দরজা তথা ডোর ঘরের অন্যতম নিরাপত্তা অনুষঙ্গ। তবে সৌন্দর্যেও এর আবেদন অনেক। বিশেষ করে কাঠের দরজার নকশা অন্য যেকোনো দরজা থেকে আলাদা। কিন্তু বিশ্ব ব্যাপী দাম বেড়ে যাওয়ায় কমেছে কাঠের ব্যবহার। বাড়ির প্রধান দরজায় সবাই একদম সলিড কাঠ ব্যবহার করলেও অন্যান্য রুমের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বেডরুম, কিচেন, বারান্দা ও বাথরুমে আজকাল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাইউড ডোর। দেখতে সুন্দর, সাশ্রয়ী ও টেকসই হওয়ায় হালে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্লাইউডের বৈচিত্র্যময় সব দরজা।
প্লাইউড কী?
প্লাইউড হচ্ছে কাঠের একাধিক লেয়ারবিশিষ্ট শক্তিশালী ও নমনীয় ফ্ল্যাটশিট। কাঠের পাতলা কয়েকটি লেয়ারকে উচ্চতাপে প্লাইউডে রূপান্তর করা হয়। প্রকৃতপক্ষে তিন বা তারও অধিক ভিনিয়ার বোর্ডকে একসঙ্গে রেসিন লাগিয়ে চাপ প্রয়োগ করে উচ্চ তাপমাত্রায় যে পুরু ও শক্তিশালী বোর্ড তৈরি করা হয়, তাকেই বলে প্লাইউড। মূলত পপলার, ইউক্যালিপটাস কোর বা কাস্টমাইজড কাঠ, বার্মাটিক, গর্জন ও লরেল গাছ থেকে তৈরি করা হয় প্লাইউড। সাধারণত প্লাইউডের পুরুত্ব বা ঘনত্ব ৪ মিমি থেকে ২৫ মিমি পর্যন্ত হয়। মেলামাইন উডের ওয়াটারপ্রæফ দরজায় পলিশ বা পেইন্টের প্রয়োজন পড়ে না। মালয়েশিয়ান প্লাইউড সাধারণত সাদা হয়, তাই পলিশ বা পেইন্ট করে পরিবর্তন করা যায় সহজেই।
ব্যবহারক্ষেত্র
বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানÑ উভয় স্থানেই প্লাইউড ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্লাইউড অধিক আর্দ্রতা প্রতিরোধক হওয়ায় আসবাব, দরজা, দেয়াল, সিলিং এমনকি ক্যাবিনেট তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া ইন্টেরিয়র ও এক্সটেরিয়রসহ অন্যান্য কাজেও প্লাইউড ব্যবহৃত হয়। পাকা বাড়ি বা টিনের ঘরÑ সবখানেই এই দরজা ব্যবহার করা যায়।
রকমফের
দিন দিন বাড়ছে প্লাইউডের চাহিদা। এখন মানুষ ডেকোরেশনের জন্য প্লাইউডকে সবচেয়ে বেশি বেছে নিচ্ছে। বার্মাটিক, গর্জন ও লরেল গাছের প্লাইউড বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর বাইরে সফটউড, হার্ডউড, ডেকোরেটিভ (আলংকারিক), মেরিন (সামুদ্রিক) ও ট্রপিক্যাল (ক্রান্তীয়) অঞ্চলের গাছে প্লাইউডের দরজা ব্যবহৃত হয় বিশ্বের নানা দেশে। আজকাল বাজারে প্রচুর পরিমাণে প্লাইউডের রেডিমেইড দরজা পাওয়া যায়। আবার অর্ডার দিয়ে নিজের মতো করেও বানানো যায়।
প্লাইউড ব্যবহারের সুবিধা
- প্লাইউড ডোর উৎপাদনে ইউরিয়া-ফর্মালডিহাইড আঠালো জাতীয় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান কম হারে ব্যবহার করা হয়।
- প্লাইউডে ফর্মালডিহাইড কনটেন্ট মাত্র ১.৫ মিমি/লিটার ব্যবহার করা হয়, তাতে ক্ষতি হয় কম।
- প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ফারগাছের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়।
- প্লাইউড ডোর ধুলোমুক্ত করতে কারখানায় পিইউ পেইন্ট দিয়ে স্প্রে করা হয়, ফলে বেনজিনের উপস্থিতি থাকে না।
- মেশিনের সহায়তায় সহজেই ত্রুটি ছাড়া উৎপাদন করা যায়।
- প্লাইউডে কোনো রঙের গন্ধ থাকে না।
দরদাম
পারটেক্স, লিরা, বিসিএল, আক্তারসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্লাইউডের ডোর বাজারে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের প্লাইউড ডোর পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিজের পছন্দ অনুযায়ী বোর্ড কিনেও তৈরি করা যায় প্লাইউড ডোর। সেক্ষেত্রে বর্গফুট হিসেবে প্লাইউড কিনে ডোর বানাতে হবে। আবার ডোরে নিজের মতো নকশাও করা যায়। ভেতরে মেশিনের মাধ্যমে বিট মারা যায়। তবে এতে কাঠের মতো বিশেষ কোনো নকশা করা যায় না। বাজারে আকিজ, সুপার, পারটেক্স ও অন্যান্য কোম্পানির বিভিন্ন রং ও টেক্সারের প্লাইউড বোর্ড পাওয়া যায়। এ ছাড়া পপলার, ইউক্যালিপটাস কোর বা কাস্টমাইজড কাঠ, বার্মাটিক, গর্জন ও লরেল গাছের বোর্ড দিয়েও প্লাইউড ডোর বানানো যায়। এগুলো বর্গফুটভেদে বিক্রি হয় ২৫০-৩০০ টাকায়।
বোর্ড দিয়েও প্লাইউড ডোর বানানো যায়; সেগুন বোর্ড দিয়ে বানালে সৌন্দর্য ও টেকসই উভয়ই ভালো হয়। তবে এ ক্ষেত্রে দাম প্রায় হাজার দেড়েক টাকা বেশি পড়বে। মেলামাইন বোর্ডের ডোরগুলো মিলবে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়।
প্লাইউডের স্কয়ারফুটভেদে দরদাম
গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি
প্লাইউড ডোরে সাধারণত পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। বেশির ভাগ কোম্পানি এক্ষেত্রে পাঁচ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে থাকে।
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১২৯তম সংখ্যা, মে ২০২১
বিশেষজ্ঞ মত
কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ
সহকারী অধ্যাপক, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই), বুয়েট
ইউলুপগুলো সঠিকভাবে ডিজাইন করে সড়কে স্থাপন করা গেলে মানুষ এর সুফল পাবে। উত্তরার দিকে যেগুলো হয়েছে, সেগুলো ভালোভাবে কাজ করছে। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত লেন আছে, স্পেস আছে। আবার সেখানে আবাসিক এলাকা হওয়ায় ট্রাফিক কম। এসব কারণে উত্তরার দিকের ইউলুপগুলো ভালো কাজ করছে। কিন্তু তেজগাঁও-মহাখালীরগুলোতে ততটা কার্যকরিতা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, বড় সমস্যা হচ্ছে সাইড রোড বা পার্শ্ব সড়ক নেই, রাস্তা সরু। তা ছাড়া জোনটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া। সেখানে রাস্তাঘাটে প্রচুর মানুষজন যাতায়াত করে।
ইউলুপ কোথায় কার্যকর হবে সেটার সার্ভে করা, তার পাশাপাশি যেখানে হবে সেখানকার জনঘনত্ব অ্যানালাইসিস করা দরকার। এগুলো গবেষণা না করে বাস্তবায়ন করলে সমস্যা তৈরি হবে। যার প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোথাও কোথাও ইউলুপের কারণে সৃষ্ট হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের।
ড. আদিল মুহাম্মদ খান
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আরবান ডিজাইনে ইউটার্ন যানজট নিরসনে একটা সুন্দর সমাধান। এটা করতে গেলে আমাদের প্রচুর স্পেস লাগবে। এতে সড়কগুলো সরু হয়ে পড়বে। যেখানে ট্রাফিক ভলিউম অত্যন্ত বেশি ও স্পেস কম, সেখানে করতে গেলে এটা ট্রাফিক ক্রাইসিস তৈরি করবে। আবার বিপরীতে যেখানে অনেক স্পেস আছে বা বলতে পারি উত্তরার আজমপুরে করা হয়েছে, সেখানে অনেক স্পেস আছে। আবার সেখানে ট্রাফিক ভলিউম কম, আমরা দেখেছি সেখানে এই ইউটার্ন ভালো কাজ দিয়েছে। বনানী ও মহাখালীতে খুব বেশি কাজ করেনি। তার মানে এক সমাধান সবখানে কাজ করবে না। স্পেস ও ট্রাফিক ভলিউমের ওপর এটার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল। তার মানে এটার একটা অ্যানালাইসিস দরকার যে এই ইউটার্ন কোথায় ভালো কাজ করবে, কোথায় করবে না। আমরা তো ডিমোলেশন করে স্পেস বাড়াতে পারব না, আবার ট্রাফিক ভলিউমও কমাতে পারব না। সেই ক্ষেত্রে একটা প্রোপার অ্যানালাইসিস করে আমাদের দেখা দরকার যে এই ইউটার্ন কোথায় কাজ করবে, কোথায় করবে না।
প্রকাশকালঃ বন্ধন, ১২৯তম সংখ্যা, মে ২০২১