ম্যানহাটনের নোহো এলাকায় লিভ স্রাইবারের ট্রিপ্লেক্স বাড়িটি একটি পরিবারের বেড়ে ওঠার সাথে সাথে ধাপে ধাপে বদলে যাওয়া এক স্থাপত্যের আখ্যান। “রে ডোনোভান” ও “এক্স-মেন” খ্যাত অভিনেতা তার স্ত্রী, সাবেক বিউটি কুইন টেলর নাইসেন, তিন সন্তান এবং পাঁচটি মুরগির সাথে এই ডাউনটাউন ম্যানহাটন বাড়িতে বসবাস করেন।
মূল ডিজাইন-ভাবনা: কাঠামোর গভীরে ফিরে যাওয়া
লিয়ানড্রো বলেন, তারা বাড়ির “হাড় পর্যন্ত” পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। এই ভাবনা থেকেই তিনি ও অ্যাশ জায়গাটির পুরনো টেক্সচারকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত নেন। তারা ইটের দেয়াল এবং ফ্যামিলি রুমের পোড়া কাঠের বিম উন্মুক্ত করেন।
আর উপরের তলায় মূল সিলিং কাঠামো দেখানোর জন্য ড্রাইওয়াল সরিয়ে ফেলেন। অর্থাৎ পুরনো নির্মাণের কাঁচা, স্পর্শযোগ্য চরিত্রকেই তারা ডিজাইনের মূল ভিত্তি বানিয়েছেন। পুরনোকে মুছে না ফেলে বরং সম্মান জানানো ছিল প্রচেষ্টা।
লেআউটের পুনর্বিন্যাস
ডিজাইনারদের কাজ ছিল শহুরে জীবনযাপনের উপযোগী একটি সুসংহত পরিকল্পনা তৈরি করা। এই লক্ষ্যে তারা পুরো লেআউট নতুন করে সাজান। সর্বনিম্ন তলায় আগে যেখানে রান্নাঘর ও লিভিং রুম ছিল, সেখানে এখন তৈরি হয়েছে বাচ্চাদের বেডরুম, একটি নতুন ফ্যামিলি ডেন এবং স্রাইবারের জন্য একটি হোম অফিস।
যেখানে তিনি চিত্রনাট্য লেখেন এবং ভয়েস-ওভার রেকর্ড করেন। এভাবে নিচতলা এখন সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক ও কর্মজীবনের প্রয়োজনে সাজানো, আর রান্নাঘর-বসার ঘর সরে গেছে বাড়ির অন্য অংশে।

স্থাপত্যিক কেন্দ্রবিন্দু: কালো ইস্পাতের সর্পিল সিঁড়ি
ছাদ থেকে নামার পথে একটি কালচে-কালো ইস্পাতের সর্পিল সিঁড়ি বাড়ির প্রধান দৃষ্টিনন্দন উপাদান হিসেবে কাজ করে। এই নাটকীয়, অন্ধকারাচ্ছন্ন উপাদানটি বাড়ির একাধিক তলাকে দৃশ্যত সংযুক্ত করে এবং পুরো বাড়ির নকশায় একটি দৃঢ়, ভাস্কর্যধর্মী উপস্থিতি যোগ করে।
অন্দরসজ্জার সূক্ষ্মতা: রান্নাঘর
তবে বাড়ির এই গাঢ়, নাটকীয় ভাব সব জায়গায় প্রভাব ফেলেনি। নিচতলার রান্নাঘরে ব্যবহার করা হয়েছে রঙ করা রিফ্ট হোয়াইট ওক ক্যাবিনেট এবং পাথরের শীর্ষযুক্ত আইল্যান্ড। যা অনেক বেশি সংযত একটি সিদ্ধান্ত।
তবে এই সহজ-স্নিগ্ধ ফলাফল পেতে অন্তত দশটি ভিন্ন সংস্করণ তৈরি করতে হয়েছিল। অর্থাৎ বাড়ির প্রতিটি কোণের নিজস্ব মেজাজ থাকলেও, সামগ্রিক নকশায় একটি সংযত ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে।
ছাদের মুরগির খোঁয়াড়: এক অপ্রত্যাশিত যোগসূত্র
বাড়ির সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক সম্ভবত এর ছাদ। ছোটবেলায় হিপি বাবা-মা স্রাইবারকে কানাডার একটি কমিউনে নিয়ে গিয়েছিলেন, আর তখন থেকেই তার মনে মুরগি নিয়ে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, “ওগুলো দেখতে ডাইনোসরের মতো।” অথচ সেই একই মানুষের বাড়ির ছাদে আজ পাঁচটি মুরগির খোঁয়াড়।
মুরগিগুলোর নাম গ্র্যান্ডমা, সিজার্প, ফার্ন, পিকো এবং মিউ মিউ। ফটোশুটের সময় স্রাইবারকে হ্যারি বার্তোইয়া ডিজাইনকৃত একটি ডায়মন্ড চেয়ারে পা তুলে বসে একটি মুরগি কোলে নিতে দেখা যায়। আর তার সঙ্গীকে দেখা যায় হলুদ শাল্লের একটি পোশাকে খালি পায়ে আরেকটি মুরগি ধরে থাকতে।
উন্মুক্ত ইট, পোড়া কাঠের বিম, ইস্পাতের সর্পিল সিঁড়ির নাটকীয়তা, রান্নাঘরের সংযত নকশা এবং ছাদের অপ্রত্যাশিত মুরগির খোঁয়াড় সব মিলিয়ে এই বাড়ি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি ধারাবাহিক রূপান্তরের গল্প বলে, যেখানে পুরনো কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা এবং সমকালীন পারিবারিক জীবনের চাহিদা একসাথে মিলেমিশে গেছে।
তথ্যসূত্র:
সিএনএন
























