খন্দকার ফৌজি মুহাম্মদ বিন ফরিদের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, বগুড়ায়। বাবা মরহুম ফরিদ উদ্দিন খন্দকার, মা বেগম রাফেয়া ফরিদ। রংপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ভর্তি হন রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। বর্তমানে যেটি রুয়েট নামে পরিচিত। রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাঠ শেষ হয় ১৯৮০ সালে। এরপর ১৯৮১ সালে সহকারী পুরকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন পিডব্লিউডিতে। খন্দকার ফৌজি মুহাম্মদ বিন ফরিদ বর্তমানে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের (ইউডিডি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বন্ধন-এর পক্ষ থেকে তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন ম. শাফিউল আল ইমরান
শহর, বন্দর ও শিল্প এলাকার মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রণয়নে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভূমিকা কী?
সরকারের নির্ধারিত Allocation of Functions অনুযায়ী, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এলাকাবহির্ভূত শহর, বন্দর ও শিল্প প্রভৃতি অঞ্চলের সুষম ও পরিকল্পিত উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দায়িত্ব নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের ছোট, বড়, মাঝারি শহর, নগর, বন্দর ও শিল্প এলাকাসমূহের ল্যান্ড ইউজ বা মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে শহর এলাকার ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারে দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে, যা অত্র এলাকার জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রাখছে। অত্র অধিদপ্তর প্রতিটি এলাকার আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত উপাদানের প্রকৃতি বিন্যাস বিশ্লেষণের মাধ্যমে এদের কার্যকরণ সম্পর্ক নিরূপণের মাধ্যমে প্রকৃত সমস্যা উদ্ঘাটনকরত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবনা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কর্মপন্থা নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ ও অন্য শেয়ারহোল্ডারদের পরিকল্পনা প্রণয়নে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত এলাকার ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহারে সংস্থাটির দিকনির্দেশনামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাই?
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের অন্যতম কাজ নগরায়ন, নগর এলাকার ভূমির সুষ্ঠ ব্যবহার ও ভূমি উন্নয়ন বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করা। ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ পর্যায়ে যেকোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ভূমির ব্যবহার অনস্বীকার্য। বর্তমান সরকারের Decentralization Policy-এর আওতায় উন্নয়নকে বেগমানের লক্ষ্যে ‘রূপকল্প-২০২১’ আওতার উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রসর হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে পাঁচ বছর, দশ বছর এবং বিশ বছর মেয়াদি ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ), আরবান এরিয়া প্ল্যান ও স্ট্রাকচার প্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন খাত যেমন- আবাসন, কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ, পরিবেশ প্রভৃতি ক্ষেত্রে যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে।
রাজধানীর বাইরে জেলা শহরগুলোতে স্ট্রাকচার প্ল্যান, আরবান এরিয়া প্ল্যান ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান নিয়ে বর্তমানে কী ধরনের কাজ করছে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর?
উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান, আরবান এরিয়া প্ল্যান ও স্ট্রাকচার প্ল্যান সাম্প্রতিক সময়ে অনুসরণ করা হচ্ছে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ‘সিলেট ও বরিশাল বিভাগীয় শহরের স্ট্রাকচার প্ল্যান, মাস্টারপ্ল্যান ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান প্রণয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প (চিত্র-১, চিত্র-২), ‘প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অব কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি-বিচ আপ টু টেকনাফ (চিত্র-৩)’ প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত করেছে। বর্তমানে প্রিপারেশন অব স্ট্রাকচার প্ল্যান অ্যান্ড অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান ফর মাদারীপুর অ্যান্ড রাজৈর উপজেলা, প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর ফরটিন উপজেলা (নবাবগঞ্জ উপজেলা, দোহার উপজেলা, শিবচর উপজেলা, শিবপুর উপজেলা, রায়পুরা উপজেলা, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা, বাগমারা উপজেলা, ফরিদপুর সদর উপজেলা, গাংনী উপজেলা, সাঘাটা উপজেলা, সোনাতলা উপজেলা, সরিষাকান্দি উপজেলা, রামু উপজেলা, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা) এবং প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর যশোর-বেনাপোল হাইওয়ে করিডর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
কৃষিজমি সুরক্ষিত রেখে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল ও নগরায়ন গড়ে তুলতে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ কতটুকু?
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর সরকারের ‘রূপকল্প-২০২১’-এর আলোকে নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মাধ্যমে কাজ করছে। লক্ষ্যমাত্রা হলো-
- পরিকল্পিত কৃষিজমি সংরক্ষণ।
- পরিকল্পিত পরিবেশ সংরক্ষণ।
- মৌলিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।
- ভৌগোলিক সুষম উন্নয়ন ও নগরায়ন নিশ্চিতকরণ।
- এ জন্য পরিকল্পিত ও সুষম অকৃষি জমির ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়নে অত্র অধিদপ্তর বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলছে।
টুঙ্গিপাড়ায় আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রের মাস্টারপ্ল্যান ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান সম্পর্কিত নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই?
টুঙ্গিপাড়ায় আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রের মাস্টারপ্ল্যান ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রোগ্রাম সম্পর্কে যদি বলেন?
ব্যাংককভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Asian Disaster Preparedness Center (ADPC)-এর সহায়তায় ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনায় দুর্যোগ-ঝুঁকি প্রশমনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে ‘Guidelines for Mainstreaming DRR into Land Use Planning for Upazilas and Municipalities of Bangladesh’ শীর্ষক একটি প্রকাশনা গত ডিসেম্বর ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই Guideline-এর একটি Handbook on Risk Sensitive Urban and Land use Planning in Bangladesh শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। গবেষণার তৃতীয় পর্যায়ে ADPC-এর সহায়তায় ভৌত পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রকাশিত Guidelines এবং Handbook বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তা ছাড়া বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রশমনে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা শীর্ষক Pilot প্রকল্প অত্র অধিদপ্তর CDMP (Comprehensive Disaster Management Program)-এর সহায়তায় Mymensingh Strategic Development Plan (MSDP) ২০১১-২০৩১ গ্রহণ করেছে। যেকোনো দুর্যোগ উন্নয়নের গতিকে শ্লথ করে। বাংলাদেশে এ প্রথম দুর্যোগ প্রশমনে Risk Sensitive Land Use Plan প্রণয়নে Mymensingh Strategic Development Plan (MSDP) ২০১১-২০৩১ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে উদ্ভূত ও সংকলিত Planning Module সমগ্র বাংলাদেশে মডেল হিসেবে কাজ করবে। এ প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে-
১. ভূ-অভ্যন্তরীণ কাঠামো বিশ্লেষণ।
২. জনগণের অংশগ্রহণের জন্য PRA পদ্ধতি অবলম্বন।
৩. 3-D GIS Survey
৪. Social Dynamics of Social Space
৫. Historical Pattern of Spatial Transformation
শিগগিরই এটির পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি কোন কোন সংস্থার সঙ্গে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর একযোগে কাজ করছে?
প্রকল্প প্রণয়নে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর CDMP (Comprehensive Disaster Management Program) এবং ব্যাংককভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ADPC (Asian Disaster for Preparedness Center)-এর সঙ্গে কাজ করছে।
অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত নগরের বিকাশ রোধ করে নাগরিকসুবিধা নিশ্চিতকরণে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের করণীয় কী?
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বিভিন্ন সেক্টরাল এজেন্সির জন্য যথাযথ প্রকল্প প্রস্তাবনা নাগরিকসুবিধাপ্রাপ্তিতে দিকনির্দেশনা প্রদানে সহায়তা করে। সঙ্গে সঙ্গে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয় বলে এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে যথাযথ সমন্বয় সাধন সহজতর হয়।
পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়তে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভূমিকা সম্পর্কে বলুন?
দেশের কাক্সিক্ষত আর্থসামাজিক উন্নয়নে যথাযথ ভূমি ব্যবহারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পরিকল্পিত উপায়ে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের জন্ম। দীর্ঘপথ পরিক্রমায় নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং পৌরসভা শহরের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে পরিকল্পিত উন্নয়নে ভূমির সর্বোচ্চ ও কাক্সিক্ষত ব্যবহারের দিকনির্দেশনা প্রদানে সহযোগিতা করছে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় ৫০টি জেলা শহর, ৩৯২টি উপজেলা শহর/পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর।
আশির দশকে গৃহীত উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের মাধ্যমে উপজেলা উন্নয়ন কার্যক্রম গৃহীত হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জেলা পর্যায়ে গৃহীত মাস্টারপ্ল্যানও পরিকল্পিত নগরায়নে সহায়তা করেছে। অধুনা সমাপ্ত সিলেট ও বরিশাল বিভাগীয় শহরের মাস্টারপ্ল্যান এবং প্রিপারেশন অব ডেভেপমেন্ট প্ল্যান অব কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি-বিচ আপ টু টেকনাফ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহারের মাধ্যমে অত্র অধিদপ্তর উন্নয়নে ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।
দেশের নানা স্থানে পরিবেশবান্ধব আবাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের অবদান কী?
মাস্টারপ্ল্যানে আবাসনের জন্য যথাযথ ভূমি চিহ্নিত করে সহনীয় এবং পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্পের দিকনির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা হয়।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের নগরায়ন, ভূমি ব্যবহার এবং ভূমি উন্নয়ন বিষয়ে সরকারকে কী পরার্মশ দিয়ে থাকে?
জাতীয় পর্যয়ের একমাত্র পরিকল্পনা প্রণয়নকারী সংস্থা হওয়ায় জাতীয় নগর নীতি এবং নগরায়নের বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ভূমিকা পালন করে থাকে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারকে পরিকল্পনাভিত্তিক মতামত দেয়।
সরকারের কাছে আরও কী ধরনের সহয়তা পেলে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড অধিক ত্বরান্বিত হতো বলে আপনি মনে করেন?
খুলনা ও রাজশাহী ছাড়াও সম্প্রতি সিলেট, কক্সবাজার ও বরিশালে নগর উন্নয়নের আঞ্চলিক অফিস খোলা হয়েছে। বিভাগ ও জেলা শহরে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন সুষম ও পরিকল্পিত নগরায়নে জোরালো ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।
বর্তমানে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকৌশলীরা রাজধানীকেন্দ্রিক, অনেকেই যাচ্ছেন বিদেশে; তাঁরা কেন মফস্বল শহরে যেতে চান না?
সরকারের প্রচলিত নিয়মনীতি অনুযায়ী সর্বস্তরের প্রকৌশলীরা শহর কিংবা মফস্বল বিভিন্ন স্থানে কাজ করে থাকেন। উচ্চশিক্ষার জন্য সরকার সবাইকে উৎসাহিত করে। যার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার দেশমাতৃকার উন্নয়নে সহায়তা করেন। সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতি বাস্তবায়নের ফলে মফস্বলের উন্নয়নের সুফল জনগণ সরাসরি ভোগ করছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজে উৎসাহী করতে কীভাবে অধিক কাজের ক্ষেত্র তৈরি বা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়?
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলো-
- প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর ফরটিন উপজেলাস শীর্ষক প্রকল্প।
- প্রিপারেশন অব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর বেনাপোল-যশোর হাইওয়ে করিডর শীর্ষক প্রকল্প।
- প্রিপারেশন অব স্ট্রাকচার প্ল্যান অ্যান্ড অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান ফর মাদারীপুর অ্যান্ড রাজৈর উপজেলা মাদারীপুর শীর্ষক প্রকল্প।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে যদি বলেন?
‘National Comprehensive Development Plan for the Whole Country’ শীর্ষক প্রকল্প সমগ্র বাংলাদেশের জন্য গৃহীত হবে এবং এ প্ল্যানটিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার জন্য ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন-২০১৪’ বাস্তবায়নে অত্র অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। তা ছাড়া নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে Capacity Development of UDD-এর আওতায় প্রথমে একটি শহরের Digital Model Develop করার প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে যা বিস্তার লাভ করবে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রিপারেশন অব কম্প্রিহেনসিভ রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানিং ফর রাজশাহী রিজিওন, প্রিপারেশন অব কম্প্রিহেনসিভ রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর রংপুর ডিভিশন এবং প্রিপারেশন অব স্ট্রাকচার প্ল্যান, মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড লোকাল এরিয়া প্ল্যান ফর ৫৫ উপজেলা প্ল্যানের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রণয়নপূর্বক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সব উপজেলার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে।
একজন প্রকৌশলীর সামাজিক দায়বদ্ধতা কতটুকু?
ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা হওয়া দরকার। নগরায়নের বিকাশে দেশের জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট নগরে যেন আবদ্ধ না হয়ে পড়ে সেটাই বর্তমানের বিরাট এক শঙ্কা। এই শঙ্কামুক্তির জন্য প্রয়োজন সুষম নগর পরিকল্পনা। সেই সুষম নগর পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রকৌশলীরা দায়িত্ব পালন করে, যার ফলে দেশ তথা সমাজ এগিয়ে যায়।
প্রকাশকাল: বন্ধন ৫৪ তম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১৪