আলবুকার্কি হচ্ছে নিউ মেক্সিকো স্টেটের সবচে বড় শহর। নিউ মেক্সিকোর রাজধানী সান্টা ফে, সেখানে বাণিজ্যিক কিংবা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা বেশি হলেও আয়তনে আর জনসংখ্যার বিবেচনায় আলবুকার্কির গুরুত্ব নেহাত কম নয়। আমেরিকার গরিব স্টেটের নাম বলতে গেলে নিশ্চিতভাবেই সেখানে নিউ মেক্সিকোর নাম আসবে, সঙ্গে আলবুকার্কিরও। ঢাকার মতো ব্যস্ত নাগরিক জীবন ছেড়ে এই দূর পরবাসে পাহাড়ি মরু অঞ্চলে বাস করতে আসা নেহাতই ভাগ্যের ফেরে। স্বামী ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোর শিক্ষার্থী হওয়ার সুবাদে আমাদের বসবাস ইউনিভার্সিটির ফ্যামিলি হাউজিংয়ে।
বাংলাদেশের সবুজ দেখে বড় হওয়া অভ্যস্ত চোখে ধূসর আলবুকার্কিকে কেমন যেন প্রাণহীন মনে হতো! এখানে এসেছি শীতের শেষ দিকে। চারদিকে রুক্ষ আর মলিন প্রকৃতি। পাতাবিহীন বৃক্ষ আর ছাইরঙা পাহাড়। কোথাও ছিঁটে ফোঁটা ঘাস পর্যন্ত নেই। এফ টু নামক ভিসা নিয়ে এসেছি, গৃহিণীর গৃহবন্দী জীবন। দেড় বছরের অতি চঞ্চল বাচ্চা, এক মুহূর্তে ঘরে থাকতে চায় না। জানতে পারি হাউজিংয়েই রয়েছে বাচ্চাদের খেলার জায়গা। শীতকাল হলেও অসুবিধে নেই। ইনডোর গেম জোনে খেলতে পারবে। বাচ্চার খেলার জায়গার আগে হাউজিংয়ের বিবরণ দিয়ে নেই একটু। মাঝে একটি বড় মাঠ, যার একপাশে বাচ্চাদের খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম, বাস্কেট বলের কোর্ট আর মাঠের চারপাশ দিয়ে হাঁটার পথ। এই মাঠের চারদিকে চারটি ব্লক, প্রতিটি ব্লকে তিনটি বিল্ডিংয়ে ৫০টি করে অ্যাপার্টমেন্ট। ২০০টি অ্যাপার্টমেন্টে ২০০টি পরিবারের বসবাস, সবাই ইউনিভার্সিটির কিছু না কিছুর সঙ্গে জড়িত (এখানে বাসা ভাড়া পাবার পূর্বশর্তই এটি)। মাঠের একপাশে কমিউনিটি সেন্টার। সেখানে বাচ্চাদের বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটির সুবিধা ও অফিসরুম। শূন্য থেকে আঠারো বছরের শিশুদের জন্য বয়সোপযোগী নানা ধরনের খেলনার পাশাপাশি আছে বই, ছবি আঁকার সরঞ্জাম আর ক্রাফটের নানা আয়োজন। তাই তো এটি মেয়ের সময় কাটানো সমস্যার খুব সহজ সমাধান। হাউজিং যেহেতু একটি কমিউনিটি, তাই একটি কমিউনিটিতে যা থাকা উচিত বলে এদের আইনে আছে, তার সবকিছুই এখানে বিদ্যমানÑনিরাপত্তা, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, পার্ক, হাঁটার জায়গা প্রভৃতি।
আলবুকার্কিতে উঁচু ভবন নেই বললেই চলে। সাকুল্যে ১০টি, প্রতিটিই বাণিজ্যিক ভবন। এখানে বাড়ি তৈরিতে ইটের কোনো ব্যবহার নেই। স্টিলের ফ্রেম আর কাঠের সমন্বয়ে তৈরি করা বিল্ডিং। যেহেতু আবহাওয়া কিছুটা রুক্ষ সাথে শীতের প্রকোপও আছে, এ ছাড়া বাতাসের বেগও অনেক বেশি (গড় ১৬-১৮ মাইল/ঘণ্টা) তাই দেয়ালের ফাঁকে করা হয়েছে ফোমের ব্যবহার। তাপমাত্রার নিয়ন্ত্রণ ও শব্দ নিয়ন্ত্রণে যেটি খুব সহায়ক। প্রতিটি বাড়িতেই আছে হিটিং আর কুলিং সিস্টেম। এখানে গরমটাও অনেক বেশি, বাতাসে আর্দ্রতা একেবারেই কম, যদিও পাহাড়ি এলাকা বলে গরমের সময় বৃষ্টিপাত হয়। আলবুকার্কিতে রান্নার কাজে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিউ মেক্সিকোতে আছে অনেক প্রাকৃতিক খনিজ এলাকা। এখানে তেল ও গ্যাস পাওয়া যায়।
শীতের শেষ না হতেই গাছে গাছে নতুন কুঁড়ির দেখা মেলে। সপ্তাহ না যেতেই সেখানে ফুল আর পাতার পরিস্ফুটন। তখন আলবুকার্কির অন্য রূপ। রাস্তার দুধারে চেরির সমারোহ। ম্যাপল আর অন্যান্য পাতাঝরা গাছে ঘন সবুজ পাতার বাহার, সঙ্গে আছে চিরহরিৎ পাইনের সারি। আলবুকার্কিতে মোট ২৯১টি পাবলিক পার্ক রয়েছে (২০১৭-এর হিসাব) যার আয়তন প্রায় ৪৩ বর্গমাইল, যা কি না আলবুকার্কির মোট আয়তনের ২৩ শতাংশ। ভাবা যায়? ৮২ শতাংশ নাগরিকের বাসস্থান থেকে এসব পার্ক হাঁটা দূরত্বে। এই পার্কগুলোর দেখাশোনা সরকারিভাবেই হয়ে থাকে। এ ছাড়া এখানে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা আর বায়ো-অ্যাকুরিয়াম আছে। আর নদীর পাড়ে খুব ছিমছাম একটি বিচ-টিংলি বিচ।
আমেরিকানদের অদ্ভুত স্বভাব হচ্ছে ছোট জিনিসের গালভরা নাম দেওয়া আর বড় জিনিসের ছোট নাম। উদাহরণ চান? নদীর পাড়ের শান বাঁধানো পুকুরের নাম বিচ আর ইউনিভার্সিটির আস্ত একটা গবেষণার সুযোগসংবলিত ডিপার্টমেন্টের নাম স্কুল! টিংলি বিচে নানা জাতের হাঁস আছে, সেগুলোর দিকে খাবার ছুড়ে দিতে বাচ্চাদের সঙ্গে সঙ্গে বড়রাও ভীষণ মজা পায়। ন্যাশনাল মিউজিয়াম, হিস্টোরিক্যাল পার্ক, এম্পিথিয়েটার আর স্টেডিয়ামসহ বিনোদনের রয়েছে যথেষ্ট ব্যবস্থা। সবখানেই রয়েছে বাচ্চাদের নিয়ে যাওয়ার সুযোগ। আর সব থেকে যেটি বেশি জরুরি এদের সব রাস্তঘাটা, বিল্ডিং, যেকোনো পাবলিক প্লেস বাচ্চা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য ভীষণ উপযোগী। প্রতিটি পার্কিং লটে হ্যান্ডিক্যাপ পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে আলাদা মার্কিং। সেখানে অন্য কেউ পার্কিং করতে পারবে না, কোনো পরিস্থিতিতেই না। আইন ভঙ্গ করলেই জরিমানা। এখানে শারীরিকভাবে অক্ষম যে কেউ নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারে কোনো প্রকার সাহায্য আর অসুবিধে ছাড়াই। বাসে ওঠা, নিজে নিজে বাজার করা বা কোথাও যাওয়াÑসবটাই সম্ভব সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার জন্য।
বর্তমান যুগে কর্মব্যস্ত বাবা-মায়ের জন্য ২৪ ঘণ্টা বাচ্চাকে সময় দেওয়া প্রায় অসম্ভব। আমাদের দেশের অধিকাংশ কর্মজীবী মা নিজের পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন শুধু বাচ্চাকে দেখাশোনার কোনো ভালো ব্যবস্থা না থাকায়। আমেরিকার মতো উন্নত দেশ দিন দিন আরও উন্নতির শিখরে এগিয়ে যাচ্ছে কিছুটা এ কারণেও। এখানে সব বড় প্রতিষ্ঠানেই আছে ডে-কেয়ার সেন্টার। এ ছাড়া পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি শিশু দিবা-যত্ন কেন্দ্র তো রয়েছেই। অনেক কোম্পানিতেই রয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম (মাসের কয়েকটি দিন প্রত্যেক কর্মচারীই বাড়ি থেকে অফিস করার সুবিধা পেয়ে থাকেন)-এর সুবিধা, তাই বাচ্চার অসুখবিসুখ বা পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনে আলাদা করে ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এতে অফিস এবং চাকুরে দুজনেই লাভবান হচ্ছে।
সময় কাটাতে, বই পড়তে বা বাচ্চাকে নিয়ে খেলতে চাইলে যেকোনো সময়ে চলে যেতে পারেন আপনার বাড়ির পাশের পার্কটিতে। সেখানে চাইলে ঘাসের ওপর গড়াগড়ি দিতে পারেন, বেঞ্চে বসে থাকতে পারেন অথবা চাইলে বারবিকিউয়ে খাবার ঝলসিয়ে ছোটখাটো পিকনিকের আয়োজন করতে পারেন। প্রতিটি পার্কেই এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি শহর বাসযোগ্য হয় আসলে কিসের বিচারে? নাগরিক সুবিধা দিয়েই তো, নাকি? ঢাকা শহর ছেড়ে না এলে কখনো কি জানা হতো নাগরিক সুবিধা আসলে কাকে বলে? নিজের শহর বলে ঢাকার প্রতি আমাদের সবারই একটি অন্য রকম টান আছে বৈকি! তাই বলে তার অসুবিধাকে সত্যিই অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
কিছু উদাহরণ দিই। প্রথমেই আসুন বাসা ভাড়া নিয়ে। মেগাসিটিতে সবার নিজস্ব বাসস্থান থাকবে এই ভাবনাটা খুব কাজের নয়। তাই ভাড়াবাসায় থাকা খুব স্বাভাবিক বিষয়। আলবুকার্কিতে আপনি কোনো বাসা ভাড়া নিতে গেলে সেখানে কিছু গেজেট আগে থেকে থাকবে (ফুল-ফার্নিশড বাসা অন্য বিষয়- সেখানে একটি বাসায় যা থাকা প্রয়োজন তার সবই থাকবে)। যেমন- চুলা, একটি মাঝারি আকারের ফ্রিজ ইত্যাদি। এগুলো নষ্ট হলে বা বাসার অন্যান্য জিনিস বদলানোর বিষয় থাকলে সেটি বাড়িওয়ালা পালটে দেবেন যদি না এতে আপনার দোষ থাকে। এর জন্য কোনো বাড়তি সার্ভিস চার্জ নেই।
যেকোনো পাবলিক প্লেস যেমন শপিং মল, রেস্টুরেন্ট, গ্যাস স্টেশন, পার্ক, লাইব্রেরি ইত্যাদি সব জায়গাতেই পুরুষ এবং নারীদের জন্য সব ধরনের সুবিধাসহ আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশে যেটি এখনো কল্পনার পর্যায়ে। কিন্তু এটি যে কী ভীষণ জরুরি একটি বিষয়, সেটি আমরা প্রায়ই ভুলে যায়। পথচারীদের অনাকাক্সিক্ষত আচরণে আমরা সমালোচনা করি অথচ তার দিকে আঙুল তোলার আগে ভাবি না তার জন্য কী সুব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। এখানে সবকিছুতে বাচ্চা, নারী এবং শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য সবখানেই সর্বাধিকার। বাস বা ট্রেনের মতো পাবলিক পরিবহনে তাদের জন্য যে সংরক্ষিত আসন থাকে, সেখানে কেউ বসেন না, বরং জায়গা ফাঁকা থাকলেও লোকে দাঁড়িয়ে যান। রাস্তাঘাটে বা কোনো স্থানেই কেউ আবর্জনা ফেলেন না, সেটা যতটা নিজেদের নাগরিক সচেতনতা ঠিক ততটাই জরিমানার ভয় বা আইনের শাসন।
আইনের প্রয়োগ এতটাই কঠিন যে নাগরিকেরা বাধ্য হন সঠিক নিয়ম মেনে চলতে। রাস্তা, পার্ক, শপিং সবখানেই বিভিন্ন সাইনবোর্ডে সেখানকার কাক্সিক্ষত আচরণের নিয়মকানুন, সতর্কবাণী কিংবা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া থাকে। আলবুকার্কির দ্বিতীয় ভাষা স্প্যানিশ হওয়ার কারণে এসব সাইনবোর্ডে ইংরেজি ও স্প্যানিশ দুই ভাষারই দেখা মেলে। আমেরিকাতে অ্যালকোহল বা ধূমপান নিষিদ্ধ নয় (পাশের রাজ্য কলোরাডোতে মারিজুয়ানা বা গাঁজাও নিষিদ্ধ নয়)। তবে তার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছাতে হবে (এসব ক্ষেত্রে এখানে ২১ বছর বয়সকে প্রাপ্ত বয়স্ক ধরা হয়) আর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। কোনো প্রকার মাদক গ্রহণ করে আপনি গাড়ি চালাতে পারবেন না, স্মোকিং জোনের বাইরে ধূমপান করতে পারবেন না। তাই এত দিন হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো মাতাল নজরে পড়েনি। আর সিগারেটের ধোঁয়ার কারণে যে অসুবিধা, তার জন্য কাউকে বলতে হয়নি ‘ভাই প্লিজ, একটু সরে যাবেন, আমার সঙ্গে বাচ্চা আছে।’ যদিও এখানে অ্যালকোহল খুব সস্তায় মেলে (সেই তুলনায় সিগারেটের কিছুটা উচ্চমূল্য)।
আর আপনার যেকোনো সাহায্যে ‘৯১১’ সার্ভিস তো রয়েছেই। মেডিকেল ইমারজেন্সি, পারিবারিক কলহ, কোনো দুর্ঘটনা যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনি তাদের সাহায্য চাইতে পারেন। এসব সার্ভিসও আপনাকে সুনাগরিক হয়ে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে বৈকি! আপনি যখন নিশ্চিতভাবেই জানেন কাউকে আঘাত করলে জরিমানাসহ জেলের ভাত নিশ্চিত, সে আপনার ঘরের বউ হোক, রাস্তার লোক হোক, তখন কাউকে আঘাত করার আগে আপনি অন্তত দুইবার ভাববেন কাজটি করা ঠিক হবে কি না!
আলবুকার্কির একটি বিষয় অবশ্য আমার কাছে বাংলাদেশের থেকেও কম করিতকর্মা মনে হয়েছে। সেটি হচ্ছে হাসপাতালের ইমারেজন্সি সার্ভিস। ধরুন, আপনার মাথা ফেটে গেল। আপনি কী করবেন? আপনি অথবা আপনার কাছের মানুষ নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাবেন, ওরা পাঁচ মিনিটেই আপনার জরুরি চিকিৎসাসেবা শুরু করে দেবেন, সেখানে ডাক্তার উপস্থিত থাকুন আর না থাকুন। এখানে সেটি হওয়ার জো নেই। হাসপাতালের লম্বা নিয়মকানুনের পথ পেরিয়ে আপনার কাছে চিকিৎসাসেবা যখন পৌঁছাবে, ততক্ষণে আপনার অবস্থা আর নাই-বা বলি। হাসপাতালে কোনো ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতেও আপনাকে গলদঘর্ম হতে হবে। সেটি পেতে দুই দিন থেকে দুই মাসও হয়ে যেতে পারে। আর যদি আপনার মেডিকেল ইনস্যুরেন্স না থাকে তাহলে চিকিৎসার যে আকাশচুম্বী খরচ, সেটি সারা জীবনের আয় দিয়েও শোধ করতে পারবেন কি না চিন্তার বিষয়। তবে চিকিৎসার মান? সেটি নিয়ে নিশ্চিত থাকুন। একবার ডাক্তার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলে সেটি যে সব থেকে সেরাটিই পাবেন তার গ্যারান্টি তারা লিখিতভাবেই দেবে। এখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ডাক্তার প্রেসক্রিপশন কখনো রোগীর কাছে দেন না। সেটি রোগীর পছন্দ অনুযায়ী শহরের যেকোনো ফার্মেসিতে সরাসরি পাঠিয়ে দেবেন। রোগী সেখান থেকে তাঁর ওষুধ এবং ওষুধের নিয়মকানুন সংগ্রহ করে নেবেন। আর ফার্মাসিস্ট প্রতিটি ওষুধের ফাইলে সেই ওষুধের ব্যবহারবিধি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বিশদ বিবরণ দিয়ে দেবেন।
নাগরিক সুবিধার আরেকটি উদাহরণ দিই। ধরুন আপনি বাজার থেকে এক প্যাকেট ফল কিনেছেন। বাড়িতে এনে প্যাকেট খুলে দেখলেন কিছু ফল নষ্ট। কেনাকাটার রিসিট নিয়ে আর ফলের প্যাকেট নিয়ে সেই দোকানে চলে যান। আপনার ফলের প্যাকেট নিশ্চিতভাবেই ওরা পালটে দেবে। আমার মেয়ের জন্য স্ট্রলার কিনেছিলাম ওয়ালমার্ট থেকে। কিছুদিন ব্যবহার করার পর দেখা গেল জিনিসটা ঠিক আমাদের চাহিদামাফিক হয়নি। প্রায় তিন সপ্তাহ পরে আমরা স্ট্রলারটি ফেরত দিয়েছিলাম। ওয়ালমার্ট কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুরো দামটি ফেরত দিয়েছিল। ভোক্তা অধিকার আইন এখানে পুরো মাত্রাই বলবৎ।
আলবুকার্কির সান্ডিয়া ক্রেস্ট হচ্ছে নিউ মেক্সিকোর সব থেকে উঁচু স্থান। ১০ হাজার ফুটেরও বেশি (১০,৬৭৯ ফুট) উচ্চতার এই পাহাড়ের চূড়া থেকে পুরো আলবুকার্কি শহর দেখা যায়। একে অনেকেই নিউ মেক্সিকোর আকাশ-দ্বীপ বলে থাকে। অত উঁচুতেও পার্কিং, খাবার এবং পাবলিক টয়েলেটের সুব্যবস্থা আছে। পাহাড়ের কিনারে শক্ত রেলিং দেওয়া যেন কেউ পড়ে না যায়। শারীরিকভাবে অক্ষম বলে আপনি পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন না, তা হয় না। যতদূর সম্ভব হুইলচেয়ার চলাচলের জন্য রাস্তা করে রাখা আছে। আর যেখানে এ ধরনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না, সেখানে সাইনবোর্ডে সেটি উল্লেখ করেই দেওয়া থাকে যে এখানে এ ধরনের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হয়নি। আলবুকার্কির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল বেলুন ফিয়েস্তা’। বিশ্বের সব থেকে বড় বেলুন ওড়ানোর উৎসবটি প্রতিবছর অক্টোবরে এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। আপনি চাইলে সেই বেলুনের একটিতে সপরিবারে আকাশেও উড়তে পারেন। উড়ার আমন্ত্রণ রইল!
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০২তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৮