স্বল্প ব্যয়ে ও সহজে অ্যানালাইসিস ও ডিজাইন করা যায় বলে নির্মাণে ব্রেইস ফ্রেম খুবই সুপরিচিত একটি পদ্ধতি। স্বল্প ব্যয়ের পেছনে রয়েছে এর নামমাত্র পিন সংযোগ বিম ও কলামে। সাধারণত একটি কংক্রিট কোর অথবা আড়াআড়ি স্টিলের কাঠামো থেকে আগত পার্শ্বীয় বল (Loteral Load) প্রতিরোধ এবং কাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে ব্রেসিংয়ের (Bracing) জুড়ি নেই। নির্মাণে ব্রেসিং শুধু বিম ও কলাম উলম্ব লোডের (Ventical Load) জন্য ডিজাইন করা হয় এবং ধরে নেওয়া হয় যে ব্রেসিং পদ্ধতি সব ধরনের পার্শ্বীয় বল বহন করে।
প্রকৌশল কাজে ব্রেসিং বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। প্রাথমিকভাবে যখন কোনো ফ্রেম কাঠামোর পার্শ্ব সরল যেকোনো ধরনের ব্রেসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা হয়, তখন তাকে ব্রেইস ফ্রেম বলা হয়। বহুতল ভবনের ব্রেইস কাঠামোতে প্ল্যান এবং সম্মুখ দৃশ্যে উভয় ক্ষেত্রেই বিম ও কলাম লম্বভাবে (Orthogonal) সাজানো হয়। একটি ব্রেইস কাঠামোর দালানে দুটি লম্ব ব্রেইসিং পদ্ধতির মাধ্যমে আনুভূমিক বল প্রতিরোধ করা হয়।
উলম্ব ব্রেসিং (Vertical Bracing)
সাধারণত (কলাম লাইনের মধ্যে) উলম্ব তলের ব্রেসিং লোডের পথ, যেটা পার্শ্বীয় বল স্থানান্তরিত করে ভূমিতল এবং লম্ব বলের বিপরীতে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
আনুভূমিক ব্রেসিং (Horizontal Bracing)
প্রতিটি ফ্লোর লেবেলে আনুভূমিক ব্রেসিং ফ্লোরের প্লেট অ্যাকশনের (Plate Action) মাধ্যমে লোডের পথ যেটা আনুভূমিক বল স্থানান্তরিত করে লম্ব তলের ব্রেসিংয়ের ওপর। তাই-ই আনুভূমিক ব্রেসিং।
বহুতল ভবনে, ব্রিজ নির্মাণে, গভীর মাটি খননে খাড়া কাঠামো নির্মাণে ব্রেসিং সিস্টেমের রয়েছে অনন্য ভূমিকা।
মাটি খননে ব্রেসিংয়ের কার্যকারিতা
প্রায় সব ধরনের কাঠামোর নির্মাণ শুরু হয় মাটির অভ্যন্তর থেকে। তাই ভিত্তির উপরিতলের মাটি খনন ব্যতীত কোনো কাঠামোই নির্মাণ সম্ভব নয়। সাধারণত খননকার্যে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় ব্রেসিং ডিজাইন যাচাই করতে প্রকৌশলীরা মাটির সব ধরনের গুণাগুণ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নেন। বৃহৎ অথবা অপেক্ষাকৃত জটিল কাজে নির্মাণপদ্ধতি পর্যালোচনা ব্যতীত কাঠামোর ডিজাইন প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। এভাবে নির্মাণপদ্ধতি ও ডিজাইন যখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তখন সব কাজকে একটা একক হিসেবে ধরা হয়। সে ক্ষেত্রে একজন প্রকৌশলীকে নির্মাণপদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা এবং ব্রেসিংয়ের সম্ভাব্য ডিজাইন প্রস্তুত করতে হয়। ভেদ্য মাটিতে পানি তলের নিচে খননকাজ করার সময় অথবা নির্মাণকাজ আরম্ভ করার আগে কিংবা চলাকালীন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু সচরাচর পানিতল খননের নিচে থাকে তাই এখানে পানি তল মাঠি খননের নিচে বলে ধরা হয়।
মাটি খননে ব্রেসিংয়ের প্রয়োজনীয়তা
- খননের পার্শ্বভাঙা প্রতিরোধ করা
- আলগা ও নরম মাটির পার্শ্বচাপ প্রতিরোধ করা
- খননের গভীরতা খুব বেশি হলে
- সাব সয়েলে পানি জমলে
- খননের পার্শ্ববর্তী জমিতে কোনো বহুতল ভবন বা ভারী কাঠামোর অবস্থান থাকলে।
অগভীর খননে ব্রেসিং
অনেক সময় দেখা যায়, নতুন ভবন নির্মাণ করতে হলে পূর্বনির্মিত ভবনের পাশে অথবা সীমানা লাইন ঘেঁষে এটি করা হয়। এই অবস্থায় খননের সময় বিনা ঢালে সরাসরি উলম্বভাবে খনন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উলম্বভাবে মাটি খননকালে খননের পার্শ্ব ধসে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সাপোর্টের ব্যবস্থা করা হয়। ধসে যাওয়া থেকে মাটিকে রক্ষা করতে কয়েক ধরনের টানা বন্ধনী ব্যবহার করা হয়। স্ট্রাট (Strut) এবং ওয়াল (Wale) সমন্বয়ে মজবুত ব্রেসিং তৈরি করে এই ব্রেসিং সিস্টেমের মাধ্যমে মাটি ধসে পড়া রোধ করা যায়।
গভীর খননে ব্রেসিং
সাধারণত খননের গভীরতা পাঁচ মিটার অতিক্রম করলে বিভিন্ন ধরনের স্টিল শিট পাইল বা আরসিসি পাইল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মাটির গভীরতা যত বেশি হয়, পার্শ্বচাপ খননকালে ততই বৃদ্ধি পায়। সে ক্ষেত্রে ব্রেসিং তৈরিতে পাইলের সঙ্গে ওয়েলের স্ট্রাট লাগাতে হয়। এভাবে খননের গভীরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এক সেট ওয়েল এবং স্ট্রাট ব্যবহার করতে হয়। খননকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকে। এ ধরনের ব্রেসিংয়ের জন্য স্টিলের আইএইচইউয়ের মতো সেকশন ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় স্ট্রাস আকারে অনেক তলের সাহায্যে শক্তিশালী ব্রেসিংয়ের মাধ্যমে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত খননকাজ চালানো যায় সহজেই ও নিরাপদে।
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৮তম সংখ্যা, ফেব্রুয়ারি ২০১৫