ধৈর্যই যাঁর সাফল্যের সূত্র

নদ-নদী, বিল আর বনভূমিসমৃদ্ধ সুপ্রাচীন এক জনপদ গাজীপুর। প্রায় তিন হাজার বছর আগেও এখানে ছিল উন্নত সভ্যতা, যা এ অঞ্চলে প্রাপ্ত প্রত্নতত্ত্ব গবেষণা থেকেই প্রমাণ মেলে। ১৭৩৩ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান ও ব্যাকরণ ‘বাংলা পর্তুগীজ শব্দকোষ’ রচিত হয় এ ভাওয়াল নগরেই। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়ও এখানকার কিছু গ্রামে তৈরি করা হতো। এসব গৌরবকথন এখন ইতিহাসে ঠাঁয় পেলেও থেমে নেই জনপদটির অগ্রযাত্রা। প্রতিনিয়ত এখানে গড়ে উঠছে শিল্পকারখানা, পার্ক, শুটিং স্পটসহ নানা অবকাঠামো, যে অগ্রযাত্রার সঙ্গী সফল কয়েকজন নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী। গাজীপুরের পূবাইল রেলস্টেশন সংলগ্ন ‘মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ’-এর কর্ণধার মো. দেলোয়ার হোসেন মোল্লা এমনই একজন সফল নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী। আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আঞ্চলিক বিক্রয় কর্মকর্তা মো. সারাফাত হোসেন-এর সহযোগিতায় বন্ধন-এর ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবারের সফলজন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মোল্লা।

দেলোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৫ মে, খিলগাঁও, পূবাইলে। বাবা মরহুম আবু সাইদ মোল্লা এবং মা মরহুমা রাবেয়া বেগম। তিনি পূবাইল উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে মাধ্যমিক এবং টঙ্গী সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপরই প্রবেশ কর্মজীবনে। ১৯৯৭ সালে শুরু করেন নির্মাণপণ্য ব্যবসা। প্রথম পর্যায়ে রড ও সিমেন্ট বিক্রি করলেও পরবর্তী সময়ে ফ্লাটবার, জেটবার, অ্যাঙ্গেল ও হার্ডওয়্যারসামগ্রী যোগ হয় তাঁর ব্যবসায়। 

ব্যবসায় কোনো ধরনের পূর্বঅভিজ্ঞতা ছিল না দেলোয়ার হোসেনের। তা সত্ত্বেও নির্মাণপণ্যের মতো একটি ভিন্ন আঙ্গিকের ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সে সময় অত্র অঞ্চলে নির্মাণপণ্যের তেমন কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ছিল না। এটাকে তিনি ব্যবসায়িক সম্ভাবনার বড় সুযোগ হিসেবে নেন। তাঁর সিদ্ধান্তটি যে সঠিক ছিল তা তাঁর বর্তমান সাফল্যে সহজেই অনুমেয়। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এ মানুষটি ব্যবসার শুরু থেকেই মানসম্মত ও স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করছেন। ফলে পণ্য বিক্রিতেও সুবিধা হয় তাঁর। এ ছাড়া সঠিক ওজন ও ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করায় ক্রেতাদের সঙ্গে গড়ে ওঠে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক। সব সময় সৎ ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর এমন চারিত্রিক গুণ এবং লেনদেন সঠিক হওয়ায় প্রতিটি কোম্পানির সঙ্গেই রয়েছে দারুণ ব্যবসায়িক সম্পর্ক। ফলে কোম্পানির পক্ষ থেকেও পান সব ধরনের সহযোগিতা। এভাবেই তিনি তাঁর ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। শুরুতে ভাড়া দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন স্থানীয় বাজারে নিজের জায়গায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।  

ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের ব্যবসায়িক সাফল্য ঈর্ষণীয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিক্রি করছেন আকিজ সিমেন্ট। পণ্যটি বিক্রির শুরু থেকেই তিনি পান উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০১৫-২০১৬ সালে তিনি ঢাকা বিভাগে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লি. টঙ্গী টেরিটরির প্রাইম সেলার। সঙ্গে একটি স্টিল কোম্পানিরও ডিলার। অন্যান্য কোম্পানির পণ্য বিক্রিতেও অনন্য তিনি। তাঁর এমন সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি লি. ও অন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন টেলিভিশন, মোবাইল ফোনসেট, মাইক্রো ওভেন, ডিনার সেট, নগদ টাকাসহ অসংখ্য উপহার। এ ছাড়া ঘুরে এসেছেন নেপাল। চীন, মালয়েশিয়া ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় যেতে পারেননি। তবে কিছুদিনের মধ্যেই যাবেন থাইল্যান্ড। দেশে ঘুরেছেন কক্সবাজার, সিলেট, সুন্দরবনসহ দর্শনীয় সব স্থান।

ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বিয়ে করেন ২০০১ সালে। সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা। সুখী এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে রিফাত হাসান রাণী বিলাস মনি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে রওনক জাহান দিনা রোজ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কেজিতে পড়ছে। নির্মাণপণ্যের এ ব্যবসাটিই তাঁর প্রধান ব্যবসা হলেও পাশাপাশি আবাসন ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা রয়েছে এ ব্যবসায়ীর। তিনি খিলগাঁও পূর্বপাড়া জামে মসজিদের যুগ্ম সম্পাদক, পূবাইল স্টেশন জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ এবং পূবাইল রেলস্টেশন বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৯তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬।

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top