রাস্তার প্যাচ হোল সংস্কার

বিটুমিনে নির্মিত ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট বা পিচের রাস্তায় ভারী যানবাহনের চাপে বিটুমিন উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও প্রচুর বৃষ্টিপাত, বন্যা, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণই দায়ী এ গর্তের জন্য। প্রায় সব বিটুমিনাস রাস্তায় রোড মেটাল আলগা হয়ে উঠে যাওয়ায় ছোট-বড় গর্ত দেখা দেয়। এই গর্তগুলো প্যাচ হোল নামে পরিচিত। বিটুমিনাস পেভমেন্টে এটি একটি সাধারণ সমস্যা। তবে এই প্যাচ হোলগুলো যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে মেরামত না করলে রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই ঘটে নানা ধরণের দূর্ঘটনা। তাছাড়া ছোট গর্তগুলো মেরামত না করলে তা থেকে সৃষ্টি হয় আরো বড় গর্তের। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব গর্ত চিহ্নিত করে এটি সংস্কার করা জরুরী।

প্যাচ হোল সৃষ্টির কারণ

  • ভারী যান চলাচল
  • দ্রুত গতির যান চলাচল
  • যানবাহনের অতিরিক্ত লোড
  • মাত্রাতিরিক্ত ঘর্ষণ
  • অধিক বৃষ্টিপাত
  • বন্যা
  • জলাবদ্ধতা
  • প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়
  • ভূমিকম্প
  • তাপমাত্রার ব্যাপক তারতম্য
  • লবনাক্ততা
  • তুষার পাত
  • অক্সিডেশন
  • বিটুমিনের স্বল্পতা
  • যথাযথ কম্প্যাকশনের অভাব
  • দুই পাশের জয়েন্টে অসামঞ্জস্যতা
  • মানহীন বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার
  • নির্মাণত্রুটি।

সংস্কারে প্রয়োজণীয় উপকরণ

  • বিটুমিন
  • বেলচা
  • কর্ণিকা
  • কড়াই প্রভৃতি।

কাজের ধারা

রাস্তার প্যাচ হোল সংস্কার বা মেরামতে যে যে পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে-

প্যাচ হোল কাটিং

রাস্তার পৃষ্টদেশে প্যাচ হোলগুলোকে বর্গাকার বা আয়তাকারে চিহ্নিত করতে হবে। চিহ্নিত স্থান কেটে ক্ষতিগ্রস্থ উপাদানসমূহ উঠিয়ে ফেলতে হবে। এরপর এমনভাবে গর্ত করতে হবে যেন শক্ত স্তর পর্যন্ত পৌঁছে। গর্ত কাটার পর ভেতরের ক্ষতিগ্রস্থ পাথর ও অন্যান্য উপাদান উঠিয়ে ফেলতে হবে।

প্যাচ হোল পরিষ্কারকরণ

গর্তের পরিমান ছোট বা কম গভীর হলে ঐ গর্তের ভেতর ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ভিতরের সব ধুলাময়লা এবং আলগা উপাদান উঠিয়ে ফেলতে হবে। গর্তের গভীরতা বেশী হলে প্রয়োজনবোধে গর্তে বালু দিয়ে ভরাট করে দৃঢ়বদ্ধ করতে হবে। তারপর বিটুমিন উত্তপ্ত করে প্রলেপের মতো একটি পাতলা স্তর অর্থাৎ ট্যাক কোট দিতে হবে।

প্রিমিক্স প্রস্তুত

কোর্স এগ্রিগেট এবং বিটুমিনকে প্রয়োজনমত গরম করতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুপাতে মিশ্রিত করে প্রিমিক্স প্রস্তুত করতে হবে।

প্রিমিক্স ফিলিং ও কম্প্যাকশন

প্রস্তুতকৃত প্রিমিক্স দিয়ে প্রস্তুতকৃত পট হোল পূর্ণ করে হ্যান্ড র‌্যামার দিয়ে দুরমুশ করে দৃঢ় করতে হবে। এর ওপর বালু ছড়িয়ে আবারও দুরমুশ করতে হবে।

সতর্কতা

  • গর্তের আকার বড় হলে গর্তের কিনারা থেকে ৩০ সে.মি বাইরে খনন করতে হবে
  • ইমালশন বা কটি ব্যাক ব্যবহার করে ঠান্ডা পদ্ধতিতে প্রিমিক্স প্রস্তুত করতে হবে
  • দুরমুশ শেষে সমাপক পৃষ্ট একটু উঁচু রাখতে হবে
  • সড়কে দ্রুত গতির যান চলায় যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে কোণ, সাইন ও পতাকা ব্যবহার করতে হবে।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ৭৯তম সংখ্যা, নভেম্বর ২০১৬।   

প্রকৌশলী সুবীর কুমার সাহা
+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top