Image

স্থাপত্যের ভাষা বদলে দেওয়া ল্য করবুজিয়ের কিছু স্থাপনা

আধুনিক স্থাপত্যের ইতিহাসে এমন কিছু স্থপতি আছেন যাদের স্থাপত্যকর্ম আশ্চর্য হবার মতো। তাদের কাজ শুধু ভবনের নকশা পরিবর্তন করেনি, বরং মানুষ কীভাবে ভবন, শহর ও বসবাসের পরিবেশকে ভাববে—সেই ধারণাকেও পাল্টে দিয়েছে। ল্য করবুজিয়ে তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

তাঁর প্রকৃত নাম ছিল শার্ল-এদুয়ার জ্যনেরে। স্থপতি হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন নগর পরিকল্পনাবিদ, চিত্রশিল্পী, ডিজাইনার ও লেখক। আধুনিক স্থাপত্যের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণেও তাঁর ভূমিকা ছিল অসাধারণ।

ল্য করবুজিয়ের স্থাপত্যে কার্যকারিতা, জ্যামিতি, আলো-বাতাস, উন্মুক্ত পরিকল্পনা, কংক্রিট এবং মানুষের চলাচল—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করে। তাঁর স্থাপত্যের সবচেয়ে পরিচিত ধারণাগুলোর একটি হলো ‘Five Points of Architecture’—পাইলটিস, মুক্ত পরিকল্পনা, মুক্ত ফ্যাসাদ, অনুভূমিক জানালা এবং ছাদবাগান। ১৯২৭ সালে প্রকাশিত তাঁর তাত্ত্বিক লেখায় এই ধারণাগুলো সুসংগঠিত রূপ পায়।

তাঁর কর্মজীবনে সম্পন্ন ভবনের সংখ্যা ৭৯টি, যার ৬৫টি এখনো টিকে আছে বলে জানা যায়। ২০১৬ সালে তাঁর সাতটি দেশের ১৭টি স্থাপত্যকর্ম ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ইউনেস্কো এই কাজগুলোকে আধুনিক স্থাপত্য আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে।

villa fallet

১. ভিলা ফ্যালেট: স্থাপত্যজীবনের সূচনা

সুইজারল্যান্ডের লা শো-দ্য-ফঁ শহরে নির্মিত ভিলা ফ্যালেট ল্য করবুজিয়ের প্রথম সম্পন্ন স্থাপত্যকর্ম। ১৯০৫ থেকে ১৯০৭ সালের মধ্যে নির্মিত এই বাড়িটি তাঁর পরবর্তী আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য থেকে অনেকটাই আলাদা।

তরুণ করবুজিয়ে তখনও ঐতিহ্যবাহী সুইস স্থাপত্যের প্রভাবের মধ্যে ছিলেন। বাড়িটির নকশায় স্থানীয় শ্যালের বৈশিষ্ট্য এবং প্রকৃতি-অনুপ্রাণিত অলংকরণ দেখা যায়। কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ নকশাতেও তাঁর শিল্পমনস্কতার পরিচয় পাওয়া যায়।

এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ মূলত এ কারণে, এখান থেকেই শুরু হয়েছিল এমন এক স্থপতির পথচলা, যিনি পরবর্তী কয়েক দশকে স্থাপত্যের প্রচলিত ভাষাকে আমূল পরিবর্তন করবেন।

Villa shwab

২. ভিলা শ্বব: ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতার পথে

১৯১৬–১৭ সালে নির্মিত ভিলা শ্বব ছিল লা শো-দ্য-ফঁ-এ করবুজিয়ের শেষ বড় প্রকল্প। ভবনটির সমতল ছাদ, শক্তিশালী জ্যামিতিক বিন্যাস এবং ওখার রঙের ইটের ব্যবহার তাঁর স্থাপত্যচিন্তায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

ভবনটি টার্কিশ ভিলা নামেও পরিচিত ছিল। অটোমান স্থাপত্যের কিছু প্রভাব থাকলেও এর সরল জ্যামিতি এবং ভলিউমের সংগঠন পরবর্তী আধুনিক স্থাপত্যের দিকে তাঁর অগ্রসর হওয়ার লক্ষণ বহন করে।

Masion et

৩. মেজঁ এ আতেলিয়ে প্লানেক্স: প্যারিসে আধুনিকতার নতুন অধ্যায়

প্যারিসে নির্মিত মেজঁ এ প্লানেক্স ছিল বাসস্থান ও স্টুডিওর সমন্বিত একটি প্রকল্প। ১৯২৪–২৯ সালের এই ভবনে করবুজিয়ের স্থাপত্য ক্রমেই ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিকতাবাদের পরিচিত ভাষা গ্রহণ করতে শুরু করে।

ভবনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বসবাস ও শিল্পচর্চার স্থানকে একই স্থাপত্য কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করা। প্যারিসে তাঁর কর্মজীবনের নতুন পর্যায়ের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

Centrosouyz

৪. সেন্ট্রোসয়ুজ: স্থাপত্য মানে চলাচল

মস্কোতে নির্মিত সেন্ট্রোসয়ুজ ভবনটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ভোক্তা সমবায় সংস্থার সদর দপ্তর। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৬ সালের মধ্যে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পে করবুজিয়ে স্থাপত্যকে শুধু স্থির ভলিউম হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের চলাচলকে নকশার কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।

ভবনের ভেতরে র‌্যাম্প, বিভিন্ন স্তর এবং চলাচলের ধারাবাহিকতা এমনভাবে পরিকল্পিত হয়েছিল, যাতে ব্যবহারকারী ভবনটির ভেতর দিয়ে একটি নান্দনিক ভ্রমণপথের অভিজ্ঞতা পান।

Villa Savoa

৫. ভিলা সাভোয়া: পাঁচটি নীতির স্থাপত্যিক ঘোষণা

আধুনিক স্থাপত্যের ইতিহাসে ভিলা সাভোয়া সম্ভবত ল্য করবুজিয়ের সবচেয়ে পরিচিত ভবন। প্যারিসের বাইরে পয়সিতে ১৯৩১ সালে সম্পন্ন এই বাড়িটি আধুনিকতাবাদী স্থাপত্যের একটি প্রতীক।

সাদা, জ্যামিতিক এবং প্রায় ভাসমান মনে হওয়া ভবনটি পাইলটিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নিচের তলা তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত। ভবনের ভেতরে দেয়ালের বিন্যাস কাঠামোর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে বাঁধা নয়। দীর্ঘ অনুভূমিক জানালা ভেতরে আলো ও বাতাস প্রবেশ করায়।

ভিলা সাভোয়াতে করবুজিয়ের পাঁচটি স্থাপত্যনীতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়—

  • পাইলটিস বা স্তম্ভের ওপর ভবনকে তুলে রাখা
  • মুক্ত পরিকল্পনা
  • মুক্ত ফ্যাসাদ
  • অনুভূমিক বা রিবন উইন্ডো
  • ছাদবাগান
Immuable

৬. ইম্যুবল মলিতর: কাচের দেয়ালের নতুন সম্ভাবনা

প্যারিসে ১৯৩৪ সালে সম্পন্ন ইম্যুবল মলিতর ছিল আবাসিক স্থাপত্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা। ভবনটির ফ্যাসাদে কাচের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।

এটি করবুজিয়ের ব্যক্তিগত জীবনেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় তাঁর নিজের বাসস্থান ও স্টুডিও ছিল, যেখানে তিনি ১৯৬৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বসবাস

কাঠামো ও ফ্যাসাদের সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে ভবনটি আধুনিক আবাসিক স্থাপত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

Unite de

৭. ইউনিতে দ্যাবিতাসিওঁ: ভবনের ভেতর একটি শহর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবাসন সংকটের প্রেক্ষাপটে ল্য করবুজিয়ে ভাবতে শুরু করেন—একটি বড় আবাসিক ভবন কীভাবে শুধু অ্যাপার্টমেন্টের সমষ্টি না হয়ে একটি ছোট শহরের মতো কাজ করতে পারে?

মার্সেইয়ের ইউনিতে দ্যাবিতাসিওঁ সেই প্রশ্নের উত্তর। ১৯৪৬–৫২ সালে নির্মিত এই প্রায় ১২ তলা আবাসিক কমপ্লেক্সে ছিল শত শত আবাসিক ইউনিট, দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শিশুদের সুবিধা এবং ছাদে বিনোদনমূলক স্থান।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—একটি ভবন একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনকে ধারণ করতে পারে।

Casa

৮. কাসা কুরুচে: ছোট জায়গায় বড় স্থাপত্য

আর্জেন্টিনার লা প্লাতায় ১৯৪৯–৫৩ সালের মধ্যে নির্মিত কাসা কুরুচে দক্ষিণ আমেরিকায় ল্য করবুজিয়ের একমাত্র প্রকল্প।

একটি সরু প্লটে দুই পাশের বিদ্যমান ভবনের মাঝখানে স্থাপিত এই বাড়িতে ছিল চিকিৎসকের চেম্বার এবং পারিবারিক বাসস্থান। অফিসের ছাদকে বাসস্থানের জন্য বাগান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

এই প্রকল্প প্রমাণ করে যে করবুজিয়ের স্থাপত্য কেবল বড় প্লট বা বিশাল ভবনের জন্য উপযোগী ছিল না। সীমিত জায়গার মধ্যেও আলো, বাতাস, চলাচল এবং সবুজের সমন্বয় করা সম্ভব।

Mill owner

৯. মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিল্ডিং: ভারতীয় আবহাওয়ার সঙ্গে আধুনিকতা

ভারতের আহমেদাবাদে নির্মিত মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বিল্ডিং ল্য করবুজিয়ের ভারতীয় স্থাপত্য-পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ১৯৫১–৫৬ সালের এই ভবনে কংক্রিটের শক্তিশালী উপস্থিতির সঙ্গে সূর্য নিয়ন্ত্রণের উপযোগী স্থাপত্যিক কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

ভারতের তীব্র সূর্যালোক ও উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে আধুনিক স্থাপত্যের সম্পর্ক স্থাপন করাই এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীকালে করবুজিয়ের ভারতীয় কাজগুলোতে সূর্যরোধী ফ্যাসাদের ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এখানে কংক্রিট কেবল কাঠামোগত উপাদান নয়; বরং স্থাপত্যের নান্দনিক ভাষারও অংশ।

Palace of the assemly

১০. প্যালেস অব দ্য অ্যাসেম্বলি: চণ্ডীগড়ের আধুনিক প্রতীক

ভারতের চণ্ডীগড় শহর পরিকল্পনায় ল্য করবুজিয়ের ভূমিকা তাঁকে শুধু ভবনের স্থপতি নয়, একজন নগর-চিন্তাবিদ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্যালেস অব দ্য অ্যাসেম্বলি তাঁর ক্যাপিটল কমপ্লেক্সের এর অংশ। ১৯৫১–৬৩ সালের মধ্যে নির্মিত এই ভবনে পুরিজম ও ব্রুটালিজমের সমন্বয় দেখা যায়। বিশাল বাঁকানো ছাদ, কংক্রিটের স্তম্ভ, সূর্যরোধী এবং শক্তিশালী জ্যামিতিক ভলিউম ভবনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য।

ভবনের অভ্যন্তরে উন্মুক্ত পরিকল্পনা এবং কেন্দ্রীয় স্থানের চারপাশে বিভিন্ন কার্যকরী অংশের বিন্যাস করা হয়েছে। রঙিন এনামেল করা দরজাও ভবনের কঠিন কংক্রিটের ভাষার মধ্যে একটি দৃশ্যমান বৈপরীত্য তৈরি করে।

ল্য করবুজিয়ের স্থাপত্যের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—তিনি ভবনকে শুধু আশ্রয় হিসেবে দেখেননি। তিনি ভবনকে আলো, বাতাস, কাঠামো, চলাচল, সামাজিক জীবন এবং মানুষের অভিজ্ঞতার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখেছিলেন।

আজকের স্থাপত্যে টেকসই নকশা, প্রাকৃতিক আলো, নমনীয় ফ্লোরপ্ল্যান, মিশ্র-ব্যবহার, মানবিক স্কেল এবং জলবায়ু-উপযোগী ফ্যাসাদ নিয়ে যে আলোচনা চলছে।তার অনেক ধারণার সঙ্গে করবুজিয়ের পরীক্ষার সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।

এই কারণেই ল্য করবুজিয়ের ভবনগুলো কেবল স্থাপত্যের ইতিহাসের নিদর্শন নয়। এগুলো আধুনিক স্থাপত্য কীভাবে জন্ম নিয়েছিল, কীভাবে বিকশিত হয়েছিল এবং কেন আজও তা নিয়ে আলোচনা করা হয়—তার জীবন্ত দলিল।

Related Posts

নতুন করে রূপান্তরের পথে যুক্তরাষ্ট্রের বেলভেডের

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেলভেডের’ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মারিন কাউন্টির একটি ধনী এবং ছোট আবাসিক শহর। সান ফ্রান্সিসকো বে-র অববাহিকায় দুটি দ্বীপ…

আবার কি ফিরবে ‘সোনালী আঁশের’ সোনালী দিন?

নির্মাণের চাহিদা দিনদিনই বাড়ছে। তবে পরিবেশবান্ধব স্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, গবেষণা ও কখনো কখনো উদ্বেগ। চলতি বছরে…

ByBySarwar Alam Aug 12, 2026

হাতির বর্জ্য দিয়ে গড়া থাইল্যান্ডের ‘গোয়া টাওয়ার’

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে, ফাং-এনগা প্রদেশের মাতালাই প্রকল্পের প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে আছে এক অস্বাভাবিক স্থাপনা যার নাম, গোয়া টাওয়ার। ইট, কংক্রিট…

শেনজেনে স্তুপাকার স্থাপত্যে গড়া এমভিআরডিভি-র রঙিন গ্রাম

চীনের শেনজেন শহরে একটি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের জন্য নতুন ডিজাইন প্রকাশ করেছে ডাচ স্থাপত্য সংস্থা এমভিআরডিভি (MVRDV)। “বিহাইলু আর্ট…

সুইডেনের দূষিত জমিতে গোলাপি স্ফটিকের “লিথিয়াম ক্রিস্টাল সনা”

সুইডেনের উত্তরের শহর স্কেলেফটিওতে একটি নতুন স্থাপনা তৈরি হয়েছে। স্টকহোমের শিল্পী জুটি বিগার্ট ও বার্গস্ট্রম এই কাঠামোর নাম…

ফেলথাম কেবিন যেনো আধুনিক স্থাপত্যের নতুন এক ভাষা

স্থাপত্য আর স্থাপনার কথা বলতেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে বিশাল আকৃতি, দামী উপকরণ এবং ল্যান্ডস্কেপের সাইজ। এটি সমূহ…

সুনীল শেঠির ছাদ ভেদ করে উঠেছে প্রাচীন গাছ

ভেবে দেখুন তো, আপনি নিজের ড্রয়িংরুমে বসে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ে চুমুক দিচ্ছেন। মাথার ওপরের দিকে তাকাতেই…

কানাডা আমেরিকাকে যুক্ত করলো যে সেতু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে “গর্ডি হাও ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ”।…

ভারহুত স্তূপ: বৌদ্ধ স্থাপত্যের এক অতি প্রাচীন নিদর্শন

ভারতীয় উপমহাদেশ এশীয়ার প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই ঐতিহ্যবাহী। ভোলগা থেকে গঙ্গা পর্যন্ত অনেক পথ পরিক্রমায় আজ হয়তো আধুনিকতার হাওয়া…