ডায়মন্ড প্লেট মূলত ধাতব পদার্থের সংমিশ্রণে তৈরি এক প্রকার নিরেট স্লাব। সাধারণত প্লেটের নিচের দিকে সমান এবং উপরিভাগে ডায়মন্ডের মতো নকশা করা হয়। ডায়মন্ড প্লেট তৈরিতে ব্যবহার করা হয় স্টিল, স্টেইনলেস স্টিল আর অ্যালুমিনিয়াম, এই তিন ধরনের ধাতু। ডায়মন্ড প্লেটের রয়েছে বহুবিদ ব্যবহার। সাধারণত কোনো ধাতব বস্তুর ওপর দিয়ে হাঁটতে গেলে পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। শিল্পকারখানায় যেখানে ভারী বস্তুর ওঠানামা বেশি কিংবা যেখানকার আবহাওয়া একটু স্যাঁতেসেঁতে ধরনের, সেখানকার মেঝেতে ধাতুর প্রলেপ দেওয়াটা সুবিধাজনক। কেননা এতে মেঝের ক্ষয় অনেক কম হয় এবং এটি বেশ টেকসইও। এ ছাড়া শপিংমল বা ডক এরিয়াতে সিঁড়ির বিকল্প ঢালু রাস্তায়ও এ ধরনের মেঝে দেখা যায়। ডায়মন্ড প্লেট এসব জায়গায় খুব উপযুক্ত। এর ডায়মন্ডসদৃশ অমসৃণ উপরিভাগ পিছলে পড়ার শঙ্কা কমিয়ে দেয় অনেকটাই। আর এটি দীর্ঘস্থায়ী মজবুত আর দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ডায়মন্ড প্লেটের ব্যবহার ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।
ডায়মন্ড প্লেট মূলত চেকার প্লেট, ট্রিড প্লেট কিংবা ডার্বার ফ্লোর প্লেট নামেও পরিচিত। ডায়মন্ড প্যাটার্ন দেখতে জটিল হলেও এর তৈরির প্রক্রিয়া মোটামুটি বেশ সহজ। যখন স্ট্যান্ডার্ড প্লেট বা শিট তৈরি করা হয় তখন বড় একটি রোলারের সাহায্যে কয়েকবার প্রলেপ দেওয়া হয় (যতক্ষণ পর্যন্ত না কাঙ্খিত পুরুত্ব অর্জিত হয়)। এভাবে প্লেটটি রেডি হয়ে যাওয়ার পর শেষ প্রলেপ দেওয়ার সময় ডায়মন্ডের নকশা আঁকা হয়। তাই প্লেটের শুধু এক দিকে (উপরিভাগ) ডায়মন্ডের নকশার খাঁজ থাকে, অন্য পাশটি অন্যান্য সাধারণ শিটের মতোই সমান বা মসৃণ দেখতে হয়। অ্যালুমিনিয়াম আর স্টিলের প্লেট তৈরিতে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে, অ্যালুমিনিয়ামের প্লেটের ক্ষেত্রে ডায়মন্ড নকশাটি স্ট্যাম্পের মতো ছাপ দিয়ে বসানো হয় আর স্টিলের ক্ষেত্রে এটি তপ্ত রোলারের সাহায্যে করা হয়। ধাতুর গলনাঙ্কের থেকে কম তাপ ব্যবহার করে এই ছাপ বসানো হয় যেন প্লেটের আকার ঠিক থাকে, নইলে ধাতু গলে প্লেটটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কাঙ্খিত আকৃতি পাওয়ার পর ধাতুর প্লেটটি ধীরে ধীরে ঠান্ডা করা হয়।
যদিও ডায়মন্ড প্লেট তৈরির জন্য আরও অনেক পদ্ধতিই প্রচলিত আছে, তবে রোলিং পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ আর সাশ্রয়ী। কারণ, এটা অন্যান্য শিট বা প্লেট তৈরির মতোই, শুধু এর রোলারের নকশাটা ভিন্ন (উপরিতলের নকশার খাঁজ বসানোর জন্য)। তাই একই ধরনের ধাতব প্লেটের ব্যবহারের থেকে ব্যবহারিক বিচিত্রতা আর উপযোগিতার ক্ষেত্রে ডায়মন্ড প্লেটের ব্যবহার বেশি সুবিধাজনক ও সাশ্রয়ী।
সাধারণত যেসব চলাচলের রাস্তায় নিরাপত্তা (পিছলে যাওয়ার শঙ্কা) জরুরি, সেসব জায়গায় ডায়মন্ড প্লেটের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। যেমন-
সিঁড়ির বিকল্প রাস্তা ও হাঁটার ঢালু রাস্তা
শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ইত্যাদি জায়গায় ঢালু রাস্তার ব্যবহার বেশি। মালামাল পরিবহন, রোগীর স্ট্রেচার বহন কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধীবান্ধব রাস্তার ক্ষেত্রে ডায়মন্ড প্লেটের ব্যবহারই বেশি। এতে কাজে সুবিধা হয়, ভবনের ক্ষয়রোধ হয় আর সাশ্রয়ের পাশাপাশি নান্দনিক বাড়ে সৌন্দর্যও। এ ছাড়া ভবনের প্রবেশমুখের রাস্তায়ও এটির বেশ ব্যবহার দেখা যায়। বাইরের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, বৃষ্টি বা অন্যান্য কোনো কারণে রাস্তা ভিজে গেলেও পিছলে যাওয়ার ভয় থাকে না।
যানবাহন চলাচলের রাস্তায়
পিকআপ, ট্রাক ইত্যাদি ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে পিচ্ছিল রাস্তা খুব বিপজ্জনক। তাই রাস্তায় বাম্পার হিসেবে ডায়মন্ড প্লেট ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ট্রাকে মালামাল ওঠানোর সময়ও ডায়মন্ড প্লেটের ব্যবহার বেশ সুবিধাজনক।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে
অ্যালুমিনিয়াম, স্টেইনলেস স্টিল আর হট রোলড স্টিলের ডায়মন্ড প্লেটকে বিভিন্ন আকৃতি দেওয়া যায়। ক্রীড়া জগতে ডায়মন্ড প্লেটের ব্যবহার তাই বেশ সমাদৃত। দৌড়ের জন্য ট্র্যাক, ব্যাকলেস, টেবিলের উপরিতল ইত্যাদি কাজে ডায়মন্ড প্লেট ব্যবহৃত হয়।
এ ছাড়া ডায়মন্ড প্লেটের আরও কিছু ব্যবহার রয়েছে-
- শিল্পকারখানার মেঝেতে
- ডক এরিয়া
- ওয়্যারহাউস
- প্যাসেঞ্জার ও ফ্রেইট টার্মিনাল
- টোভেয়র
- প্রসেসিং প্লান্টস
- জয়েন্ট শোল্ডার রেইনফোর্সমেন্ট
- ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার ইত্যাদি।
ডায়মন্ড প্লেটের যত সুবিধা
- মরিচাবিহীন ধাতবতল, যা স্যাঁতসেঁতে, ভেজা আবহাওয়ায়ও একই রকম নিরাপদ ও কম পিচ্ছল থাকে
- মসৃণতলের কংক্রিটের থেকে ছয়গুণ বেশি পর্যন্ত ক্ষয়রোধসম্পন্ন
- ধাতব প্লেট হওয়ার কারণে কোনো ধুলাবালু হয় না
- নিশ্ছিদ্র বিধায় কোনো তরল ভেদ করতে পারে না
- ধুলাবালুমুক্ত ও সহজেই রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়
- সিমেন্টের প্রাকৃতিক রংসহ দশটি ভিন্ন ভিন্ন রঙে পাওয়া যায়
- ১৪.৬ কেজি/ঘনমিটার পর্যন্ত কাভারেজ দিতে সক্ষম।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯২তম সংখ্যা, ডিসেম্বর ২০১৭।