প্রকৃতির নিজস্ব খেয়ালে সৃষ্ট প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানসমূহ সব সময়ই দর্শনীয়। আর প্রকৃতিরই সৃষ্ট মানুষের অবকাশ যাপন আর মনোরঞ্জনকল্পে এই স্থানসমূহের অধিকতর শোভাবর্ধন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সৃষ্টি পর্যটনশিল্পের। হতে পারে তা সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে। যেভাবেই হোক না কেন এর জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন। বিশ্বের ছোট-বড় অনেক দেশই তাদের প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ সংগ্রহ করে পর্যটন খাত থেকে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বিবেচনায় আমাদের পর্যটন খাত রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ জোগান দিতে না পারলেও বিশেষ একটি অংশ দখল করতে পারে অনায়াসে। দেশ-বিদেশের পর্যটক আর ভ্রমণপিপাসু মানুষকে আকৃষ্ট করার মতো প্রচুর স্থান ও স্থাপনা রয়েছে আমাদের এখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এসব স্থান ও স্থাপনার সুষ্ঠু সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সম্ভব দেশীয় পর্যটনশিল্পকে সমৃদ্ধ করা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পৃথিবীর সৃষ্টি থেকেই একশ্রেণির মানুষ আছে, যাদের পেশা যা-ই হোক না কেন ভ্রমণ কিন্তু তাদের নেশা। এসব প্রকৃতিপ্রেমিক ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের হাতে অর্থ এলেই তারা বেরিয়ে পড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে। কেউ একাকী, কেউ সপরিবারে, আবার কেউবা সবান্ধবে। দেশ-বিদেশের পর্যটন ক্ষেত্রগুলোতে রয়েছে সুগম যাতায়াতব্যবস্থা, নিশ্চিত নাগরিক নিরাপত্তা আর থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থাসহ বিদ্যমান আনুষঙ্গিক সুবিধাদি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পর্যটনশিল্পের মাপকাঠিতে বাংলাদেশ মোটেই ফেলনা নয়। বরং একজন প্রকৃতিপ্রেমিক পর্যটকের জন্য আকর্ষণীয় ক্ষেত্র ‘সোনার বাংলা’ নামক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি তথা বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আবহাওয়া মিলিয়ে অন্যতম পর্যটন স্থান হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান কোনো অংশেই কম নয়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, পৃথিবীর অন্যতম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন, এশিয়ার সুন্দরতম স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নানা ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলীয় টিলা-পাহাড়সহ অনেক দৃষ্টিনন্দন ও চিত্তাকর্ষক জায়গা গৌরবমণ্ডিত করে রেখেছে আমাদের এ দেশটিকে। এসব স্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে বাস্তব দৃশ্যাবলিসহ সার্বিক পরিচিতি স্থানীয় পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ও ফেসবুকের মাধ্যমে যথার্থভাবে তুলে ধরতে পারলে দেশি-বিদেশি সব ধরনের পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে বাংলাদেশ। কিন্তু আমাদের দর্শনীয় স্থানগুলো যথাযথভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং এ শিল্পের প্রচার ও প্রসার ঘটানোর বিষয়টি তেমন জোরদার নয়।
আর তাই বিশ্লেষকদের ভাষায় বলতে হয়, ‘We are not poor, but poorly managed’। এই উক্তিটির বাস্তবতা আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজমান। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় খাতগুলোর ক্ষেত্রে এই জায়গাটিতেই আটকে আছি আমরা। একটি দেশের কোন কোন খাত সমৃদ্ধ হলে দেশটির সার্বিক সমৃদ্ধি আসবে, সেই জায়গাগুলোতে আমাদের নজরদারির অভাব, অভাব দূরদর্শিতা ও জবাবদিহির। শ্বেতহস্তী পোষার মতো অনেক বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে আমাদের দেশে, যাদের ভর্তুকি গুনতে সাধারণ জনগণের ওপর প্রতিনিয়ত চাপানো হচ্ছে করের বোঝাসহ নানা অর্থনৈতিক চাপ। আর এই ভর্তুকির জোগান দিতে দিশেহারা হচ্ছে আপামর জনসাধারণ।
পর্যটনশিল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রয়েছে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন’। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি সব ধরনের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার নিমিত্তে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ পথপরিক্রমায় যথেষ্ট সমৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। বিদেশিদের কথা নাইবা বললাম, বাংলাদেশের অনেক প্রকৃতিপ্রেমিক তথা ভ্রমণপিপাসু ব্যক্তিরাও জানে না আমাদের দেশের অনিন্দ্যসুন্দর দর্শনীয় স্থানগুলোর নাম-পরিচয়। জানে না এসব স্থানে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কিত কোনো তথ্য। আমাদের প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে নতুন-পুরোনো কিছু দর্শনীয় স্থান, যার প্রচার ও প্রসার প্রয়োজন।
বিশ্বের প্রতিটি দেশ তাদের দর্শনীয় স্থানগুলোকে সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় অধিকতর আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলে যাতায়াতের সুব্যবস্থাসহ নিশ্চিত করেছে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। ক্ষেত্রবিশেষে নিশ্চিন্ত রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করে স্থাপন করেছে আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত উপকরণাদি। ফলে তাদের রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশের জোগান আসে পর্যটনশিল্প থেকে। পর্যটনশিল্পের উন্নতি দিয়েই দেশের উন্নতি করছে কোনো কোনো দেশ। তাদের পর্যটন খাতের সুশৃঙ্খলতা দেখলেই বোঝা যায় দেশ পরিচালনায় কতটা সুশৃঙ্খল তারা।
প্রসঙ্গত, আমাদের পার্শ্ববর্তী দুটো দেশ- মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার পর্যটনশিল্পের সমৃদ্ধি বিস্ময়কর। মালদ্বীপের মতো অতি ক্ষুদ্র একটি দেশ, যা আয়তন ও জনসংখ্যায় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ছোট্ট একটি জেলা ‘ভোলা দ্বীপ’-এর এক-চতুর্থাংশ। পৃথিবীর মানচিত্রে যে দেশটির অবস্থান বিন্দুসম, সেই দেশের রাজস্ব আয়ের শতকরা ৬০ ভাগ জোগান আসে তাদের পর্যটন খাত থেকে। দেশটির প্রাকৃতিক পরিবেশগুলোকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজানো, সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং চাকচিক্য দেখে যারপরনাই চমকিত দেশটিতে পর্যটনে আগত পর্যটকেরা।
অথচ পর্যটনশিল্পের জন্য বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও শুধু অব্যবস্থাপনার কারণে বিরাট অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। আমাদের পর্যটন ক্ষেত্রগুলোকে অধিকতর আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলে শিল্পটির সমৃদ্ধি আনয়নে অত্যাবশ্যকীয় কিছু সুপারিশ-
১. পর্যটন ক্ষেত্রগুলোর পরিবেশগত উন্নতি সাধন করা
২. যাতায়াতব্যবস্থা সুগম ও সুন্দর করা
৩. থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা
৪. সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
৫. অবস্থানভেদে আমোদ-প্রমোদের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি স্থাপন করা
৬. দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা আলাদা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা এবং
৭. বিভিন্ন মাধ্যমে স্থান ও স্থাপনাসমূহের সার্বিক পরিচিতি তুলে ধরা।
ওপরে উল্লিখিত ১ থেকে ৬ পর্যন্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করে স্থানীয় পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন, ইন্টারনেট ও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে দেশি-বিদেশি সব ধরনের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
এ লক্ষ্যে দেশের বহুল পরিচিত কক্সবাজারের বাইরে আকর্ষণীয় কিন্তু পরিচিত নয় এমন কতকগুলো পর্যটনপ্রিয় কেন্দ্রের নাম, যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়ার বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| পর্যটনকেন্দ্র | অবস্থান | যেভাবে যাবেন | যেখানে থাকবেন |
| কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত | পটুয়াখালীর আমতলী শহরের উপকূলবর্তী সমুদ্রসৈকত, এখান থেকে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় দুটোই দেখা যায়। | ঢাকা থেকে বাস কিংবা স্টিমারযোগে পটুয়াখালী শহর। সেখান থেকে বাস কিংবা প্রাইভেটকারে সরাসরি কুয়াকাটা। | সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান। |
| সেন্ট মার্টিন (প্রবালদ্বীপ) ও ছেঁড়াদ্বীপ | কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অপরূপ শোভামণ্ডিত স্থান প্রবালদ্বীপ। | ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস কিংবা বিমান। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ বাস বা প্রাইভেটকার। টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন স্টিমার। | সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান। |
| গ্র্যান্ড সুলতান অ্যান্ড টি-রিসোর্ট | হবিগঞ্জের শ্রীমঙ্গল শহরের উপকূলে চা-বাগানবেষ্টিত অনিন্দ্যসুন্দর পর্যটনকেন্দ্র। | ঢাকা থেকে ট্রেন, বাস, প্রাইভেটকারযোগে তিন-চার ঘণ্টার রাস্তা। | ফাইভ স্টার হোটেল, অর্থস্বল্পতা থাকলে শ্রীমঙ্গল শহরেই সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। |
| জাফলং, মাধবকুণ্ড, জৈয়ন্তাপুর | বৃহত্তর সিলেটের অপরূপ শোভামণ্ডিত প্রাকৃতিক লীলাভূমি। | ঢাকা থেকে সিলেট- ট্রেন, বাস কিংবা প্রাইভেটকার। সিলেট থেকে বাস বা প্রাইভেটকার। | সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান। |
| নীলগিরি | বান্দরবানের থানচি উপজেলার আর্মি রিসোর্ট। মিন সি লেভেল থেকে ৪ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। | ঢাকা থেকে বান্দরবান পর্যন্ত বাস। বান্দরবান থেকে জিপ। | আর্মি রিসোর্টে ব্যবস্থা করতে না পারলে বান্দরবান শহরে সব ব্যবস্থা বিদ্যমান। |
| সুন্দরবন | খুলনার মংলা উপকূল বরাবর সুন্দরবন পাড়ি দিয়ে সাগর উপকূলে কটকা বিচ। সেখান থেকে হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর। | ঢাকা থেকে বাস কিংবা স্টিমারযোগে খুলনা। সেখান থেকে দুই রাত তিন দিনের প্যাকেজে লঞ্চযোগে কটকা বিচ। তারপর স্পিড বোটে করে হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর ঘোরা। | লঞ্চেই থাকা-খাওয়া ও আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা। |
ওপরে উল্লিখিত স্থানগুলো ছাড়াও আরও যেসব দশর্নীয় স্থান রয়েছে- কক্সবাজারের হিমছড়ি, ইনানী, মহেশখালী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ও রামুর রাবার বাগান। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। এই তিনটি জেলার প্রতিটি উপজেলারই দৃষ্টিনান্দনিকতা এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ভাষায় বর্ণনাতীত। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিচ, সি-পোর্ট, ড্রাই ডক, ফ’য়জ লেক, বাটালি হিল, হজরত বায়েজিদ বোস্তামি ও হজরত শাহ আমানতের মাজার, কাপ্তাই লেক ও চন্দঘোনা। সিলেটের হজরত শাহ জালাল ও হজরত শাহ পরাণের মাজার। নোয়াখালীর হাতিয়া ও নিঝুমদ্বীপ। কুমিল্লার বৌদ্ধবিহার, কোর্টবাড়ি ও বার্ড। ঢাকার আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা, ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁ, জাতীয় জাদুঘর, চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, শিশুপার্ক, রমনা পার্ক, সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, হাতিরঝিল, বধ্যভূমি প্রভৃতি। ময়মনসিংহস্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ভাওয়ালের গড়, মধুপুর ও মুক্তাগাছা। গাজীপুরের জাতীয় সাফারি পার্ক, শালনা জাতীয় উদ্যান। নেত্রকোনার বিরিশিরি। বগুড়ার নবাববাড়ি, মহাস্থানগড় ও বেহুলা-লক্ষ¥ীন্দরের বাসর ঘর। রংপুরের ভিন্ন জগৎ, কারমাইকেল কলেজ, পায়রাবন্দ। দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কান্তজির মন্দির। নাটোরের রাজবাড়ি। রাজশাহীর পাহাড়পুর ও হজরত শাহ মখদুমের মাজার। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ। বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও হজরত খান জাহান আলীর মাজার। কুষ্টিয়ার লালনের আখড়া, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি। স্বাধীন বংালাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানী মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে বিশাল এলাকাজুড়ে কংক্রিট দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের ম্যাপ, দ্বিতীয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, আমঝুপিতে নীলকর জমিদারের কুঠিবাড়ি। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া। বরিশালের লালদিঘি ও ধর্মসাগর, ভোলার মতো পর্যটকপ্রিয় জায়গা প্রভৃতি।
এ ছাড়া আরও অনেক স্থান ও স্থাপনা আছে, যা পর্যটনশিল্পের তালিকাভুক্তি করে জনসম্মুখে তুলে আনা জরুরি। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন’-এর সার্বিক উন্নয়নকল্পে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া প্রয়োজন, যাতে এই খাতটি অন্যান্য দেশের মতো আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে সহায়ক হয়। আর সেই অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাসমূহের এগিয়ে আসাটা এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬১তম সংখ্যা, মে ২০১৫