Image

মালয়েশিয়ার ক্রিস্টাল মসজিদ

ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের প্রিয় দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। পর্যটনের স্বর্গরাজ্য এ দেশটিতে দেখার রয়েছে অনেক কিছুই। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, মানুষের নির্মিত অসংখ্য নান্দনিক স্থাপনাও আপনাকে মুগ্ধ করবে এ কথা বলা যায় নিশ্চিতভাবেই। এমনই এক মনোমুগ্ধকর স্থাপনা মালয়েশিয়ার কুয়ালা তেরেংগানুর ‘ক্রিস্টাল মসজিদ’। মসজিদটি ওআন ম্যান দ্বীপের ইসলামিক হেরিটেজ পার্কে অবস্থিত। মসজিদটি এর নান্দনিক  বৈশিষ্ট্যের জন্য পর্যটকদের মাঝে দারুণ সমাদৃত।

ক্রিস্টাল মসজিদ ২০০৬-০৮ এই সময়ে নির্মিত। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তেরেংগানুর সুলতান মিজান জয়নাল আবেদীন মসজিদটির উদ্বোধন করেন। ক্রিস্টাল মসজিদের অনন্য সৌন্দর্যের জন্য দর্শনার্থীদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা উল্লেখ করার মতো। নামের মতোই এটি স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ, চোখ ধাঁধানো ঔজ্জ্বল্যে ভাস্বর। এই মসজিদ নির্মাণের প্রধান উপকরণ কংক্রিট, স্টিল আর কাচ! আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে মুরিশ আর গথিক উপাদানের মিশেল মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। আলোর প্রতিফলনের কারসাজিতে দিনের প্রতিটি প্রহরে যেন এটি আলাদা আলাদা রূপ ধারণ করে! দিনের আলোয় এটি সাধারণত ধূসর দেখালেও সূর্যরশ্মির প্রতিফলনে এর গম্বুজ আর মিনারগুলোর কোনো কোনো অংশ সোনালি রং ধারণ করে। আর রাতের আঁধারে যখন এর চারটি গম্বুজ আর মিনারগুলো ক্ষণে ক্ষণে রং বদলে নীল, সবুজ, হলুদ, গোলাপি ইত্যাদি রঙের ছটায় বর্ণিল হয়ে ওঠে, তখন যে সৌন্দর্যের অবতারণা হয় তা সত্যিই অপার্থিব, ভাষায় বর্ণনাতীত।     

উইকিপিডিয়া

মূল প্রার্থনা কক্ষে রয়েছে একটি স্ফটিকের ঝাড়বাতি। এই ঝাড়বাতিটি মূল প্রার্থনা কক্ষের কেন্দ্রস্থলে বলা যায়। কাচের জানালা আর দরজায় রয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর ক্যালিগ্রাফির কারুকাজ। মসজিদে আসা প্রার্থনাকারী বা এর দর্শনার্থীদের উষ্ণ আর কোমল অনুভূতি দেওয়ার জন্য এর মেঝেতে পাতা রয়েছে নরম কার্পেট। একসঙ্গে ১ হাজার ৫০০ এরও বেশি মানুষ এখানে সালাত আদায় করতে পারে। সালাত আদায়কারীদের জন্য মসজিদ থেকেই আলখেল্লা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। যদি কেউ মসজিদটি ঘুরে দেখার বাসনা জানায়, তবে তার জন্যও রয়েছে আলাদা গাইডের ব্যবস্থা। মসজিদের বিল্ট-ইন আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার আর ওয়াই-ফাইয়ের সাহায্যে চাইলেই ইন্টারনেটের সংযোগ মেলে তৎক্ষণাৎ।

পৃথিবীর প্রথম সম্পূর্ণ কাচ, কংক্রিট ও স্টিলের তৈরি এ মসজিদে সালাত আদায় ও এক নজর দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে অসংখ্য পর্যটক, যা দেশটির অর্থনীতিতে রাখছে অনন্য অবদান। শুধু তা-ই নয়, ক্রিস্টাল মসজিদের অনন্য নকশা আর নির্মাণশৈলী স্থাপনাটিকে এনে দিয়েছে পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর মসজিদের স্বীকৃতি।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৯তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬।

Related Posts

আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগে ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড জিতলেন বাংলাদেশের জয় সাহা

‘সনি ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড’ বিশ্বে অনেক মর্যাদাপূর্ণ একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা। ২০২৬ এর প্রতিযোগিতায় আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগে জয়…

শহর,সেতু আর সুরের টেনেসির আর্টস সেন্টার

বর্তমানে সমসাময়িক স্থাপত্যের একটি বড় দিক হলো ভবনকে শহরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। এই…

জাহা হাদিদের গেটওয়ে সেন্টার হংকংয়ের ভবিষ্যৎ শহর

হংকংয়ের ওয়েস্ট কাউলুন এলাকায় নির্মিত বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান জাহা হাদিদ আর্কিটেক্টস–এর বড় একটি প্রকল্প গেটওয়ে সেন্টার। এটি মূলত…

এক মাইল সবুজ

আর পাঁচটা ফ্লাইওভারের মতোই ছিল মুম্বাই শহরের সেনাপতি বাপাট মার্গ ফ্লাইওভার। কিছু ফ্লাইওভারের স্ট্রাকচারের মূল ভিত্তি থাকে মাঝ…

01~1
previous arrow
next arrow

CSRM

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

Buet
কী কী থাকছে আকাশছোঁয়া শান্তা পিনাকলে
সমুদ্রবাণিজ্যের বর্জ্য থেকে অনন্যা এক স্থাপত্য
Home of Haor
Weather
Youth Park
Tower
শহর,সেতু আর সুরের টেনেসির আর্টস সেন্টার
Al Hamra