• Home
  • মূল রচনা
  • শ্রমিক এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন: সবুজের সঙ্গে সেতুবন্ধন
Image

শ্রমিক এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন: সবুজের সঙ্গে সেতুবন্ধন

শ্রমিক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি উৎপাদনের পেছনে আছে শ্রমিকের ঘাম, সময় ও স্বপ্ন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প সেই শ্রমের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক। আর এই শিল্পের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে ‘গ্রিন গার্মেন্টস বিল্ডিং’।

পরিসংখ্যান বলে, রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পে বিশ্ববাজারে চীনের পরপরই ২য় অবস্থানে দীর্ঘদিন ধরেই আছে বাংলাদেশ। মূলত ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিলে রানা প্লাজা ধ্বসের পর বিদেশি ক্রেতাদের চাপেই পরিবেশবান্ধব গার্মেন্টস শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কাচ, ইট, আলো-বাতাস ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী নকশার ভেতর এখানে শুধু পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নয়, লুকিয়ে আছে শ্রমিকের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ এবং মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার। 

গ্রিন গার্মেন্টস ভবনকে দেখা যায় এক নতুন শিল্পসভ্যতার রূপক হিসেবে, যেখানে স্থাপত্য কেবল উৎপাদনের অবকাঠামো নয়, বরং মানবিক শ্রমের প্রতি দায়বদ্ধতারও ভাষা।

পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানায় আসলে কী ?

পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা এমন একটি কারখানা যেখানে সকল আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে করা হয়। যে পরিমাণ জমির ওপর কারখানা হবে তার অর্ধেকটাই ছেড়ে দিতে হবে সবুজায়নের জন্য। কারখানার চারপাশে খোলা জায়গা থাকবে। আর কারখানার ভেতরেও থাকবে খোলা জায়গা। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ থাকবে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর। এক শ্রমিক থেকে অন্য শ্রমিকের দূরত্বও থাকবে বেশ। এছাড়া সব কিছুই অটোমেশনে হবে। মেশিনারিজ হবে অত্যাধুনিক। ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে। থাকবে সোলার প্যানেল, এলইডি লাইট। এছাড়া পানি রি-সাইকিন হবে।

আন্তর্জাতিক মান মেনে গড়া পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা। ছবি: মাত্রিক

শ্রমিক-বান্ধব আবাসন

শ্রমিকের মজুরি নিয়ে হয়েছে বহু আলোচনা ও আন্দোলন। এসব সল্প মজুরির শ্রমিকদের সিংহভাগ কোথায় খরচ হয় জানেন? তাদের বেতনের বিশাল অংশ চলে যায় বাসা ভাড়ায়।  পোশাক শ্রমিকদের বেলাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। 

ফলে শ্রমিকের আবাসন নিয়ে ভাবনাটা মানবিক এবং যৌক্তিক। কিছু কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের আবাসন নিয়েও কাজ করছে। এমনকি সেই ফ্ল্যাট একসময় তাদের যেন হয় সেরকম নানা অর্থনৈতিক পলিসিও তৈরি করছে। টেকসই জীবন পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে চর্চিত হচ্ছে, এটি তারই অংশ। 

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ১০০ স্কয়ার ফিটের সে ঘরে না আসে আলো, না আসে বাতাস। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করলে বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য থাকেননা কেউই। দিনের বেলায় ছোট শিশুরা একাকী ঘুরে বেড়ায়। তাদের দেখভালের জন্য গ্রাম থেকে কাউকে নিয়ে এলে ছোট ঘর উপচে পড়ে মানুষের ভিড়ে। 

এই সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে না পারলে ভবিষ্যতে আমাদের কড়া মাসুল গুণতে হবে। তাই কেবল ফ্যাক্টরি ভবন নয়, কর্মীদের জন্য নির্মাণ করতে হবে এমন হাউজিং ব্যবস্থা যেখানে বাজার, স্কুল ও কমিউনিটি সার্ভিস নিশ্চিত করা যায়। 

তাত্ত্বিকদের মতে আদর্শিক কর্মপদ্ধতি হলো

১. একটি এলাকার বসতবাড়ির সকল মহিলা-পুরুষ যারা অর্থ উপার্জন করছেন না তারা একত্রিত হয়ে বাড়িঘরের দেখভাল করবেন, এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে কাজ করবেন।

২. মহিলা-পুরুষ সকলেই সমান সম্মানী এবং কাজের সুযোগ পাবেন।

৩. শ্রেণি, সম্প্রদায় এবং বয়সের ভিত্তিতে পৃথকীকরণের বিলুপ্তি সাধনে সচেষ্ট হবেন।

৪. মজুরি ছাড়া ঘরের কাজ করছেন যে সকল মহিলা তাদের প্রতি অবিচার বন্ধে সোচ্চার হবেন।

৫. মজুরি ছাড়া গৃহকর্মের কাজ কমিয়ে দেবেন এবং শক্তিক্ষয় না করে তা সঞ্চয় করবেন।

৬. গৃহস্থালির উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত উপায়ের পরিধি বাড়ানোয় কাজ করবেন, এবং প্রাসঙ্গিক বিনোদনকে প্রাধান্য দেবেন।  

মালিকপক্ষের প্রয়োজন একটি সুন্দর ‘ফিনিশড প্রডাক্ট’। একজন সুখী শ্রমিকের থেকে সেটা আর কে ভালো দিতে পারবে! সুতরাং এই জায়গাগুলোতে লক্ষ্য করলে উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।  

রানা প্লাজা ধ্বসে নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে স্বজনেরা। ছবি: তাসলিমা আখতার

১১৩৪, সংখ্যা নয় প্রাণ

রানা প্লাজা ধ্বসে মারা যাওয়া ১১৩৪ জন কেবল সংখ্যা নয়, প্রাণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বরাবরই বাংলাদেশে ধর্মীয় বিভাজনের চাইতেও অপরাধ ও ক্রোধের দিক থেকে ধনী আর গরীবের ফারাকটাই ব্যাপকতা পেয়েছে।  ক্ষমতা ও শ্রম তাই আজও সেভাবেই বিভাজিত হচ্ছে।

একটি পরিবেশবান্ধব ফ্যাক্টরি, একটি শ্রমিকবান্ধব কর্মস্থল আসলে কীরকমের হয়? বৈশ্বিক পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনের কারণেও নতুন করে এনিয়ে ভাবার সময় এসেছে। কার্বন নিঃসরণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, নানারকমের দূষণ ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে সচেতনতা জাগ্রত হওয়াটাই বাস্তবিক। 

ওয়ালমার্ট, ডিজনি ইত্যাদি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব ফ্যাক্টরি ছাড়া উৎপাদন ও বিপণনজনিত কোনো সম্পর্ক রাখবেনা বলে জানিয়েছে। তাই বাংলাদেশেও এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা শুরু হয়ে গিয়েছে। 

টেকসই জীবন পদ্ধতি এখন বিশ্বজুড়ে চর্চিত হচ্ছে।  ছবি: মাত্রিক

রাজউকের বিল্ডিং কোড অনুসারে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভবন তৈরি করতে যা যা খেয়াল করা হয় তা সংক্ষেপে এরকম-  

– ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভবন হিসেবেই নির্মাণ করা।

– ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভবন বিবেচনায় যথাযথ সিলিং উচ্চতা, সিঁড়ি ও লিফটের নকশা করা।

– পর্যাপ্ত আলো, ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা।

– রান্নাঘর ও শৌচাগারের সুবিধাদি নিশ্চিত করা।

– ড্যাম্প ও পানি প্রুফিং মেঝে ও দেওয়াল বানানো।

– নিয়মানুযায়ী পার্কিং ও বেজমেন্ট বানানো।

– আগুন থেকে ভবন ও শ্রমিকদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ ভবনে রাখা।

– ভবনের ইলেকট্রিক ডিজাইন নিয়মানুযায়ী করা।

– যথাযথ পানি সরবরাহ ও প্লাম্বিং সুবিধা নিশ্চিত করা।

– শব্দ ও তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে যথাযথ উপায়ে নকশা করা।

পরিবেশ ও মানববান্ধব পরিবেশে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। ছবি: BSS

টেকসই বা গ্রিন বিল্ডিং এর শর্তাবলী

১. নির্মাণের এলাকা এমনভাবে ঠিক করতে হবে যেন জীববৈচিত্রে ব্যাঘাত না ঘটে। নগর পরিকল্পনায় বাণিজ্যিক এলাকা বলে ঘোষিত জায়গাকে বেছে নিতে হবে।  শ্রমিকদের আবাসন না থেকে থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্র থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বের মাঝে ফ্যাক্টরিটি রাখতে হবে। 

২. জমির অবস্থান অনুসারে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম দিক বুঝে কাজ করা।  বাংলাদেশের জলবায়ু অনুযায়ী উত্তর দক্ষিণের বায়ুপ্রবাহকে ভবনে যতটা সম্ভব ব্যবহারের চেষ্টা করা এবং পশ্চিমের কড়া রোদকে সমঝে নকশা করা উচিৎ যাতে ভবন এমনিতেই ঠান্ডা থাকে এবং কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয়।

৩. সূর্যের আলোর ব্যবহার। দিনে কাজ করার ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করেই কীভাবে সূর্যের আলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানো যায় সেরকম নকশা করতে হবে। 

৪. ভূপ্রকৃতি সংরক্ষণ করা অন্যতম দায়িত্ব। পুকুর ভরাট করে সেখানে ফ্যাক্টরি গড়ে তোলার চেয়ে সেটিকে প্রকল্পের শক্তি ভেবে ভবন নকশা করার মতো দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আমাদের দেশের জলবায়ুতে কোন ভবনের কাছে পুকুর থাকা একটা আশীর্বাদ। 

৫. খোলা সবুজ মাঠ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারখানাতে এরকম খোলা সবুজ ময়দান থাকা এখন বাধ্যতামূলক। পরিচ্ছন্ন সবুজ উদ্যানে কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে। একইসাথে আগুন বা ভূমিকম্পের ফলে যখন অনেক শ্রমিক একসাথে বেরিয়ে পড়েন তখন একত্রে দাঁড়ানোর একটি জায়গাও তৈরি হয়।

৬. গ্রিন রুফ বা সবুজ ছাদ এবং সবুজ দেয়ালের চর্চা এখন খুব জনপ্রিয়। বিশাল ফ্যাক্টরি ভবনের বিশাল ছাদে সবুজায়ন করলে জীববৈচিত্র যেমন ধারণ করা যায়, একইসাথে ছাদে যে পরিমাণে তাপ বাড়তো তার পরিমাণও কমে যায়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়ে সেন্সর ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে ৩০% পর্যন্ত শক্তি সাশ্রয় সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

৭. উপকরণের যথাযথ এবং পুনঃব্যবহার করতে হবে। টেকসই উন্নয়নে পুনঃব্যবহারের কোন জুড়ি নেই।  এটি সাশ্রয়ীও বটে।

৮. বিদ্যুৎ ও গ্যাস আমাদের প্রাকৃতিক জ্বালানির মাঝে অন্যতম। এর যত কম প্রয়োগ করা যায় ততই মঙ্গল। এইক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, সেন্সর বা সুইচ কন্ট্রলিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বাঁচানো যায়। US GREEN BUILDING COUNCIL এর মতে বাংলাদেশের একটি পোশাক কারখানা থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ৩০ শতাংশ  বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যাবে।

৯. পরিবেশবান্ধব স্থাপনার ক্ষেত্রে পানি ব্যবহারের মাঝে পরিমিত বোধ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থাপনায় সাশ্রয়ী সনদপ্রাপ্ত টয়লেট ফিক্সার ও ফিটিংসে যে সেন্সর ব্যবহার করা হয় তাতে করে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি পানি বের হয় না। এ ছাড়াও চল্লিশ শতাংশ রিসাইকেল পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বৃষ্টির পানির ব্যবহারও বাড়াতে হবে। 

১০. পরিবেশবান্ধব জীবন প্রণালিতে নানা অপচয় রোধে মূল ব্যবহারকারী হিসেবে মানুষের নানা প্রশিক্ষণ জরুরী। কীভাবে কোন জিনিস কতখানি ব্যবহার করতে হবে বা নিরাপত্তার খাতিরে কীভাবে চলতে ফিরতে হবে এসব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিন রেটিং সিস্টেমে ফ্যাক্টরির পরিবেশবান্ধবতা যাচাই করা হয়। ছবি: ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল

গ্রিন বিল্ডিং এর রেটিং পদ্ধতি

কোন ফ্যাক্টরি কতখানি পরিবেশবান্ধব তার রেটিং সিস্টেম আছে। যেমন কানাডায় গ্রিন স্টার, যুক্তরাজ্যে ব্রিয়াম, মধ্যপ্রাচ্যে এস্ট্রোডার্মা, ভারতে গৃহ, জার্মানিতে ডিজিএনবি, জাপানে ক্যাসবি ইত্যাদি বিভিন্ন নামে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গ্রিন রেটিং পদ্ধতির প্রচলন আছে। 

এর মাঝে পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত হলো ইউএসের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল প্রবর্তিত লিড LEED (লিডারশিপ ইন এনার্জি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন)। 

এই রেটিং-এর ভিত্তিতে পাঁচটি ক্ষেত্রে ভবনের মান যাচাই করা হয়- টেকসই জমি, পানির সাশ্রয়ীতা, শক্তির সাশ্রয়, নির্মাণসামগ্রীর উপকরণ নির্বাচন ও অভ্যন্তরীন পরিবেশের মান যাচাই।  রেটিং-এর মানও চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়- সার্টিফাইড, সিলভার, গোল্ড এবং প্লাটিনাম।

রানা প্লাজা ধ্বসের পর সকলের প্রত্যাশা ছিলো দেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে একটি দল পোশাক কারখানার ভবনগুলো সরজমিনে দেখবেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে আলাদা করে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াবেন।  দুঃখজনকভাবে এরকম কিছু ঘটেনি। নানা কমিটি গঠন হলেও তাদের কাজের ব্যাপারে আমাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। 

কিন্তু ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট ‘একোর্ড’ আর উত্তর আমেরিকার জোট ‘এলায়েন্স’ বাংলাদেশের পোশাক কারখানার সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। তাদেরও অডিটের একটি তালিকা রয়েছে যেগুলো ঠিকঠাক থাকলে সেই পোশাক কারখানার পোশাক নেওয়া হয়। 

গ্রিন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কিছু সমালোচনা

বাংলাদেশের গ্রিন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য, শক্তি সাশ্রয় ও LEED সার্টিফিকেশনের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও, সাম্প্রতিক সমালোচনায় দেখা যাচ্ছে এই “সবুজ” পরিচয়ের আড়ালে শ্রম-বাস্তবতার বেশ কিছু ধূসর দিক রয়ে গেছে। 

FAIR ও Bangladesh Center for Worker Solidarity–এর যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, কম মজুরি, অতিরিক্ত কাজের চাপ, তাপজনিত অস্বস্তি, লৈঙ্গিক সহিংসতা এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সীমিত উপস্থিতির মতো সমস্যা এখনো বিদ্যমান। অর্থাৎ, বিল্ডিংয়ের পরিবেশগত দক্ষতা বাড়লেও সামাজিক ন্যায় ও শ্রমিক কল্যাণ সবসময় সমানভাবে নিশ্চিত হচ্ছে না।  

কাজের মাঝে বিরতিতে ফ্যাক্টরির সবুজ চত্বরে সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকেরা। ছবি: লেখক

শেষ কথা

১৮১৭ সালে রবার্ট ওয়েন প্রথম শ্লোগানটা তুলেছিলেন, ‘‘আট ঘন্টা কাজ, আট ঘন্টা বিনোদন, আট ঘন্টা বিশ্রাম’’।  তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে সময় লেগেছিল একশ বছরেরও বেশি।  

শ্রমিক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের যাপিত জীবনে ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিসের পিছনে আছে শ্রমিকের ঘাম ও জীবন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে গ্রিন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি নতুন পরিবর্তনের প্রতীক হলেও রানা প্লাজা ধ্বসের পর শ্রমিকের মজুরি, আবাসন ও মর্যাদার প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। 

আমরা সকলেই শ্রমকিদের সেই সংগ্রামের স্রোতে যুক্ত হয়ে সমষ্টিগত সচেতনতা জাগিয়ে তুলতে চাই।  

তথ্যসূত্র:

১. হাজার প্রাণের চিৎকার, রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ড বিষয়ক সংকলন – সম্পাদনা: বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি

২. বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা – স্থপতি খালিদ মাহমুদ

৩. ইকো টেক্সটাইল নিউজ

Related Posts

স্থপতি নিশাতের ঘরে মা দিবসের এক দুপুর

মা দিবস উপলক্ষে কি ধরনের লেখা দিব তা নিয়ে বেশ চিন্তাই ছিলাম। সাথে সাথে মনে হলো, দুই প্রজন্মের…

কাঠ-টিনের কাব্য: মুন্সিগঞ্জের ভ্রাম্যমাণ প্রাসাদের গল্প 

মুন্সিগঞ্জ জেলা মানেই পদ্মা-মেঘনা-ধলেশ্বরীর পলিধৌত এক জনপদ। এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি তাদের নির্মাণশৈলীতেও…

নিলামে উঠছে আইফেল টাওয়ার!

নিলামে উঠছে আইফেল টাওয়ারের মূল সর্পিলাকার সিঁড়ির একটি অংশ। প্যারিসের এই বিখ্যাত স্থাপনার মূল সিঁড়ির একটি অংশ আগামী…

জর্জিয়ায় নির্মিত হচ্ছে আকাশচুম্বী ‘ট্রাম্প টাওয়ার’

জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যাচ্ছে বিখ্যাত ‘ট্রাম্প টাওয়ার’। প্রখ্যাত আর্কিটেকচার স্টুডিও ‘গেন্সলার’ (Gensler) সম্প্রতি এই…

নিরাপদ পারমাণবিক স্থাপত্যের বিশেষত্ব

দীর্ঘ প্রস্তুতি, অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৮…

প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র ‘লোটাস ক্লাবহাউস’

ভিয়েতনামের এক শান্ত লেকপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে লোটাস ক্লাবহাউস। প্রথম দর্শনে যাকে মনে হয় প্রকৃতিরই একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ। MIA…

নির্মাণাধীন ঢাকা টাওয়ার বদলে দিবে রাজধানীর পরিচয়

বাংলাদেশের দ্রুত এগিয়ে চলা অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি এখন শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, দৃশ্যমান হচ্ছে স্থাপত্যেও। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় নির্মাণাধীন…

বিশ্বের অদ্ভূত যত স্থাপনা

দুনিয়া বড়ই বিচিত্রময়। এরই ধারায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম অদ্ভূত বাড়ি ও স্থাপনা দেখা যায়। এসব স্থাপনাগুলোর…

কন্টেইনার যখন অফিস

স্পেনের কুয়েঙ্কা প্রদেশের এল পেরাল অঞ্চলে অবস্থিত অ্যাগ্রোসেমিয়াস (Agrosemillas) অফিস প্রকল্পটি এক বিশেষ প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে মানুষের…