যুক্তরাজ্যের স্থপতিদের শীর্ষ সংগঠন রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (RIBA) তাদের সাবেক সভাপতি অ্যালান জোন্সকে ১,৫০,০০০ পাউন্ড দিয়ে একটি দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে। বিরোধটা শুরু হয়েছিল RIBA জোন্সের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণ করেছে, তা নিয়ে।
ব্রিটিশ পেশাদার সাময়িকী আর্কিটেক্টস জার্নাল (AJ) প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। তারা RIBA-র বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের একটি খসড়া দেখতে পায়। সেখানে অর্থটি “সেটলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট” হিসেবে একজন “এক্স-অফিসিও ট্রাস্টি”কে দেওয়ার কথা লেখা আছে। আর্কিটেক্টস জার্নাল-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ব্যক্তি জোন্সই।
বিরোধের পটভূমি
জোন্স ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে RIBA-র সভাপতি হন। তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডভিত্তিক স্থপতি ও শিক্ষাবিদ। ২০২০ সালের শুরুতে RIBA তার বিষয়ে একটি “গুরুতর ঘটনার প্রতিবেদন” দাতব্য সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রক চ্যারিটি কমিশনের কাছে জমা দেয়। সে সময় জোন্স সাময়িকভাবে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরে ওই প্রতিবেদনের বিবরণ গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।
আইনি প্রতিষ্ঠান ব্রাউন জ্যাকবসনের স্বাধীন তদন্তে জোন্স অভিযোগ থেকে মুক্ত হন। ২০২০ সালের জুনে তিনি দায়িত্বে ফিরে আসেন। এরপর বিষয়টি আইনি বিরোধে গড়ায় এবং ২০২৫ সালে নিষ্পত্তি হয়।
RIBA-র অবস্থান
নিষ্পত্তির সময় RIBA-র চেয়ার জ্যাক প্রিঙ্গল জানিয়েছিলেন, জোন্সের দাবি ছিল তার সম্পর্কিত তথ্য RIBA পর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখেনি। প্রিঙ্গল বলেন, অনুমোদনহীন ফাঁসের ঘটনা ঘটায় RIBA দুঃখিত। এতে জোন্স ও তার পরিবারের ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। অর্থের অঙ্ক নিয়ে সংগঠনটি এখন গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতার কথা বলে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি কেউ অস্বীকার করেনি।
নেতৃত্বে পরিবর্তন
জোন্সের পর ২০২১ সালে সভাপতি হন সাইমন অ্যালফোর্ড। তার উত্তরসূরি মুইওয়া ওকি, এবং বর্তমান সভাপতি ক্রিস উইলিয়ামসন। ওয়েস্টন উইলিয়ামসন + পার্টনার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা উইলিয়ামসন সম্প্রতি আলোচনার জন্ম দেন। যুক্তরাজ্যের স্থপতি নিবন্ধন সংস্থা ARB-র নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে “অযৌক্তিক” আখ্যা দিয়ে তিনি নিজের “স্থপতি” উপাধি ছেড়ে দেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে জে মর্টন পরবর্তী RIBA সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
RIBA-র মতো পেশাদার সংগঠনের শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহি শুধু যুক্তরাজ্যের বিষয় নয়। বাংলাদেশের স্থপতিদেরও অনেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, সদস্য বা নেতৃত্বের স্পর্শকাতর তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব যেকোনো পেশাদার সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফাঁস হলে ব্যক্তির সুনাম ও পরিবারের ওপর যে প্রভাব পড়ে, তার আর্থিক ও নৈতিক মূল্য সংগঠনকেই দিতে হয়।
তথ্যসূত্র
ডিজেইন


















