সম্প্রতি প্রলয়ংকরী বন্যার সাক্ষী দেশবাসী। যদিও ছবিটা প্রতিবছরের। তারপরও এবারের বন্যার তীব্রতা অনেক বেশি হওয়ায় সচরাচর যেসব জায়গায় পানি জমে না, সেখানেও ঢুকেছে পানি। জলমগ্ন বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়েছে আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু বন্যার পানি নামলেও কাটেনি তাদের দূর্ভোগ-দুর্দশা। বানভাসি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরেই দেখেছে ঘরবাড়ি, গোয়ালঘর, ফসলের গোলা, সহায়-সম্পদের বিধ্বস্ত বিপন্ন রূপ। এমন পরিস্থিতি মানসিকভাবেও বিধ্বস্ত করে তুলেছে তাদেরকে। তারপরও আশায় বুক বেঁধে বাড়িঘর মেরামত বা পুনরায় ঘর তৈরিতে নিজেদেরকে ব্যস্ত রেখেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা। কিছু স্থানে বাড়িঘর নির্মাণে সরকারি সহায়তা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। সাধারণত ঢেউটিন বিতরণের মধ্যেই এই সহযোগিতা সীমাবদ্ধ। অথচ বন্য নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে প্রচুর অর্থ প্রতিবছর বরাদ্দ থাকলেও আধুনিক এ সময়ে এখনো বন্যা সহনীয় স্থাপনা নির্মাণে আসেনি উল্লেখ্যযোগ্য কোনো সাফল্য। দেশ-বিদেশে বন্যারোধী স্থাপনা নির্মাণের নানামুখী কৌশল থাকলেও আমাদের এখানে তৃণমূল পর্যায়ে এর সুফল পাচ্ছে না বন্যাকবলিত জনপদের মানুষ। ফলে বছরের পর বছর তাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। বন্যারোধী স্থাপনা নির্মাণ কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হলে প্রতিবছরের এই বিড়ম্বনা ও সম্পদহানি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বন্যাপ্রবণ জনপদের বিপন্ন এই মানুষেরা।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বন্যা নতুন কোনো দুর্যোগ নয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক ভাটির দেশ হওয়ায় এখানে বন্যার প্রবণতা সব সময়ই বেশি। বন্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারি কমিশন কাঠামোগত কৌশলকেই প্রধানত গুরুত্ব দিয়ে থাকে যা বড় ধরনের বন্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় সব সময়ই। বিশেষ করে নদীতীরে বাঁধ দিয়ে এর প্রাকৃতিক প্রবাহকে বাধাদানের কারণে বন্যাজনিত সমস্যা ক্রমেই প্রকট হয়ে ওঠে। স্থানীয় জলবায়ু সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ বন্যার ভয়াবহতাকে করে তোলে আরও তীব্র। ফলে বন্যাকালীন পানিবন্দী হওয়ায় দুর্ভোগের সীমা থাকে না মানুষের। বন্যাকবলিত জনপদের এসব দুর্ভোগ অনাদিকালের। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নির্গমন, আবাসন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা প্রকল্পে প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ সত্ত্বেও আসেনি কাঙ্খিত সাফল্য। অসহায় মানুষেরা স্বেচ্ছাশ্রমে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে বা ভিটা উঁচু করে নিজেদের মতো করেই মোকাবিলা করছে এমন পরিস্থিতি। পানিবন্দী মানুষ চরের উঁচু ভিটায় কিংবা ঘরের ভেতর মাচা করে আশ্রয় নিলেও তা তেমন কার্যকরী নয়; বন্যার পানি অতিরিক্ত বেড়ে গেলে। এ সময়ে স্যানিটেশন-ব্যবস্থা ব্যাহত হয় চরমভাবে। শুরু হয় পেটের পীড়া, অসুখবিসুখ। হাঁস-মুরগি, গবাদিপশুর আশ্রয় ও খাবার নিয়ে বিপাকে পড়ে গ্রামবাসী।
বিশ্বে দেশভেদে বিভিন্নভাবে বন্যা সহনীয় টেকসই আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে। বন্যার প্রকৃতিও একেক দেশে একেক রকম। যেমন, কোথাও দীর্ঘস্থায়ী আবার কোথাও স্বল্পস্থায়ী। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার টোফিনো সাগর জলাভূমির ওপর প্ল্যাটফর্ম কাঠামো নির্মাণ করেন ১৯৯২ সালে। কাঠ, প্লাস্টিক দিয়ে নির্মিত হয় কাঠামোটি। পানির ওপর এখন দিব্যি এটি ভেসে রয়েছে। অনেকটা স্থায়ী কাঠামো এটা। বছর কয়েক হলো উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি নদীর জল উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতো। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে পড়ে চরম বিপদে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কোনো বাঁধ না দিয়ে বাড়িঘরগুলোকে বাঁধ দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং যোগাযোগের জন্য নির্মাণ করে উঁচু সড়ক। তারা বাড়ির চারপাশে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে তার ওপর ফাইবার টিউব বা পলি ফাইবার ক্লথ সংযোজন করে বাঁধটিকে পানি নিরোধক করে তোলে। ফলে জোয়ারের সময় পানি ওই জনপদকে প্লাবিত করলেও তা বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করতে পারে না। থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপের সমুদ্র উপকূলীয় বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয় বাঁশ বা কাঠের উঁচু কলামের ওপর। আগে বাংলাদেশের পদ্মাপারের ভাটি অঞ্চলের প্রায় সব বাড়িঘরই এভাবে বানানো হতো। হাওরবিধৌত অঞ্চলের মানুষ বসতভিটার মাটি উঁচু করে বসতি গড়ত।
মাটির স্তর উঁচু করায়
বন্যা মোকাবিলায় নিচু স্থান ভরাট করে উঁচু করে ভিটাবাড়ি বানানো বিশ্বের সবচেয়ে আদিমতম কৌশল। দেশের বন্যাপ্রবণ ও হাওর অধ্যুষিত অঞ্চলে এমন ঘরবাড়ি হরহামেশাই দেখা যায়। মাটির স্তর কিংবা প্লিন্থ যত উঁচু হবে, তত এটি বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর হবে। এরপরও বড় বন্যার ক্ষেত্রে পানি মাঝে মাঝে এর ওপরেও উঠে পড়ে। এ জন্য প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে বন্যার পানি সর্বোচ্চ কত উচ্চতায় পৌঁছে। সম্ভাব্য প্লাবন উচ্চতা থেকে ভিটার মাটি কিছুটা উঁচু করে বাড়ি বানানোই শ্রেয়। নিচু স্থান ভরাট করার সবচেয়ে আদর্শ উপকরণ বালু। এ ছাড়া মাটি, বালু-মাটিও কার্যকর। তবে পানি প্রতিরোধের জন্য মজবুত প্লাস্টিক বা পলি শিট দিয়ে বেষ্টনী দিলে পানি প্রবেশের আশঙ্কা কম থাকে। ভিটাবাড়ির চারপাশে গাছ লাগিয়ে দিলে শিকড় মাটি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বসতভিটা থাকে নিরাপদ।
দ্বিতল উচ্চতার কাঠের বাড়ি
দ্বিতল উচ্চতার এই বাড়িগুলো অনেকটা আধুনিক ডুপেক্স সিস্টেমে নির্মিত। বাড়ির ভেতরেই থাকে ওঠা-নামার সিঁড়ি। যদিও এই কৌশল বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে বন্যার প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে অনেক আগ থেকেই দোতলা বাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। বছরের অন্যান্য সময় সাধারণত নিচেই থাকে পরিবারগুলো। দোতলা ব্যবহৃত হয় ফসল রাখার গোলা হিসেবে। কিন্তু বন্যার সময় বাসিন্দারা ওপরের তলায় উঠে আসে বন্যার কবল থেকে বাঁচতে। তবে এ ধরনের বাড়ির কাঠ দীর্ঘমেয়াদি বানের জলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে জন্য বাড়ি নির্মাণের আগে কাঠ ভালোভাবে সিজনিং করে নিতে হবে এবং পানিরোধক রাসায়নিক (রং, আলকাতরা) প্রয়োগ করতে হবে।
বন্যারোধী দেয়াল
বাড়ি উঁচু করে বানানো সহজ বিষয় নয়। তা ছাড়া পুরোনো ভিটাবাড়ির ক্ষেত্রে কাজটি খুবই দুরূহ। এ পরিস্থিতিতে বাড়ির চারপাশে যদি জলরোধী প্রাচীর নির্মাণ করা যায়, তাহলে সমস্যাটি থেকে মুক্ত থাকা যায়। শুধু বাড়িই নয়, কয়েকটি পরিবার মিলিতভাবেও কাজটি করতে পারে। বালু, মাটির বস্তা, ইট, পাথর, কংক্রিট দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা যায় অনেকটা বাঁধের মতো করে। বাঁধের ওপর সবজি চাষ বা গাছও লাগানো যায়। বন্যার জরুরি অবস্থার আগে স্যান্ডব্যাগে বালু ভরে সীমানাপ্রাচীরটি উঁচুও করা যায়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে মিসিসিপি নদীর উপচে পড়া প্লাবন থেকে রক্ষা পেতে কৌশল হিসেবে বাসিন্দারা যেভাবে বাঁধ দিয়ে বাড়িঘরগুলোকে ঘিরে রাখে। এই ব্যবস্থাটি করা গেলে পানি বাড়ির সীমানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না।
পায়ার, পিলার বা কলামের ওপর কাঠামো নির্মাণ
পায়ার, পিলার বা কলামের ওপর কাঠামো নির্মাণও অনেক সনাতন পদ্ধতি, যা বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়। সাধারণত সমুদ্র বা নদীতীরবর্তী অথবা জলাভূমিতে এ ধরনের বাড়ি নির্মাণ করা হয়। এই ধরনের কাঠামো বন্যার পানির স্তর থেকে ওপরে রাখতে হয়। বাড়ির সাপোর্ট (স্টিলথস) প্রদানের জন্যই মূলত কলাম করা হয়। এ ধরনের বাড়ির কাঠামোর নিচ দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হতে পারে বিধায় স্থাপনাও থাকে সুরক্ষিত। তবে মূল কাঠামোর ওপর বাড়ির ভার যতটা হালকা রাখা যায় ততই ভালো। মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিন্সে এ ধরনের বাড়ি দেখা যায় বেশি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাসমান গ্রাম বা বাড়ি প্রকল্পের যেসব মডেল করা হয়েছে তা মূলত ওই দেশের আবহাওয়া, পরিবেশ ও জলাবদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে। যেমন- কোনো প্রকল্প হয়তো সারা বছরই জলমগ্ন থাকে, কোথাও প্রকল্প হয়েছে নদী, লেক বা সাগরকে ঘিরে। কিন্তু আমাদের দেশে নির্মিত প্রকল্পের ডিজাইন হবে বন্যার স্থায়িত্বকাল, পানির উচ্চতা, পানির গতি প্রবাহের ধরন, গ্রামের অবস্থান, নদীভাঙনের ঝুঁকি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি বিবেচনায়। আর তাই আবহমান পদ্ধতির পাশাপাশি বন্যারোধী এমন স্থাপনা নির্মাণকৌশল উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট) স্থাপত্য বিভাগ। প্রতিষ্ঠানগুলো দেখিয়েছে কীভাবে বন্যাকবলিত এলাকার জন্য সহজপ্রাপ্ত, সাধারণ নির্মাণকৌশল ও স্বল্পব্যয়ে টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করা যায়। এ ছাড়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটও (এইচবিআরআই) উদ্ভাবন করেছে বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য ভাসমান বাড়ির মডেল এবং পানিতে নষ্ট হয় না এমন নির্মাণ উপকরণ। এসব স্থাপনা ও অবকাঠামো মডিউলারের মধ্যে রয়েছেÑ
বাঁশ-কাঠের বন্যা সহনীয় বাড়ি
যেহেতু বাংলাদেশে বন্যাকালীন জলাবদ্ধতা থাকে কয়েক দিন বা মাসের জন্য, তাই আবাসন প্রকল্পকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা বন্যার সময়ে ভাসে এবং অন্য সময়ে তা স্বাভাবিকভাবে মাটিতে নেমে আসে। এ জন্য ডিজাইন মডিউলে কিছু বাড়তি কাঠামো রাখা হয়েছে। যেগুলো বন্যাকালীন মূল কাঠামোর সঙ্গে অন্যান্য মডিউলকে জুড়ে দেওয়া যাবে। যেমন- উঁচু মাচাবিশিষ্ট গোয়াল ও গৃহপালিত পশুর ঘর। যে গুলোকে স্বাভাবিক সময়ে স্টোর বা গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বা দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে এগুলো ভাঁজ করে সংরক্ষণ করা যাবে। এ ছাড়া ফসল বা অন্যান্য উপাদান সংরক্ষণের জন্য আরও কিছু মডিউল জোড়া দিয়ে কাঠামোটি বড় করা যাবে। বাঁশ-কাঠের ঘরবাড়ির নির্মাণকৌশল ও প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত সাদামাটা। বাঁশ, কাঠ এবং টিনের ঘর দেশের সব অঞ্চলেই রয়েছে। এগুলো স্বল্পব্যয়ী ও পরিবেশবান্ধব। স্থানীয় বাসিন্দারাই তৈরি করতে পারবে এমন কাঠামো। ঘরের কাঠামো ও প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে বাঁশ কিংবা কাঠের খুঁটি ও কাঠের তক্তার। দেয়াল হিসেবে ব্যবহৃত হবে বাঁশের চাটাই বা কাঠের তক্তার বেড়া। ওপরে থাকবে টিনের চাল। তবে বাড়িটিকে পুরোদস্তুর ভাসমান হিসেবে নির্মাণ করতে তাতে সংযোজন করতে হবে পুনর্ব্যবহৃত পানির কনটেইনার ও পলিথিনের শিট। কনটেইনার ব্যবহার করা হয়, যাতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঠামোটি ওপরে উঠতে থাকে।
ফেরো সিমেন্টের ভাসমান বাড়ি
বাংলাদেশ হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) এক অনন্য উদ্ভাবন এই ফেরো সিমেন্টের ভাসমান বাড়ি। এই উপকরণ ও বিশেষ কৌশলে নির্মিত ভাসমান বাড়ি কয়েক বছর যাবৎ হাওর অধ্যুষিত জনপদের আবাসন সমস্যা বিবেচনায় উদ্ভাবন করা করছে। ফেরোসিমেন্টের এমন বাড়ি একধরনের রি-ইনফোর্সমেন্ট কংক্রিট, তারজালি আর সিমেন্টে তৈরি। ওজনে হালকা ও নির্মাণ সময় কম লাগায় সহজেই যে কেউ নির্মাণ করতে পারে এ ধরনের বাড়ি। ফেরোসিমেন্টের সুবিধা এটা রড ও তার ছাড়াও বাঁশ বা অন্য কোনো শক্ত উপকরণ দিয়ে এর কাঠামো নির্মাণ করা যায়। তা ছাড়া কংক্রিটের বদলে এখানে সিমেন্ট মর্টারও ব্যবহার করা যায়। থাকার ঘর, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ঘর, ফসল রাখার গোলাও এই পদ্ধতিতে সহজে নির্মাণ করা সম্ভব।
ভাসমান গ্রাম প্রকল্প
বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে জলাভূমি। উন্নত দেশগুলো জলাভূমিকে ভরাট না করে অত্যন্ত সাধারণ নির্মাণকৌশলে গড়ে তুলছে ভাসমান নগর বা গ্রাম প্রকল্প। এগুলো বসবাসে দারুণ উপযোগী, যেখানে স্থাপত্যকৌশলে সব ধরনের নাগরিক অনুষঙ্গের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভাসমান বাড়ির ধারণা এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে এখন ভাসমান গ্রাম ও শহর গড়ার কথাও ভাবতে শুরু করেছে উন্নত দেশের নগর পরিকল্পনাবিদরা। এমনকি এমন স্থাপনা নির্মাণের চর্চাও শুরু হয়েছে অনেক দেশে। এ দেশের বন্যাকবলিত ও জলাবদ্ধ এলাকার আবাসনব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানে এবং জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের ভাসমান গ্রাম প্রকল্প সামগ্রিকভাবে খুবই কার্যকরী। ভাসমান গ্রাম প্রকল্পে আবাসনব্যবস্থা সারা বছরই বাসের উপযোগী। পানির স্তর যতই বাড়ুক না কেন; আশ্রয়ের খোঁজে এখন অন্যত্র যেতে হবে না। পানির স্তর বাড়লে বাড়িগুলোও ভাসবে এর সঙ্গে। প্রতিটি বাড়িই হবে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। থাকবে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, খামার, হাঁস-মুরগি পালনের সুব্যবস্থা, ভাসমান সবজির ক্ষেত, পানীয় জলের জন্য বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সুব্যবস্থা, গবাদিপশুর জন্য দুই স্তরের মাচাবিশিষ্ট গোয়ালঘর, সৌর ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট প্রভৃতি।
ভাসমান লিফট হাউস
ভাসমান বাড়ির ক্ষেত্রে লিফট হাউসও দারুন কার্যকর। লিফট হাউস একধরনের দোতলা উভচর বাড়ি। বাঁশ-কাঠেই নির্মিত। তবে লিফট হাউসের সুবিধা হচ্ছে বাড়ির দুই পাশে বাঁশ-কাঠের বাড়তি অংশ থাকবে, যা পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠবে এবং পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নামবে। আর মূল অংশটি রড, ইট সিমেন্ট দিয়ে তৈরি, যা ভাসবে না। পেছনের অংশে থাকবে রান্নাঘর, বাথরুম, টয়লেট ও বারান্দা। বন্যার পানি যদি ১০ ফুট পর্যন্ত বাড়ে তাহলে নিচের ঘরটি ভেসে কংক্রিটের তৈরি অংশের লেবেলে চলে আসবে। লিফট হাউসটি এমন একটি বাসস্থান, যা বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাসবে এবং পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বাবস্থায় আবার মাটিতে ফিরবে। স্থাপনাটির ভাসমান ব্যবস্থা দুইভাবে করা যায়। প্লাস্টিক বোতল বা ড্রাম ও ফাঁপা ফেরোসিমেন্ট ব্যবহার করে। বাঁশ, কাঠ, টিন, বোর্ড, পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ড্রাম ও বোতল প্রভৃতি ভাসমান বাড়ি নির্মাণে আদর্শ। প্রতিটি উপকরণই দামে সস্তা, যার ব্যয়ভার সহজেই বহন করতে পারবে দরিদ্র মানুষ। তবে ব্যবহৃত বাঁশগুলোকে বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। তাহলে আর ঘুণ ধরবে না এবং দীর্ঘকাল পানির নিচে থাকলেও পচবে না। ফলে কাঠামোর দীর্ঘায়ু নিশ্চিত হবে, যার স্থায়িত্ব ২০ থেকে ৩০ বছর। ছাদ বা চাল নির্মাণে ব্যবহৃত হবে আবহাওয়ার উপযোগী ঢেউটিন। অনেক বাড়ি একসঙ্গে করলে নির্মাণব্যয় কমবে। নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য আদর্শ বাসস্থান হবে এটি।
বাংলাদেশ হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটও (এইচবিআরআই) কর্তৃক উদ্ভাবিত পানিতে নষ্ট হয় না এমন নির্মাণ উপকরণসমূহ-
প্রিকাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল
প্রিকাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল একতলা ও বহুতল ভবনের মেঝে ও ছাদে ব্যবহার করা হয়। আরসিসি স্লাবের পরিবর্তে এই উপকরণটি ব্যবহার করা যায়। প্রিকাস্ট চ্যানেলের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১০ থেকে ১৫ ফুট এবং প্রস্থ ২ ফুট হয়ে থাকে। প্রিকাস্ট চ্যানেলের আরও যেসব সুবিধা রয়েছে-
- চ্যানেল প্রিকাস্ট হওয়ায় মেঝে ও ছাদ নির্মাণে সেন্টারিং শাটারিংয়ে কাঠ ও বাঁশের প্রয়োজন হয় না
- শক্ত, মজবুত, টেকসই, দীর্ঘস্থায়ী ও অগ্নি প্রতিরোধক
- খরচ শতকরা ২০-২২ শতাংশ কম
- চ্যানেলের নিজস্ব ওজন কম হওয়ায় বিম, কলাম ও ফাউন্ডেশনে ব্যয় কম হয়
- অতি সহজেই স্থাপন ও সংযোজন করা যায়।
আরসিসি বা ফেরোসিমেন্ট চৌকাঠ
দরজা-জানালায় আরসিসি ও ফেরোসিমেন্ট চৌকাঠ ব্যবহার করা যায়। কাঠের দাম বেশি এবং তাতে উইপোকা ও ঘুণ ধরার আশঙ্কা থাকে না। তা ছাড়া পানির সংস্পর্শে কাঠ পচে যায়। ঘন ঘন রং ও বার্ণিশ করেও রেহাই পাওয়া যায় না। এই সমস্যা এবং অপচয় রোধ করার জন্যই আরসিসি ও ফেরোসিমেন্ট চৌকাঠ হতে পারে চমৎকার সমাধান।
প্রিস্ট্রেসড কংক্রিট রাফটার, পারলিন ও খুঁটি
স্বল্পস্থায়ী বাঁশ ও কাঠের পরিবর্তে প্রিস্ট্রেসড কংক্রিট রাফটার, পারলিন ও খুঁটি ব্যবহার করলে বন্যায় ঘর ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। তা ছাড়া এই উপকরণটির রয়েছে আরও অনেক সুবিধা। যেমন-
- শক্ত, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী
- সহজেই বহন করা যায়
- ওজন কম বলে অর্থ ও উপকরণের সাশ্রয় হয়
- সহজেই সংযোজন করা যায়
- কাঠের তুলনায় খরচ কম হয়
- প্রিস্ট্রেসড কাঠামোর ওপর সিআই শিটও ব্যবহার করা যায়।
প্রিকাস্ট ফেরোসিমেন্ট ফোল্ডেড প্লেট
ফোল্ডেড প্লেট ঢেউটিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সাধারণত প্রিকাস্ট ফোল্ডেড প্লেটের দৈর্ঘ্য ১২ থেকে ১৫ ফুট হয়ে থাকে। তবে ২৫ ফুট দীর্ঘ দৈর্ঘ্যরে তৈরি করা সম্ভব। উপকরণটির আরও যেসব সুবিধা রয়েছে –
- ঢেউটিনের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী
- যেকোনো ঘরের ছাদে ব্যবহার করা যায়
- ঢেউটিনের মতো কাঠ, বাঁশ বা স্টিল ফ্রেমের প্রয়োজন হয় না
- ফোল্ডেড প্লেটের নিজস্ব ওজন কম হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ভিত, বিম, কলামের খরচও কম হয়
- চুনকাম বা পছন্দমতো রং করা সম্ভব
- শিলাবৃষ্টিতে কোনো ক্ষতি হয় না।
প্রিকাস্ট ফেরোসিমেন্ট এল-প্যানেল
ঢালু ছাদের জন্য ঢেউটিন বা অ্যাসবেস্টসের পরিবর্তে ফেরোসিমেন্ট এল-প্যানেল ব্যবহার করা হয়। সাধারণত এল-প্যানেলের দৈর্ঘ্য ১৫ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে আরও বেশি দৈর্ঘ্যরে এল-প্যানেল করা সম্ভব।
সুবিধা যত
- কাঠ, বাঁশ বা স্টিল ফ্রেমের প্রয়োজন হয় না
- দামে সস্তা, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী
- গরম কম হয়
- নির্মাণ খরচ টিনের ঘরের প্রায় সমান।
প্রিস্ট্রেসড কংক্রিট হলো স্লাব
প্রিস্ট্রেসড হলো স্লাব প্রচলিত আরসিসি স্লাবের যথার্থ বিকল্প। একতলা বা বহুতল ভবনের ছাদে বা মেঝেতে এই স্লাব ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে স্লাবগুলো আগেই নির্মাণ করে যথাস্থানে বসিয়ে ছাদ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। এই স্লাবের নিজস্ব ওজন প্রচলিত আরসিসি স্লাবের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম।
সুবিধাসমূহ
- এ স্লাবে কংক্রিটের সাশ্রয় হয় ২০-২৫ শতাংশ
- লোহা সাশ্রয় হয় ৪০-৪৫ শতাংশ
- স্লাবের ওজন কম হওয়ায় বিম, কলাম এবং ফাউন্ডেশনে অর্থ সাশ্রয়ী
- পূর্বে নির্মিত হওয়ায় সামগ্রিকভাবে নির্মাণ সময় কম লাগে এবং গুণগতমান বজায় রাখা সম্ভব হয়
- সেন্টারিং বা শাটারিংয়ের জন্য বাঁশ ও কাঠের প্রয়োজন হয় না
- তাপ ও শব্দ প্রতিরোধক।
প্রিস্ট্রেসড কংক্রিট মাইক্রো পাইল
বাংলাদেশের বেশির ভাগ অঞ্চলের মাটি পলিযুক্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর ভারবহন ক্ষমতা কম। যার ফলে দালানকোঠা নির্মাণ করতে হলে সঠিক ভিতের প্রয়োজন। নগর ও শহরাঞ্চলে এ ধরনের মাটিতে বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ডিপ ফাউন্ডেশনের প্রয়োজন। পাইল হলো এ ডিপ ফাউন্ডেশন পদ্ধতির একটি।
সুবিধা
- শক্ত, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী
- পানিতে পচে না, পোকামাকড়ে নষ্ট হয় না
- সহজ পরিবহনযোগ্য এবং স্বল্প শ্রমে সহজেই মাটিতে ঢোকানো যায়
- এ পাইল নির্মাণে কিংবা ড্রাইভিংয়ে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না।
অন্যান্য মডিউলার প্রসঙ্গ
আবাসনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়, গবাদিপশুর গোয়াল, নলকূপ, কুয়া, শৌচাগার, ফসলের গোলা এমনকি সবজির ক্ষেতও বন্যার পানিমুক্ত রাখা যায় নানামুখী কৌশল অবলম্বন করে। এ সময়ে সুপেয় পানির সংস্থান খুবই জরুরি। এ জন্য নলকূপ যথাসম্ভব উঁচুতে স্থাপন করতে হবে। সম্ভব হলে এর প্লিন্থ বন্যা সীমার ওপরে স্থাপন করতে হবে। সম্প্রতি মাচা বা ভাসমান বেড তৈরি করে ভাসমান চাষাবাদও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বন্যাকবলিত স্থানে জলজ উদ্ভিদ, কচুরিপানা, শেওলা ইত্যাদি দিয়ে বাঁশের মাচা করে পানির ওপর দুই ফুট পুরু স্তূপ করে তৈরি করা জৈব-জমিতে বা ভাসমান বেডে সবজি চাষ করা যেতে পারে। বন্যার সময় ঘরে মাচা করে বা যেকোনোভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা গেলেও স্যানিটেশন-ব্যবস্থা ব্যাহত হয় চরমভাবে। টয়লেট পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় বাসিন্দাদের বিপদের সীমা থাকে না। এ জন্য একটি অতিরিক্ত টয়লেটকে যথাসম্ভব উঁচুতে নির্মাণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া গবাদি ও গৃহপালিত পশুর ঘরকে একত্রিত করে নির্মাণ করা যেতে পারে। এ সময় শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়, গণশিক্ষাকেন্দ্রসহ নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ভাসমান পদ্ধতিতে নির্মাণ করা গেলে বন্যাকালীনও চলবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। ফলে দুর্যোগকালীনও বন্ধ হবে না শিশুদের লেখাপড়া।
২০১৭ সালের বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকিসূচক অনুযায়ী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ষষ্ঠ। ২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশে যত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে, তাতে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বন্যার কারণে বছর বছর সম্পদের যে ক্ষতি হয়, তা শুধু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীরই নয়, বরং রাষ্ট্রেরও। যদিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের বেশ সুনাম রয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ টেকসই অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণে অনেকটাই পিছিয়ে আমরা। তাই বন্যা মোকাবিলা নয়, বরং বন্যাসহনীয় অবকাঠামো, স্থাপনা ও ফসল উদ্ভাবন কৌশল আবিষ্কার ও জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি-বেসরকারিভাবে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয় তা যেন হয় কার্যকর, জন ও প্রকৃতিবান্ধব। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই), স্থাপত্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। তবেই কমবে জনদুর্ভোগ, হ্রাস পাবে সম্পদের ক্ষতি, নিশ্চিত হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। সর্বোপরি, বন্যাকবলিত জনগণ মুক্তি পাবে প্রতিবছরের বিড়ম্বনা থেকে।
বিশেষজ্ঞ মত
বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) থেকে বেশ কিছু প্রযুক্তিবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উদ্ভাবন ও প্রচলন করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: দুর্যোগ সহনীয় বিভিন্ন ধরনের কাঠামো, বালু, সিমেন্ট হলো-ব্লক, কংক্রিট হলো-ব্লক, আরসিসি চৌকাঠ, প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট হলো-স্লাব, রাফটার, পারলিন, ফোল্ডেড প্লেট, এল প্যানেল, প্রিকাস্ট ফেরোসিমেন্ট চ্যানেল, মাইক্রোপাইল প্রভৃতি। এর আওতায় উদ্ভাবিত উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে উপকৃত প্রকল্পের মধ্য রয়েছে-বন্যা-উত্তর পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় শেরপুর ও নালিতাবাড়ীতে পল্লীগৃহের নকশা প্রস্তুত করে দুস্থ জনসাধারণের মধ্য ৩৫০টি বাড়ি নির্মাণে সহায়তা প্রদান।
এ ছাড়া রয়েছে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনীয় ব্যয়সাশ্রয়ী স্থাপনা নির্মাণে গবেষণা ও উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প। এইচবিআরআই ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও বন্যা উপদ্রুত এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্যোগ সহনীয় স্থাপনা নির্মাণে উদ্বুদ্ধকরণের কাজ করছে। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ঘূর্র্ণিঝড়, নদীভাঙন ও বন্যা উপদ্রুত এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্যোগ সহনীয় স্থাপনা যথা ভাসমান আশ্রয়কেন্দ্র, পুনর্ব্যবহারযোগ্য, প্রতিস্থাপনযোগ্য প্রি-ফেব্রিকেটেড মডেল হাউস এবং স্টিল হাউস নির্মাণ ও টেকসই বাড়ি নির্মাণে দুর্গত এলাকার জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ। এ লক্ষ্যে বন্যা উপদ্রুত এলাকা যেমন- আরিচা ঘাট, মানিকগঞ্জের নদীভাঙন এলাকার উপযোগী; ফুলছড়ি, গাইবান্ধার বন্যা উপদ্রুত এলাকার উপযোগী ভাসমান স্কুল কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, জাজিরা, শরীয়তপুর এবং শ্যামনগর, সাতক্ষীরার ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসকবলিত এলাকার উপযোগিতা বিবেচনায় স্টিল হাউস নির্মাণ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আবু সাদেক, পিইঞ্জ
পরিচালক, হাউসিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট
প্রকাশকাল: বন্ধন, ৯০তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৭।