স্পর্শহীন অটোমেটিক সেন্সর ডোর

প্রযুক্তির কল্যাণে জীবন হচ্ছে সহজ থেকে সহজতর। দূর থেকে কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে, হাতে একটি রিমোর্ট কন্ট্রোলার থাকলেই সম্ভব। আবার কোনো কোনো বুদ্ধিমান ডিভাইস রয়েছে, যেগুলো নিজ থেকেই কাজ করতে সক্ষম। যেমন, সেন্সর ডোরের কথাই ধরুন না! এই অটোমেটিক অপারেটিং ডোর দিয়ে কেউ অন্দরে প্রবেশ বা বের হতে চাইলে তাকে কষ্ট করে দরজা খুলতে বা লাগাতে হবে না, বরং তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই খুলে যাবে ও বন্ধ হবে। রুচি ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেও এই স্মার্ট দরজার চল বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের করোনাভাইরাসের কারণে বাড়ছে এই দরজার চল। কারণ দরজার হাতলে অসংখ্য মানুষের হাতের স্পর্শ মোটেও স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নয়; বাড়ে করোনা ও অন্যান্য রোগ-জীবাণুর ঝুঁকি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহার করতে পারেন অটোমেটিক সেন্সর ডোর।

লাক্সারি শপিংমল, অফিস, হোটেল, বাণিজ্যিক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে সেন্সর ডোরের ব্যবহার। বিশেষ ধরনের এ দরজার মধ্য দিয়ে চলাচল করা যায় সাধারণ দরজার মতোই। তবে এই দরজায় রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোশন সেন্সর, যার ফলে আপনি দরজার কাছাকাছি আসামাত্র অটোমেটিকভাবে খুলবে, আবার চলে যাওয়ামাত্র অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে। সেন্সর ডোরে থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মডেলের বিভিন্ন সেফটি সিস্টেম। ডোরের সঙ্গে থাকে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক ম্যাগনেটিক লক সিস্টেমও। অটোমেশন সিস্টেমের এই দরজা বা গেটগুলো ম্যানুয়াল সুইচ ও রিমোর্টের সাহায্যে ৫০ ফুট দূর থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্লাস ডোর সিস্টেমের সঙ্গে এক্সটা ইউপিএস সেট করা থাকে, যাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও ৫০০ বার অটোমেটিক খুলবে ও বন্ধ হবে। ডোরের চারপাশে অ্যান্টি-অ্যাজিং সিল থাকে, যা ডোরকে পুরোনো হতে দেয় না। এর পাশাপাশি থাকে তাপ ও শব্দ পরিবাহী পদ্ধতিও।

সেন্সর ডোরের ব্যবহার

  • লাক্সারি শপিংমলে
  • এয়ারপোর্টে
  • হাসপাতালে
  • অফিসে
  • ফার্মেসিতে
  • হোটেলে
  • খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে
  • বাণিজ্যিক ভবনে
  • রেস্টুরেন্টে।

সেন্সর ডোরের রকমফের

  • অটোমেটিক স্লাইডিং গ্লাস ডোর
  • অটোমেটিক কার্ভ গ্লাস ডোর
  • অটোমেটিক স্লাইডিং গেট
  • অটোমেটিক গ্লাস সুইং ডোর
  • অটোমেটিক সুইং গেট
  • অটোমেটিক রোলার সুইং গেট
  • অটোমেটিক সেকশনাল গ্যারেজ ডোর
  • অটোমেটিক রোলিং শাটার
  • অটোমেটিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল শাটারস
  • অটোমেটিক ফুল হাইট ট্রানজিট ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক ট্রাইপড ট্রানজিট ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক পার্কিং ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক বোলারড ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক টায়ার কিলার
  • অটোমেটিক হাইড্রোক্লোরিক ব্যারিয়ার।

তৈরির উপকরণ

সাধারণত অটোমেটিক ডোর দুই ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি। দুটি উপাদানের মধ্যে রয়েছে টেম্পারড গ্লাস ও পলি কার্বনেট। টেম্পারড গ্লাসের মধ্যে পলি কার্বনেটের মিশেলে তৈরি করা হয় স্লিম লুকের অটোমেটিক ডোর। এই দরজার বডি অনেক শক্তিশালী। কারণ এর উপরিভাগে নরম ইপোক্সি রজনসহ পলিয়েস্টার ফাইবারযুক্ত থাকে। এই বডিই ডোরের মূল ভিত্তি।

নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

বিভিন্নভাবেই এ ডোর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর মধ্যে টাচলেস, বায়োমেট্রিক, কি প্যাড বায়োমেট্রিক ও কার্ড কি রিডারের মাধ্যমে অটোমেটিক ডোরের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি, বাটন, ফটোইলেকট্রিক সুইচ, বোতাম, ড্রস্ট্রিং, রিমোট কন্ট্রোল মেটাল ডিটেকশন ও রাডারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ ডোরের সুইচিং স্পিড: ০.৬-১.৫ মিনিট/সেকেন্ড। ৫-৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই এ ডোর বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকে। এ ডোরের শব্দ রোধের ক্ষমতা কমবেশি ২০ ডেসিবল। বাইরে থেকে শব্দ ভেতরে আসে না। ফলে লাক্সারি শপিংমল, অফিস-হোটেলের স্বাভাবিক কাজকর্ম সহজেই পরিচালনা করা যায়।

আকার-আকৃতি

সাধারণত অটোমেটিক সেন্সর ডোর প্রস্থ ৪-১০ মিটার ও উচ্চতাও ৪-১০ মিটার হয়ে থাকে। এই দরজা সাধারণত দুই পার্টের হয়। তবে বড় পরিসরের জন্য চার পার্টের দরজাও পাওয়া যায়। 

নিরাপত্তা সুরক্ষা

এ ডোরে নিরাপত্তা সুরক্ষা ডিভাইস থাকে। যেমন, ফটোইলেকট্রিক সুইচ, কন্টাক্ট সেন্সিং বর্ডার ও ওয়ার্নিং লাইট থাকে। কেউ যদি এ দরজায় আটকে যায় বা কোনো ধরনের বিপদে পড়ে, তাহলে এ ডিভাইসগুলো সংকেত দিয়ে থাকে। তাতে সহজেই যেকোনো ধরনের সংকট থেকে সহজেই উত্তরণ সম্ভব হয়। আর যেসব স্থানে কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেখানে অনেক সময়ই অসচেতনভাবে কেউ দরজা খুলে রেখে যেতে পারে। অটোমেটিক ডোর ব্যবহারে এই সম্ভাবনা থাকে না। এই ডোর সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে আর কেন্দ্রীয়ভাবে সেন্সরগুলো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। যেকোনো মুহূর্তে ভবনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সেন্সর বন্ধ করে দিয়ে দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া যায়। তাই নিরাপত্তা বিবেচনায়ও অটোমেটিক ডোরের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

দরদাম

বাংলাদেশের বাজারে কোরিয়া, জার্মানি, ইতালি ও চীনের আমদানি করা অটোমেটিক ডোর পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণত ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। দেশের বাজারে প্রাইম, মাইক্রোটেকসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ডোর ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের মধ্যে পাওয়া যায়। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান স্থাপন সুবিধা ও বিক্রয়োত্তর সেবাও প্রদান করে থাকে।

প্রাপ্তিস্থান

রাজধানীর মহাখালী, বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি, উত্তরা, ফার্মগেট, কাওরান বাজারে অটোমেটিক সেন্সর ডোর পাওয়া যায়। এ ছাড়া আলি এক্সপ্রেসের মতো কিছু আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অর্ডার করেও এ ডোর সংগ্রহ করা যায়। দেশে ক্লিক বিডি, এটুজেড, আজকের ডিল-এর মতো অনেক অনলাইন কোম্পানি আছে, যারা অটোমেটিক সেন্সর ডোর সরবরাহ করে থাকে।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ১৩১তম সংখ্যা, জুলাই ২০২১।

মোহাম্মদ রবিউল্লাহ
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top