বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
১। (১) এই আইন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নামে অভিহিত হইবে।
(২) ধারা ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ এবং ২৭ দোসরা জানুয়ারি, ১৯৯১ ইং তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং অবশিষ্ট ধারাগুলি যে সকল এলাকায় Premises Rent Control Ordinance, 1989 (XXII of 1986) ২৬শে মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে বলবৎ ছিল সে সকল এলাকায় ২৭শে মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে বলবৎ হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অন্য কোনো এলাকায় এই আইন বা উহার অংশবিশেষ প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত তারিখ হইতে বলবৎ করার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপ প্রজ্ঞাপন দ্বারা এই আইন বা উহার কোনো অংশবিশেষ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত তারিখ হইতে কোনো এলাকায় প্রযোজ্য হইবে না বলিয়াও নির্দেশ দিতে পারিবে।

সংজ্ঞা
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(ক) ‘নিয়ন্ত্রক’ অর্থ ধারা ৩(১)-এর অধীন নিযুক্ত কোনো নিয়ন্ত্রক এবং ধারা ৩(২)-এর অধীন নিযুক্ত কোনো অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপনিয়ন্ত্রকও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) ‘বাড়ি-মালিক’ অর্থ কোনো ব্যক্তি, যিনি আপাতত নিজের বা অন্য কোনো ব্যক্তির পক্ষে বা অন্য কোনো ব্যক্তির উপকারার্থ বা কোনো ব্যক্তির ট্রাস্টি বা রিসিভার হিসাবে কোনো বাড়ির ভাড়া পান বা পাইবার অধিকারী হন বা যিনি বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হইলে উক্তরূপ ভাড়া পাইতেন বা ভাড়া পাইবার অধিকারী হইতেন এবং Code of Civil Procedure, 1908 (V of 1908)-এ সংজ্ঞায়িত কোনো আইনগত প্রতিনিধি (Legal Representative) উপ-ভাড়া প্রদানকারী কোনো ভাড়াটিয়া এবং বাড়ি-মালিক হইতে স্বত্ব প্রাপ্ত কোনো ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(গ) ‘বাড়ি’ অর্থ কোনো দালান বা দালানের অংশবিশেষ বা কোনো কাঁচা ঘর বা ঘরের অংশবিশেষ যাহা আবাসিক বা অনাবাসিক বা উভয় উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে ভাড়া দেওয়া হইয়াছে বা ভাড়া দেওয়ার ইচ্ছা করা হইয়াছে এবং তৎসংলগ্ন বাগান, উঠান ও কাছারিঘরও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(ঘ) ‘মানসম্মত ভাড়া’ অর্থ এই আইনের অধীন নির্ধারিত বা নির্ধারিত বলিয়া গণ্য মানসম্মত ভাড়া;
(ঙ) ‘ভাড়াটিয়া’ অর্থ কোনো ব্যক্তি যাহার দ্বারা বা যাহার পক্ষে কোনো বাড়ির জন্য ভাড়া প্রদেয় হয় এবং Code of Civil Procedure, 1908 (V of 1908)-এ সংজ্ঞায়িত আইনগত প্রতিনিধি (Legal Representative) এবং ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাড়ি দখলকারী কোনো ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে:
(চ) ‘ভাড়া’ অর্থ বাড়িভাড়া;
(ছ) ‘বিধি’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি।

বাড়ি ভাড়া আইন

বাড়ি-মালিক ও ভাড়াটিয়ার প্রতি নোটিশ
৫। (১) এই আইন দ্বারা অর্পিত কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের পূর্বে নিয়ন্ত্রক উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়া বাড়ি-মালিক ও ভাড়াটিয়া, যদি থাকে, এর নিকট রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে নোটিশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি তাহার অফিসের কোনো প্রকাশ্য স্থানে লটকাইয়া দিবেন।
(২) নোটিশে উল্লেখিত বাড়িতে স্বার্থ আছে এই রকম কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে নোটিশে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ সম্পর্কে কোনো দরখাস্ত পাওয়া গেলে নিয়ন্ত্রক উহা যথাযথভাবে বিবেচনা করিয়া দেখিবেন।

ভাড়া বৃদ্ধির উপর বাধানিষেধ
৭। এই আইনের বিধান সাপেক্ষ কোনো বাড়ির ভাড়া মানসম্মত ভাড়ার অধিক বৃদ্ধি করা হইলে উক্ত অধিক ভাড়া কোনো চুক্তিতে ভিন্নরূপ কিছু থাকা সত্ত্বেও আদায়যোগ্য হইবে না।

কর প্রদানের কারণে ভাড়া বৃদ্ধি
৯। যে ক্ষেত্রে কোনো বাড়ির পৌর অভিকর, কর, টোল বা ফিস বা উহার কোন অংশ ভাড়াটিয়া কর্তৃক প্রদেয় হয় এবং বাড়ি-মালিক ভাড়ার শর্তানুযায়ী উহা প্রদান করিতে সম্মত হন সে ক্ষেত্রে বাড়ি-মালিক যে টাকা প্রদানে সম্মত হইয়াছেন সে টাকা ভাড়াটিয়া কর্তৃক মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত হিসাবে বাড়ি-মালিককে প্রদেয় হইবে।

ভাড়া আদায়ের রসিদ প্রদান
১৩। (১) ভাড়াটিয়া কর্তৃক ভাড়া পরিশোধ করা হইলে বাড়ি-মালিক ততক্ষণাৎ ভাড়া প্রাপ্তির একটি রসিদ বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করিয়া ভাড়াটিয়াকে প্রদান করিবেন।
(২) বাড়ি-মালিক ভাড়ার রসিদের একটি চেকমুড়ি সংরক্ষণ করিবেন।

অনুমোদনযোগ্য ভাড়া প্রদান করা হইলে সাধারণত উচ্ছেদের আদেশ দেওয়া হইবে না

১৮। (১) Transfer of Property Act, 1882 (IV of 1882) অথবা Contract Act, 1872 (IX of 1972)-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ভাড়াটিয়া এই আইনের অধীন অনুমোদনযোগ্য ভাড়া যত দিন পর্যন্ত পূর্ণমাত্রায় আদায় করিবেন এবং ভাড়ার শর্তাদি পূরণ করিবেন, তত দিন পর্যন্ত বাড়ি-মালিকের অনুকূলে বাড়ির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো আদেশ বা ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে-
(ক) ভাড়াটিয়া Transfer of Property Act, 1882 (IV of 1882)-এর Section 108-এর Clause (c) বা Clause (p)-এর বিধানের পরিপন্থী কোনো কাজ করেন;
(খ) ভিন্নরূপ কোনো চুক্তির অবর্তমানে ভাড়াটিয়া বাড়ি-মালিকের লিখিত সম্মতি ব্যতিরেকে বাড়ি বা বাড়ির কোনো অংশ উপ-ভাড়া দেন; বা
(গ) ভাড়াটিয়া এমন আচরণের জন্য দোষী যাহাসংলগ্ন বা পার্শ্ববর্তী বাড়ির দখলকারীগণের নিকট উৎপাত বা বিরক্তি স্বরূপ; বা
(ঘ) ভাড়াটিয়া বাড়ির কোনো অংশ অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন বা ব্যবহার করিতে অনুমতি দেন; বা
(ঙ) বাড়ির নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণের জন্য অথবা নিজ দখলের জন্য অথবা যাহার উপকারার্থে বাড়িটি রাখা হইয়াছে তাহার দখলের জন্য বাড়িটি বাড়ি-মালিকের প্রকৃতই প্রয়োজন হয় অথবা বাড়ি-মালিক এমন কোনো কারণ দর্শাইতে পারেন, যাহা আদালতের নিকট সন্তোষজনক বলিয়া গণ্য হয়;

সে ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার কিছুই প্রযোজ্য হইবে না
(২) ভাড়ার মেয়াদ শেষ হইয়াছে কিংবা বাড়ি-মালিকের স্বার্থ হস্তান্তরিত হইয়াছে কেবলমাত্র ইহাই উপ-ধারা (১)(ঙ)-তে উল্লেখিত সন্তোষজনক কারণ বলিয়া গণ্য হইবে না যদি ভাড়াটিয়া এই আইনের অনুমোদনযোগ্য পূর্ব ভাড়া প্রদানের প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক থাকে না।

(৩) যে ক্ষেত্রে-
(ক) কোনো ভাড়াটিয়া বাড়ি-মালিকের সম্মতিক্রমে বা উপ-ভাড়া দেওয়ার সুস্পষ্ট অনুমতিসংবলিত ভাড়া চুক্তি অনুসারে কোনো বাড়ি বা উহার কোনো অংশ ভাড়া দিয়া থাকেন, অথবা
(খ) কোনো ভাড়াটিয়া বাণিজ্য বা শিল্পের জন্য তৎকর্তৃক ব্যবহৃত বা প্রধানত ব্যবহৃত কোনো বাড়ি বা উহার কোনো অংশ উপ-ভাড়া দিয়া থাকেন এবং উক্ত বাণিজ্য বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি উক্ত বাড়ি বা বাড়ির অংশসহ হস্তান্তর করেন;
সে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১)(ঙ)-তে উল্লিখিত কোনো কারণে বাড়ি-মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত আদালতের ডিক্রি বা আদেশ ব্যতীত অন্য কারণে উক্ত বাড়ি বা উহার কোনো অংশে ভাড়াটিয়ার স্বার্থের আইনানুগ অবসান হইল, উপ-ভাড়াটিয়া উক্ত বাড়ি বা উহার অংশের ভাড়াটিয়া বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উপরিউক্তভাবে ভাড়াটিয়ার স্বার্থের অবসান না হইলে তিনি যে শর্তাধীন তাঁহার অধীন ভাড়াটিয়া থাকিতেন, সেই শর্তাধীনে তিনি বাড়ি-মালিকের অধীন সরাসরি ভাড়াটিয়া থাকিবেন:

বাড়ি ভাড়ার নোটিশ

তবে শর্ত থাকে যে বাড়ি-মালিক বা এই ধারার অধীন ভাড়াটিয়া বলিয়া গণ্য কোনো ব্যক্তি উক্ত বাড়ি বা উহার অংশ সম্পর্কে মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণের জন্য ধারা ১৫-এর অধীন নিয়ন্ত্রকের নিকট দরখাস্ত করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ দরখাস্তের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রক কর্তৃক মানসম্মত ভাড়া নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ব্যক্তি ভাড়াটিয়াকে তাহার স্বার্থ অবসানের পূর্বে যে ভাড়া দিতে বাধ্য ছিলেন সেই ভাড়া বাড়ি-মালিককে দিতে বাধ্য থাকিবেন;

(৪) যে ক্ষেত্রে নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ বা নিজ দখল বা যাঁহার উপকারার্থে বাড়িটি রাখা হইয়াছে তাহার দখলের জন্য প্রকৃতই প্রয়োজন হওয়ায় বাড়ি-মালিক বাড়ির দখল পাইয়াছেন কিন্তু বাড়ির প্রাক্তন ভাড়াটিয়া কর্তৃক বাড়ি খালি করার তারিখ হইতে দুই মাসের মধ্যে উহার নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ শুরু করা হয় নাই বা বাড়ি-মালিক বা উক্ত যে ব্যক্তির উপকারার্থে বাড়ি রাখা হইয়াছে, সেই ব্যক্তি কর্তৃক উহার ভোগ-দখল করা হয় নাই বা বাড়িটির দখল নেওয়ার পর দখল নেওয়ার তারিখ হইতে ছয় মাসের মধ্যে প্রাক্তন ভাড়াটিয়া বাড়িতে অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হইয়াছে সে ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক, প্রাক্তন ভাড়াটিয়া কর্তৃক বাড়ি খালি করার সাত মাসের মধ্যে তৎকর্তৃক পেশকৃত দরখাস্তের ভিত্তিতে বাড়িটি প্রাক্তন ভাড়াটিয়ার দখলে নেওয়ার জন্য অথবা তৎকর্তৃক নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ উক্ত ভাড়াটিয়াকে দেওয়ার জন্য অথবা দখল বা ক্ষতিপূরণ উভয় দেওয়ার জন্য বাড়ি-মালিককে নির্দেশ দিতে পারিবেন।

(৫) কোনো ভাড়াটিয়া কোনো বাড়ি সম্পর্কে এই ধারায় কোনো সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন না যদি-
(ক) তিনি ভাড়া চুক্তিতে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে অথবা অনুরূপ কোনো চুক্তির অবর্তমানে ভাড়া মাসের পরবর্তী মাসের পনেরো দিনের মধ্যে এই আইনের অধীন অনুমোদনযোগ্য তৎকর্তৃক প্রদেয় পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ না করেন; অথবা
(খ) ধারা ১৯-এ বিধৃত ক্ষেত্রে তিনি উক্ত ধারায় উল্লিখিত সময়ের মধ্যে উহার বিধান মোতাবেক ভাড়া জমা না করেন এবং উক্ত ধারার উপ-ধারা (১)(খ)-এ বর্ণিত ক্ষেত্রে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ভাড়া প্রেরণ খরচসহ জমা না করেন;

(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো বাড়ির ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন অনুমোদনযোগ্য ভাড়া অর্থ-
(ক) যে ক্ষেত্রে উক্ত বাড়ি সম্পর্কে ধারা ১৫-এর অধীন নিয়ন্ত্রক কর্তৃক মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা হইয়াছে, নির্ধারিত মানসম্মত ভাড়া;
(খ) যে ক্ষেত্রে অনুরূপ মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা হয় নাই, বাড়ি-মালিক এবং ভাড়াটিয়ার মধ্যে চুক্তিকৃত ভাড়া।

বাড়ি ভাড়ার নোটিশ

মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দণ্ড
২৩। যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে-
(ক) ধারা ৮ বা ধারা ৯-এ বিবৃত কারণ ব্যতিরেকে অন্য কোনো কারণে মানসম্মত ভাড়া অপেক্ষা অধিক ভাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্রহণ করেন; বা
(খ) ধারা ১১-এ বিৃবত কারণ ব্যতিরেকে অন্য কোনো কারণে মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত হিসাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রিমিয়াম, সালামি, জামানত বা অনুরূপ কোনো টাকা গ্রহণ করেন বা দাবি করেন বা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেন; বা
(গ) নিয়ন্ত্রকের লিখিত সম্মতি ব্যতিরেকে অগ্রিম ভাড়া বাবদ এক মাসের ভাড়ার অধিক ভাড়া গ্রহণ করেন; তাহা হইলে তিনি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে-
(অ) দফা (ক)-এ উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রথমবারের জন্য মানসম্মত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং পরবর্তী প্রত্যেকবারের অপরাধের জন্য উক্ত অতিরিক্ত টাকার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন;
(আ) দফা (খ)-এ উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রথমবারের জন্য দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং পরবর্তী প্রত্যেকবারের অপরাধের জন্য পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন;
(ই) দফা (গ)-এ উল্লেখিত ক্ষেত্রে প্রথমবারের অপরাধের জন্য এক মাসের ভাড়ার অতিরিক্ত যে টাকা আদায় করা হইয়াছে উহার দ্বিগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং পরবর্তী প্রত্যেকবারের অপরাধের জন্য এক মাসের ভাড়ার অতিরিক্ত যে টাকা আদায় করা হইয়াছে, উহার তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

বাড়ি-মালিকের ভুল নাম বা ঠিকানা দেওয়ার দণ্ড
২৫। যদি কোনো ভাড়াটিয়া ধারা ১৯-এর অধীন ভাড়া জমা করার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ি-মালিকের নাম বা ঠিকানা ভুল দিয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি, বাড়ি-মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে, পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

বাড়ি দখল বুঝাইয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার ব্যর্থতার দণ্ড
২৬। (১) যদি কোনো ভাড়াটিয়া বাড়ি ছাড়িয়া দেন তাহা হইলে তিনি উহার খালি দখল বাড়ি-মালিকের নিকট হস্তান্তর করিবেন যদি না তিনি বাড়ি-মালিকের সম্মতি অনুসারে বা ভাড়ার চুক্তির শর্ত অনুসারে উহার কোনো অংশ উপ-ভাড়া দিয়া থাকেন।
(২) উপ-ধারা (১)-এর অধীন কোনো ভাড়াটিয়া বাড়ির খালি দখল হস্তান্তর করিতে অস্বীকার করিলে বা ব্যর্থ হইলে তিনি বাড়ি-মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়ির মানসম্মত ভাড়ার দশগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

রসিদ প্রদানে ব্যর্থতার দণ্ড
২৭। যদি কোনো বাড়ি-মালিক ধারা ১৩-এর বিধান অনুসারে ভাড়াটিয়াকে ভাড়া গ্রহণের লিখিত রসিদ প্রদানে অস্বীকার করেন বা ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি ভাড়াটিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে, আদায়কৃত টাকার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

অভিযোগ দায়ের ইত্যাদি
২৮। (১) ধারা ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭-এর অধীন প্রত্যেক অভিযোগ নিয়ন্ত্রকের নিকট লিখিতভাবে দায়ের করিতে হইবে।
(২) নিয়ন্ত্রক উপ-ধারা (১)-এর অধীন তাহার নিকট দায়েরকৃত প্রত্যেক অভিযোগ তদন্ত করিয়া উক্ত ধারাগুলিতে উল্লেখিত দণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।
(৩) উক্ত ধারাগুলির অধীন আরোপিত অর্থদণ্ড দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দণ্ডাদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে আদায় করিবেন এবং তিনি যদি উক্ত সময়ের মধ্যে উহা আদায়ে ব্যর্থ হন তাহা হইলে উহা Public Demands Recovery Act, 1913 (Bengal Act III of 1913)-এর অধীন সরকারি দাবি হিসেবে আদায়যোগ্য হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে নিয়ন্ত্রক বিশেষ কারণে, যাহা লিপিবদ্ধ করিয়া হইবে, উক্ত আদায়ের সময় বর্ধিত করিতে পারিবেন।

অভিযোগ তামাদি
২৯। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারা ২৩, ২৫, ২৬ বা ২৭-এর অধীন কোনো অভিযোগ যে অপরাধের জন্য উহা আনীত সে অপরাধ সংঘটনের ছয় মাস অতিবাহিত হইবার পর আনয়ন করা যাইবে না।

বাড়ি ভাড়ার নোটিশ

আপিল ও পুনর্বিবেচনা
৩০। (১) নিয়ন্ত্রকের আদেশের দ্বার কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে যে বাড়ি সম্পর্কে আদেশটি প্রদান করা হইয়াছে, উহা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা জজের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে উক্ত সময় গণনায় আদেশ প্রদানের দিন এবং আদেশটির সত্যায়িত নকল নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ যাইবে।
(২) কোনো জেলা জজ উপ-ধারা (১)-এর অধীন তাঁহার নিকট দায়েরকৃত কোনো আপিল নিষ্পত্তির জন্য কোনো অতিরিক্ত জেলা জজ বা সাব-জজের নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন, এবং অনুরূপভাবে হস্তান্তরকৃত কোনো আপিল প্রত্যাহার করিয়া তিনি উহা স্বয়ং নিষ্পত্তি করিতে পারিবেন অথবা উহা নিষ্পত্তির জন্য পুনরায় অন্য কোনো অতিরিক্ত জেলা জজ বা সাব-জজের নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন।
(৩) জেলা জজ বা যাহার নিকট উপ-ধারা (২)-এর অধীন কোনো আপিল হস্তান্তর করা হইয়াছে, তিনি নিয়ন্ত্রকের নিকট হইতে মামলার রেকর্ড তলব করিবেন এবং উক্ত রেকর্ড পর্যালোচনা করিয়া এবং প্রয়োজনবোধে সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়া আপিল নিষ্পত্তি করিবেন।
(৪) নিয়ন্ত্রক বা জেলা জজ বা যাহার নিকট উপ-ধারা (২)-এর অধীন কোনো আপিল হস্তান্তর করা হইয়াছে, তিনি তৎকর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা সাক্ষ্য প্রকাশিত হইবার কারণে বা রেকর্ডদৃষ্টে কোনো ভুল বা মিথ্যা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ার কারণে বা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণে পুনর্বিবেচনা করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে এই উপ-ধারার অধীন কোনো আদেশ প্রদান করার পূর্বে উক্ত আদেশ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারে এইরূপ সকল ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে হইবে।
(৫) জেলা জজের বা যাহার নিকট উপ-ধারা (২)-এর অধীন কোনো আপিল হস্তান্তর করা হইয়াছে তাহার, সিদ্ধান্ত এবং উক্ত সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে নিয়ন্ত্রকের আদেশ চূড়ান্ত হইবে। 

(সংক্ষেপিত)

প্রকাশকাল: বন্ধন ৪৮ তম সংখ্যা, এপ্রিল ২০১৪

+ posts

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top