উন্নয়নের জোয়ারে তারুণ্যের জয়গান

প্রমত্ত মেঘনার সমৃৃদ্ধ ব-দ্বীপ আশুগঞ্জ। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, ধান-চালের মোকাম, নদীবন্দর, শিল্প ও বাণিজ্য নগরী হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত এক জনপদ। শহরের প্রাণকেন্দ্রেই বি.ও.সি ঘাট। ঘাটে নোঙর করা জাহাজ, ট্রলার আর ছোট-বড় নৌকার ভিড়। এগুলোকে ঘিরেই মানুষের যত কর্মোদ্দীপনা; একই সঙ্গে চলছে পণ্য বোঝাই ও খালাসের কাজ। কিছু নৌকাবোঝাই হচ্ছে রড, সিমেন্ট ও স্যানিটারি সামগ্রীতে। ভাটি অঞ্চল থেকে এসেছে নৌকাগুলো। ঘাটে আসা এসব নির্মাণসামগ্রী দিয়েই তৈরি হবে এলাকায় স্বপ্নের বাড়ি। ভাটির এসব মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবদান রাখছেন এ জনপদেরই উদীয়মান এক তরুণ নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী মো. সেলিম। ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের বি.ও.সি রোডের মেসার্স নাবিলা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক তিনি। স¦ল্প সময়ে তরুণ এ ব্যবসায়ী ব্যবসায় অর্জন করেছেন ঈর্ষণীয় সাফল্য। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক বিক্রয় কর্মকর্তা মো. শাহিনুজ্জামান সাগরের সহায়তায় এ ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেল তাঁরই ব্যবসায়িক সাফল্যের কাহিনি।

ব্যবসায়ী সেলিমের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বড়ইবাড়ি গ্রামে। বাবা মো. মন মিয়া আর মা মোছা. মালেকা খাতুন। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার বড়। ২০০২ সালে হাজি আবদুল জলিল উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, আশুগঞ্জ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের পর জড়িয়ে পড়েন ব্যবসায়। শুরুটা তেল, ডিজেল আর মবিলের ব্যবসা দিয়ে। ২০০৯ সালে যুক্ত হন নির্মাণপণ্য ব্যবসায়। সিমেন্ট, রড ও ইট-বালুই এখন তাঁর ব্যবসার প্রধান পণ্যসম্ভার। 

বয়সে তরুণ হলেও অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এলাকায় ব্যবসা করছেন সেলিম। তাঁর ব্যবসায়িক নীতি ও সততার কারণে সব ধরনের মানুষের সঙ্গেই গড়ে উঠেছে দারুণ সখ্য। শুধু আশপাশের গ্রামই নয়, বরং দূর-দূরান্তের মানুষের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত ভাটি এলাকার ক্রেতারা নির্মাণপণ্য কিনতে তাঁর প্রতিষ্ঠানেই আসেন। সব সময় তাঁদের কাছে স্বল্প মুনাফায় গুণগতমানের পণ্য বিক্রি করেন। এ ছাড়া পণ্য বিক্রিতে কখনোই ওজনে কম দেন না। ফলে ক্রেতাদের কাছে তিনি এতটাই বিশ্বস্ত যে ক্রেতারা অনেকে মুঠোফোনেই পণ্য পাঠিয়ে দিতে বলেন। তাঁর এমন ব্যবসায়ীসুলভ আচরণ ও সততার কারণে দ্রুতই প্রসার ঘটছে ব্যবসার। বিশেষ করে আকিজ সিমেন্ট বিক্রিতে তিনি অনন্য। ২০১৪-১৫ সালে পণ্যটি বিক্রিতে কিশোরগঞ্জ, আখাউড়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়া ১, ২ ও ভৈরবÑ এ পাঁচটি টেরিটরির মধ্যে তিনি হয়েছেন তৃতীয়। এ ছাড়া কোম্পানির দেওয়া প্রতিটি বড় অফার তাঁর জেতা চাই-ই চাই। বিজয়ী হয়ে পেয়েছেন টেলিভিশন, স্বর্ণালংকার, ডিজিটাল ক্যামেরা, মাইক্রোওভেন, মোবাইল, ডিনারসেট, ওয়াটার ফিল্টার, প্রাইজ বন্ড, নগদ টাকাসহ নানা উপহার। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও নেপাল ভ্রমণের অফার।

ব্যবসায়ী সেলিম তাঁর সততা, কৌশল, পরিশ্রম ও সুব্যবহারে ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করলেও আজকের অবস্থানে আসতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তাঁর বড় মামা হাজি সাদেক মিয়া। মূলত তাঁরই একান্ত আগ্রহ, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় এ ব্যবসায় আসা। একজন নবীন ব্যবসায়ী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে তাঁর অভিজ্ঞতা কম হলেও মামার সর্বিক সহযোগিতায় তিনি এগিয়ে চলেছেন। ব্যবসায় সময় দেওয়ার পাশাপাশি মামা তাঁকে শেখান ব্যবসায়িক উন্নয়নের নানা কর্মকৌশল। এ ছাড়া তাঁর মেজো মামা গোলাপ মিয়া ছায়ার মতো আগলে রাখেন তাঁকে; সহযোগিতা করেন ব্যবসায়। ছোট মামা আনোয়ার মিয়া তাঁকে সর্বদা উৎসাহিত করেন। তাঁদের সহযোগিতা না পেলে কখনোই তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হতে পারতেন না।

ব্যবসায়িক ব্যস্ততা সত্ত্বেও এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে অত্যন্ত আন্তরিক তরুণ এ ব্যবসায়ী। নিজ গ্রাম বড়ইবাড়ি ইসলামিয়া যুব উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় দোকান মালিক সমিতির একজন সদস্য। এলাকার তরুণদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, গোরস্থান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজ করেন নিয়মিত। তরুণ ব্যবসায়ী হলেও তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে সবাইকে তিনি সাধ্যমতো সহায়তা করেন। কেউ তাঁর কাছে ব্যবসার ব্যাপারে জানতে এলে তাঁকে সব সময়ই সুপরামর্শ দেন।

নির্মাণপণ্যের ব্যবসা ব্যবসায়ী এ তরুণের জীবনচলার পথকে করেছে ছন্দময়; সম্মানিত। নিজ এলাকার অনেকেই তাঁকে চেনে-জানে এই ব্যবসাসূত্রেই। ব্যবসাটির প্রচার ও প্রসারই তাঁর এখনকার লক্ষ্য। তাঁর সাফল্যে মুগ্ধ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পণ্যের পরিবেশক হওয়ার অফার দিয়েছে। কিন্তু তিনি এগোতে চান সময় নিয়ে শিখে-পড়ে। তা ছাড়া আশুগঞ্জেই খুব শিগগিরই স্থাপিত হচ্ছে ইপিজেড। এর পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে শিল্পসমৃদ্ধ এ জনপদটিতে, যা উন্নয়নেরই হাতছানি। তরুণ এ ব্যবসায়ী চান ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের এ জোয়ারে নিজেকে শামিল করতে।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬৪তম সংখ্যা, আগস্ট ২০১৫

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top