নির্মাণশিল্পে মর্টারলেস কংক্রিট ব্লক তৈরি বর্তমান প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন। মর্টারলেস প্রযুক্তিতে ভার বহনকারী দেয়াল অল্প সময়ে খুব সহজেই তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন নেই দক্ষ শ্রমিকের এ কারণে পদ্ধতিটি দারুণ সাশ্রয়ী। নির্মাণ প্রকল্পে প্রথমে প্রিকাস্ট প্যানেল ও পরবর্তী সময়ে স্টিল ফ্রেম ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় এসেছে নব প্রযুক্তি মর্টারলেস কংক্রিট ব্লক। উন্নত এ প্রযুক্তিতে কম সময়ে নির্মাণ কাজের গতি হয় দ্রুততর।
সত্তর ও আশির দশকে অনেক প্রতিষ্ঠানই এ কারনে মর্টারবিহীন ব্লক পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী হয়। যার মাধ্যমে একই সাথে সমাধান করা যায় তিনটি সমস্যা। ১. ব্লকের দ্বারা এতে অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো যায়, ২. ব্লকের স্টেক দ্রুত সম্পন্ন করা যায় ও ৩. ভেজা মর্টার-জাতীয় উপাদান উন্মুক্ত আকাশে ফেলে রাখার প্রয়োজন পড়ে না। মর্টারের রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গুণাগুণ। এর মধ্যে ব্লকের টলারেন্স, জয়েন্ট সিলিং ও ফ্লেক্সিবেল স্ট্রেন্থ উল্লেখযোগ্য। মর্টারলেস ব্লক পদ্ধতিতে এই তিন ধরনের শক্তিকে কাজে লাগানো হয় নির্দিষ্ট কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে। বিশেষত যখন কার্যক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত এই পদক্ষেপ অনেক সময় এতটাই ব্যয়বহুল যে তখন সেখানে সাশ্রয়ের জন্য মর্টারলেস স্ট্যাকিং (Stacking)-এর প্রয়োজন পড়ে।
নির্মাণের গাঠনিক দিক
ইন্ট্রালক পদ্ধতির মাধ্যমে মর্টারলেস কংক্রিট ব্লক তৈরি করা যায়। যেখানে রয়েছে ছয়টি ভিন্ন অবয়বের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বাতাস প্রবেশের রাস্তা। সম্পূর্ণ ব্লকটি যখন স্ট্যাগ (Stack) অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে তখন মনে হয় একটি সম্পূর্ণ পাতলা দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। ব্লকগুলো মর্টারবিহীন স্টেক করা। ব্লকের মধ্যে চুন, সুরকি প্রভৃতি মসলায় পূর্ণ করা হয়, যাতে এটি শক্ত কংক্রিটের কোর বা খোলস তৈরি করে। ব্লকটি এমনভাবে করা হয় যাতে অন্য দুটো ব্লকের সাথে সহজেই যুক্ত করা যায়। তা ছাড়া এতে থাকা তরল দুধ, সুরকি মতো মসলা খুব সহজেই প্রতিটি ব্লকে চলে যেতে পারে, যা আশপাশের ব্লকগুলোকে বোল্ডিংয়ে সহায়তা করে। তৈরি হয় স্থাপনাটির কলাম ও বিম। এভাবে প্রতিটি ব্লককে ধরে রেখে একটি সম্পূর্ণ দেয়াল তৈরি করা যায় মর্টার জয়েন্ট ছাড়াই।
মর্টারলেস কংক্রিট ব্লক তৈরির পদ্ধতি
ক. অ্যাজহার (Azar) ড্রাই স্টেক ব্লক পদ্ধতি
পদ্ধতিটির প্রথম ব্যবহার হয় ১৯৯৭ সালে। প্রথম দিকে এটা ব্যবহার করা হতো বাড়ির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে। প্রতিটি ব্লক লম্বা ও আড়াআড়িভাবে ইন্টারলগ করা যায় জয়েন্টভেদে। প্রতিটি ইন্টারলকের মাথায় জয়েন্টগুলো পুলারের সাহায্যে টেনে পরবর্তী ব্লকের সাথে যুক্ত করা হয়।
এ পদ্ধতিতে দুই ধরনের ইউনিট ব্যবহার করা হয়, যাদের নাম স্ট্রেচার (Stretcher) ও কর্নার (Corner) [ছবি সংযুক্ত]। স্টেকিং করার পর সার্বিক তত্ত্বাবধানে যাঁরা থাকেন, তাঁরা দেয়ালটি যথাযথ হয়েছে কি না ওলন দড়ির (Plumb) সাহায্যে পরীক্ষা করেন। প্রতিটি ব্লক ইন্টারলকের মাধ্যমে লকিং করার পর তৈরি হয় একটি সম্পূর্ণ দেয়াল। এতে তরল চুন-সুরকির মসলায় আস্তরণ করলে তখন এটা সম্পূর্ণ দেয়ালে পরিবর্তিত হয়। পরবর্তী সময়ে যা যথাস্থানে স্থাপন করা যায় সহজেই।
খ. হেইনার ব্লক
জুয়েন হেইনার এ ধরনের মর্টারলেস কংক্রিট ব্লকের আবিষ্কারক। এই মর্টালেস ব্লকের ধরন ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি স্ট্রেইচার, কর্নার টপ, অর্ধেক স্ট্রেকইার (চিত্র অনুযায়ী) অনুসরণে এটি তৈরি করেছেন। তার আবিষ্কৃত ব্লকের উচ্চতা সামান্য বেশি ও খাঁচ কাটা যাতে খুব সহজেই একটি স্ট্রেকচার পরবর্তী স্ট্রেকচারের সাথে অনায়াসে মিশে যেতে পারে। মূল পদ্ধতিটিতে ছিল শুধু তিনটি স্ট্রেকচার, কর্নার ও একটি অর্ধেক স্ট্রেকচার। তিনি এর সাথে যোগ করেছেন যৌথভাবে স্ট্রেকচার, কর্নার ও অর্ধেক স্ট্রেকচার ব্লক। হেইনারের সম্প্রতি নতুনভাবে করা ডিজাইনে ইনসুলেটিং পদ্ধতিতে দুটি ব্লকের প্রতিটিতে ইনসুলেটিং উপাদান ঢুকানো হয়। এ ধরনের ব্লক আমেরিকার লস এঞ্জেলেসের অনেক স্থানেই ব্যবহার করা হচ্ছে।
গ. স্প্যারলক পদ্ধতি (ছবি সংযুক্ত)
এ পদ্ধতিতে একটি ব্লকের ওপর ঠিক একই ধরনের ব্লক অবস্থান করায় উচ্চতাগত কোনো সমস্যা হয় না। এতে কারিগরদের সুবিধা হয়। যেকোনো ব্লক যেকোনো স্থানে পরিবর্তন করে যথাস্থানে রাখার মতো দেয়াল তৈরি করা যায়। ব্লকের এ ধরনের অবস্থানের জন্য দেয়ালের ভার্টিকেল বেন্ডিং স্ট্রেন্থ (Bending Strength) বেড়ে যায়। আগুন প্রতিরোধ করতে পারে খুব সহজেই। এই পদ্ধতিতে ব্লক দ্বারা দেয়াল তৈরির পর কোন স্ট্রাকচারাল কাজের প্রয়োজন পড়ে না।
ঘ. ডুরিসল ব্লক
ডুরিসল ব্লক তৈরি করা হয় সিমেন্ট, মিনারেল উড ও ফাইবারের সংমিশ্রণে। দীর্ঘদিন এটার সঠিক কার্যকারিতা থাকে, অনেকটা সনাতন কংক্রিটে তৈরি দেয়ালের মতো। এটা সাধারণত কাঠের করাতে সাইজ অনুযায়ী কাটা যায়।
যেভাবে মর্টারলেস কংক্রিট ব্লকে প্রতিহত দেয়াল তৈরি হয়
কোনো রকম মর্টার ব্যবহার না করে একটি কংক্রিট প্রতিহত দেয়াল তৈরি করা হয় ব্লক, রড ও কংক্রিট সমন্বয়ে। যদি ব্লকগুলোর স্ট্রেকিং বা ব্লকের তাক করা যায়, তবে দেয়ালের মতো তৈরি হয়। এতে সুবিধা হচ্ছে ব্লকে শুষ্ক অবস্থায় স্ট্যাকিং হয়। ব্লকগুলো সাধারণত ভেতরের দিকে ফাঁপা। পরবর্তী সময়ে তা রড আর কংক্রিটে পূর্র্ণ করা হয়। এই কাজটি সম্পন্ন হয় ছোট ছোট ব্যাচে। এভাবেই তৈরি হয় একটি ছোট আকারের প্রতিহত (Stem) দেয়াল। সম্পূর্ণ কাজটি শেষ হওয়ার পর ব্লক দ্বারা তৈরি দেয়ালটি ভূমি থেকে ৯০০ কোণে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা ওলন-দড়ির সাহায্যে পরীক্ষা করা হয়।
খুব সহজে একটি প্রতিহত দেয়াল তৈরির ধাপসমূহ
সাইট ওয়ার্ক শুরু করা
প্রথমে যে স্থানে দেয়াল তৈরি করা হবে, সেই স্থানের চারদিকে খুঁটি স্থাপন করতে হবে। এরপর এর চারদিকে বোর্ড বা কাঠ দ্বারা স্থানটি চিহ্নিত করতে হবে। যদি আয়তকার হয় তবে জ্যামিতি অংকে স্থানটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ সঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। নিশ্চিত হওয়ার পর এটিই হবে দেয়াল তোলার গাইডলাইন। এই লাইন বরাবর দেয়াল তৈরি হবে। স্থানটি চার কোনা আছে কি না, অর্থাৎ প্রতিটি কোণ ৯০০ কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। এরপরই দেয়াল তৈরির কাজ শুরু করতে হবে।
নিচের সারিতে ব্লক বিছানো
প্রথমে দেয়ালের সবচেয়ে নিম্নতম স্থান থেকে ভিত্তি আরম্ভ করতে হবে এবং নিচের সারিতে গ্রেডের নিচ পর্যন্ত না আসা অবধি ব্লক বিছিয়ে দিতে হবে। যদি ভিত্তিটা কোনো পাথর বা কাঁকর-নুড়ি মিশ্রিত থাকে, তাহলে তা ভালোভাবে দুরমুজ বা ভারী কোনো কিছুর সাহায্যে পিটিয়ে সমান করে নিতে হবে ব্লক বসানোর আগেই। এর জন্য প্রয়োজন হলে রাবার মেলেট (হাতুড়ি) ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে প্রতিটি ব্লক সঠিক স্থানে লাইন বরাবর বসতে পারে।
দেয়ালের রড কেটে ফেলা
ব্লক নির্মাতারা ২০ ইঞ্চি লম্বা রডসহ ব্লক তৈরি করে নিতে পারেন। যদি রডের ব্যাসার্ধ ৩/৮ ইঞ্চি হয় তাহলে যেকোনো স্থানে সুবিধামতো বোল্ট কাটার সাহায্যে তা কাটা যাবে। প্রতিটি রড লম্বায় হবে ১২ ইঞ্চি, যা দেয়ালের উচ্চতা থেকে ব্লকসহ চাপ প্রয়োগ করলে ভিত্তি পর্যন্ত অনায়াসে চলে যেতে পারে। এরপর প্রতিটি ব্লকের ফাঁপা অংশের মাপ অনুযায়ী অতিরিক্ত রড কেটে ফেলতে হবে। এটা করলে দেয়ালের স্থায়িত্ব অনেকাংশে বাড়বে।
কংক্রিটের মিশ্রণ
বালু, নুড়ি ও সিমেন্ট একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে মেশাতে হবে। সাধারণত ১ ভাগ সিমেন্টের সাথে ৩১/২ ভাগ বালু এবং ৩১/২ ভাগ কাঁকর বা নুড়ি মেশানো হয়। পানি মেশানোর আগে বালু, পাথর, নুড়ি ও সিমেন্ট খুব ভালোভাবে মেশাতে হবে। এরপর এক লিটার বা দুই লিটার পানি মিশ্রিত করে খুব ভালোভাবে নাড়াতে হবে, যাতে কংক্রিটের মিশ্রণ সঠিক আকারে থাকে। ভালোভাবে মিশ্রণের জন্য মেসনদের নিড়াতে দিলে ভালো হয়।

দেয়ালের ফাঁপা স্থানে কংক্রিট ঢালা
দেয়ালের ফাঁপা স্থানে কংক্রিট ঢালার সময় লক্ষ রাখতে হবে যেন ফাঁপা স্থান ভরার পর কংক্রিটের মিশ্রণ উপচে না পড়ে। ভালো করে চাপ প্রয়োগ করে কংক্রিটের মিশ্রণ ফাঁপা স্থানে ভরে দিতে হবে। যখন ফাঁপা স্থান কংক্রিটে সঠিকভাবে ভরে যাবে, তখন কর্ণিক দ্বারা ওপরের অংশ সমান করে দিতে হবে।
J-বোল্ট প্রবেশ করানো
যত দূর সম্ভব লম্বা আকারের J-বোল্ট সংগ্রহ করতে হবে। লম্বা বোল্টটি কংক্রিটের ওপরে যে স্তর পর্যন্ত ঢালাই করা আছে, সেই স্তর থেকে কম পক্ষে দুই ইঞ্চি থেকে তিন ইঞ্চি বেশি থাকা চাই, যাতে ওয়াশার ও নাট লাগানো যায়। যদি বোল্টের চারদিকে কংক্রিটের মিশ্রণ লেগেও যায় তবে তা Were Brass দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে।
জমাট কংক্রিট পানি দ্বারা ভেজানো
এতে কংক্রিটের কিউরিংয়ের কার্যক্ষমতাটা সঠিকভাবে হবে। কংক্রিট যত বেশি সময় পানি গ্রহণ করবে দেয়াল তত বেশি শক্ত হবে। ইচ্ছা করলে নতুন কংক্রিটকে প্লাস্টিক অথবা কার্ডবোর্ড দ্বারা ঢেকে রাখতে হবে, যাতে এর অভ্যন্তরে জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে।
ভিত্তিপ্রস্তর থেকে দেয়ালের সম্পূর্ণতা
সবচেয়ে ভালো হয় যদি একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে দুই দিকে সমভাবে অগ্রসর হওয়া যায়। যার ফলে বিপরীত দিকের কোনাকুনি স্থানে মিশ্রিত করা যাবে। এতে যেমন বাঁচবে সময় তেমনি দেয়ালের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।
মর্টারলেস কংক্রিট ব্লক পদ্ধতির যত সুবিধা
বিশ্বের প্রায় ১০০টিরও অধিক বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণে মর্টারলেস কংক্রিট ব্লক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
সাশ্রয়ী
প্রকৌশলীদের নকশা তৈরিতে সময় কম লাগে, পাশাপাশি আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়ে না।
কারিগরদের শ্রম ঘণ্টা কমিয়ে অবকাঠামোর তৈরির কাজ দ্রুত করা সম্ভব।
স্বল্প সময়ে স্টিল, সিমেন্ট, পানি, স্ক্যাফোল্ডিং, ক্রেনসহ যাবতীয় কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের খরচ সহজেই কমানো সম্ভব।
স্থানীয়ভাবে তৈরিকরণ
ক্রেতাদের পরিত্যক্ত স্টিলের খরচ কমানো সম্ভব, কেননা সার্বিকভাবে এটি স্থানীয়ভাবে তৈরি করা যায়।
সময় কম লাগায় অতিরিক্ত মূল্য বাদ দেওয়া যায়।
শক্তি ও স্থায়িত্ব
- এটি আগুন ও শব্দ দৃঢ়ভাবে সহ্য করতে পারে।
- এটার ভূমিকম্প ও বাতাসের চাপ বহন করার সক্ষমতা রয়েছে।
- এটা কংক্রিটে আবর্তিত, যেখানে রিইনফোর্সমেন্ট প্রয়োজন সেখানে অবশ্যই দেওয়া হয় সম্পূর্ণ দেয়ালটি তৈরি করার পর।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য স্থানসংকুলান
- মাটি পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ভার নেওয়ার জন্য ফুটিংই যথেষ্ট। তাই পাইলিং করার প্রয়োজন পড়ে না।
- কলাম, বিম কিংবা লিনটেলের প্রয়োজন নেই
- কোনো স্থানেই কলাম, বিম অথবা লিনটেলের প্রয়োজন পড়ে না, যেহেতু দেয়ালটি তার নিজস্ব ভারেই সম্পূর্ণ লোড বিয়ারিংয়ের কাজ করে থাকে।
পরিবেশগত সুবিধা
কম পরিমাণ কংক্রিট প্রয়োজন হওয়ায় পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ কমায়।
স্টিল পরিমাণে কম প্রয়োজন হয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। অধিক মূল্যের উপাদান কম পরিমাণে লাগায় এটি সাশ্রয়ী।
স্টিলের দ্বারা তৈরি উপাদানে কোনো স্থানগুলো খুব সহজেই কেটে সুবিধামতো অবস্থানে আনা সম্ভব। তাই পরিত্যক্ত অংশ অল্প পরিমাণ বাদ দেওয়া যায়। এ জন্য কাঁচামালের খরচ হয় কম।
পানির ব্যবহার হয় কম
প্রকৃতির উৎস থেকে নেওয়া পানির ব্যবহার খরচ বাড়ায়, মর্টালেস দেয়াল তৈরিতে কিউরিংয়ের প্রয়োজন হয় না। তাই পানির ব্যবহারও কম।
শ্রমিক লাগে কম
এ ধরনের কাজ খুব স্বল্পসংখ্যক শ্রমিকের সহায়তায় করা সম্ভব বলে খরচের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি দারুণ সাশ্রয়ী।
তাপমাত্রার দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিধাজনক
অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে ২০০ মিলিমিটার পুরুত্বের কংক্রিট দেয়াল যেমন উষ্ণ ও শীতল রাখা সম্ভব আবহাওয়ার তারতম্যের জন্য তেমনি মর্টারলেস দেয়ালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়।
মর্টারলেস ব্লক সিস্টেমের প্রায়োগিক দিক
- মর্টারলেস ব্লক সিস্টেম সাধারণত বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা ও আবাসিক ভবনের বিভিন্ন স্থানের জন্য প্রযোজ্য। যেমন-
- শহরের উপকণ্ঠে নিরিবিলি স্থানে বাড়ি তৈরিতে।
- বেইসমেন্ট (ভিত্তি বা কোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশ) নির্মাণে।
- ভারবাহী দেয়াল নির্মাণে।
- লিফট বা সিঁড়ির দেয়ালে।
- ফায়ার ওয়ালে আগুনের তাপ সহ্য করতে পারে এমন স্থানের দেয়াল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- শব্দ বেশি হয় এমন স্থানের দেয়াল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
- বেড়া দিয়ে স্থান নির্ধারণের জন্য দেয়াল তৈরিতে।
- শেয়ার ওয়াল নির্মাণে।
- পানির ট্যাংকি তৈরিতে রয়েছে এর ব্যবহার।
শেষকথা
ক্রমেই উন্নত হচ্ছে মর্টালেস কংক্রিট ব্লক তৈরির পদ্ধতি। অনেকেই ইতিমধ্যে এ নিয়ে গবেষণাও করছেন। গবেষকদের চাওয়া মর্টালেস কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়–ক উত্তরোত্তর; এগিয়ে আসুক শিল্প-উদ্যোক্তরা। বিশেষত স্ট্রাকচারাল কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার শিল্প-কারখানায় খুলে দেবে নতুন এক দিগন্ত।
প্রকৌশলী মহিউদ্দীন আহমেদ
সাবেক অতি. প্রধান প্রকৌশলী
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন
তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫২ তম সংখ্যা, আগস্ট ২০১৪




















