাজার খামারপাড়া। তবে বাজার ছোট হলেও ব্যবসা-বাণিজ্যের কমতি নেই। অসংখ্য দোকান; ব্যাপক ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা। তা সত্ত্বেও প্রতি মাসে প্রচুর পণ্য বিক্রি করেন এই ব্যবসায়ী; অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতারা তাঁর প্রতিষ্ঠানে আসেন পণ্য কিনতে। নির্মাণপণ্য ব্যবসার শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বিক্রি শুরু করেন আকিজ সিমেন্ট। তাঁর অনন্য ব্যবসায়িক কৌশলে অল্প সময়ের মধ্যেই গুণগতমানের এ পণ্যটি বিক্রিতে অত্র এলাকার সেরা বিক্রেতা হয়ে ওঠেন। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আকিজ সিমেন্ট বিক্রিতে তাঁদের প্রতিষ্ঠান মাগুরা জেলার দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। প্রতি মাসে প্রচুর পরিমাণে পণ্য বিক্রি এবং প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপালসহ অন্যান্য দেশ ভ্রমণের অফার।
ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম ১৯৭৩ সালের ৩১ অক্টোবর মাগুরা জেলার শ্রীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মরহুম ইনতাজ আলী বিশ^াস ও মা মরহুমা রিজিয়া বেগম। তিনি ১৯৮৯ সালে শ্রীপুর এমসি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৯১ সালে শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং পরে রাজেন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় কলেজ, ফরিদপুর থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি বিয়ে করেন ২০০৭ সালে। সহধর্মিণী মিসেস আমিনা পারভিন। তাঁদের এক ছেলে বি এম আহবাব ইসলাম শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।
ব্যবসায়ী মো. হারুন বিশ^াসের জন্ম ১২ অক্টোবর, ১৯৬৯ সালে, শ্রীপুর, মাগুরায়। বাবা হামেদ বিশ^াস ও মা আবিরন নেসা। তিনি বিয়ে করেছেন ১৯৮৫ সালে। সহধর্মিণী মোসা. চায়না বেগম। তাঁদের এক মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে উর্মি খাতুনের বিয়ে হয়েছে এবং ছোট ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান দারুর রাশাদ প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে।
ব্যবসায়ী মো. আমান উল্লাহর জন্ম ১৮ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে, শ্রীপুর, মাগুরায়। বাবা মো. জিন্নাতুল্লাহ বিশ^াস ও মা রিজিয়া বেগম। তিনি বিয়ে করেছেন ২০০৮ সালে। স্ত্রী মিসেস রিমা। তাঁদের দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে আইরিন, বারইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে, মেজ মেয়ে আরিফা, বয়স ছয় বছর এবং ছোট ছেলে সামাউন, বয়স এক বছর।
স্বল্প সময়েই নির্মাণপণ্য বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম। কিন্তু এই সময়ের অর্জন আশাতীত সাফল্য, যা বেশ রহস্যদীপ্ত। নবীন ব্যবসায়ীর এমন সাফল্যের পেছনে রয়েছে এলাকায় ব্যবসায়ী ভাইদের ব্যাপক পরিচিতি। তা ছাড়া বিক্রীত পণ্যের ক্ষেত্রে উত্তম ব্র্যান্ড নির্ধারণ ব্যবসায় প্রসারে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ ব্যবসায়ী মনে করেন, ‘গুণগত মানের পণ্য বিক্রি না করলে যেমন সুনাম থাকবে না, তেমনি ক্রেতাও আস্থা রাখবে না খুব বেশি দিন।’ এ ছাড়া নিজেদের পরিশ্রম, সততা ও লেনদেনে স্বচ্ছতা ব্যবসা প্রসারে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা।
এক নজরে
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম: মেসার্স বিশ^াস ট্রেডার্স
অবস্থান: খামারপাড়া বাজার, শ্রীপুর, মাগুরা
ব্যবসা শুরু: ২০১৭
পণ্য: সিমেন্ট, রড, পশুখাদ্য ও গ্যাস সিলিন্ডার
সাফল্যসূত্র
নবীন এ ব্যবসায়ীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে এলাকায় ব্যবসায়ী ভাইদের ব্যাপক পরিচিতি। তা ছাড়া বিক্রীত পণ্যের ক্ষেত্রে উত্তম ব্র্যান্ড নির্ধারণ ব্যবসায়িক প্রসারে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ ব্যবসায়ী মনে করেন, ‘গুণগত মানের পণ্য বিক্রি না করলে যেমন সুনাম থাকবে না, তেমনি ক্রেতাও আস্থা রাখবে না খুব বেশি দিন।’ এ ছাড়া নিজেদের পরিশ্রম, সততা ও লেনদেনে স্বচ্ছতা ব্যবসা প্রসারে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ১২০তম সংখ্যা, এপ্রিল-আগস্ট ২০২০।