নির্মাণ সাইটে প্রকৌশলীদের নিজস্ব সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ব্যক্তিগত সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্রপাতি (Personel Protection Element-PPE) হলো এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যা কাজের ক্ষেত্রে শারীরিক ও অন্যান্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। প্রকৌশলীদের সুরক্ষায় রয়েছে নানা যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নিরাপত্তামূলক হেলমেট (Satety Helmats), দস্তানা (Gloves), চোখের সুরক্ষা সামগ্রী সানগ্লাস (Sunglass), দূর থেকে দৃশ্যমান পরিধেয় কাপড় (Visible Clothing), নিরাপত্তা প্রদানকারী জুতা, হারনিস (Harnesses)সহ শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণে সহায়ক যন্ত্রাংশও এর অন্তর্ভুক্ত।
যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশলীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা
প্রকৌশলীদের সব ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কাজ করা উচিত। যাতে নির্মাণ সাইটটি কাজের জন্য হয় সুরক্ষিত ও নিরাপদ। এতে করে নির্মাণশ্রমিকেরা সঠিক দিকনির্দেশনা নিয়ে কর্মপদ্ধতি, প্রশিক্ষণসহ সার্বিকভাবে সবকিছু পরিচালনার মাধ্যমে নির্মাণকাজে সমন্বয় সাধন করতে পারে। এতে নির্মাণ সাইটে কর্মরত কর্মীরা নিরাপদে ও সচেতনতার সঙ্গে কাজগুলো সম্পন্ন করতে উৎসাহিত হয়।
যদিও সব ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও কিছু কিছু ঝুঁকি থেকে যায়। যার ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ধরনের কতিপয় সমস্যা হলো-
- দূষিত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ায় ফুসফুসে সমস্যা হতে পারে।
- যেকোনো ধরনের নির্মাণসামগ্রী হাত, পা কিংবা মাথায় পড়ে শরীরে জখম করতে পারে।
- ক্ষুদ্রাকৃতির বস্তু বা ধূলিকণা চোখে প্রবেশ করে সৃষ্টি করতে পারে সমস্যার।
- যেকোনো ক্ষয়কারক নির্মাণসামগ্রীর সংস্পর্শে দেহের চামড়ার ক্ষতি হতে পারে।
- অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডায় শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।
- প্রকৌশলীরা নিজস্ব সুরক্ষার ব্যবস্থার ব্যাপারে সজাগ থাকলে নির্মাণস্থলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
নির্মাণস্থলের নিরাপত্তাব্যবস্থার স্বরূপ
প্রকৌশলীদের নিজস্ব সুরক্ষায় পিপিই (PPE)-এর ব্যাপারে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।
যদি অন্যান্য সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও পিপিই প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই তা গ্রহণ করা উচিত। যেমন- সব ধরনের নির্মাণ সাইটে হেলমেট (Helmets) ব্যবহার করতে হবে।
নির্মাণ সাইটে নিরাপত্তা দানকারী যন্ত্রপাতি খুব সচেতন ও গুরুত্বের সঙ্গে বাছাই করতে হবে। সাইটে কর্মরত শ্রমিকেরা এর যথাযথ ব্যবহার যেন করতে পারে তা সুনিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
নিরাপত্তাব্যবস্থা বাছাই ও ব্যবহারের আগেই নিজেকে কিছু প্রশ্ন করে নেওয়া ভালো-
নির্মাণস্থলে কিসের সংস্পর্শে কে আসবে এবং সে কতটা অরক্ষিত?
কতক্ষণ ধরে সে এর সংস্পর্শে থাকবে?
সে নিজেকে কতটা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রেখেছে?
প্রকৌশলীদের নিজস্ব সুরক্ষার ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও বাছাইয়ে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিতে হবে –
সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্রপাতি বাছাইয়ের সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিধিমালা-২০০২-এ নির্দেশিত যন্ত্রসমূহ বাছাই করতে হবে।
সুরক্ষা দানকারী যন্ত্রপাতি এমনভাবে পছন্দ করা উচিত, যা ব্যবহারকারীর জন্য উপযুক্ত ও মানানসই। এ ক্ষেত্রে যন্ত্রটির আকৃতি এবং ওজন অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। যদি সুরক্ষাকারী যন্ত্রটি ব্যবহারকারী নিজে বাছাই করেন, তাহলে এটি ব্যবহারে তিনি উৎসাহিত হবেন।
যদি একের অধিক সুরক্ষা যন্ত্র ব্যবহার বা পরিধান করা হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্রগুলোর সঠিক ব্যবহারের জন্য সবাইকে প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা প্রদান করা উচিত। যেমন- কাজের শেষে নিজের ত্বকের কোনো রকম ক্ষতি না করে গ্লোবসগুলো খুলে ফেলতে হবে। এর জন্য শ্রমিকদের এটি ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাকেও তাদের কাছে ঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য বিবেচ্য-
যে কাজ করতে স্বল্প সময় লাগে, সেই কাজের জন্যও সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সুরক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিকে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার; পাশাপাশি কাজের ধরন সম্পর্কে কর্মীদের বিস্তারিত জানানো উচিত।
যদি কোনো যন্ত্র নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া উচিত।
রক্ষণাবেক্ষণ
কাজের শেষে এবং অব্যবহৃত অবস্থায় সুরক্ষিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় না। এমতাবস্থায় এগুলো পরিষ্কার ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করা উচিত। যদি সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্রগুলো পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তবে এগুলো পরিষ্কার করে সুন্দর পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হবে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য যে যে বিষয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার-
সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্রের কোনো অংশ নষ্ট হয়ে গেলে বা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় অংশ প্রতিস্থাপন করা উচিত; যাতে এটা আগের মতো হয়।
সর্বদা প্রতিস্থাপন ব্যবস্থার সুযোগ রাখা উচিত।
যন্ত্রাংশগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি যেন এটিকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে।
নোংরা কাজে ব্যবহারের পরে ফেলে দেওয়া যায় (Disposable Cloth) এমন কাপড়ের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ব্যক্তিগত সুরক্ষা দানকারী সামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। যদি সুরক্ষাকারী কোনো যন্ত্রের কোনো রকম ক্ষতি হয় কিংবা হারানো যায়, তবে যথাযথ শর্তসাপেক্ষে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
পরীক্ষণ ও পর্যালোচনা
নির্মাণ সাইটে নিয়মিত ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে কি না তা লক্ষ করা উচিত। যদি এর ব্যবহার ঠিকভাবে না হয়ে থাকে তবে কেন হচ্ছে না তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে।
সবাই যেন সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ জন্য নিরাপত্তা চিহ্ন (Satety Sign) একটা ভালো পদ্ধতি হতে পারে।
সুরক্ষার ব্যবস্থায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হলে তা যথাযথ শর্তসাপেক্ষে করা উচিত।
প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রসমূহ
চোখের সুরক্ষা
চোখের জন্য যা ঝুঁকি বা বিপদের কারণ
কেমিক্যাল কিংবা মেটালের ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা, গ্যাস, বাষ্প ও তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিচ্চুরণে চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
সুরক্ষায় যা করণীয়
নিরাপত্তামূলক স্পেকটাকল, চশমা, ফেস স্ট্রিন, মুখ রক্ষাকারী ঢাল, মুখত্রাণ (Visors) প্রভৃতি যন্ত্রাংশ চোখের সুরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মাথা ও গলার সুরক্ষা
ঝুঁকি ও বিপদসমূহ
ওপর থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা পড়ন্ত বস্তুর আঘাতে মাথা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকিসহ মেশিনে চুল আটকা পড়ার আশঙ্কা, কেমিক্যাল ছড়িয়ে পড়া, আবহাওয়া ও তাপমাত্রার তারতম্য প্রভৃতির কারণে মাথা ও গলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা
নিরাপত্তামূলক হেলমেট হঠাৎ করে কোনো কিছু থেকে পাওয়া আঘাত থেকে রক্ষা করে। সুরক্ষাকারী টুপি (Bump Cap), হেয়ারনেট ও আগুন থেকে সুরক্ষা প্রদানকারী হেলমেট। এসব সুরক্ষা দানকারী সামগ্রী মাথা ও গলার বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
কিছু কিছু নিরাপত্তামূলক হেলমেটে বিশেষ নকশার মাধ্যমে চোখ ও কানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
ওয়েল্ডিং কাজের সময় সুরক্ষার ব্যবস্থার জন্য অবশ্যই Scarves ব্যবহার করা উচিত।
মাথার সুরক্ষায় ব্যবহৃত হেলমেটের কোনো ক্ষতি হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিস্থাপন করা উচিত।
কানের সুরক্ষা
ঝুঁকি ও বিপদসমূহ
নির্মাণস্থলে খুবই উচ্চমাত্রার তীব্র শব্দ দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়। যদিও তীব্র ও উচ্চমাত্রার শব্দ ক্ষণস্থায়ী হলেও এটা শ্রবণাঙ্গের ক্ষতি করে থাকে।
সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাসমূহ
কানের ছিদ্র বন্ধকারী রাবারের টুকরা (Earplugs), কানের আবরণ বিশেষ (Earmuffs), ক্যানাল টুপি (Canal Caps) প্রভৃতি কানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কাজের ধরন বিবেচনায় নিয়ে কানের অধিক সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। ব্যবহারকারীকে অবশ্যই এর সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।
এমন ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যা শব্দের তীব্রতাকে একটা সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসে।
হাতের সুরক্ষার ব্যবস্থা
ঝুঁকি ও বিপদসমূহ
নির্মাণকাজের বিভিন্ন স্থানের অমসৃণ সারফেস, অধিক তাপমাত্রা, সুচালো কোনো কিছুর আঘাত, কেমিক্যাল পদার্থের উপস্থিতি, বৈদ্যুতিক শর্ক, তেজস্ক্রিয় রশ্মির বিচ্চুরণ, কম্পন, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব, দীর্ঘক্ষণ পানিতে হাত রাখা প্রভৃতির কারণে হাত ও ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাসমূহ দাস্তানা (Gloves), কবজি পর্যন্ত ঢাকা শক্ত দাস্তানা (Gauntlets), হাতের সম্পূর্ণ অংশ বা কিছু অংশ জামার হাতা দ্বারা আবৃত করে রাখা, যাতে করে হাত ও ত্বকের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
ইঞ্জিন চালাতে গ্লাভস পরিহার করাই ভালো। যেমন- বেঞ্চ ড্রিল। যেখানে গ্লাভস ইঞ্জিনে আটকে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কিছু কিছু পদার্থ আছে, যা খুব সহজেই কেমিক্যাল ভেদ করতে সক্ষম। কাজেই এ ধরনের বস্তু ব্যবহারের সময় হাতের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
দীর্ঘক্ষণ ধরে গ্লাভস পরে থাকলে হাত গরম হয়ে ঘামের সৃষ্টি করে। যার ফলে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। তাই সুতি কাপড়ের গ্লাভস ব্যবহার করলে এ ধরনের সমস্যা হয় না।
দেহের সুরক্ষায়
ঝুঁকি ও বিপদসমূহ
ভেজা, গরম কিংবা ঠান্ডা অবস্থা, Electrostatic, পড়ন্ত ভারী বস্তুর ভার, কেমিক্যাল ও মেটালের চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়া, পিছলে যাওয়া প্রভৃতির কারণে দেহে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুরক্ষার ব্যবস্থা
বুট জুতা, হাঁটু পর্যন্ত সুরক্ষিত জুতা, বিশেষ কাজের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত জুতা, যেকোনো ধরনের পদার্থ প্রবেশে প্রতিবন্ধক জুতা ইত্যাদি দেহের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা দেয়।
বর্তমানে বিশেষ সোলসমৃদ্ধ জুতা পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন প্রতিবন্ধক অবস্থায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার থেকে রক্ষা করে। তা ছাড়া এ ধরনের বুট জুতা ইলেকট্রিক শর্ক ও তাপমাত্রা থেকে সুরক্ষিত রাখে।
কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে সঠিক জুতা নির্বাচন করা একান্ত জরুরি।
ফুসফুসের সুরক্ষার ব্যবস্থা
ঝুঁকি ও বিপদসমূহ
নির্মাণস্থলের অক্সিজেন ঘাটতি, ধুলাবালু, গ্যাস ও বাষ্প দ্বারা নির্মাণশ্রমিক ও প্রকৌশলীদের ফুসফুসে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
সুরক্ষার ব্যবস্থা
শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণে সহায়ক যন্ত্রের ফিল্টার নির্মাণকাজের বাতাসের সংস্পর্শে এসে দূষিত হতে পারে। সাধারণ মানের ফিল্টার ব্যবহার করার ফলে এ ধরনের সমস্যা হয়।
এটা যেন সঠিকভাবে ব্যবহারকারীর সঙ্গে মানিয়ে যায়, সেদিকে সচেতন থাকতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণে সহায়ক যন্ত্র সর্বদা কাজে নিযুক্ত শ্রমিকের গায়ের সঙ্গে ঠিকভাবে আটকে থাকা জরুরি।
সচেতনতায় যা করণীয়
শ্বাসযন্ত্রে সঠিক ধরনের ফিল্টারের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এই সব ফিল্টারের একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস লাইফ থাকে, যা অতিক্রমের আগেই একে প্রতিস্থাপন করতে হয়। যে জায়গায় অতিরিক্ত ও ক্ষতিকর ধোঁয়ায় অচেতন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেই জায়গায় শুধু শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্যকারী যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত। এ ক্ষেত্রে ফিল্টার ব্যবহার পরিহার করা উচিত।
যেসব নির্মাণ সাইটের পরিবেশে অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে অবশ্যই শ্বাস-প্রশ্বাস সাহায্যকারী যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত।
শরীরের সুরক্ষায়
ঝুঁকি ও বিপদসমূহ
কেমিক্যাল ও মেটালের ছড়িয়ে পড়া, অধিক তাপ, দূষিত ধূলিকণার সংঘর্ষ, ঝঢ়ৎধু থেকে বিচ্চুরিত পদার্থ প্রভৃতির মাধ্যমে প্রকৌশলী ও নির্মাণশ্রমিকেরা নানামুখী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
সুরক্ষার ব্যবস্থা
প্রথাগত ও সহজে পরিবর্তনযোগ্য পোশাক, এপ্রোন, কেমিক্যাল থেকে সুরক্ষা প্রদানকারী পোশাক, গরম থেকে সুরক্ষা প্রদানকারী পোশাক প্রভৃতি নির্মাণশ্রমিক ও প্রকৌশলীদের এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখে।
সতর্কতা
শারীরিক সুরক্ষা প্রদানকারী পোশাক নির্বাচনের সময় অবশ্যই যেসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে, তা হলো- এটা অবশ্যই অগ্নিশিখা প্রতিহতক্ষম হতে হবে, শরীরের সংস্পর্শে আসা কেমিক্যাল প্রতিহত করবে এবং অবশ্যই উজ্জ্বল ও দৃশ্যমান হবে।
সুরক্ষার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণকারী কিংবা Life Jacket-সহ অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থার বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
জরুরি সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্রসমূহ
জরুরি অবস্থায় সুরক্ষা প্রদানকারী যন্ত্রগুলো নির্বাচন ও রক্ষণাবেক্ষণে সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে নিয়মিত ও বাস্তবিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের। যার মাধ্যমে সম্ভব হবে জরুরি প্রয়োজনে নিজস্ব সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
প্রকৌশলী সনজিত সাহা
sonjit7022@gmail.com
প্রকাশকাল: বন্ধন ৪৩ তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৩