স্ল্যাগ

‘স্ল্যাগ’ কী?

গলিত (পাইরোমেটালার্জিক্যাল) আকর থেকে ধাতু আলাদা করে নেওয়ার পর যে পদার্থ অবশিষ্ট থাকে, সে বস্তুকেই বলা হয় স্ল্যাগ। এই পদার্থ ধাতুমল, উপজাত বা গাদ নামে পরিচিত। সাধারণত লৌহ আকরিক গলিয়ে কাঁচা লোহা উৎপাদনের সময় যে অবশিষ্ট বর্জ্য জমা হয়, সেটাই মূলত স্ল্যাগ।

তবে বিস্তৃত অর্থে, এটি লৌহঘটিত (প্রসেসিং লোহা এবং ইস্পাতের উপজাত), ফেরোঅ্যালয় (ফেরোঅ্যালয় উৎপাদনের উপজাত) বা অলৌহঘটিত/বেস ধাতু (তামা, দস্তা, ফসফরাস ও নিকেলের মতো অলৌহঘটিত পদার্থের উপজাত)।

স্ল্যাগের মধ্যে থাকা পার্টিকেলস বা উপাদানগুলো কী কী?

স্ল্যাগ সাধারণত ধাতব অক্সাইড এবং সিলিকন ডাই-অক্সাইডের মিশ্রণ। তবে স্ল্যাগে ধাতব সালফাইড ও মৌলিক ধাতু থাকতে পারে। স্ল্যাগের প্রধান উপাদানসমূহের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, আয়রন ও অ্যালুমিনিয়ামের অক্সাইড। এ ছাড়া কম পরিমাণে থাকে ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস এবং অন্যান্য উপাদান, যা কাঁচামালের নির্দিষ্টতার ওপর নির্ভর করে।

স্ল্যাগ কত ধরনের হয়ে থাকে?

স্ল্যাগ প্রক্রিয়াকরণের ভিত্তিতে কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন-

  • ব্লাস্ট ফার্নেস (বিএফ) স্ল্যাগ
  • এয়ার-কুলড ব্লাস্ট ফার্নেস (এসিবিএফ) স্ল্যাগ
  • বেসিক অক্সিজেন ফার্নেস (বিওএফ) স্ল্যাগ এবং
  • ইলেকট্রিক আর্ক ফার্নেস (ইএ) স্ল্যাগ।

সিমেন্ট উৎপাদনে অ্যাডমিক্সচার হিসেবে স্ল্যাগ ব্যবহৃত হয় কেন?

সিমেন্টে বহুল ব্যবহৃত একটি মিনারেল অ্যাডমিক্সচার স্ল্যাগ। আয়রন স্ল্যাগ পানি দিয়ে দ্রুত ঠান্ডা করলে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কণিকায় পরিণত হয়। পরে এটি শুকানোর পর তা চূর্ণ করে মিহি পাউডারে রূপান্তর করে সিমেন্ট তৈরির সময় মেশানো হয়।

সিমেন্টের মতো আয়রন স্ল্যাগেও আছে সিলিকন ডাই-অক্সাইড ও ক্যালসিয়াম অক্সাইড। তাই এটি পানির সঙ্গে মিশে বাড়তি শক্তি প্রদান করে। এ ছাড়া এটি ক্লিংকারের হাইড্রেশনে যে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন হয়, তার সঙ্গে বিক্রিয়া করে বাড়তি ক্যালসিয়াম সিলিকেট হাইড্রেট জেল তৈরি করে কংক্রিটের শক্তিমাত্রা আরও বৃদ্ধি করে।

স্ল্যাগ সিমেন্টের আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে, যেমন- স্ল্যাগ সিমেন্ট হিট অব হাইড্রেশন কমায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধি করে ইত্যাদি। আমাদের দেশের সিমেন্ট স্ট্যান্ডার্ডে (বিডিএস ইএন ১৯৭-১:২০০৩) স্ল্যাগের ব্যবহার করে কয়েক ধরনের সিমেন্ট যেমন- সিইএম টাইপ টু এ-এস, সিইএম টাইপ টু বি-এস এবং সিইএম টাইপ থ্রি- এ/বি/সি উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণে, কংক্রিট স্থাপনার চারদিকের পরিবেশের কথা বিবেচনা করে সঠিক সিমেন্ট ব্যবহার করা অপরিহার্য। যেমন, সমুদ্রের পানিতে দীর্ঘস্থায়িত্বের কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণে স্ল্যাগ সিমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রকাশকাল: বন্ধন, ১৫২তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০২৩।

Related Posts

অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান এখনকার অবকাঠামো জলবায়ুসহিষ্ণু হতে হবে

দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেলপথটি চলতি বছরের অক্টোবরে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে স্বল্প খরচ ও ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকা…

অটোমেশন সিস্টেমে স্মার্ট হোম

আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি চমৎকার এক আবাসের। বসবাসের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় একটি গৃহ আমাদের ধারণ করে। এই বসবাস ও…

ভবন ‘নির্মাণ’ এবং মান নিয়ন্ত্রণ (পর্ব-৭)

আজকের আলোচ্য বিষয় নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃতব্য স্টিলসামগ্রী (এমএস রড, অ্যাঙ্গেল ও ফ্ল্যাট বার)। এমএস রড একটি ভবন নির্মাণ…

মিথেনে নতুন বিপদ

গ্রামে প্রায়ই রাতের আঁধারে কৃষিখেত বা ডোবা-নালায় দেখা যায় হঠাৎ জ্বলে ওঠা আগুন, গোলা হয়ে উড়তে থাকে এক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *