• Home
  • সর্বশেষ
  • সুইজারল্যান্ডে ছোট জায়গায় নান্দনিক স্থাপত্য
Image

সুইজারল্যান্ডে ছোট জায়গায় নান্দনিক স্থাপত্য

সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গ্যালেনের কাছে রাইন ভ্যালিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি ব্যতিক্রমী বাড়ি, টিম্বার টাওয়ার হাউস। KIT Architects–এর নকশায় নির্মিত একটি সংকীর্ণ ত্রিভুজাকার প্লটে এই তিনতলা আবাসন প্রকল্পটি দেখায় কীভাবে সীমিত জায়গাকেও কার্যকর ও নান্দনিকভাবে ব্যবহার করা যায়। 

এই বাড়িটি মূলত চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য পরিকল্পিতভাবে বানানো হয়েছে। প্লটটি ছোট এবং অদ্ভুত আকৃতির হওয়ায় স্থপতিরা অনুভূমিকের বদলে বহুতলে বিস্তারকে বেছে নিয়েছেন। ফলে বাড়িটি উপরের দিকে উঠে গিয়ে জায়গার সীমাবদ্ধতাকে কার্যকরভাবে অতিক্রম করেছে। 

নকশার ক্ষেত্রে আশপাশের প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাড়িটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে পাশের বাড়িগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বজায় থাকে। দৃশ্যত সরাসরি যোগাযোগ কমায় এবং একই সঙ্গে চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্যের দিকে উন্মুক্ত ভিউ তৈরি করে। ভবিষ্যতে একই প্লটে আরেকটি সমান আকারের বাড়ি নির্মাণের সম্ভাবনাও এই পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। 

গ্রামীণ ঘরের আদল থেকে অনুপ্রাণিত টিম্বার টাওয়ার হাউস। ছবি: ডিজাইনবুম

এটি পরিচিত গ্রামীণ ঘরের আদল থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এই পরিচিত ফর্মকে নতুনভাবে ব্যবহার করে সমসাময়িক রূপ দেওয়া হয়েছে। 

নির্মাণ পদ্ধতিতেও রয়েছে অভিনবত্ব। দেয়াল, মেঝে এবং ছাদ সবই প্রিফ্যাব স্প্রুস কাঠের প্যানেল দিয়ে তৈরি, যা কারখানায় প্রস্তুত করে সাইটে এনে মাত্র তিন দিনের মধ্যে সংযোজন করা হয়েছে। এতে নির্মাণ সময় কমেছে এবং সাইটে প্রভাবও কম পড়েছে। ভেতরে কাঠের গঠন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, ফলে অতিরিক্ত ফিনিশিংয়ের প্রয়োজন হয়নি এবং উপাদানই হয়ে উঠেছে নান্দনিকতার অংশ। 

বাড়িটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে পাশের বাড়িগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বজায় থাকে। ছবি: ডিজাইনবুম

বাড়ির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি উন্মুক্ত কংক্রিট কোর, যা কাঠামোগত স্থিতিশীলতা দেয় এবং একই সঙ্গে সিঁড়ি ও সার্ভিস স্পেস ধারণ করে। এই কোরটি একটি এয়ার শ্যাফট হিসেবেও কাজ করে। নিচ থেকে ওপরে বাতাস টেনে নিয়ে প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল নিশ্চিত করে। এর সঙ্গে ছাদের স্কাইলাইট এবং বিপরীতমুখী খোলা জায়গা যুক্ত হয়ে প্যাসিভ কুলিংকে সম্ভব করে তোলে। 

টেকসই নকশার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেন্টিলেটেড টিম্বার ফ্যাসাড, সোলার গেইনের জন্য পরিকল্পিত খোলা জায়গা, ফোটোভোল্টাইক প্যানেল এবং গ্রাউন্ড-সোর্স হিট পাম্প এসব মিলিয়ে বাড়িটির এনার্জি ব্যবহার কমানো হয়েছে এবং কার্যকারিতা বাড়ানো হয়েছে। 

বাড়ির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে একটি উন্মুক্ত কংক্রিট কোর, যা কাঠামোগত স্থিতিশীলতা দেয়। ছবি: ডিজাইনবুম

অভ্যন্তরীণ বিন্যাসে রয়েছে স্পষ্ট লম্বা বিভাজন। নিচতলায় দুটি বড় কক্ষ সরাসরি বাগানের সঙ্গে যুক্ত। প্রথম তলায় শোবার ঘর ও পারিবারিক স্পেস, আর সর্বোচ্চ তলায় লাইব্রেরি, কর্মক্ষেত্র এবং একটি অতিরিক্ত বেডরুম রাখা হয়েছে। 

সবমিলিয়ে এই টাওয়ার হাউস প্রমাণ করে, ছোট জায়গা মানেই সীমাবদ্ধতা নয়। সঠিক পরিকল্পনা, উপাদান নির্বাচন এবং পরিবেশগত কৌশল মিলিয়ে একটি কমপ্যাক্ট বাড়িও হতে পারে কার্যকর, টেকসই এবং নান্দনিক।

তথ্যসূত্র

ডিজাইনবুম

Related Posts

সমসাময়িক স্থাপত্যে পারিবারিক আবাসন

সমসাময়িক স্থাপত্যে ‘পারিবারিক আবাসন’ হয়ে উঠেছে এর প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সংলাপ, ভূপ্রকৃতির সঙ্গে সমঝোতা এবং উপকরণের নতুন ভাষা তৈরির…

হাশিমা: যেন পরিত্যক্ত এক ‘যুদ্ধজাহাজ’

হাশিমার মাটির নিচে লুকিয়ে ছিল উন্নতমানের কয়লা। উনবিংশ শতাব্দীর শেষে জাপানের শিল্প বিপ্লবের সময় এই সম্পদ বেশ কয়েকটি…

গ্রিন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বিশেষজ্ঞ স্থপতি সাইদা আক্তার মুমু

সাইদা আক্তার মুমু, বর্তমানে তিনি “মাত্রিক” নামক একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান স্থপতি। তার নেতৃত্বে শিল্প কারখানা, রিসোর্ট, আবাসিক…

বর্ষার দিনে ঘরের হালচাল 

বর্ষার ঝিরঝিরে বৃষ্টি মনে প্রশান্তি আনলেও আপনার আদরের অন্দরমহলের জন্য তা হতে পারে দুশ্চিন্তার কারণ। বাইরে যখন মেঘ-রোদ্দুরের…