• Home
  • টপ-পোস্ট
  • জর্জিয়ায় নির্মিত হচ্ছে আকাশচুম্বী ‘ট্রাম্প টাওয়ার’
Image

জর্জিয়ায় নির্মিত হচ্ছে আকাশচুম্বী ‘ট্রাম্প টাওয়ার’

জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যাচ্ছে বিখ্যাত ‘ট্রাম্প টাওয়ার’। প্রখ্যাত আর্কিটেকচার স্টুডিও ‘গেন্সলার’ (Gensler) সম্প্রতি এই মেগা-প্রকল্পের চোখ ধাঁধানো নকশা প্রকাশ করেছে। এই বিশাল প্রজেক্টে মোট ছয়টি নান্দনিক টাওয়ার থাকবে। ট্রাম্প টাওয়ারের মূল আকর্ষণ হলো ৭০ তলা বিশিষ্ট একটি আকাশচুম্বী ভবন। নির্মাণকাজ শেষ হলে এটিই হবে জর্জিয়ার সর্বোচ্চ বহুতল ভবন।

কী থাকছে ট্রাম্প টাওয়ারের মেগা প্রজেক্টে?

গেন্সলার এই প্রজেক্টের প্রধান স্থপতি হিসেবে কাজ করছে। সম্প্রতি তাদের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, মূল ভবনটির (ট্রাম্প টাওয়ার) নকশা কিছুটা অসম বা অ্যাসিমেট্রিক্যাল (asymmetrical), যা পুরো প্রজেক্টের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করবে। আর এর চারপাশ ঘিরে থাকবে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের আরও কয়েকটি টাওয়ার।

‘বায়োগ্রাফি লিভিং’ এবং ‘আর্কি গ্রুপ’-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ট্রাম্প টাওয়ার তৈরি হচ্ছে। এর মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে গেন্সলার, যারা এই প্রজেক্টের ছয়টি টাওয়ারের মধ্যে পাঁচটিরই নকশা প্রণয়ন করেছে। এই বিশাল কমপ্লেক্সে থাকবে:

  • একটি অত্যাধুনিক বিজনেস সেন্টার
  • বিলাসবহুল বাসস্থান
  • শপিং মল বা রিটেইল শপ
  • দৃষ্টিনন্দন হোটেল
  • ডাইনিং ও বিনোদনের নানা ব্যবস্থা

মূল ট্রাম্প টাওয়ারটি নির্মাণে ডেভেলপার হিসেবে আরও যুক্ত আছে সাপির অর্গানাইজেশন, ব্লক্স গ্রুপ এবং ফিনভেস্ট জর্জিয়া।

বিশালত্ব ও অনন্য স্থাপত্যশৈলী

তিবিলিসির সেন্ট্রাল পার্কের ঠিক সামনেই অবস্থিত এই প্রজেক্টের মোট নির্মাণ আয়তন হবে প্রায় ৬৪ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট (৬ লাখ বর্গমিটার)।

প্রজেক্টের মূল আকর্ষণ ৭০ তলা বিশিষ্ট ট্রাম্প টাওয়ারের একেবারে চূড়ার দিকটা তির্যকভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে থাকবে সবুজে ঘেরা একটি রুফটপ পার্ক বা ছাদবাগান। ভবনের ওপরের দিকের তলাগুলোতে উন্মুক্ত টেরেস বা বারান্দা রাখা হয়েছে। এর বাইরের কাঠামোতে ইংরেজি ‘Y’ আকৃতির দৃষ্টিনন্দন কলাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভবনের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত।

আশপাশের ছোট টাওয়ারগুলোতেও তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্তরে টেরেস রাখা হয়েছে। প্রতিটি ভবন একটি প্রশস্ত ও বাঁকানো (curvilinear) ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে, এবং পুরো কমপ্লেক্সটি চমৎকার সবুজ ল্যান্ডস্কেপে ঘেরা থাকবে।

জর্জিয়ার সর্বোচ্চ ভবন

বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্র্যান্ডেড রেসিডেন্সগুলোর মধ্যে তিবিলিসির এই ট্রাম্প টাওয়ার হয়ে উঠবে জর্জিয়ার সবচেয়ে আইকনিক এবং সর্বোচ্চ স্থাপনা।

বর্তমানে জর্জিয়ার সর্বোচ্চ ভবনটি রয়েছে বাতুমি শহরে, যা ৩৫ তলা বিশিষ্ট এবং উচ্চতায় ৬৬০ ফুট (২০০ মিটার)। কিন্তু ৭০ তলা বিশিষ্ট এই ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণ শেষ হলে সেটি দেশের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। এটি জর্জিয়ায় ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের প্রথম কোনো প্রজেক্ট। নির্মাতাদের মতে, ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত তিবিলিসি যে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসা ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হয়ে উঠছে, এই প্রজেক্ট তারই বড় প্রমাণ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বর্তমানে পরিচালনা করছেন তাঁর ছেলে এরিক ট্রাম্প। তিবিলিসির এই ভবনটি তাদের বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত আবাসন ব্যবসার সর্বশেষ সংযোজন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প মায়ামিতে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির নকশাও প্রকাশ করেছেন, যদিও হোয়াইট হাউসের বলরুম সম্প্রসারণ নিয়ে তাঁর আইনি লড়াই এখনও চলছে।

সূত্র: ডিজেইন

Related Posts

বাংলাদেশে প্রথম স্থাপত্যের স্বীকৃতি দিতে চালু হচ্ছে পুরস্কার

স্থাপত্য অনেক বড় একটি ক্ষেত্র। দেশে দেশে স্থাপত্যের নান্দনিকতা, টেকসই ডিজাইন ও নকশা এবং আরও নানা শর্তের উপর…

দক্ষিণ কোরিয়ায় সিউলের আবাসন স্থাপত্যে নতুন দিগন্ত

দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চঘনত্বের নগর আবাসনের এক অনন্য উদাহরণ। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, সীমিত ভূমি এবং উন্নত নগরজীবনের…

ভবিষ্যতের ৮টি স্টেডিয়াম যা প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে

সময়ের সাথে সাথে সবই বদলাচ্ছে। বদলাচ্ছে স্টেডিয়ামের গঠনশৈলীতে। স্টেডিয়ামগুলো এখন আর শুধু ম্যাচের দিনের জন্য ডিজাইন করা হচ্ছে…

নুহাশ পল্লী: হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের সবুজ রাজ্য

নুহাশ পল্লী বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর স্বপ্নে গড়ে ওঠা একটি অনন্য সবুজ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

01~1
previous arrow
next arrow

Bandhan Cover

সর্বশেষ

Trending Posts

Gallery

Award
দক্ষিণ কোরিয়ায় সিউলের আবাসন স্থাপত্যে নতুন দিগন্ত
ভবিষ্যতের ৮টি স্টেডিয়াম যা প্রচলিত ধারণা বদলে দেবে
নুহাশ পল্লী: হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের সবুজ রাজ্য
Cover
Ramna Park
রেলিং: নিরাপত্তা, সৌন্দর্য ও স্থায়িত্বের সমন্বয়
Qatar
Electric