দেশের সবচেয়ে উঁচু ভবন ‘শান্তা পিনাকল’। সম্প্রতি এ ভনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ নির্মিত ৪০ তলা এই ভবনটির আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরও সম্পন্ন হয়েছে গ্রাহক, জমির মালিক, প্রকল্পের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থপতির উপস্থিতিতে।
নি:সন্দেহে আধুনিক যুগে বাংলাদেশ স্কাইস্ক্র্যাপার ও সুউঁচ্চ ভবন নির্মাণে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয় উন্নয়নশীল বাংলাদেশের নির্মাণ সক্ষমতা।
‘শান্তা পিনাকল’ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সর্বাধুনিক সুযোগ, সুবিধা বজায় রেখে। আন্তর্জাতিক মানের এই ভবনটির অবস্থান রাজধানীর তেজগাঁওয়ে। পিনাকলের উচ্চতা প্রায় ৫০০ ফুট। নির্মাতারা সফলভাবে পিনাকলের নির্মাণকাজ সমাপ্তি করে আরও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন ভবন নির্মাণেরও প্রতিশ্রুতি দেন।
‘শান্তা পিনাকল’ ভবনটিতে যা যা থাকছ
- ভবনটিতে যেসব সুবিধা রয়েছে:
- ভবনটি লিড প্লাটিনাম স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব
- এনএফপিএ-এর আধুনিক অগ্নি নিরাপত্তা মানদন্ড অনুযায়ী নির্মিত
- ভূমিকম্প সহনশীল
- দ্রুতগামী লিফট
- সমন্বিত আইবিএমএস সিস্টেম
ভবনটির কাঠামোগত নকশায় মেইনহারড সিঙ্গাপুর এর ভূমিকম্প সহনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকবে বাসিন্দারা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো শান্তা পিনাকল নির্মাণের সময় অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে মাত্র ৭দিনে স্ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সক্ষমতাও বুঝা যায় পরিস্কারভাবে।
ভবনটির ভেতরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ ও অবাধ বায়ু চলাচলের জন্য এমইআরভি ১৩ মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগত প্রভাব কমাতে ৬.৮ সিওপি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রিফিউগাল চিলার ব্যবহার করা হয়েছে।

উন্নত ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য শান্তা পিনাকলই হয়ে উঠবে যুগোপযোগী স্কাইস্ক্র্যাপার। নির্মাতা মনে করেন তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না বলেই কম সময়ে দক্ষতার সাথে এমন আধুনিক ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া, দেশে প্রথমবারের মতো উইন্ড টানেল টেস্টিং করা হয়েছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়েছে। ৩৬ মিমি ইউনিটাইজড গ্লেজিং তাপ ও শব্দ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, ৮টি হাই-স্পিড লিফট এবং সমন্বিত আইবিএমএস সিস্টেম ভবনের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও মজবুত করেছে।
‘পিনাকল’ প্রকল্পের সফল সমাপ্তি শান্তা হোল্ডিংস-এর আধুনিক চিন্তা, মানসম্পন্ন নির্মাণ এবং নিখুঁত বাস্তবায়নের প্রতি দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি একাধিক বাণিজ্যিক প্রকল্পের মাধ্যমে তেজগাঁওসহ ঢাকার সামগ্রিক নগরপরিকল্পনায় আধুনিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।