কংক্রিটের দীর্ঘস্থায়িত্ব (২য় পর্ব)

গত পর্বে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, নির্মাণ বিনিয়োগকে নিরাপদ করা এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে দীর্ঘস্থায়িত্বের উপযোগী স্থাপনা নির্মাণ কতটা জরুরি তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবারের অংশে আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণের কিছু দিক।

কার্বন ডাই-অক্সাইড, ক্লোরাইড এবং সালফেট এই তিনটি উপাদান কংক্রিটের স্থাপনা ক্ষয়ের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। এই উপাদানগুলো সিমেন্ট ও পানির বিক্রিয়ার সময় সৃষ্টি হওয়া ক্যাপিলারি চ্যানেলের মাধ্যমে কংক্রিটে প্রবেশ করে। সিমেন্ট ও পানির পরিপূর্ণ বিক্রিয়া গঠনের জন্য সিমেন্টের পরিমাণের ২৩ শতাংশ পানির প্রয়োজন হয়। কিছু পানি সূ² সূ² খালি জায়গায় বদ্ধ হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ পানি হলেই চলে। এই পানির অতিরিক্ত পানি সৃষ্টি করে ক্যাপিলারি চ্যানেল। যত বেশি পানি দেওয়া হবে তত বেশি ক্যাপিলারি চ্যানেল সৃষ্টি হবে, যা ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে অতি দ্রæত কংক্রিটের ভেতর প্রবেশ করিয়ে এর শক্তিমাত্রা কমাতে এবং ভেতরের রডে মরিচা পড়তে সহায়তা করে। এ কারণে দীর্ঘস্থায়ী স্থাপনার জন্য যতটা সম্ভব কম পানি ব্যবহার করা উচিত। কংক্রিটে পানি কমালে কংক্রিটের নমনীয়তাও কমে যায়। তবে কেমিক্যাল অ্যাডমিক্সচার ব্যবহার করে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।

একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কংক্রিটের মধ্যে সামান্য পরিমাণ ক্যাপিলারি চ্যানেল থাকে কিংবা একেবারেই থাকে না। এ ছাড়া অন্যান্য আরও অনেক বিষয় আছে, যার ওপর স্থাপনার দীর্ঘস্থায়িত্বতা নির্ভর করে। দীর্ঘস্থায়ী স্থাপনার নির্মাণের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • কংক্রিটে কম পানি ব্যবহার
  • পানি/সিমেন্ট অনুপাত হবে ০.৪৫-এর চেয়ে কম
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করা
  • ভালো গ্রেডের অ্যাগ্রিগেটস ব্যবহার করা
  • কৌণিক আকৃতির পাথরের চিপস ব্যবহার করা
  • মিক্সিং ও কিউরিংয়ের জন্য পরিষ্কার পানি ব্যবহার করা 
  • কংক্রিটের সব উপাদান ক্লোরাইড মুক্ত রাখা
  • রডের ওপর যথাযথ পরিমাণ কংক্রিটের আবরণ দেওয়া
  • পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী সিমেন্ট বেছে নেওয়া 
  • সঠিক অনুপাতে মিশ্রণ করা
  • সমানভাবে মিশ্রণ করা 
  • কংক্রিটের পর্যাপ্ত নমনীয়তা থাকা
  • ঢালাইকে ভালোভাবে কম্প্যাক্ট করা 
  • ভালোভাবে শাটারিং করা যেন পানি বেরিয়ে না যায় 
  • স্ট্রাকচারাল কাঠামোতে জয়েন্ট কম হওয়া
  • ঢালাইয়ের পরপরই যথানিয়মে কিউরিং করা 
  • এমনভাবে ডিজাইন করা যেন স্ট্রাকচারের ওপর পানি না জমে 
  • বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়িত্বের উপযোগী ডিজাইন করা
  • বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নির্মাণকাজ তত্ত¡াবধান করা
  • উপযুক্ত সারফেস কোটিং দেওয়া
  • নিয়মিত স্থাপনার মনিটরিং করা এবং 
  • ডিজাইনে কংক্রিটের শক্তিমাত্রা ৫০০০ পিএসআইয়ের বেশি রাখা।

এই বিষয়গুলো যতœসহকারে মেনে চললে দীর্ঘস্থায়িত্বের উপযোগী স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব, যা ১০০ বছরেরও বেশি স্থায়ী হবে। নির্মাণসামগ্রীর প্রাপ্যতা ধরে রাখতে দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট স্থাপনার বিকল্প নেই। 

অধ্যাপক

সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, গাজীপুর

প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০৩তম সংখ্যা, নভেম্বর, ২০১৮

Related Posts

অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান এখনকার অবকাঠামো জলবায়ুসহিষ্ণু হতে হবে

দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেলপথটি চলতি বছরের অক্টোবরে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে স্বল্প খরচ ও ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকা…

অটোমেশন সিস্টেমে স্মার্ট হোম

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি চমৎকার এক আবাসের। বসবাসের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় একটি গৃহ আমাদের ধারণ করে। এই বসবাস ও…

ভবন ‘নির্মাণ’ এবং মান নিয়ন্ত্রণ (পর্ব-৭)

আজকের আলোচ্য বিষয় নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃতব্য স্টিলসামগ্রী (এমএস রড, অ্যাঙ্গেল ও ফ্ল্যাট বার)। এমএস রড একটি ভবন নির্মাণ…

মিথেনে নতুন বিপদ

গ্রামে প্রায়ই রাতের আঁধারে কৃষিখেত বা ডোবা-নালায় দেখা যায় হঠাৎ জ্বলে ওঠা আগুন, গোলা হয়ে উড়তে থাকে এক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

Zabun Nesa Mosq.
BRAC
Oberio Palace
Soil
“যত মানুষ ফুটবলের ভক্ত, তত মানুষ স্থাপত্য নিয়েও আগ্রহী হোক”
হাতে তৈরি পাঁচটি আইকনিক চারু ও কারি শিল্পের বাড়ি
RIAS ২০২৬ সালের বার্ষিক পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা
গাছকে জড়িয়ে গড়া আমার ঠিকানা
শহরের শরীরে খোদাই করা এক গৃহকাব্য