গত এক দশকে, পারফর্মিং আর্টস ভেন্যুর সংজ্ঞা বদলে গেছে। এগুলো আর কোনো একক-উদ্দেশ্যে এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। আজকের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো থেকে নমনীয়, রাজস্ব-উৎপাদনকারী এবং সম্প্রদায়-কেন্দ্রিক বাস্তুতন্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভেন্যুগুলো নির্মাণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বিবর্তন স্থপতি, পরিচালক এবং মালিকদের শুধু ভেন্যুগুলোর নকশা নিয়েই ভাবতে হচ্ছে না। ভাবতে হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে সেগুলো কীভাবে কাজ করে, তা নিয়েও।
থিয়েটারডিএনএ-এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ফার্গুসন এবং বেন্টন ডেলিঞ্জার দুজনই পেশাদার থিয়েটার ডিজাইনার। তারা তাদের কর্মজীবন শুরু করেন থিয়েটার ডিজাইনার এবং প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে। শুরুতেই তারা পিসিপিএ প্যাসিফিক কনজারভেটরি, সান হোসে রেপ এবং ডেনভার সেন্টারের মতো আঞ্চলিক থিয়েটারগুলোতে কাজ করতেন।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের উচ্চাভিলাষী কিছু সাংস্কৃতিক প্রকল্পে পরামর্শকের ভূমিকাও পালন করতে দেখা গেছে। তারা যেসব থিয়েটারগুলোতে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, এথেন্সের স্ট্যাভ্রোস নিয়ারকোস কালচারাল সেন্টার, কানসাস সিটির কফম্যান সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস এবং ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি পারফর্মিং আর্টস সেন্টার।

এই বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত প্রকল্পগুলোর নকশা, প্রকৌশল এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সাধারণ থিয়েটার থেকে সম্পূর্ণই আলাদা। এগুলো নান্দনিক থিয়েটারের পাশপাশি শৈল্পিক ও সামাজিক প্রভাবের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। থিয়েটারকে শুধু বিনোদন নয় বরং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নানা কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্য থেকেই থিয়েটারডিএনএ-র জন্ম।
প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই, প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে কেবল একটি থিয়েটার ডিজাইন পরামর্শক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেনি। সমাজ, সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি থিয়েটারকে বহুমাত্রিক ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে নির্মাণের উদ্ভাবক হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গত এক দশকে, বিভিন্ন মাপ ও ধরনের কাজের মাধ্যমে এই ধারণাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। একদিকে, চেজ এরিনার মতো প্রকল্পগুলো খেলাধুলা, বিনোদন এবং বড় মাপের অনুষ্ঠানের সমন্বয় প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, থিয়েটারডিএনএ একই কৌশল প্রয়োগ করেছে ‘আউটসাইড ইন’-এ, যা একটি পুরোনো গাড়ির ডিলারশিপ থেকে রূপান্তরিত ৯৯ আসনের একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক থিয়েটারে।
থিয়েটারডিএনএ’র সাম্প্রতিক কাজগুলো পারফর্মিং আর্টসের বিবর্তনকে আরও স্পষ্ট করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের কোলবার্ন সেন্টারে, থিয়েটারডিএনএ পারফরম্যান্স এবং শিক্ষাকে একীভূত করে একটি পরবর্তী প্রজন্মের ক্যাম্পাস তৈরি করেছে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে, সংস্থাটি সঙ্গীতের পরীক্ষামূলক প্রয়োগকে কেন্দ্র করে একটি বহুমাত্রিক শিল্পকলা নির্মাণে সহায়তা করেছে।
লং বিচ এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারের মতো প্রকল্পগুলো পুরোনো নাগরিক সম্পদগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। অপরদিকে মেটার এমপিকে২১ ক্যাম্পাস কর্পোরেট পরিমণ্ডলে পারফরম্যান্সের উপযোগী পরিবেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।
সব মিলিয়ে, এই প্রকল্পগুলো একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়: পারফরম্যান্সের স্থানগুলো আর একক উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারের জন্য নয়। এগুলোকে বিভিন্ন ব্যবহার, দর্শক এবং সময়ের বিবর্তনে দক্ষতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
এর প্রতিক্রিয়ায়, থিয়েটারডিএনএ নকশার বাইরেও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্রকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। তাদের কর্মে ফুটে উঠবে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিবর্তনের ধারা।

ভিক্টর গোটসম্যান পারফর্মিং আর্টস প্ল্যানিং এবং অ্যাসেম্বলি আর্টস-এর অধিগ্রহণ একটি কৌশলগত বিবর্তনকে তুলে ধরে। যা থিয়েটার পরিকল্পনা, বাজার বিশ্লেষণ, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরিচালন কৌশলকে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মধ্যে একত্রিত করে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করে। একটি কেন্দ্রের সাফল্য সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই নকশা শুরু হওয়ার অনেক আগে এবং নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার অনেক পরে নেয়া হয়।
এই পদ্ধতির মাধ্যমে, থিয়েটারডিএনএ যেকোনো পর্যায়ের প্রকল্পে যুক্ত হয়। শুধু তাই নয় দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও সামাজিক প্রভাবকে সমর্থন করার জন্য দৃষ্টিভঙ্গি, নকশা এবং পরিচালন ব্যবস্থাকেও সমন্বিত করে। এই পদ্ধতির একটি উদাহরণ হলো নীতা মুকেশ আম্বানি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে থিয়েটারডিএনএ স্থাপনার নকশায় সহায়তা করেছিলো। পাশাপাশি নির্মাণ ও কেন্দ্রটির পরিচালন কাঠামোর উন্নয়নেও পরামর্শ দিয়েছিলো।
আগামী দশকে পারফরম্যান্স স্পেসের নকশা অপ্রচলিত প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল একীকরণ এবং দর্শকদের পরিবর্তিত আচরণের সাথে মিল রেখে তৈরি হবে। একই সাথে, অর্থনৈতিক চাপ আরও বেশি দক্ষতা এবং উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে।
থিয়েটারডিএনএ-র জন্য, গত দশ বছর থিয়েটারে ডিজাইনের কেন্দ্রীয় ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। পারফরম্যান্স স্পেসগুলো স্থির কিছু নয়। এটি একটি চলমান ও জীবন্ত ব্যবস্থা। সময়ের সাথে পরিবেশনা, উপস্থাপনা, থিম ও গল্পে পরিবর্তন আসেছে। এই পবির্তনের সাথে মিল রেখেই বদলাতে হচ্ছে থিয়েটারকেও।
থিয়েটারের সাফল্য নির্ভর করে নকশা, পরিচালনা এবং সম্প্রদায়ের কাছে এর প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার সমন্বয়ের উপর। একটি বহুদেশীয় বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলাই হোক বা একটি পাড়ার থিয়েটারকে নতুন করে কল্পনা করাই হোক, লক্ষ্য একই থাকে। থিয়েটার বলতেই এমন স্থান তৈরি করা যা কেবল পরিবেশনাকে সম্ভবই করে না, বরং তাকে টিকিয়েও রাখে।
তথ্যসূত্র: আর্কডেইলি




















