চারিত্রিক গুণাবলিই ব্যবসার পুঁজি

‘পরিশ্রম, সততা, প্রতিশ্রুতি রক্ষার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয় একজন সফল ব্যবসায়ী; সফল মানুষ। এগুলোই আসলে ব্যবসার মহামূল্যবান মূলধন! কেউ যদি মানব চরিত্রের এই তিনটি গুণাবলিকে এক করে ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ করতে পারে, তবে সে সফল হবেই।’ এভাবেই ব্যবসায় সফল হওয়ার রহস্য জানাচ্ছিলেন অভিজ্ঞ ও সফল নির্মাণপণ্য ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন। প্রধান সড়ক, মাইজদী, নোয়াখালী ‘মেসার্স খোন্দকার ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী যিনি। বন্ধন-এর নিয়মিত আয়োজন ‘সফল যাঁরা কেমন তাঁরা’ পর্বে এবার জানাব এ ব্যবসায়ীর সাফল্য-কথন। সহসঙ্গী আকিজ সিমেন্ট কোম্পানির আঞ্চলিক বিপণন ব্যবস্থাপক পিন্টু চন্দ্র গোস্বামী। 

ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিনের জন্ম ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালীর মাইজদীতে। বাবা মরহুম আব্দুল মোতালেব ও মা খাইরুন নেসা। বাবা ছিলেন কৃষক। নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ১৯৮৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাগ্যানে¦ষণে পাড়ি জমান বাহরাইনে। সেখানে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব ব্যবসায়িক ভূবন। স্ক্র্যাপ তথা লোহা, পিতল, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি ধাতব পণ্যের ব্যবসা ছিল তাঁর। ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুবিধার্থে ব্যক্তিগত কয়েকটি গাড়িও কিনেছিলেন তিনি। বেশ চলছিল নিজ হাতে সাজানো ব্যবসাটি। কিন্তু হঠাৎ স্ক্র্যাপ পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। ফলে ওই ব্যবসাটি বন্ধ করে প্রায় ১৩ বছর পর ফিরে আসেন নিজ দেশে। ২০০৯ সালে নিজ শহর মাইজদীতে শুরু করেন নির্মাণপণ্য ব্যবসা। আজ অবধি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন তাঁর নিজস্ব এ ব্যবসাটি।   

ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন নির্মাণপণ্য ব্যবসার শুরু থেকেই বিক্রি করছেন আকিজ সিমেন্ট। গুণগতমানের এ পণ্যটি তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্যে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। তিনি আকিজ সিমেন্টের নোয়াখালী টেরিটরির অন্যতম সেরা বিক্রেতা। প্রতিবছর তিনি পেয়েছেন সর্বোচ্চ বিক্রেতার সম্মান। স্টিল ও অন্যান্য পণ্য বিক্রিতেও তিনি অনন্য। এমন অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্যে তিনি কোম্পানির পক্ষ থেকে পেয়েছেন মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, ফার্নিচার, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ উপহারসামগ্রী। এ ছাড়া প্রতিবছর কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করায় পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, ভারতসহ নানা দেশের দর্শনীয় সব স্থান ভ্রমণের অফার।  

ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন-এর বিক্রয়-সাফল্য বেশ নজরকাড়া। কিন্তু অনেকটা নিভৃতচিত্তে ব্যবসা পরিচালনা করা এ ব্যবসায়ীকে দেখে তা কিছুতেই বোঝার উপায় নেই। কেননা অত্যন্ত সাদাসিধা জীবনযাপন করেন তিনি। তবে সহজে আসেনি এ সাফল্য। এ জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাঁকে। টিকতে হয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায়। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ, কথার সঙ্গে কাজের দারুণ মিল। কাউকে ওয়াদা করলে তা যেকোনোভাবেই রক্ষা করেন। আর এটাই তাঁর ব্যবসার বড় পুঁজি। ব্যবসায় তিনি প্রচুর সময় দেন সেই শুরু থেকেই। ফলে প্রতিটি ক্রেতাই তাঁকে পায় নিবিড়ভাবে। তারা পণ্যের ভালো-মন্দ সম্পর্কে জানতে পারে সহজেই। তিনি নিজেও সব সময় গুণগতমানের পণ্য বিক্রি করেন। তাঁর মতে, ‘ব্যবসায়ীরা চাইলে যেকোনো পণ্যই বিক্রি করতে পারে। তবে ক্রেতারা যেহেতু ব্যবসায়ীর ওপর ভরসা রাখে, সেহেতু এই আস্থার জায়গা নষ্ট করা ঠিক না। সঠিক পণ্যটি দেওয়াই সুবিবেচকের কাজ।’ 

ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন বিয়ে করেছেন ১৯৯৯ সালে। তাঁর স্ত্রী আয়েশা জাহান লিপি। এ দম্পতির এক মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে ফাইজা খন্দকার ইলমা নোয়াখালী কলেজে মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। ছেলে ইলহাম, বোর্ড স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। পৌর বাজারে নির্মাণপণ্যের আরও একটি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁর। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জড়িত ৪ জন ম্যানেজার ও ১৪-১৫ জন শ্রমিক-কর্মচারী। সাবলীলভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ও দ্রুততম সময়ে ক্রেতার দুয়ারে পণ্য পৌঁছে দিতে সহায়ক হিসেবে রয়েছে নিজস্ব ১টি পিকআপ ও ৭টি ট্রলি। 

একনজরে

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম: মেসার্স খোন্দকার ট্রেডার্স

অবস্থান: প্রধান সড়ক, মাইজদী, নোয়াখালী

ব্যবসা শুরু: ১৯৮৮ সালে

নির্মাণপণ্য: সিমেন্ট, স্টিল 

সাফল্যসূত্র

কথার সঙ্গে কাজের দারুণ মিল। কাউকে ওয়াদা করলে তা যেকোনোভাবেই রক্ষা করেন। আর এটাই তাঁর ব্যবসার বড় পুঁজি। ব্যবসায় তিনি প্রচুর সময় দেওয়ায় প্রত্যেক ক্রেতাই তাঁকে পায় নিবিড়ভাবে। ক্রেতারা পণ্যের ভালো-মন্দ সম্পর্কে জানতে পারে সহজেই। তিনি নিজেও সব সময় গুণগতমানের পণ্য বিক্রি করেন। ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনের মতে, ‘ব্যবসায়ীরা চাইলে যেকোনো পণ্যই বিক্রি করতে পারে। তবে ক্রেতারা যেহেতু ব্যবসায়ীর ওপর ভরসা রাখে, সেহেতু এই আস্থার জায়গাটা নষ্ট করা ঠিক না। সঠিক পণ্যটি দেওয়াই সুবিবেচকের কাজ।’ 
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১২৫তম সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২১

মাহফুজ ফারুক
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top