স্থাপত্যকলার বিবর্তন সবসময় আমাদের করেছে অভিভূত। পুরানো স্থাপত্যরীতি বদলে নতুন নতুন থিমে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক সব ভবন। নির্মাণ উপকরণেও এসেছে বৈচিত্র। এখনকার আধুনিক স্থাপত্য মানেই বাহুল্য বর্জিত সরল ধাচের অথচ মনোমুগ্ধকর নির্মাণ। তবে বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে শত শত বছরের পুরাতন স্থাপনা, যেগুলোর শৈলী যেন রূপকথার গল্পের মতই। এমনই এক ঐতিহাসিক স্থাপত্যরীতি হচ্ছে রেনেসা কিংবা বারোক স্থাপত্যশৈলী। এ ধরণের স্থাপত্যশৈলীতে ফুটে ওঠে নানা ধরণের বৈচিত্রময় ভাষ্কর্য ও শিল্পকর্ম। তবে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে ধীরে ধীরে পতন ঘটে বারোক স্থাপত্যের। এছাড়াও জটিল নকশা, সুক্ষ জ্যামিতির প্রয়োগসহ নানা কারণও দায়ী।
বারোক স্থাপত্যের উদ্ভব ইতালিতে, ১৬ শতকের শেষের দিকে রেনেসাঁ আন্দোলনের পরে। পরে ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকাজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করে। এ ধরণের স্থাপত্যের নিদর্শনগুলোর সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় গীর্জা এবং ক্যাথেড্রালে। এই স্থাপত্যশৈলী সূক্ষ্ম বিবরণ, জটিল জ্যামিতি, উজ্জ্বল রং এবং বিস্ময়-অনুপ্রেরণামূলক আবহ সৃষ্টির জন্য সুপরিচিত। তবে বারোক স্থাপত্য শুধুমাত্র ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না। ভাস্কর্য, চিত্রকলাসহ শিল্পকলার বিভিন্ন মাধ্যমে এর অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে। ক্যারাভাজিও, রুবেনস এবং বার্নিনির মতো বারোক যুগের শিল্পীরা স্থাপত্য শৈলীর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এমন কাজগুলো করেছিলেন। বারোক যুগের শিল্প সেই সময়ে ইউরোপে ঘটে যাওয়া কঠোর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলো। প্রোটেস্ট্যান্ট সংস্কার এবং থারি ইয়ারস যুদ্ধ উভয়ই এই শৈলীর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এখনও বারোক স্থাপনা ইউরোপীয় স্থাপত্যের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান শৈলী হিসাবে রয়ে গেছে। এ ধরণের স্থাপত্যের মধ্যে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদ, রোমের সেন্ট পিটারস ব্যাসিলিকা এবং রাশিয়ার চার্চ অব দ্য সেভিয়র অন স্পিলড ব্লাড, স্পেনের মাদ্রিদের রয়্যাল প্যালেস এবং অস্ট্রিয়ার শোনব্রুন প্রাসাদ উল্লেখযোগ্য। বারোক স্থাপত্য একসময় লাতিন আমেরিকাতেও জনপ্রিয় ছিলো। স্প্যানিশ এবং পর্তুগিজ উপনিবেশিকরা আমেরিকায় প্রথম এ স্থাপত্যশৈলীর প্রচলন শুরু করেন। আমেরিকায় উল্লেখযোগ্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সিটি ক্যাথেড্রাল, লিমা, পেরুর সান ফ্রান্সিসকো চার্চ এবং ব্রাজিলের সালভাদরের চার্চ অব আওয়ার লেডি অব দ্য রোজারি।
স্থাপত্যের বারোক যুগ ১৬ শতকের শেষভাগে শুরু হয়। ১৮ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ স্থাপত্যের সময়কাল স্থায়ী বলে মনে করা হয়। নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে সঠিক সময়ের হেরফের হতে পারে, তবে সাধারণত বারোক সময়কাল ১৬০০ সালের দিকে শুরু হয়ে ১৭৫০ সালের দিকে শেষ হয়েছিল বলে মনে করা হয়। সর্বপ্রথম ইতালিতে, বারোক স্থাপত্যকলার চর্চা শুরু হয়েছিলো। ইতালীতে ১৭৫০ শতকের শেষের দিকে বারোক শৈলী জনপ্রিয়তা হারালেও ফ্রান্সে টিকেছিলো ১৮ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত। প্রথমে বারোক স্থাপত্য ব্যাপকভাবে ক্যাথলিক চার্চ এবং নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের গির্জা এবং প্রাসাদ নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত হত। তাই এর জনপ্রিয়তার সময়কাল রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে দেশ থেকে দেশে ভিন্ন হতে পারে।
বারোক স্থাপত্যের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিলো ক্যাথলিক চার্চের সংস্কার এবং প্রোটেস্ট্যান্টবাদের বিস্তার রোধে প্রতীকী আন্দোলন। ক্যাথলিক চার্চ তার শক্তি এবং প্রভাব বুঝাতেও জমকালো স্থাপত্য প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলো। বারো২ক স্থাপত্যশৈলীর ভাষায় এই উদ্দেশ্য নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছিলো। বারোক গির্জা এবং ক্যাথেড্রালগুলোর মহিমা এবং ঐশ্বর্যের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিলো বিশ্বস্তদের মধ্যে ভীতি ও ভক্তি জাগানো। পাশাপাশি চার্চের সম্পদ এবং ক্ষমতা প্রদর্শন করা ছিলো আসল উদ্দেশ্য। জনপ্রিয়তার আরেকটি কারণ ছিল ইউরোপে রাজতন্ত্রের উত্থান। বিশাল স্থাপত্য প্রকল্পের মাধ্যমে, ফ্রান্সের লুই চতুর্দশ এবং স্পেনের দ্বিতীয় চার্লসের মতো শাসকরা তাদের ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তি প্রদর্শন করতে চেয়েছিলেন। বারোক স্থাপত্যশৈলী ছিলো এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের যথা উপযুক্ত মাধ্যম। এছাড়াও এটি অত্যন্ত বহুমুখী নমনীয় নির্মাণশৈলী। বিশাল প্রাসাদ এবং পাবলিক বিল্ডিং থেকে শুরু করে ছোট গির্জা এবং ব্যক্তিগত বাসস্থানেও বিভিন্ন ধরণের বিল্ডিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতো। শৈলীটি বিভিন্ন ধরণের আলংকরণ এবং আলংকারিক উপাদান ব্যবহারের জন্যও সহজ ক্ষেত্র ছিলো যা ঐশ্বর্যের অনুভূতি তৈরি করে।
১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বারোক স্থাপত্য জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে। সেই শতাব্দীর শেষের দিকে এটি মূলত নিওক্লাসিক্যাল আর্কিটেকচার আন্দোলন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। এমন হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো রাজনৈতিক এবং ধর্মীয়। যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বারোক স্থাপত্যকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল ১৮ শতকের পর তার পট পরিবর্তন হয়েছিলো। গ্র্যান্ড আর্কিটেকচারাল প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যাথলিক চার্চের আর তার শক্তি এবং প্রভাব জাহির করার সুযোগ ছিল না। ইউরোপের নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রগুলো তখন ছিলো পতনের পথে, তাই বারোক স্থাপত্য দিন দিন গুরুত্ব হারিয়েছিলো। এ সময় মানুষের চিন্তা, চেতনা ও জীববোধে নতুন ধারা যুক্ত হওয়ায় বারোক স্থাপত্যের মহিমা এবং ঐশ্বর্যের সাথে তা ছিলো সাংঘর্ষিক।
বারোক স্থাপত্যের পতনের আরেকটি কারণ হলো নিওক্লাসিক্যাল শৈলীর মতো নতুন স্থাপত্যশৈলী এবং শ্রেণী বৈষম্যের আন্দোলনের উদ্ভব। নিওক্ল্যাসিসিজম ছিলো বারোক স্থাপত্যের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়ার বহি:প্রকাশ। একইভাবে ক্ল্যাসিক্যাল স্থাপত্যেশৈলীতে বারোকের মতোই আলোকিতকরণের নতুন ধারণাগুলোর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিলো। বারোক শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ ছিলো ব্যয়বহুল। অনেক ভবন বেকায়দায় পড়েছিল যা রক্ষণাবেক্ষণ করা ছিলো রীতিমতো দু:সাধ্য। বারোক বিল্ডিংগুলোর জন্য উচ্চ স্তরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংস্কার কাজ প্রয়োজন ছিলো। সে সময় অনেকগুলো বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হয়েছিল যা বেহাল অবস্থায় পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত, সমাজের রুচিও পরিবর্তিত হয়েছিলো, সাধারণ মানুষ শাস্ত্রীয় শিল্প ফর্মগুলোর সরলতা এবং নমনীয়তার প্রশংসা করতে শুরু করেছিলো যা বারোকের জাঁকজমক এবং ঐশ্বর্য থেকে আলাদা ছিলো। সর্বোপরি বারোক স্থাপত্যের পতন ছিল রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল যা নতুন স্থাপত্যশৈলী এবং আন্দোলনের এক অবিরাম সাফল্য।
বারোক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য
এ স্থাপত্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনা করা হতো তাই এর অনেক রকম বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেহেতু বিশ্বস্তদের ভীতি প্রদর্শন ও তৎকালীন রাজাদের ক্ষমতা প্রকাশের জন্য বারোক স্থাপত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে তাই বারোক স্থাপত্যেরও রয়েছে ভিন্ন মাত্রিকতা। তবে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য।
জটিল বিবরণ
এখনও পর্যন্ত বারোক স্থাপত্যের সবচেয়ে বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্য হলো বিস্তৃত এবং জটিল বিবরণের ব্যবহার। যেহেতু বারোক স্থাপত্যের ভবনগুলো ব্যবহারকারীকে অনুপ্রাণিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিলো তাই সেগুলোতে সমৃদ্ধ এবং শ্রমসাধ্য কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়। এগুলো বারোক ভাস্কর্য এবং ফ্রেস্কো থেকে শুরু করে বিস্তৃতভাবে খোদাই করা কার্নিস ও কর্নিসের আশপাশের সজ্জা দেখেই বুঝা যায়। জার্মানির ড্রেসডেনের জুইঙ্গার প্রাসাদের ওপরের অংশে আপনি গাছপালা, ঈগল এবং পাথরের মানব মূর্তির কাল্পনিক বিবরণের ব্যবহার দেখতে পাবেন।
জটিল জ্যামিতির ব্যবহার
বারোক স্থাপত্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিবর্তন হলো জটিল জ্যামিতির ব্যবহার। সবচেয়ে মৌলিক অর্থে, আপনি একটি বৃত্ত এবং একটি ডিম্বাকৃতির মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে চিন্তা করতে পারেন। রেনেসাঁ ভবনগুলোতে পুরোপুরি প্রতিসম এবং আনুপাতিক স্থান তৈরি করতে বৃত্তের দুর্দান্ত ব্যবহার করা হয়েছে। বারোক স্থাপত্যের ভবনগুলোতে প্রায়ই বৃত্তের পরিবর্তে ডিম্বাকৃতি এবং উপবৃত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ডিজাইনিং এবং বিল্ডিংকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।
ঐশ্বর্যপূর্ণ উপকরণের ব্যবহার
বারোক স্থাপত্য বিলাসবহুল এবং মূল্যবান উপকরণের জন্য অন্য স্থাপত্যশৈলী থেকে আলাদা যার একটি ডিজাইনের মধ্য দিয়ে আবেগ প্রকাশ করা এবং দর্শককে অনুপ্রাণিত করা। এই স্থাপত্যকলায় বিভিন্ন রঙের সূক্ষ্ম আলংকারিক মার্বেলসহ সোনার পাতাও ব্যবহার করা হতো ব্যাপকভাবে।
ক্লাসিক্যাল আর্কিটেকচার উপাদান
স্থাপত্যের অন্যান্য রূপের মতো, বারোক স্থাপত্যেও গ্রীক এবং রোমানদের প্রাচীন কাঠামোর অনেক নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পেডিমেন্টস, গোলাকার খিলান এবং আলংকারিক কার্নিস। ডোরিক, আয়নিক এবং করিন্থিয়ান অর্ডারের কলামও বারোক আর্কিটেকচার জুড়ে পাওয়া যায়।
প্রাণবন্ত রংয়ের ছোঁয়া
উজ্জ্বল রং বারোক আর্কিটেকচারে পাওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। অনেক বারোক ভবনের সম্মুখভাগ উজ্জ্বল প্যাস্টেল রঙের ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে আছে আজও। এটি বিশেষ করে অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোর বারোক স্থাপনায় দেখা যায়।
বারোক ভাস্কর্য
বারোক স্থাপত্যে ভাস্কর্য আরেকটি মূল উপাদান। বিভিন্ন স্থাপনায় গ্রীক ও পৌরাণিক দেবতাদের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বারোক ফ্রেস্কো
যদিও ফ্রেস্কোগুলো প্রাচীনকাল থেকেই স্থাপত্যের একটি অংশ ছিলো, বারোক শৈলী তাদের সম্পূর্ণ নতুন উপায়ে ব্যবহার করেছে। ভাস্কর্যের মতো, পেইন্টিংগুলোও সব ধরণের মানুষ, গাছপালা এবং প্রাণীর চিত্রসম্বলিত জীবন্ত দৃশ্যগুলোকে চিত্রিত করেছে। রোমের সান্ট’ইগনাজিওর গির্জার ওপরের ছবিতে, আপনি প্রভাবশালী বারোক পেইন্টার আন্দ্রেয়া পোজোর একটি অবিশ্বাস্য ফ্রেস্কো দেখতে পাবেন। পেইন্টিংটি এমনভাবে করা হয়েছে যেন চার্চের ছাদটি দেখতে সরাসরি স্বর্গের একটি দৃশ্য মনে হবে।
বারোক ও রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীর পার্থক্য
বারোক স্থাপত্য ছিলো রেনেসাঁ স্থাপত্যের অনেক উপাদানের একটি বিবর্তন মাত্র। রেনেসাঁ এবং বারোক ডিজাইন উভয় ক্ষেত্রেই রিদম, প্রতিসাম্য এবং অনুপাতের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। উভয় শৈলীতেই ক্ল্যাসিক্যাল স্থাপত্য থেকে ধার করা উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। মার্বেল মূর্তি, পেডিমেন্টস, ব্যালিস্ট্রেড এবং কলাম ক্যাপিটাল ক্লাসিক্যাল গ্রীক ধারণা থেকে ব্যবহার করা হয়েছে। রেনেসা থেকে বারোক স্থাপত্যকে যা আলাদা করে তোলে তা হলো নতুন উপাদানের সংযোজন। বারোক স্থাপত্যকলায় নতুন সংযোজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অত্যন্ত জটিল জ্যামিতিক নকশা, অসাধারণ উপকরণ, উজ্জ্বল রং এবং অনেক সতর্কতার সাথে ডিজাইন করা বিবরণ। বারোক স্থাপত্য সামগ্রিকভাবে ব্যস্ত এবং আরও জটিল। এ স্থাপত্য স্থানীয় জনগণকে অনুপ্রাণিত ও বিস্মিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। অপরদিকে রেনেসাঁ স্থাপত্যে আরও সংরক্ষিত এবং সরলীকৃত, সম্প্রীতি এবং ধারাবাহিকতার উপর বেশি জোর দেয়া হতো।
ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সব সময় কৌতুহলজনক। সাধারণ মানুষ স্থাপত্যকলার ইতিহাস নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত না হলেও কোন স্থাপনার উৎকর্ষতা তাদের সবসময়ই কাছে টেনেছে। ইতিহাসের কাছাকাছি কেউ যেতে না চাইলেও ঐতিহাসিক স্থাপত্যকলা আর স্থাপনাগুলো তাদের বারবারই কাছে টেনেছে। তাই তো বারোক স্থাপত্যকলার ব্যবহার কমে গেলেও দর্শনার্থী আর পর্যটকদের মনে এ শিল্পের জৌলুশ কমেনি এতটুকু। সে কারণেই হয়তো বারোকের মলিন রূপের কাছেও হার মানছে আধুনিক সভ্যতার ব্যয়বহুল ভবনগুলো। দর্শনার্থীরা সময় পেলেই ছুটছেন ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখতে। বারোক স্থাপত্যশৈলী যেন এমনই মোহনীয় জাদুকর কাঠির ছোঁয়ায় তৈরি।
প্রকাশকাল: বন্ধন, ১৫১তম সংখ্যা, মার্চ ২০২৩।