Image

রোলার-কোস্টারখ্যাত ইশিমা ওহাশি ব্রিজ

ইশিমা ওহাশি ব্রিজ, যেন ভয়ংকর সৌন্দর্যের প্রতিকৃতি। এটি জাপানের সর্ববৃহৎ এমনকি বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ সেতু। এটি পেরোতে আপনাকে অতিক্রম করতে হবে পাকা ১.৭ কিলোমিটার পথ। এর দৈর্ঘ্য ১১.৩ মিটার ও প্রস্থ ৪৪.৭ মিটার। নদী থেকে ব্রিজের মাঝ বরাবর উচ্চতা ২৫০ মিটার। এই বিশাল উচ্চতার কারণে সেতুটিকে রোলার-কোস্টারের সঙ্গে তুলনা করা হয়; অনেকেই এটিকে ‘রোলার-কোস্টার ব্রিজ’ নামেও আখ্যায়িত করে।

রোলার-কোস্টার ব্রিজ হিসেবে পরিচিত এ ব্রিজ তার নামকরণের সার্থকতা প্রমাণ করতে যেন শিমানে এলাকায় ৬.১ শতাংশ গ্র্যাডিয়েন্ট ও টোট্টোরি এলাকায় এর গ্র্যাডিয়েন্ট ৫.১ শতাংশ জুড়ে। ইশিমা ওহাশি ব্রিজটি নোয়ামি লেক থেকে তার যাত্রা শুরু করে মাতসু ও সাকাইমিনাতো শহর দুটোর গা-ঘেঁষে এগিয়ে গেছে। তাই এটিকে বলা যায় নোয়ামি লেকের সঙ্গে মাতসু ও সাকাইমিনাতো শহর দুটোর যোগাযোগ স্থাপনকারী মাধ্যম। ইশিমা ওহাশি ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। শুরুতে নির্মাণকাজটি সহজ ছিল না। কিন্তু নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এটির নির্মাণকাজ শেষ করে ২০০৪ সালে।

উইকিপিডিয়া

ইশিমা ওহাশি ব্রিজটি হলো জাপানের পশ্চিম চুগোকু এলাকায় অবস্থিত সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু। জাপানি শব্দ ‘ওহাশি’-এর মানেই হলো ‘দীর্ঘ ব্রিজ’। সুদৃশ্য মনোরম ব্রিজটিকে দেখলে মনে হয় তরতরিয়ে এটি যেন আকাশ ছুঁয়েছে! টিভি কমার্শিয়ালের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য থাকে এ অতুলনীয় ‘ভিউ’। বৃহৎ আকারের জাহাজ যেগুলোর উচ্চতা অবশ্যই ৪৫ মিটারের মধ্যে সেগুলো নির্বিঘ্নে ব্রিজের নিচ দিয়ে পেরিয়ে যেতে পারে। শিমানের পাশের এলাকা মাতসু শহরে ৩.৫ ডিগ্রি এবং টোট্টোরি এলাকা পাশে সাকাইমিনাতো শহরে ২.৯ ডিগ্রি কোণে ঢালু এ ব্রিজখানি! যদি আপনি ‘আকাশ থেকে তরতরিয়ে নামা’টা ক্যামেরাবন্দী করতে চান তবে আপনাকে মাতসু শহরের পাশের অংশকে বিবেচনায় নিতে হবে।

ইশিমা ওহাশি ব্রিজটার অপর নাম, ‘বেটাভুমিজাকা’। অর্থাৎ, উঁচু পাহাড়চূড়া থেকে প্যাডেল চালিয়ে নিচে গড়িয়ে পড়া। এর মানেটা এমন দাঁড়ায়, দীর্ঘ ব্রিজটি এতটাই ঢালু, যখনই আপনি ব্রিজের গায়ে হাঁটতে থাকবেন, চারপাশের দৃশ্যাবলিকে দেখে উপভোগ করার আগেই আপনি পৌঁছে যাবেন এর শেষ সীমায়! যদিও ব্রিজটির চারপাশের দৃশ্যাবলিকে অপরূপ সৌন্দর্যের আঁধার বললেও যেন কম বলা হয়। এর আরেকটি নাম হলো রামেন ব্রিজ, যা মাঝে মাঝে ডাকা হয়। জাপানিতে ‘রামেন’-এর অর্থ হলো ‘দৃঢ় ফ্রেম’ যা কি না ব্রিজটাকে বলাই যায়। রামেন শব্দটি জার্মান শব্দভান্ডার থেকে ধার করা একটি শব্দ।

উইকিপিডিয়া

নিচ থেকে ইশিমা ওহাশি ব্রিজকে দেখলে মনে হবে খুবই সাদামাটা একটি ব্রিজ। কিন্তু, অতুলনীয় সারপ্রাইজ আপনার জন্য প্রতীক্ষায় যতক্ষণ না আপনি ব্রিজটি ভিজিটে না যাচ্ছেন। এ ব্রিজের জনপ্রিয়তার কারণে মাঝেই মাঝেই অত্যধিক গাড়ি গিজগজ করে এখানে। তবুও আপনার কাছে ছোট্ট সুপারিশ ব্রিজটিতে অন্তত একটিবারের জন্য হলেও ঘুরে আসার পরিকল্পনাটা করেই ফেলুন না! মনে হয় না খুব বেশি হতাশ হবেন। সাকাইমিনাতো স্টেশন থেকে ১০ মিনিট গাড়ি-চলা পথ এগোলেই আপনি পেয়ে যাবেন কাঙ্খিত ইশিমা ওহাশি ব্রিজ। মিহো ইয়োনাগো থেকেও গাড়ি-চলা পথ মাত্র ১০ মিনিটের। ইয়োনাগো এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইয়োনাগো আইসি হয়ে ব্রিজে পৌঁছাতে গাড়ীতে আপনার সময় লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯২তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৭।

Related Posts

বন্যা প্রতিরোধী বাঁশের বাড়ি নির্মাণের এখনই সময়

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। সাগর উপকূলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব-দ্বীপ বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা বাংলাদেশের জন্য খুবই…

আবুধাবির সুপার টানেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দুর্দান্ত এক সাফল্য

আবুধাবি পৃথিবীর অভিজাত শহরগুলোর মধ্যে একটি। এ দেশে বিশালাকৃতির সমুদ্রের পাশেই রয়েছে বিশালাকার মরু উদ্যান। আর এর মধ্যেই…

সড়ক নির্মাণ এবং মান নিয়ন্ত্রণ (পঞ্চম পর্ব) 

যেকোনো কাজের মান নিয়ন্ত্রণকল্পে ব্যবহৃতব্য মালামাল এবং সম্পাদনকৃত কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্ধারিত কিছু…

বেইজিং ডাক্সিন বিমানবন্দর আগামী বিশ্বের বৃহৎ বিমানবন্দর

পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর বলতে এখন বোঝায় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যের হার্টসফিল্ড জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে। ২০১৪ সালে এই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *