• Home
  • নগরায়ন
  • পুরান ঢাকা পুনর্গঠনে সরকারের উদ্যোগ: স্থপতি-গবেষকদের উদ্বেগ
Image

পুরান ঢাকা পুনর্গঠনে সরকারের উদ্যোগ: স্থপতি-গবেষকদের উদ্বেগ

পুরান ঢাকাকে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকাকে একটি মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে ধাপে ধাপে সংস্কার ও উন্নয়নকাজ পরিচালনা করবে সরকার।

বৈঠকে ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও পার্কের অভাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সরকার বলে জানানো হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে।

পরিত্যক্ত বা বিতর্কিত প্লট সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে আইনি উদ্যোগ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিতে বিষয়গুলো ন্যায্যভাবে যাচাই করার সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে জাতীয় সম্পদ উদ্ধারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ বা ভূমি তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তুলতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

পুরান ঢাকাকে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ছবি: জাতীয় সংসদ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদনে বিলম্ব কমাতে ওয়ান-স্টপ সেবা চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মানজুর, সংসদ সদস্য মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, মোশাররফ হোসেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং ফেরদৌসী আহমেদ।

এদিকে এই উদ্যোগ ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থপতি ও গবেষকদের একাংশ প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মূল আপত্তি হলো, ঠিক কোন মডেল অনুসরণ করে এই পুনর্গঠন করা হবে, এর পেছনে কী ধরনের গবেষণা বা সমীক্ষা রয়েছে এবং এই পরিকল্পনা প্রণয়নে প্রকৃতপক্ষে কারা যুক্ত এসব বিষয়ে সরকারি ঘোষণায় স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় বিষয়টি অস্বচ্ছ থেকে যাচ্ছে।

সমালোচকদের ভাষ্য, শুধু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প ঘোষণা না করে পুরান ঢাকার জন্য একটি সুসংহত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা (হলিস্টিক প্ল্যান) উপস্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে এলাকার ঐতিহ্য, বাসিন্দাদের প্রয়োজন এবং নগর-পরিকল্পনাগত বাস্তবতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

তথ্যসূত্র

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

Related Posts

জাপানে কাঠের ফ্রেমে ভূমিকম্পসহনীয় স্থাপনা

জাপানের পাহাড়ি উপত্যকার প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থাপত্য ও প্রকৃতির সম্পর্ক নতুনভাবে তুলে ধরেছে সবুকুয়ার নকশা করা একটি ছোট কিন্তু…

বাঁশে বোনা সাতটি ভবনের গল্প

বাঁশ আমাদের দেশে বহু যুগ ধরেই ঘরবাড়ি, সাঁকো কিংবা বেড়া তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ। দ্রুত বেড়ে ওঠে, সহজলভ্য…

সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনন্য স্মারক

বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের মাটিতে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের নানা নিদর্শন। কোথাও প্রাচীন মসজিদ, কোথাও মন্দির, আবার কোথাও জমিদার বাড়ি…

নিউইয়র্ক সিটির চার নতুন জেলের পেছনের স্থাপত্য চিন্তা

নিউইয়র্ক সিটির এখন যে জেলে (রাইকার্স আইল্যান্ড) বন্দিদের রাখা হয়, সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তার বদলে শহরের…