Image

উড়ুক্ক হোটেল হোটেলিকপ্টার

এখন পর্যন্ত আপনি কত ধরনের হোটেলের কথা শুনেছেন? হোটেলের জগৎ নেহাত কম বিচিত্র নয়। সাগরের তলায়, পাহাড়ের চূড়ায় কিংবা বরফের চাঁইয়ের মাঝে খোলা কাচের ইগলুÑএসব বোধ হয় এখন ক্লিশে। পাঁচ তারকা থেকে হোটেল এখন ছয়, সাত, আট এমনকি নয় তারকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। আকাশছোঁয়া হোটেলের সংখ্যাও এখন আকাশ ছুঁতে চাইছে। কিন্তু আকাশে ওড়া হোটেল? আমি নিশ্চিত, এটি আপনি দেখেননি এখনো।

আসুন, এবার ব্যতিক্রমধর্মী এ রকমই আকাশে ওড়া হোটেলের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করে দিই। ‘হোটেলিকপ্টার’ (Hotelicopter) হেলিকপ্টারের ভেতর পুরোদস্তুর পাঁচ তারকা সুবিধাসংবলিত একটা হোটেল। ২০০৪ সালের শুরুর দিকের কথা, হোটেলিকপ্টারের আইডিয়ার পেছনে যে কোম্পানি, তারা ঠিক করল পৃথিবীর সব থেকে বড় হেলিকপ্টারটিকে নিয়ে নতুন কিছু করবে তারা। যেই ভাবা সেই কাজ, এটি দিয়ে একটি হোটেল বানিয়ে ফেলল। শুধু তা-ই নয়, এই হোটেল কিন্তু শুধু হেলিকপ্টারের মতো দেখতে হোটেলই হল না, এটি রীতিমতো হেলিকপ্টারের মতো আকাশেও উড়তে সক্ষম। তাদের হোটেলিকপ্টার হবে পৃথিবীর প্রথম উড়ন্ত হোটেল। ফ্লাইং সসার শুধু কল্পনায় থাকবে না। এ রকম ফ্লাইং সসারে আপনি চাইলে অবকাশ যাপন করতে পারবেন। আইডিয়াটা দারুণ না? এই উদ্দেশে তারা সোভিয়েত অর্থাৎ রাশিয়াদের তৈরি Mil V-১২ মডেলের মিলিটারি হেলিকপ্টারটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হোটেলে রূপান্তরের কাজ শুরু করে। কোম্পানিটি ২০০৯ সালে প্রথম হোটেলটির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালায়।

ডিজাইনবুম

হোটেলিকপ্টারে রয়েছে ১৮টি বিলাসবহুল কামরা। শব্দনিরোধক এর প্রতিটি কামরার অন্দরসজ্জায় আছে একটি কুইন সাইজের বেড, একটি মিনি বার, কফি মেশিন, তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগসহ আপনি একটি পাঁচ তারকা উড়ন্ত হোটেল থেকে যত ধরনের সুবিধা পাবেন বলে আশা করেন, তার সবই। চাই কি রুম সার্ভিসও আপনার সেবায় হাজির। তবে এই সুবিধা টেক অফের এক ঘণ্টা পর থেকে প্রযোজ্য আর এটি চালু থাকবে ল্যান্ডিংয়ের এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত।

হোটেলিকপ্টারের অসাধারণ ক্রু আর স্টাফদের সব থেকে বেশি প্রাধান্য থাকবে আপনার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তায়। হোটেলিকপ্টারটি উড়ন্ত যানের সমস্ত নিরাপত্তা মান রক্ষা করে চলবে। হোটেলিকপ্টারটির দৈর্ঘ্যে ৪২ মিটার, উচ্চতা ২৮ মিটার। টেক অফের সময় এটি ১,০৫,৮৫০ কেজি পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম। এর গতিবেগ সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ২৫৫ কিলোমিটার। স্বাভাবিক গতিবেগ ২৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।

এ রকম একটি হোটেলের অতিথি হতে কি আপনি ইচ্ছুক নন? সাথে ব্যতিক্রমী কিছুর স্বাদ পেতে? যদি সে রকম কোনো ইচ্ছে জাগে, তাহলে আমি দুঃক্ষিত, আপাতত কল্পলোকেই আপনাকে এমন হোটেলে বুকিং দিতে হবে। এতক্ষণ এ বিষয়ে যা কিছু জানলেন, সম্পূর্ণ ভুলে যান। আসলে পৃথিবীতে অনেক কিছু থাকলেও এখনো পর্যন্ত এমন কিছু এখনো চালু হয়নি। এটি একটি এপ্রিল ফুল জোক (প্রাকটিক্যাল জোক!!)। একটি হোটেল সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি তাদের ওয়েবের প্রচারণার জন্য এমন একটি কাল্পনিক হোটেলের প্রচারণা চালায়। কোম্পানিটির নাম (VibeAgent)। পরে এরা হোটেলিকপ্টার নামে তাদের ওয়েবসাইট চালু করে। এই ওয়েবসাইটের প্রচারণার জন্যই কম্পিউটারের সাহায্যে তৈরি এই ব্যতিক্রমধর্মী কাল্পনিক একটি হোটেলের ছবি ও বিস্তারিত বর্ণনা প্রকাশ করতে থাকে। প্রযুক্তির যুগ বলেই পশ্চিমা মিডিয়াও তাদের এই এপ্রিল ফুল জোক ধরতে পারেনি। শুরুতে সবাই এটিকে সত্য বলেই ধরে নিয়েছিল। হোটেলিকপ্টার এখনো কাল্পনিক তো কী হয়েছে, কে বলতে পারে এটি ভবিষ্যতে সত্য হবে না?

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৮৯তম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৭।

Related Posts

অস্ট্রিয়ার আল্পসে জলের আয়না: স্নোহেটার “লেখ মাউন্টেন মিরর”

পাহাড়ের চূড়ায় উঠে চারপাশের দৃশ্য দেখতে আমরা সবাই পছন্দ করি। কিন্তু সেই দৃশ্যকে যদি পায়ের নিচে জলের ওপর…

বাঁশে বোনা সাতটি ভবনের গল্প

বাঁশ আমাদের দেশে বহু যুগ ধরেই ঘরবাড়ি, সাঁকো কিংবা বেড়া তৈরির অন্যতম প্রধান উপকরণ। দ্রুত বেড়ে ওঠে, সহজলভ্য…

নিউইয়র্কের ফুটপাতে অস্থায়ী শেড

নগর স্থাপত্য সাধারণত কংক্রিট, ইস্পাত, কাচ কিংবা পাথরের মতো শক্ত ও স্থায়ী উপাদানের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়।…

প্রতি বছর পুড়িয়ে ফেলা হয় যে নগরী

স্থাপত্য মানেই কি ইট, কংক্রিট, ইস্পাত আর বছরের পর বছর টিকে থাকা কোনো ভবন? উত্তরটি যদি হয়—না, তাহলে…

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

বায়তুর রউফ জামে মসজিদ স্থপতি মেরিনার অনন্য স্থাপত্যকর্ম
করিডোর
house
01
হাসপাতালে রোগী-কক্ষে ঘরোয়া আবহ দিচ্ছে কোয়ালুর নতুন ফার্নিচার
10
09
ফর্ম ফলোজ ফিকশন: ফাংশনের বাইরে ছয়টি ডিজাইনের অনুসন্ধান
প্রকৃতির দামও হিসাব করছে ভুটান: জিডিপির পাশে জিইপি