এশিয়ার যত আকাশচুম্বী ভবন (পর্ব ১)

আরবে ফেরাউনদের পিরামিড তৈরি থেকে শুরু করে তৎকালীন স্থপতিদের তৈরি আলেকজান্দ্রিয়ার লাইট হাউস প্রমাণ করে মানুষ চিরকালই স্থাপনা নির্মাণে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জানান দিতে চায়। নব্বইয়ের দশকের বিশালাকৃতির অবকাঠামো নির্মাণের দৌড়ই শুধু নয়, বরং এশিয়ায় প্রবলভাবে মুগ্ধ করে সবুজ অট্টালিকার আকাশচুম্বী নান্দনিক সব ভবনও। সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ভারত, মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার এ দেশগুলো এই দৌড়ে শামিল হয়েছে। আসুন জেনে নিই এশিয়ার আকাশছোঁয়া সুউচ্চ ভবনের কয়েকটি সম্পর্কেÑ

১. বুর্জ খালিফা, দুবাই

বুর্জ খালিফা আগে বুর্জ দুবাই নামে পরিচিত ছিল। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশচুম্বী অট্টালিকা। বর্তমানে পৃথিবীর এটি সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামোও। এর উচ্চতা প্রায় ২৭২২ ফুট। ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ৪ জানুয়ারি ২০১০ সালে। টাওয়ারের স্থাপত্য নকশা ও প্রকৌশল কাজ করেছে আমেরিকার শিকাগোর স্কিডিমোর, ওউইং ও মেরিল নামক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এই প্রকল্পের প্রধান স্থপতি ছিলেন এডরিয়েল স্মিথ আর বিল বেকার ছিলেন প্রধান স্ট্রাকচারাল প্রকৌশলী। এতে রয়েছে সূক্ষাগ্র চূড়াবিশিষ্ট ১৬৩ তলা। এর মধ্যে ৪৬ তলা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং বেইজমেন্টে দুটি তলা রাখা হয়েছে পার্কিংয়ের জন্য। সবচেয়ে বেশি আবাসিক তলা রাখা হয়েছে ১০৯ তলায়।

বুর্জ খালিফার ডিজাইনের বিস্তার বড় এক এলাকাজুড়ে। যেখানে একই স্থানে সব ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। এক কথায় যা মিশ্র সুবিধা। যেমন এখানে রয়েছে ৩০ হাজার বাড়ি, নয়টি রেস্তোরাঁ, ৭ দশমিক ৪ একরের পার্ক। কমপক্ষে ১৯টি আবাসিক টাওয়ার, দুবাই মল, ৩০ একর জায়গাজুড়ে রয়েছে বুর্জ খালিফা লেক। বুর্জ খালিফা তৈরির চিন্তাটা সরকারি তরফের। উদ্দেশ্য ছিল দুবাইকে শুধু তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত না করে এটিকে সেবা ও পর্যটননির্ভর দেশ হিসেবে পরিচিত করা। আমিরাতের শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম চেয়েছিলেন পৃথিবীর মানচিত্রে এমন কিছু করা, যা সত্যিই মানুষের কাছে বিস্ময়ের জন্ম দেবে। উদ্বোধনের আগে ২০১০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত টাওয়ারটি বুর্জ দুবাই (দুবাই টাওয়ার) নামে সবার কাছে পরিচিত ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট খাজা-বিন-আল নাহিয়ানের সম্মানার্থে এটি নির্মিত।

২০০৪ সালের ৬ জানুয়ারি শুরু হয় টাওয়ারটির নির্মাণকাজ। বাইরের অংশের কাজ সম্পন্ন হয় ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর। এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি। এর সঙ্গে যুক্ত আরও দুই বর্গ কিলোমিটার জায়গা রাখা হয়েছিল ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য; যার নামকরণ করা হয় দুবাই ডাউন টাউন। টাওয়ারটির স্থাপত্য আর প্রকৌশলসংক্রান্ত কাজটি করেছিলেন শিকাগোর স্কিডিমোর উইং ও মেরিল। এঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন প্রধান স্থপতি এড্রিয়েন স্মিত আর প্রধান স্ট্রাকচারাল প্রকৌশলী বিল বেকার। প্রাথমিক ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসং সিঅ্যান্ডটি কোম্পানি। টাওয়ারের নির্মাণকাজ করেছিল আমিরাতের নির্মাণ বিভাগের আল-ঘুরিয়ের ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ।

যা আছে এখানে-

  • এটা তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য উঁচু অট্টালিকা থেকে বেশি স্থান নিয়ে।
  • বিশ্বের দীর্ঘতম এলিভেটর স্থাপন করা হয়েছে, যেটি টাওয়ারটির সর্বোচ্চ তলা পর্যন্ত সেবা দিতে সক্ষম।
  • বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম দূরত্ব অতিক্রম করার মতো এলিভেটর সংযোজন করা হয়েছে, যা লম্বায় প্রায় ৫০৪ মিটার।
  • সবচেয়ে দীর্ঘতম খাড়া কংক্রিট পাম্পিং ব্যবস্থা রয়েছে, যা ৬০৬ মিটার।
  • বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু অবকাঠামো, যার মধ্যে রয়েছে আবাসিক বাড়ি তৈরির যথেষ্ট স্থান।
  • বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থানরত পর্যবেক্ষণকেন্দ্র, যার অবস্থান ৪৫২ মিটার উঁচুতে, ১২৪ তলায়।
  • বিশ্বের সর্ববৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ দিয়ে ঘেরা টাওয়ার, যার সম্মুখভাগ উচ্চতায় ৫১২ মিটার।
  • বিশ্বের সর্ববৃহৎ নৈশক্লাব, যার অবস্থান ১৪৪ তলায়।
  • বিশ্বের সর্ববৃহৎ রেস্তোরাঁ, যার অবস্থান ৪৪২ মিটার উঁচুতে, ১২২ তলায়।
  • বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সুইমিংপুল, যার অবস্থান ৭৬ তলায়।

২. সাংহাই টাওয়ার, চীন

সাংহাই টাওয়ারটি যৌথভাবে ডিজাইন করেছে আমেরিকান স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান জেনসলা ও চীনের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান জুন একসিত্র। টাওয়ারটিতে নয়টি সিলিন্ড্রিকেল ভবন একই স্থানে একটির ওপর অপরটি জোড়া দেওয়া। এটিতে আছে ১২১ তলা। সবগুলোর সম্মুখভাগ গ্লাসে  মোড়ানো। এর ভেতর ও বাইরের স্তর এমনভাবে মোচড়ানো, দেখে মনে হয় যেন সম্পূর্ণ টাওয়ারটি ওপরের উঠে আসতে চাইছে। বাইরের প্রতিটি অংশে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রিফ্লেকটিভ গ্লাস লাগানো, যাতে টাওয়ারটি কম তাপ গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু সাংহাই টাওয়ারটির ডাবল লেয়ার গ্লাসের জন্য প্রয়োজন ছিল দুই দিকেই আলো নিরোধক গ্লাস। টাওয়ারটিতে ১৬ হাজার লোক একত্রে থাকতে পারে।

উইকিপিডিয়া

২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাপানি মিটসুবিসি ইলেকট্রিক কোম্পানি ঘোষণা দেয় সাংহাই টাওয়ারে এলিভেটর সংযুক্তির। কোম্পানিটি ১০৬টি এলিভেটর সরবরাহ করে। যার মধ্যে তিনটি উচ্চ গতিসম্পন্ন, প্রতি মিনিটে ১০৮০ মিটার অতিক্রমে সক্ষম। এলিভেটরগুলো স্থাপিত হয় ২০১৪ সালে। কোম্পানিটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী এলিভেটর প্রস্তুতকারক। উচ্চতায় এটি রেকর্ড ভেঙে পেছনে ফেলেছে বুর্জ খালিফাকে। টাওয়ারটিতে বর্জ্য ফেলার জন্য রয়েছে একটি দোলনা, যা সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। টাওয়ারটিতে রয়েছে একটি জাদুঘর এবং সাব-লেবেলে ১৮০০টি যানবাহন রাখার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

৩. আবরাজ-আল-বেইত, সৌদি আরব

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উঁচু এই টাওয়ারটি একটি কমপ্লেক্স বিল্ডিং। এর উচ্চতা ৬০১ মিটার। বর্তমান বিশ্বে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ অট্টালিকা, যা তাইওয়ানের তাইপে ১০১, চীনের সাংহাই টাওয়ার, জাপানের টোকিও স্কাই ট্রি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বুর্জ খালিফাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

উইকিপিডিয়া

কমপ্লেক্সবিশিষ্ট এই টাওয়ারটির অবস্থান রাস্তার দক্ষিণে। এর প্রবেশদ্বার মসজিদ আল-হারামের দিকে। নামাজের সময় কাবাতে আসতে অধিকসংখ্যক মানুষ যাতে অবস্থান করতে পারেন। সেই প্রেক্ষিতেই আরবাজ-আল-বেইত টাওয়ারে বিশাল আকারের ঘর করা হয়েছে। এখানকার  ধারণক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার মুসল্লির। দীর্ঘতম এই কমপ্লেক্স টাওয়ারে রয়েছে পাঁচতারকা রেস্তোরাঁ। এটি পরিচালিত হয় ফেয়ার মন্ট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের সহায়তায়। যাঁরা হজের জন্য প্রতিবছর মক্কায় আসেন, এরা তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে।

এ ছাড়া আবরাজ-আল-বেইত টাওয়ারে রয়েছে পাঁচতলা শপিংমল। পার্কিং গ্যারেজের ধারণক্ষমতা এক হাজারের ওপর যানবাহনের। যারা স্থায়ীভাবে এখানে বসবাস করে, তাদের জন্য রয়েছে দুটি হেলিপোর্ট। ব্যবসায়ী আর ভ্রমণকারীদের জন্য রয়েছে কনফারেন্স রুম, যেখানে ব্যবসাসংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা হয়। ১০ হাজার মানুষের বাস এই টাওয়ারে। প্রকল্পটি এমনভাবে তৈরি করা, যেখানে টাওয়ারের চারদিক থেকে ঘড়ি দেখা যায়। এখানে আবাসিক তলার অবস্থান ৪৫০ মিটার উঁচুতে, ঠিক মোচাকার চূড়ার নিচে। ঘড়িটি ৪৩ মিটার x ৪৩ মিটার স্থাপনার ওপর স্থাপিত পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বৃহৎ ঘড়ি। ঘড়ির ছাদটি ভূতল থেকে ৫৩০ মিটার উঁচুতে, যা তৈরি করেছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ঘড়ি স্থাপনের স্থাপত্যকৌশল। ৭১ মিটার লম্বা মোচাকার চূড়ার সঙ্গে যুক্ত ঘড়ির মাথা। যে জন্য মোট টাওয়ারটির উচ্চতা ৬০১ মিটার। টাওয়ারটিতে আছে ইসলামিক জাদুঘর এবং লুনার পর্যবেক্ষণ সেন্টার। এটা ব্যবহার করা হয় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র মাসসমূহের চাঁদ দেখার জন্য।

২০০৬ সালে প্রথমে এর নকশা করা হয়েছিল ৭৩৪ মিটার উঁচু করার জন্য। ২০০৯ সালে ঘোষণা করা হয় এটি ৬০১ মিটার উঁচু করা হবে। কমপ্লেক্সটির নির্মাতা সৌদি আরবের বৃহত্তম কোম্পানি সৌদি-বিন-লাদেন গ্রুপ। সুউচ্চ এই অট্টালিকাটির কমপ্লেক্স অংশটির ডিজাইনার জার্মান স্থপতি মাহমুদ বোডো রেসচ ও তাঁর প্রতিষ্ঠান (Mahmud Bodo Rasch)। এর সম্মুখভাগ নির্মাণ করেছে প্রিমিয়ার কম্পোজিট টেকনোলজিস। জার্মান এ ঘড়িটির প্রস্তুতকারক পেরোট জিএম ডি এইচ এন্ড কোম্পানি লি.। সৌদি ধর্মীয় মন্ত্রণালয়ের মতে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

৪. তাইপে ১০১, তাইওয়ান

টাইফুন ঝড় ও ভূকম্পন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে। এর ডিজাইনারদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল এমন ধরনের স্ট্রাকচার তৈরি করা, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করা যায়। তাইপে ১০১ তাইপে ওয়ার্ল্ড ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার নামেও পরিচিত একটি গগনচুম্বী অট্টালিকা, যার অবস্থান তাইপের এক্সেইনউ এলাকায়। চীনের পেগোডাকৃতির এই স্থাপনার নির্মাতা কেটিআরটি কোম্পানি। তাইপে ১০১ অট্টালিকাটি ১০১ তলা ভূমির উপরিভাগ এবং পাঁচতলা ভূমির অভ্যন্তরে অবস্থিত। এটির উচ্চতা ১৬৬৭ ফুট। ২০১১ সালে এই টাওয়ারটি পুরস্কৃত হয় বিশ্বের উঁচু ও বৃহত্তম অট্টালিকা হিসেবে।

তাইপে ১০১ টাওয়ারে ৮৯ তলার অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে বসার স্থান। বাইরের দৃশ্য দেখার জন্য ৯১ তলায় রয়েছে সুব্যবস্থা। টাওয়ারটির ডিজাইন এমনভাবে করা, যাতে টাইফুন ঝড়ে প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের ২১৬ কিলোমিটার বেগকে প্রতিরোধ করতে পারে। এটি গত ২৫০০ বছরে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পনও প্রতিরোধ করেছে।

৫. সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার, চীন

সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার গগনচুম্বী বিশাল অট্টালিকা। এটা চীনের সাংহাইয়ের পুডংয়ে অবস্থিত। এর ডিজাইন করেছেন আমেরিকান স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান খোহন পেডারসান ফক্স। ১৯৯৭ সালে মূল নকশায় ছিল ১০১ তলা। কিন্তু ১৯৯০ সালে কাজটি সাময়িকভাবে স্থগিত হয় এশিয়ার অর্থনৈতিক মন্দায়। টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছিল কয়েকটি মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে। এর মধ্যে ছিল চীন, জাপান ও হংকংয়ের ব্যাংক, জাপানি নির্মাণ সংস্থা ও আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান বিনিয়োগকারীরা। আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক মরগান স্টেনলি সহায়তা করে। টাওয়ারটির অর্থ প্রদানকারী সংস্থা ছিল মোরি বিল্ডিং।

টাওয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২৭ আগস্ট ১৯৯৭ সালে। সাংহাই ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারটির কাজ শেষ হয় ২০০৮ সালে ১৭ জুলাই এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ২৮ আগস্ট ২০০৮ সালে।

সবচেয়ে ব্যতিক্রম দিকটি হচ্ছে সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফিন্যান্সিয়াল সেন্টারের ডিজাইনটি মূলত অট্টালিকার চূড়ায় ট্রপিজোয়েড আকৃতির। মূল ডিজাইনটি ছিল গোলাকার ও ৪৬ মিটার ব্যাসার্ধের। এটা করা হয়েছিল বাতাসের গতি কমাতে। পৌরাণিক তত্ত্বের বর্ণনা অনুযায়ী এটি চীনের চাঁদে প্রবেশদ্বারের সঙ্গে মিল থাকায় গোলাকৃতির জন্য চীনা স্থাপত্যে সাযুজ্যে পাওয়া যায়। বিদেশিসহ চীনেরা একে ঠাট্টা করে বলত বোতল খোলার ছিপি।

টাওয়ারটিতে তিনটি পৃথক পর্যবেক্ষণকারী আসন রয়েছে। একটি ৪২৩ মিটার উচ্চতায় ৯৪ তলায়। দ্বিতীয়টি ৯৭ তলায় ৪৩৯ মিটার উঁচুতে এবং শেষটি ১০০ তলায় ৪৭৪ মিটার উচ্চতায়। টাওয়ারের গগনচুম্বী ছাদের উচ্চতা ৪৯২ মিটার। এটি ছিল সে সময় বিশ্বের সবচেয়ে উঁ”ু ছাদ। ছাদ সম্পূর্ণ তৈরি করার আগ পর্যন্ত এর উচ্চতা ছিল ৫০৯ দশমিক ২ মিটার, যাতে পরে ১০১ তলার উচ্চতায় নেওয়া যায়। স্থপতি উইলিয়াম পেডেরসান  স্থাপত্য নকশায় এই ট্রেড সেন্টারটি সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্স সেন্টার, যার অপর নাম ব্রড সোল্ডার বিল্ডিং (Board Shoulder Building)। টাওয়ারের ট্রাফিজোয়েডাল অ্যাপার্চার তৈরি করা হয়েছে স্ট্রাকচারাল স্টিল আর রিইনফোর্স কংক্রিট দিয়ে।

৬. ইন্টারন্যাশনাল কর্মাস সেন্টার, হংকং

ইন্টারন্যাশনাল কর্মাস সেন্টারটি ইউনিয়ন স্কয়ার নামে পরিচিত। এটি  বাণিজ্যিক গগনচুম্বী এক অট্টালিকা। হংকংয়ের পশ্চিম কাউলুনে এর অবস্থান। বাণিজ্যিক এ টাওয়ারটির উচ্চতা প্রায় ১৫৮৮ ফুট। এই টাওয়ারটি তৈরি করা হয়েছে দুইটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সেন্টারের সঙ্গে ভিক্টোরিয়া হার্ভারের প্রবেশদ্বার হিসেবে। এটির ডিজাইনার আমেরিকার স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কোহন পেডেরসান ফক্স অ্যাসোসিয়েটের সঙ্গে যুক্ত ছিল হুং অ্যান্ড ওই ইয়াং লি. নামক কোম্পানি। বিশাল এই স্থাপত্যে রয়েছে ১১৮ তলা। আরও আছে রিটজ-কালটন হোটেল অ্যান্ড বার এবং বিশ্বের সর্বাধিক সুইমিংপুল, যার অবস্থান ১১৮ তলার ওপরে।

এমটিআর করপোরেশন লি. এবং হুং কাই প্রপার্টিজ হংকংয়ের মেট্রো অপারেটরসহ বিশাল প্রোপার্টিজ এই গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণের দায়িত্বে ছিল। ইন্টারন্যাশনাল কর্মাস সেন্টারের নির্মাণকাজটি বিভিন্ন স্তরে সমাপ্ত করতে সময় লেগেছে ২০০৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। টাওয়ারটি উদ্বোধন করা হয় ২০১১ সালে।

অট্টালিকার উচ্চতা নকশা অনুযায়ী করা হয়েছে। এটা বেশি উঁচুতে তৈরি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ, এর আশপাশে ছিল অনেক পাহাড়। মূল প্রস্তাবটিতে এই অট্টালিকাটির নাম ছিল কাউলন স্টেশন। টাওয়ারটি ডিজাইন করেছে আমেরিকান স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান খোহন পেডারসান ফক্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস সঙ্গে ছিল ওং অ্যান্ড ওইউয়েং লি.। এটিতে ১০২ তলা থেকে ১১৮ তলা পর্যন্ত পাঁচতারকা রেস্তোরাঁ রিটজ কার্লটন, হংকং, ১০১ তলায় আছে পর্যবেক্ষণ রেস্তোরাঁ, ১০০ তলায় আছে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ৯৮ থেকে ৯৯ তলায় রয়েছে স্কাই লবি, ৪৪ থেকে ৯৭ তলায় রয়েছে হাইজোন অফিস, ৪২ থেকে ৪৩ তলায় আছে স্কাই লবি, ৮ থেকে ৪২ তলায় লো-জোন অফিস, ষষ্ঠ তলা থেকে সপ্তম তলায় কনফারেন্স সেন্টার, প্রথম থেকে পঞ্চম তলায় খুচরা দোকান, বেইজমেন্টের চতুর্থ থেকে প্রথম তলায় আছে কার পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা।

চলবে…

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৬৫তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৫

প্রকৌশলী মহিউদ্দীন আহমেদ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top