সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) একটি ডেটা প্রকাশ করেছে। এতে ইরান যুদ্ধের কারনে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের ডেভেলপার ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কতটা প্রভাব পড়ছে তার এক সুস্পষ্ট প্রমাণ পিএমআই-এ ডাটা । তাদের করা ডাটায় উৎপাদন হ্রাসের চিত্র নথিভুক্ত হয়েছে এবং সূচকটি গত নভেম্বরের বাজেট-পূর্ববর্তী মন্দার পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে – যা কোভিড সংকটের পর থেকে সর্বনিম্ন হওয়ার খুব কাছাকাছি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি নির্মাণ ও উন্নয়ন খাতেও নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান বিশ্বব্যাপী নির্মাণ শিল্পকে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের ডেভেলপার ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বাড়তি ব্যয় এবং বাজারের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ায় নির্মাণ ব্যয়ের চাপ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। নির্মাণ শিল্পে পরিবহন, স্টিল, সিমেন্ট ও কাচ উৎপাদনের সঙ্গে জ্বালানির সরাসরি সম্পর্ক থাকায় প্রকল্প ব্যয়ও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্মাণ খরচ আরও বাড়তে পারে এবং অনেক প্রকল্পের বাজেট পুনর্নির্ধারণ করতে হতে পারে।

আবাসন বাজারে সতর্ক অবস্থান
উচ্চ সুদহার ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাজ্যের অনেক হাউজবিল্ডার এবং ডেভেলপার এখন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কেউ জমি কেনা কমিয়ে দিচ্ছে, আবার কেউ নতুন প্রকল্প শুরুর ক্ষেত্রে ধীরগতির কৌশল অনুসরণ করছে। ফলে আবাসন বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যদিও কিছু অঞ্চলে এখনো চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।
নির্মাণ চুক্তিতে পরিবর্তনের প্রবণতা
উপকরণের মূল্য ওঠানামা বেড়ে যাওয়ায় নির্মাণ খাতে চুক্তির ধরনেও পরিবর্তন আসছে। এখন অনেক প্রকল্পে “মূল্য সমন্বয় পদ্ধতি” যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে বাজারদরের পরিবর্তনের ঝুঁকি ঠিকাদার ও ক্লায়েন্ট উভয়ের মধ্যে ভাগ করা যায়। এর ফলে নির্মাণ খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৈশ্বিক উন্নয়ন খাতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক উন্নয়ন খাতের গতি কমে যেতে পারে। তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে, যা আবাসন ও অবকাঠামো বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও পরোক্ষ চাপ
এই সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পরোক্ষভাবে পড়তে পারে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে নির্মাণ সামগ্রীর দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আবাসন ও অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এখন কেবল রাজনৈতিক বা সামরিক ইস্যুর পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও উন্নয়ন খাতের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। নির্মাণ শিল্প, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি, বর্তমানে ব্যয় বৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তার দ্বৈত চাপে রয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে আবাসন, অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র : বিডি অনলাইন, বিল্ডিং ম্যাগাজিন, এপি নিউজ ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
















