গত পর্বে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, নির্মাণ বিনিয়োগকে নিরাপদ করা এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে দীর্ঘস্থায়িত্বের উপযোগী স্থাপনা নির্মাণ কতটা জরুরি তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবারের অংশে আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণের কিছু দিক।

কার্বন ডাই-অক্সাইড, ক্লোরাইড এবং সালফেট এই তিনটি উপাদান কংক্রিটের স্থাপনা ক্ষয়ের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। এই উপাদানগুলো সিমেন্ট ও পানির বিক্রিয়ার সময় সৃষ্টি হওয়া ক্যাপিলারি চ্যানেলের মাধ্যমে কংক্রিটে প্রবেশ করে। সিমেন্ট ও পানির পরিপূর্ণ বিক্রিয়া গঠনের জন্য সিমেন্টের পরিমাণের ২৩ শতাংশ পানির প্রয়োজন হয়। কিছু পানি সূ² সূ² খালি জায়গায় বদ্ধ হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ পানি হলেই চলে। এই পানির অতিরিক্ত পানি সৃষ্টি করে ক্যাপিলারি চ্যানেল। যত বেশি পানি দেওয়া হবে তত বেশি ক্যাপিলারি চ্যানেল সৃষ্টি হবে, যা ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে অতি দ্রæত কংক্রিটের ভেতর প্রবেশ করিয়ে এর শক্তিমাত্রা কমাতে এবং ভেতরের রডে মরিচা পড়তে সহায়তা করে। এ কারণে দীর্ঘস্থায়ী স্থাপনার জন্য যতটা সম্ভব কম পানি ব্যবহার করা উচিত। কংক্রিটে পানি কমালে কংক্রিটের নমনীয়তাও কমে যায়। তবে কেমিক্যাল অ্যাডমিক্সচার ব্যবহার করে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।

একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কংক্রিটের মধ্যে সামান্য পরিমাণ ক্যাপিলারি চ্যানেল থাকে কিংবা একেবারেই থাকে না। এ ছাড়া অন্যান্য আরও অনেক বিষয় আছে, যার ওপর স্থাপনার দীর্ঘস্থায়িত্বতা নির্ভর করে। দীর্ঘস্থায়ী স্থাপনার নির্মাণের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-

এই বিষয়গুলো যতœসহকারে মেনে চললে দীর্ঘস্থায়িত্বের উপযোগী স্থাপনা নির্মাণ করা সম্ভব, যা ১০০ বছরেরও বেশি স্থায়ী হবে। নির্মাণসামগ্রীর প্রাপ্যতা ধরে রাখতে দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিট স্থাপনার বিকল্প নেই। 

অধ্যাপক

সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, গাজীপুর

প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১০৩তম সংখ্যা, নভেম্বর, ২০১৮

ড. মো. তারেক উদ্দিন, পি.ইঞ্জি
+ posts