ময়নামতির পথে পথে

প্রাচীন সভ্যতার পীঠস্থান ময়নামতি। কুমিল্লা জেলার অদূরে ঐতিহাসিক এলাকাটি কোটবাড়ি নামেও পরিচিত। মধ্যযুগে বৌদ্ধ রাজত্বের রাজধানী ছিল জনপদটি। ৭ম থেকে ১২শ শতকের বেশ কিছু বৌদ্ধ স্থাপনা ছড়ানো পুরো এলাকাময়। অষ্টম শতাব্দীতে লালমাই-ময়নামতি অঞ্চল দেব বংশ এবং দশম থেকে একাদশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চন্দ্র বংশের শাসনাধীনে ছিল। একসময় প্রাচীন সমতট পরবর্তীকালে ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় জনপদটি। নবম শতাব্দীতে কুমিল্লা জেলা হরিকেল অঞ্চলের রাজাদের অধীনে আসে। কয়েকজন প্রত্নতাত্ত্বিকের মতে, ময়নামতি জয়কর্মান্ত বসাক নামে একটি প্রাচীন নগরের ধ্বংসাবশেষ। ময়নামতিতে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ। এখানকার বৌদ্ধবিহার বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্পট’ হিসেবে ইউনেসকো কর্তৃক স্বীকৃত।

ময়নামতি অনুচ্চ পাহাড়ি এলাকা। লালমাই ও হিলটিয়া নামেও রয়েছে এর পরিচিত। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১১ মাইল লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে আধ মাইল থেকে দেড় মাইল চওড়া। পাহাড় শ্রেণির উত্তর ভাগের নাম ময়নামতি আর দক্ষিণ ভাগের নাম লালমাই। কথিত আছে, এক রাজার দুই মেয়ে ছিল। একজন লালমতি, অন্যজন ময়নামতি। তাদের নামেই এমন নামকরণ। ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা মানিকচন্দ্রের স্ত্রী রানী ময়নামতির নামানুসারে এলাকার নাম রাখা হয় ময়নামতি। এলাকাটির বিভিন্ন স্থানে মাটি খনন করে পাওয়া গেছে বেশ কিছু বৌদ্ধবিহার। আর বিহারে মিলেছে প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার বহু নিদর্শন। বৌদ্ধ ছাড়াও জৈন ও হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তিও মিলেছে। কারণ, বৌদ্ধ ছাড়াও ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের রাজারাও অঞ্চলটি শাসন করেছেন। রাজ বংশের মধ্যে খরাগ (৬২৫-৭০৫ খ্রি.), রাত (৬৪০-৬৭০), দেব (৭২০-৮০০), চন্দ্র (৮৬৫-১০৫৫) এবং বর্মন (১০৫৫-১১৪৫ খ্রি.) অন্যতম। এ সময়ের শাসকদের মধ্যে রাজা পূর্ণচন্দ্র, সুবর্ণচন্দ্র,  ত্রৈলক্য চন্দ্র, মানিক চন্দ্র, কল্যাণ চন্দ্র, লহর চন্দ্র, গোবিন্দ চন্দ্র ও বৈন্য গুপ্ত উল্লেখযোগ্য।

ময়নামতিতে প্রথম খননকাজ শুরু হয় ১৯৫৫ সালে। সড়ক পুনর্নির্মাণের সময় শ্রমিকেরা ময়নামতিতে কিছু ইট পায়। ঐতিহ্যের অন্বেষণ শুরু তখন থেকেই। খননের ফলে একে একে পাওয়া যায় শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চন্দ্রমুড়া, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, সতেরো রত্ন মুড়া, রানীর বাংলার পাহাড়, ভোজ বিহার, চণ্ডীমুড়া, রানী ময়নামতির প্রাসাদ প্রভৃতি। এসব বিহার, মুড়া ও প্রাসাদ থেকে আকর্ষণীয় কতিপয় প্রত্নস্থানের বিবরণ রইল বন্ধন-এর পাঠকদের জন্য।

শালবন বিহার

ময়নামতির এই বৌদ্ধবিহারটি বাংলাদেশের প্রাচীন যুগের এক অপূর্ব সাক্ষী। পূর্বে এই প্রত্ন স্থানটি শালবন রাজার বাড়ি নামে পরিচিত ছিল। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্যমতে, অষ্টম শতাব্দীতে দেব বংশের রাজা ভবদেব এই বৌদ্ধ বিহার ও মন্দির নির্মাণ করেন। কোটবাড়ি থেকে ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে বিহারটির অবস্থান। ১৯৫৫-৬৮ সাল পর্যন্ত খননের মাধ্যমে এটি আবিষ্কৃৃত হয়। বিহারটির মধ্যভাগে একটি মন্দির ও উত্তর বাহুর মাঝামাঝি স্থানে প্রবেশ তোরণ এর বিশেষ আকর্ষণ। বিহারটিতে চারটি ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে ছয়টি নির্মাণ যুগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। খননে প্রাপ্ত একটি পোড়ামাটির মুদ্রক থেকে জানা যায়, এই বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা শ্রী ভবদেব খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে নির্মাণ করেছেন। এর আসল নাম ছিল ‘ভবদেব মহাবিহার’। পাতলা ইটের চুন-সুরকিতে তৈরি এটি। বিহারটি বর্গাকার। এর প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৫০০ ফুট। প্রতিটি ১২ ী ১২ ফুট মাপবিশিষ্ট কক্ষ ছিল ১১৫টি। কক্ষসমূহের বাইরে ১৬ ফুট এবং ভেতরের প্রাচীর ৫ ফুট পুরু। প্রতি কক্ষে তিনটি করে কুলঙ্গি ছিল। এগুলোতে প্রদীপ, পুস্তক, দোয়াত-কলম ও মূর্তি রাখা হতো। ভিক্ষুরা এখানে জ্ঞান সাধনা করতেন। কিন্তু কক্ষগুলোতে কোনো জানালা নেই। তাই এটাকে শালবন বিহার নামে অভিহিত করা হয়। এলাকাটির পার্শ্ববর্তী গ্রামের নাম শালবনপুর। এ থেকেও নামকরণ হতে পারে, তবে বিহার তৈরির সময় কী নাম ছিল তা অজানা। এর চারপাশে রয়েছে প্রদক্ষিণপথ। বিহারের কক্ষগুলোর সামনে রয়েছে আট ফুট বারান্দা। বারান্দাটি ছিল অনুচ্চ দেয়ালে ঘেরা।

শালবন বিহারে ও এর পাশে কয়েকটি মন্দির ছিল। এর মধ্যে বড় মন্দিরটি কেন্দ্রীয় মন্দির নামে পরিচিত। এটি ইংরেজি ‘ক্রস’-এর আকারে তৈরি। বিহারটির মতো এই মন্দিরেও ছযটি নির্মাণ-যুগের প্রমাণ পাওয়া যায়। সমতল ভূমি থেকে ২৫ ফুট নিচে অবস্থিত মাটি পাওয়া গেছে। মন্দিরটি ১৬৮ ফুট লম্বা ও ১১০ ফুট চওড়া। বিহারটির পাশে একটি হলঘর ছিল। চারদিকের দেয়াল ও চারটি স্তম্ভের ওপর এর ছাদ নির্মিত। হলঘরের পাশে ছোট দুটি কামরা ছিল। হলঘরটি খাবার ঘর আর কামরা দুটি রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অনুমান করা হয়। রান্নাঘরের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে কাঠ, কয়লা ও ছাই পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা, অসংখ্য পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এই বিহারে খননে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ প্রত্নসম্পদ প্রদর্শিত হচ্ছে ময়নামতি জাদুঘরে।

আনন্দ বিহার

আনন্দ বিহারটি অন্যতম বৌদ্ধ তীর্থস্থান ছিল। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে, এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। বৌদ্ধ রাজা আনন্দ রায়ের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় আনন্দ বিহার। শালবন বিহার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে এটি অবস্থিত। বর্গাকৃতি এই বিহারের প্রতি বাহুর দৈর্ঘ্য ৬০০ থেকে ৬৬০ ফুট।

ময়নামতি

বিহারটির উত্তর বাহুর মাঝে রয়েছে প্রধান প্রবেশপথ। বিহারটির দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের ফলক অঙ্কিত হয়েছে, যা থেকে বৌদ্ধদের অনেক নিদর্শন পাওয়া যায়। অপরূপ কারুকাজ খচিত এই বিহারটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।

ভোজ বিহার

স্থানীয়ভাবে এ প্রত্নস্থলটি ভোজ রাজার বাড়ি নামে পরিচিত। এখানে খননের ফলে ১৭৩.৪৩ ী ১৭৩.৪৩ মিটার আয়তনের বর্গাকার একটি বৌদ্ধ বিহারের ভূমি নকশা উন্মোচিত হয়েছে। বিহারটিতে একটি নির্মাণ ও তিনটি পুনর্নির্মাণ যুগের চিহ্ন রয়েছে। এর উত্তর বাহুর মাঝামাঝি স্থানে প্রবেশপথ। এখানে খননেপ্রাপ্ত প্রত্নবস্তুর মধ্যে একটি বিশাল আকৃতির ব্রোঞ্জের মূর্তি ও স্থানীয় নরম পললে তৈরি দুটি মূর্তি উল্লেখযোগ্য। খননে উন্মোচিত স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য, শিল্পকর্ম ও প্রাপ্ত প্রত্নবস্তুর বিবেচনায় এর নির্মাণকাল সাত থেকে বারো শতক নিরূপণ করা হয়েছে।

কোটিলা মুড়া (ত্রিরত্ন স্তূপ)

শালবন বিহার থেকে পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে পাহাড়ের শিরোদেশে আনুমানিক সপ্তম শতাব্দীতে এটি নির্মিত। এতে তিনটি নির্মাণ-যুগের অস্তিত্ব বিদ্যমান। পূর্বদিকে প্রশস্ত সিঁড়িপথ। আয়তকার ভূমির ওপর চারদিকে ঘূর্ণায়মান পথ দ্বারা যুক্ত পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বি তিনটি হলঘর। হলঘরের পেছনেই একটি মণ্ডপ। পশ্চিমে একই ভিত্তি মূলের ওপর বিভিন্ন পরিমাণের তিনটি স্তূপ। স্তূপগুলো বৌদ্ধধর্মের ত্রিরত্ন (বুদ্ধ, ধর্ম, সংঘ) প্রতীক। চারকোনা মাচানের ওপর গোলাকার ড্রাম এবং সর্বোপরি অর্ধবৃত্তাকার গম্বুজ বসিয়ে স্তূপগুলো নির্মিত। সর্ব পশ্চিমে রয়েছে অপেক্ষাকৃত পরবর্তী যুগে নির্মিত নয়টি ছোট আকারের আনুষঙ্গিক স্তূপ। প্রতিটি স্তূপের ভেতর থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে নরম ধূসর পাথর ও অদগ্ধ কর্দম নির্মিত মুদ্রাকার, সিলমোহর, নিবেদন স্তূপ এবং বিবিধ বৌদ্ধমূর্তি, যেগুলো আনুমানিক ৭ম-৮ম শতকের। 

ইটাখোলা মুড়া

রূপবান মুড়ার অপর পাশেই ইটাখোলা মুড়ার অবস্থান। পাহাড়ের গায়ে তিন স্তরে নির্মিত এই প্রত্ন স্থানটি। আগে এটি ইট পোড়ানোর খনি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাই এই মুড়াকে ইটাখোলা বলা হয়। এখানে পাশাপাশি দুটি প্রাচীন প্রত্নস্থাপনার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এগুলো একটি মন্দির ও অপরটি বিহার। তিনটি বসতি আমলের অস্তিত্বও মিলেছে এখানে। এই মুড়ায় বেশ কয়েকবার খনন করে বড় বড় কিছু বৌদ্ধস্তূপ পাওয়া গেছে। এসব স্তূপ থেকে ৪২ মিটার উত্তরে সংলগ্ন একটি বৌদ্ধ মঠের সন্ধানও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এই প্রত্ন স্থানটিকে পাঁচটি সাংস্কৃতিক যুগ অতিক্রম করতে হয়েছে। পূর্ববর্তী তিন সাংস্কৃতিক কাল পর্যায়ের নিদর্শনগুলো পরবর্তীকালের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। এ জন্য সব নিদর্শন উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রত্ন স্থানটির মূল আকর্ষণ বিস্তীর্ণ স্তূপ কমপ্লেক্স। ১৩ দশমিক ১ বর্গমিটার ভিতের ওপর অবস্থিত এই স্তূপটি নিরেটভাবে নির্মিত। স্তূপের পূর্ব বা সম্মুখভাগের মধ্যস্থলে একটি ক্ষুদ্র পীঠস্থান রয়েছে, যার আকৃতি ২ দশমিক ৪ মিটার এবং ২ দশমিক ১ মিটার।

রূপবান মুড়া

লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণির মধ্যবর্তী এবং কুমিল্লা কালিরবাজার সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এই মুড়াটি। রূপবান মুড়া ক্রুশাকার ভূমি পরিকল্পনায় নির্মিত। পেছনের অংশটি মূর্তিকোঠা এবং সামনেরটি মণ্ডপ। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন করে ৩৪.১৪ মি. ঢ ২৫ মি. আয়তনের একটি বৌদ্ধবিহার ও ২৮.৯৬ মি. ঢ ২৮.৯৬ মি. ক্রুশাকার মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচন করা হয়েছে। মূর্তির চারদিকে ঘোরানো পথ রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব পাশের প্রকৌষ্ঠ থেকে বেলেপাথরের অভয় মুদ্রায় দণ্ডায়মান বৃহদাকার একটি বৌদ্ধমূর্তি পাওয়া গেছে। খননে প্রাপ্ত স্থাপত্য নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদ ৭ম থেকে ১২শ শতাব্দীর বলে অনুমান করা হয়।

মহাতীর্থ চণ্ডীমুড়া সেবাশ্রম

বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো মন্দির এই চণ্ডীমুড়া সেবাশ্রম। লালমাই পাহাড়ের ওপর এটি অবস্থিত। সমুদ্রবেষ্টিত পলল গঠিত চত্বর সমভূমি রূপে উদ্ভাসিত মহাতীর্থ চণ্ডীমুড়া। সপ্তম শতাব্দীতে বৌদ্ধরাজ দেব খড়গের স্ত্রী প্রভাবতী দেবীর অমর কীর্তি স্থাপনের অভিলাষ থেকেই এ দুইটি মন্দির স্থাপন করেন। একটি শ্রী শ্রী চণ্ডী মন্দির ও অপরটি শিব মন্দির। শ্রী শ্রী চণ্ডী মন্দিরে অষ্টভুজা সর্বাণি মহা সরস্বতী। অপরটিতে শ্রী শ্রী শিব মন্দির স্থাপন করেন। মন্দিরের অদূরে দক্ষিণ-পূর্বে এক বিশাল দিঘিও খনন করেন। পরবর্তী সময়ে এটি সংস্কার করেন শ্রীমৎ স্বামী আত্মানন্দ গিরি মহারাজ। মন্দিরটিতে প্রতিবছর চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩০-৪০ হাজার লোক সমাগম ঘটে। এ ছাড়া প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তরা এখানে আসে মনের বাসনা পূরণ করতে। তারা আগরবাতি জ্বালায় এবং যার যার সমর্থানুযায়ী দান করে।

ময়নামতি জাদুঘর

বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নসম্ভারে পরিপূর্ণ এই জাদুঘরটি। শালবন বিহারের পাশেই এর অবস্থান। প্রতিষ্ঠাকাল ১২ মার্চ ১৯৬৬। জাদুঘরের প্রবেশপথের বাঁ পাশেই রয়েছে বুদ্ধের বিশাল একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি। তারপর আনুমানিক ৭ম শতকে তৈরি বেলেপাথরে দণ্ডায়মান বৌদ্ধের মূর্তি (ব্যাস ২.১৫ ী ৬৬)। গাছের জীবাশ্ম ও শিলাস্তম্ভও রয়েছে। এখানে ৪০টি শোকেসে প্রায় এক হাজার প্রত্নবস্তু রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্রোঞ্জের বিশাল ঘণ্টা (৩৭০ কেজি), তালপাতার বর্মী পাণ্ডুলিপি ও বাংলা হস্তলিপি, বিষ্ণুমূর্তি, লোকোত্তর বুদ্ধ, বেলেপাথরে তৈরি, ষড়ক্ষয়ী লোকেশ^র (কাঠ), স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার অনুকৃতি, মাটির নিবেদন স্তূপ, পোড়ামাটির দ্রব্যাদি, সিলমোহর, মৃন্ময় খেলনা ও মুখোশ, চাকতি, শিবলিঙ্গ, কালোপাথরে নন্দী (শিবের বাহন), বজ্রসত্ত্ব, পোড়ামাটির চিত্র ফলক, বোধিসত্ত্ব আলোকিতেশ্বর, ব্রোঞ্জের হাঁড়ি-পাতিল, লোহার দা, ছুরি, মারিচি মূর্তি, মহিষমর্দিনী , দুর্গা, মনসা দেবী, গণেশ, মানুষের হাড়, নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার, জৈব কাঠ, বেলেপাথরের শিল-নোড়া, তুলট কাগজ, পুঁথির অলংকারকৃত পর্দা, কালোপাথরের সূর্য দেবতা, অলংকৃত ইট ইত্যাদি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ময়নামতি কোন জেলায় অবস্থিত?

ময়নামতি কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।

ময়নামতির পূর্ব নাম কি?

ময়নামতির পূর্ব নাম ছিলো রোহিতগিরি।

ময়নামতি কি জন্য বিখ্যাত?

ময়নামতি একটি বহু পুরনো ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে বিখ্যাত। এছাড়াও বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার এই পর্যটন কেন্দ্রের বিশেষ আকর্ষণ। এখানে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৫৫তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৪

মারুফ আহমেদ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top